ভেদরগঞ্জে ড্রামে তেল বিক্রির ভিডিও করায় সাংবাদিকদের ওপর হামলা; পাম্প মালিকের বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ
শরীয়তপুর: শরীয়তপুরের ভেদরগঞ্জ উপজেলার কাশিমপুর এলাকায় একটি ফিলিং স্টেশনে ড্রামে করে অবৈধভাবে জ্বালানি তেল বিক্রির ভিডিও ধারণ করায় পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে দুই সাংবাদিকের ওপর হামলার অভিযোগ উঠেছে। শনিবার (১৮ এপ্রিল) সকালে মেসার্স ফারিয়া ফিলিং স্টেশনে এ ঘটনা ঘটে।
ঘটনার বিবরণ:
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে ওই পাম্পে সাধারণ গ্রাহকদের তেল না দিয়ে ড্রামে ভরে খোলা বাজারে চড়া দামে তেল বিক্রির অভিযোগ আসছিল। শনিবার সকালে দৈনিক ইনকিলাবের সংবাদদাতা জাহিদ হাসান টিপু এবং দৈনিক সমকালের সংবাদদাতা আশিকুর রহমান হৃদয় ঘটনাস্থলে গিয়ে ড্রামে তেল ভরার দৃশ্য ভিডিও করেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে পাম্প মালিক ফারুক মাদবর এবং তার ভাতিজা জামান মাদবরসহ কয়েকজন মিলে সাংবাদিকদের ওপর অতর্কিত হামলা চালায় ও লাঞ্ছিত করে। পরে স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে ভেদরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান।
ভুক্তভোগী ও সাংবাদিক নেতাদের প্রতিক্রিয়া:
হামলার শিকার সাংবাদিক জাহিদ হাসান টিপু বলেন, “অপেক্ষমাণ গাড়িতে তেল না দিয়ে তারা ড্রামে অকটেন মজুত করছিল। কারণ জানতে চাইলে তারা চড়াও হয় এবং প্রশাসনের দোহাই দিয়ে আমাদের ওপর হামলা চালায়।”
ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে ভেদরগঞ্জ উপজেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি আবুল বাসার বলেন, “একজন সাংবাদিকের কাজ সত্য তুলে ধরা। চোরাকারবারিদের ভিডিও করায় সাংবাদিকদের মারধর করা মানে স্বাধীন সাংবাদিকতাকে গলা চেপে ধরা। আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে আসামিদের গ্রেপ্তার করা না হলে কঠোর আন্দোলনের ডাক দেওয়া হবে।”
অভিযুক্তের বক্তব্য:
অভিযুক্ত পাম্প মালিক ফারুক মাদবর হামলার বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, “আমার ভাতিজা জামান মাদবর ভুল করেছে, সে তাদের চিনতে পারেনি। ড্রামে তেল দেওয়ার বিষয়টি মূলত বিভিন্ন নেতা ও প্রশাসনের চাহিদা মেটানোর জন্য করা হয়েছিল।”
পুলিশি ব্যবস্থা:
সখিপুর থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) শেখ ফরিদ উদ্দিন জানান, সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনায় একটি লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে এবং তদন্ত সাপেক্ষে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন
আপনার মূল্যবান মতামত আমাদের জানান। কোনো উসকানিমূলক বা অশালীন মন্তব্য করা থেকে বিরত থাকুন।