ব্রেকিং নিউজ

ইরানের প্রস্তাব ঘিরে কূটনৈতিক তৎপরতা, পর্যালোচনায় ডোনাল্ড ট্রাম্প

ইরানের প্রস্তাব ঘিরে কূটনৈতিক তৎপরতা, পর্যালোচনায় ডোনাল্ড ট্রাম্প

 ইরানের প্রস্তাব ঘিরে কূটনৈতিক তৎপরতা, পর্যালোচনায় ডোনাল্ড ট্রাম্প
আন্তর্জাতিক ডেস্ক | দিগন্ত বাংলা নিউজ

দীর্ঘদিন ধরে চলা চরম উত্তেজনা ও যুদ্ধের দামামার মধ্যে মধ্যপ্রাচ্যে শান্তির নতুন সম্ভাবনা উঁকি দিচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান সামরিক সংঘাতের অবসান ঘটাতে ইরানের পক্ষ থেকে দেওয়া ৩ স্তরের একটি নতুন শান্তি প্রস্তাব বর্তমানে গভীর গুরুত্বের সঙ্গে পর্যালোচনা করছে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নেতৃত্বাধীন প্রশাসন। হোয়াইট হাউস নিশ্চিত করেছে যে, এই প্রস্তাবের চুলচেরা বিশ্লেষণ শেষে ওয়াশিংটন খুব শীঘ্রই তাদের আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানাবে।

হোয়াইট হাউসের জরুরি ব্রিফিং ও ট্রাম্পের অবস্থান গতকাল সোমবার হোয়াইট হাউসের নিয়মিত প্রেস ব্রিফিংয়ে প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লিভিট এই কূটনৈতিক তৎপরতার বিষয়টি সামনে আনেন। তিনি জানান, সোমবার সকালেই প্রস্তাবটি নিয়ে প্রশাসনের উচ্চপর্যায়ে একটি রুদ্ধদ্বার বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। লিভিট বলেন, “প্রস্তাবটি নিয়ে আলোচনা চলছে, তবে এই মুহূর্তে বিস্তারিত বলা সম্ভব নয়। আমি নিশ্চিত যে, খুব শীঘ্রই আপনারা সরাসরি প্রেসিডেন্টের কাছ থেকেই এ ব্যাপারে সিদ্ধান্ত জানতে পারবেন।” তবে তিনি এটিও স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, আলোচনার টেবিলে প্রস্তাব থাকলেও ইরানকে কখনও পারমাণবিক অস্ত্রের অধিকারী হতে না দেওয়ার বিষয়ে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের মূল লক্ষ্য বা শর্তগুলোতে কোনো শিথিলতা আনা হবে না।

পাকিস্তানের মধ্যস্থতা ও ইরানের ৩ দফা প্রস্তাব কূটনৈতিক সূত্রে জানা গেছে, এই শান্তি প্রস্তাবটি সরাসরি ওয়াশিংটনের কাছে না পাঠিয়ে মধ্যস্থতাকারী দেশ পাকিস্তানের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে পাঠানো হয়েছে। ইরানের দেওয়া এই প্রস্তাবে তিনটি সুনির্দিষ্ট পর্যায় বা ধাপের কথা বলা হয়েছে:

​১. প্রথম পর্যায়: এই ধাপে ইরান ও লেবাননের ওপর সকল প্রকার ইসরায়েলি ও মার্কিন আগ্রাসন এবং সামরিক হামলা সম্পূর্ণভাবে বন্ধ করতে হবে।

২. দ্বিতীয় পর্যায়: প্রথম ধাপের শর্তগুলো বাস্তবায়িত হলে দ্বিতীয় পর্যায়ে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের জন্য কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ ‘হরমুজ প্রণালি’ পরিচালনা এবং এর প্রশাসনিক কাঠামো নিয়ে উভয় পক্ষ সমঝোতায় আসবে।

৩. তৃতীয় পর্যায়: উপরের দুটি ধাপ সফলভাবে সম্পন্ন হওয়ার পর সর্বশেষ ধাপে ইরানের বিতর্কিত পরমাণু প্রকল্প নিয়ে দীর্ঘমেয়াদী আলোচনার সুযোগ রাখা হয়েছে।

কূটনৈতিক গোপনীয়তা ও ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা ইরানের এই প্রস্তাবটি এমন এক সময়ে এলো যখন ১১ এপ্রিল ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিত প্রথম দফার বৈঠকটি কোনো ফলাফল ছাড়াই শেষ হয়েছিল। হোয়াইট হাউস এবার অত্যন্ত সতর্কতার সাথে পা ফেলছে। তারা স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে যে, এই সংবেদনশীল কূটনৈতিক আলোচনাগুলো গণমাধ্যমের মাধ্যমে বা প্রকাশ্য বিবৃতিতে সীমাবদ্ধ রাখতে তারা আগ্রহী নয়। বরং পর্দার আড়ালে কার্যকর আলোচনার মাধ্যমেই একটি টেকসই চুক্তিতে পৌঁছাতে চায় ট্রাম্প প্রশাসন।

​বিশ্ব বিশ্লেষকরা মনে করছেন, যদি প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এই প্রস্তাবে ইতিবাচক সাড়া দেন, তবে তা মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘস্থায়ী শান্তি স্থাপনের পথে একটি মাইলফলক হয়ে দাঁড়াবে। এখন দেখার বিষয়, হোয়াইট হাউস এই ৩ স্তরের প্রস্তাবের বিপরীতে কী ধরণের শর্ত আরোপ করে।

​সূত্র: এএফপি, এনডিটিভি ও হোয়াইট হাউস প্রেস রিলিজ।

Post a Comment

আপনার মূল্যবান মতামত আমাদের জানান। কোনো উসকানিমূলক বা অশালীন মন্তব্য করা থেকে বিরত থাকুন।

নবীনতর পূর্বতন