ব্রেকিং নিউজ

চুয়াডাঙ্গায় ৭১ বছরের বৃদ্ধাকে ধর্ষণ: অভিযুক্ত যুবক গ্রেফতার

চুয়াডাঙ্গায় ৭১ বছরের বৃদ্ধাকে ধর্ষণ: অভিযুক্ত যুবক গ্রেফতার

জেলা ও ক্রাইম ডেস্ক, দিগন্ত বাংলা নিউজ: 

চুয়াডাঙ্গা জেলার দামুড়হুদা উপজেলায় এক চরম জঘন্য, অমানবিক ও নিন্দনীয় অপরাধের ঘটনা ঘটেছে। ৭১ বছর বয়সী এক বৃদ্ধা নারীকে জোরপূর্বক ধর্ষণের অভিযোগে এক বিশ বছর বয়সী যুবককে গ্রেফতার করেছে স্থানীয় থানা পুলিশ। গত রবিবার (২৪ মে) দিনগত রাত আনুমানিক ২টার দিকে দামুড়হুদা উপজেলার ইব্রাহিমপুর গ্রামের স্কুল মোড় এলাকায় এক ঝটিকা ও বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে ওই অভিযুক্ত যুবককে লোহার হাতকড়া পরায় পুলিশ প্রশাসন। এই রোমাঞ্চকর ও নৃশংস ঘটনার পর থেকে পুরো চুয়াডাঙ্গা জেলা জুড়ে সাধারণ মানুষের মাঝে তীব্র ক্ষোভ, ধিক্কার এবং অভিযুক্তের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি উঠেছে। ভুক্তভোগী ওই প্রবীণ নারীর পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় মামলা দায়েরের পর পুলিশ অতি দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণ করে।

​পুলিশ ও স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, এই লোমহর্ষক ঘটনাটি ঘটেছিল গত ২০ মে বুধবার দুপুরে, দামুড়হুদা উপজেলার প্রত্যন্ত ইব্রাহিমপুর মেন্দের মাঠ এলাকায়। ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত যুবক আত্মগোপনে থাকার চেষ্টা করলেও শেষ রক্ষা হয়নি। গ্রেফতারকৃত যুবকের নাম তরিকুল ইসলাম (২০)। সে দামুড়হুদা উপজেলার ইব্রাহিমপুর গ্রামের বাসিন্দা সিরাজুল ইসলামের ছেলে।

​ঘটনার প্রেক্ষাপট ও নির্মমতার লোমহর্ষক বিবরণ

​বাংলাদেশ একটি ঐতিহ্যবাহী ও মূল্যবোধের দেশ, যেখানে প্রবীণ নাগরিক তথা মা-বোনদের সমাজ সবসময় এক বিশেষ শ্রদ্ধার চোখে দেখে থাকে। কিন্তু চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদা উপজেলার প্রত্যন্ত গ্রামীণ জনপদে ঘটে যাওয়া এই ঘটনাটি আমাদের সেই হাজার বছরের সামাজিক মূল্যবোধ ও নৈতিকতার ভিতকে নাড়িয়ে দিয়েছে।

​পুলিশ ও ভুক্তভোগী পরিবারের দেওয়া এজাহারের বিস্তারিত বিবরণ অনুযায়ী, গত ২০ মে ওই বৃদ্ধা নারী চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদা উপজেলার কলাবাড়ী গ্রামে তাঁর নিজের বিবাহিত মেয়ের বাড়িতে বেড়াতে গিয়েছিলেন। মেয়ের বাড়িতে কিছুদিন কাটানোর পর, ঘটনার দিন দুপুরে মেয়ে তাঁর বৃদ্ধা মায়ের জন্য পরম যত্নে নিজের হাতে রান্না করা কিছু তরকারি এবং বাজার থেকে সংগৃহীত তাজা মাছ একটি প্লাস্টিকের ব্যাগে গুছিয়ে দেন। দুপুরের কড়া রোদ এবং তপ্ত আবহাওয়ার মধ্যে ওই প্রবীণ নারী মেয়ের দেওয়া খাবারের ব্যাগটি হাতে নিয়ে পায়ে হেঁটে গ্রামীণ কাঁচা রাস্তা ধরে নিজের বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছিলেন।

​তিনি যখন ইব্রাহিমপুর পার্কের পেছনের নির্জন ও জনমানবহীন রাস্তা দিয়ে যাচ্ছিলেন, ঠিক তখনই ওই পথ দিয়ে ওত পেতে থাকা ইব্রাহিমপুর গ্রামের যুবক তরিকুল ইসলাম তাঁর পিছু নেয়। প্রবীণ ওই নারীর একাকীত্ব ও নিঃসহায়তার সুযোগ নিয়ে তরিকুল প্রথমে অত্যন্ত ভালো মানুষ ও সুশীল যুবকের ভান করে তাঁর সামনে এগিয়ে আসে। তরিকুল ওই নারীকে খুব নরম সুরে বলে যে, দুপুরের রোদে তাঁর হাতে থাকা ভারী তরকারির ব্যাগটি বহন করতে কষ্ট হচ্ছে, তাই ব্যাগটি সে নিজ দায়িত্বে তাঁর বাড়ি পৌঁছে দেবে।

​গ্রামের সরল মনের ওই প্রবীণ নারী যুবকের এই কুৎসিত ও পাশবিক উদ্দেশ্য বুঝতে না পেরে সরল বিশ্বাসে খাবারের ব্যাগটি তরিকুলের হাতে তুলে দেন এবং তার সাথে হাঁটতে থাকেন। কিন্তু পথিমধ্যে ইব্রাহিমপুরের জনশূন্য মেন্দের মাঠে পৌঁছানো মাত্রই তরিকুলের ভেতরের পাশবিক ও দানবীয় রূপ প্রকাশ পায়। সে চারপাশ সম্পূর্ণ জনমানুষহীন এবং মাঠের নির্জন পরিবেশের সুযোগ নিয়ে হঠাত করেই ৭১ বছর বয়সী ওই অসহায় বৃদ্ধা নারীকে পেছন থেকে জাপটে ধরে। প্রবীণ নারীটি কিছু বুঝে ওঠার আগেই তরিকুল তাঁর মুখের ভাষা চেপে ধরে এবং তীব্র জোরপূর্বক পাশবিক নির্যাতন ও ধর্ষণ সম্পন্ন করে। বয়সের ভারে নুয়ে পড়া ও শারীরিক দুর্বলতার কারণে ওই বৃদ্ধা কোনো প্রকার চিৎকার বা আত্মরক্ষা করতে পারেননি। পাশবিক এই জঘন্য অপরাধ শেষ করে অভিযুক্ত তরিকুল বৃদ্ধাকে রক্তাক্ত ও অর্ধচেতন অবস্থায় মাঠের মধ্যে ফেলে রেখে দ্রুত ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়।

আরও পড়ুন: টাঙ্গাইলে রডবোঝাই ট্রাক উল্টে ১৫ জন নিহত: যমুনা সেতুর পূর্ব প্রান্তে মর্মান্তিক দুর্ঘটনা

টাঙ্গাইলে রডবোঝাই ট্রাক উল্টে ১৫ জন নিহত: যমুনা সেতুর পূর্ব প্রান্তে মর্মান্তিক দুর্ঘটনা

​মামলা দায়ের ও পুলিশের সাঁড়াশি মধ্যরাতের অভিযান

​নৃশংস ও হীন এই ঘটনার পর লোকলজ্জা, সামাজিক মর্যাদা এবং লোকভয়ে ভুক্তভোগী পরিবারটি প্রথমে চরম মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিল এবং স্তব্ধ হয়ে গিয়েছিল। গ্রামীণ সমাজে এই ধরণের অপরাধের পর অনেক সময় ভুক্তভোগীরা আইনি পদক্ষেপ নিতে দ্বিধাবোধ করেন। কিন্তু পরবর্তীতে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি, মানবাধিকার কর্মী ও সচেতন মহলের আশ্বাসে এবং আইনি সুরক্ষার প্রতিশ্রুতি পেয়ে নির্যাতিত ওই প্রবীণ নারী নিজে সাহসী পদক্ষেপ নেন। তিনি গত রবিবার রাতে পরিবারের সদস্যদের সাথে নিয়ে চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদা মডেল থানায় উপস্থিত হন। সেখানে কর্তব্যরত কর্মকর্তার সামনে পুরো ঘটনার বিবরণ দিয়ে তরিকুল ইসলামকে একমাত্র আসামি করে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের আওতায় একটি নিয়মিত মামলা দায়ের করেন।

​গুরুত্বপূর্ণ এই মামলাটি থানায় রুজু হওয়ার সাথে সাথেই দামুড়হুদা মডেল থানার পুলিশের একটি অত্যন্ত চৌকস, দক্ষ ও বিশেষ আভিযানিক দল (Action Team) মাঠে নামে। অপরাধীকে কোনোভাবেই এলাকা ছেড়ে পালিয়ে যাওয়ার সুযোগ না দিতে পুলিশ প্রশাসন চুয়াডাঙ্গার বিভিন্ন সীমান্ত ও মহাসড়কে নজরদারি বাড়ায়। পরবর্তীতে আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তি এবং স্থানীয় বিশ্বস্ত গুপ্তচরের (Source) দেওয়া গোপন তথ্যের ভিত্তিতে রবিবার দিবাগত রাত ২টার দিকে ইব্রাহিমপুর গ্রামের স্কুল মোড় এলাকায় তরিকুলের অবস্থান নিশ্চিত করে পুলিশ। এরপর মুহূর্তের মধ্যে চারদিক থেকে ঘিরে ফেলে ঘাতক তরিকুলকে কোনো প্রকার প্রতিরোধের সুযোগ না দিয়ে হাতেনাতে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয় পুলিশ বাহিনী।

​থানা পুলিশ ও প্রশাসনের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য এবং পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ

​এই স্পর্শকাতর ও জঘন্য ক্রাইম মামলার বিষয়ে দামুড়হুদা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ মেসবাহ্ উদ্দিন দিগন্ত বাংলা নিউজকে বিস্তারিত আইনি ও প্রশাসনিক ব্রিফিং দিয়েছেন। তিনি বলেন, "৭১ বছর বয়সী একজন প্রবীণ ও শ্রদ্ধেয় নারীর ওপর এই ধরণের পাশবিক নির্যাতন কেবল একটি অপরাধই নয়, এটি আমাদের সামাজিক অবক্ষয়ের চরম ও কুৎসিত রূপ। ভুক্তভোগী নারী থানায় এসে মামলা দায়ের করার পর আমরা বিষয়টিকে সর্বোচ্চ রাষ্ট্রীয় অগ্রাধিকার দিয়েছি। আমাদের বিশেষ টিম অত্যন্ত দক্ষতার সাথে রাতেই অভিযান চালিয়ে ইব্রাহিমপুর স্কুল মোড় থেকে মূল আসামি তরিকুলকে লোহার হাতকড়া পরাতে সক্ষম হয়েছে।"

​ওসি শেখ মেসবাহ্ উদ্দিন আরও জানান, "আজ সোমবার দুপুরের দিকে আইনি সমস্ত প্রক্রিয়া ও সুরতহাল প্রতিবেদন মেনে আসামিকে বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। একই সাথে ভুক্তভোগী প্রবীণ নারীর শারীরিক পরীক্ষা ও প্রয়োজনীয় ডাক্তারি পরীক্ষার (Medical Test) জন্য চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের ওয়ান-স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে (OCC) পাঠানো হয়েছে। আমরা এই মামলার সমস্ত ডকেট ও আলামত সংগ্রহ করছি এবং খুব দ্রুততম সময়ের মধ্যে বিজ্ঞ আদালতে একটি নিখুঁত চার্জশিট (অভিযোগপত্র) জমা দেব, যেন অপরাধী আইনের সর্বোচ্চ ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি পায়।"

​গ্রামীণ জনপদে প্রবীণ নারীদের নিরাপত্তা ও সামাজিক অবক্ষয়

​চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদায় ঘটে যাওয়া এই চাঞ্চল্যকর ও লোমহর্ষক ঘটনাটি দেশের মানবাধিকার কর্মী, সমাজ বিজ্ঞানী এবং আইন বিশেষজ্ঞদের নতুন করে এক গভীর ভাবনার খোরাক জুগিয়েছে। আমাদের চিরায়ত বাঙালি সংস্কৃতিতে যেখানে সমাজে বয়স্ক, প্রবীণ ও নুয়ে পড়া নারীদের দাদী-নানী বা মায়ের সমতুল্য মনে করে সম্মান ও সর্বোচ্চ নিরাপত্তা দেওয়ার কথা, সেখানে মাত্র ২০ বছরের এক তরুণ যুবকের হাতে ৭১ বছরের বৃদ্ধার এই ধরণের পাশবিক নির্যাতনের শিকার হওয়া আমাদের সামগ্রিক নৈতিক স্খলন ও পারিবারিক শিক্ষার চরম অভাবকে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দেয়।

​স্থানীয় সমাজবিজ্ঞানীদের মতে, বর্তমান যুবসমাজের একটি বড় অংশ নৈতিক শিক্ষার অভাব, অপসংস্কৃতির অন্ধ অনুকরণ, অনিয়ন্ত্রিত মাদকাসক্তি এবং স্মার্টফোনের মাধ্যমে ইন্টারনেটে বিভিন্ন পর্নোগ্রাফির অবাধ বিস্তারের কারণে চরম মানসিক বিকৃতির শিকার হচ্ছে। এই ধরণের বিকৃত মানসিকতার ফলেই তারা নিজেদের হিতাহিত জ্ঞান হারিয়ে এই ধরণের পৈশাচিক ও জঘন্য অপরাধে লিপ্ত হতে দ্বিধাবোধ করছে না। ইব্রাহিমপুর গ্রামের সাধারণ ও খেটে খাওয়া মানুষ তরিকুলের এই জঘন্য কর্মকাণ্ডে পুরো জেলার সামনে চরম লজ্জিত এবং তারা অনতিবিলম্বে দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের মাধ্যমে এই মামলার বিচার কাজ সম্পন্ন করে তার ফাঁসি বা যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ডের দাবি জানিয়েছেন।

​চুয়াডাঙ্গার সীমান্ত এলাকায় আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও জনমনে প্রতিক্রিয়া

​দামুড়হুদা উপজেলার এই প্রত্যন্ত মেন্দের মাঠ ও পার্কের পেছনের রাস্তাগুলো মূলত বেশ কিছুটা নির্জন থাকে, যার ফলে সন্ধ্যার পর বা দুপুরের নির্জন সময়ে এই সব এলাকায় অপরাধীদের আনাগোনা বৃদ্ধি পায়। স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, এই ধরণের নির্জন রাস্তাগুলোতে যদি হাইওয়ে বা থানা পুলিশের নিয়মিত টহল ও নজরদারি থাকত, তবে অপরাধীরা এমন জঘন্য কাজ করার সাহস পেত না।

​এই লোমহর্ষক ঘটনার পর ওই এলাকার সাধারণ নারী ও স্কুল-কলেজগামী ছাত্রীদের চলাচলের ক্ষেত্রে সাময়িক এক ধরণের আতঙ্ক ও চরম নিরাপত্তাহীনতা বিরাজ করছে। তবে ঘটনার মাত্র কয়েক ঘণ্টার মধ্যে দামুড়হুদা মডেল থানা পুলিশ যেভাবে মূল আসামিকে মধ্যরাতে চিরুনি অভিযান চালিয়ে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়েছে, তার ফলে স্থানীয় জনসাধারণের মাঝে পুলিশ প্রশাসনের প্রতি আস্থা ও স্বস্তি অনেকাংশেই ফিরে এসেছে। সচেতন মহল মনে করছেন, অপরাধী যে-ই হোক না কেন, তাকে রাজনৈতিক বা সামাজিকভাবে কোনো প্রকার আশ্রয়-প্রশ্রয় না দিয়ে দ্রুততম সময়ে আইনের মুখোমুখি করা হলে ভবিষ্যতে এই ধরণের লোহমর্ষক অপরাধ করার সাহস কেউ পাবে না।

​এই ধরণের সামাজিক ক্রাইম বা অপরাধের ঘটনাগুলো শুধু সংবাদ হিসেবে প্রকাশ করাই শেষ কথা নয়, বরং এর পেছনের কারণগুলো উদ্ঘাটন করে সমাজকে সচেতন করা একটি মূলধারার সংবাদ মাধ্যমের প্রধান দায়িত্ব। দিগন্ত বাংলা নিউজ সবসময়ই সত্য ও ন্যায়ের পক্ষে কথা বলে। এই ধরণের জঘন্য অপরাধ থেকে সমাজকে মুক্ত রাখতে হলে আমাদের তৃণমূল পর্যায় থেকে বেশ কিছু জরুরি পদক্ষেপ গ্রহণ করা আবশ্যক:

​১. পারিবারিক ও ধর্মীয় মূল্যবোধের চর্চা: প্রতিটি পরিবারে সন্তান ছোটবেলা থেকে কার সাথে মিশছে, তার নৈতিক আচরণ কেমন, সে কি কোনো ধরণের মাদকের সাথে জড়িয়ে পড়ছে কিনা—সে বিষয়ে মা-বাবা ও অভিভাবকদের কড়া নজরদারি ও সুশিক্ষা দিতে হবে।

২. আইনের দ্রুত ও কঠোর প্রয়োগ: নারী ও শিশু নির্যাতন আইনের মামলাগুলো দীর্ঘমেয়াদে ঝুলে থাকার কারণে অনেক সময় অপরাধীরা পার পেয়ে যায়। এই মামলাগুলোর বিচার প্রক্রিয়া যদি দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের মাধ্যমে ৩ থেকে ৬ মাসের মধ্যে সম্পন্ন করে শাস্তির রায় কার্যকর করা যায়, তবে সমাজে অপরাধের প্রবণতা জ্যামিতিক হারে কমে আসবে।

৩. গ্রামীণ নিরাপত্তা ও টহল ব্যবস্থা: ইউনিয়ন পরিষদের গ্রাম পুলিশ এবং স্থানীয় থানা পুলিশের সমন্বয়ে প্রত্যন্ত অঞ্চলের নির্জন রাস্তা, মাঠ ও পার্কের আশেপাশের এলাকায় নিয়মিত ও আকস্মিক টহল (Surprise Patrol) জোরদার করতে হবে, যাতে কোনো অপরাধী চক্র নির্জনতার সুযোগ নিতে না পারে।

৪. সামাজিক প্রতিরোধ কমিটি: প্রতিটি গ্রামে যুবসমাজ ও প্রবীণদের নিয়ে 'অপরাধ প্রতিরোধ ও সচেতনতা কমিটি' গঠন করতে হবে, যারা যেকোনো প্রকার অনৈতিক বা সন্দেহজনক কার্যকলাপের বিরুদ্ধে সাথে সাথে স্থানীয় প্রশাসনকে তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করবে।

​চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদার এই প্রবীণ নারী যেন অতি দ্রুত সঠিক বিচার ও আইনি সহায়তা পান, তার জন্য দিগন্ত বাংলা নিউজ পরিবার সার্বক্ষণিকভাবে এই মামলার পরবর্তী বিচারিক প্রক্রিয়ার ওপর কড়া নজর রাখছে।

​সূত্র: চুয়াডাঙ্গা জেলা পুলিশ কন্ট্রোল রুম, দামুড়হুদা মডেল থানা প্রশাসন ও চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতাল জরুরি বিভাগ

 

Post a Comment

আপনার মূল্যবান মতামত আমাদের জানান। কোনো উসকানিমূলক বা অশালীন মন্তব্য করা থেকে বিরত থাকুন।

নবীনতর পূর্বতন