না ফেরার দেশে শাহজাদপুরের কৃতি সন্তান ও সাবেক সেনাসদস্য আজগর আলী: স্তব্ধ দরগাপাড়া

না ফেরার দেশে শাহজাদপুরের কৃতি সন্তান ও সাবেক সেনাসদস্য আজগর আলী: স্তব্ধ দরগাপাড়া

​জাতীয় ডেস্ক: শামীম হোসাইন / দিগন্ত বাংলা নিউজ

বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব ও শৃঙ্খলার অতন্দ্র প্রহরী, দেশপ্রেমের মূর্ত প্রতীক এবং সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর উপজেলার দরগাপাড়া গ্রামের গর্বিত সন্তান—সাবেক সেনাসদস্য আজগর আলী আর আমাদের মাঝে নেই। শনিবার (২৭ জুন ২০২৬) রাত আনুমানিক ৮:৩০ মিনিটের সময় তিনি আমাদের ছেড়ে চিরদিনের জন্য না ফেরার দেশে পাড়ি জমিয়েছেন। ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন। তিনি দরগাপাড়া গ্রামের মোঃ সাইদুর রহমানের একমাত্র বড় ছেলে ছিলেন।

​আজগর আলীর এই অকাল বিদায়ে পুরো শাহজাদপুর উপজেলা এবং সিরাজগঞ্জ অঞ্চলে শোকের কালো ছায়া নেমে এসেছে। একজন প্রাক্তন সেনাসদস্যের এই বিদায় কেবল একটি পরিবারের ক্ষতি নয়, বরং এটি পুরো সমাজের জন্য এক অপূরণীয় শূন্যতা।

দেশপ্রেম ও শৃঙ্খলার এক অনন্য উদাহরণ

আজগর আলী ছিলেন এমন একজন ব্যক্তি, যার জীবনটাই ছিল দেশপ্রেম, নিষ্ঠা এবং শৃঙ্খলার এক অনন্য মিশেল। বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে কর্মরত থাকাকালীন তিনি অসীম সাহসিকতা এবং সততার সঙ্গে তার ওপর অর্পিত দায়িত্ব পালন করেছেন। সেনাসদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন শেষে অবসর গ্রহণ করলেও, তার আচার-আচরণ ও জীবনযাত্রায় সেনাবাহিনীর সেই সুশৃঙ্খল ভাবমূর্তি সবসময় বিদ্যমান ছিল।

আরও পড়ুন: বাজার দরে মিশ্র স্বস্তি: সবজি ও ডিমের দামে বড় পতন, চালের বাজার স্থিতিশীল হলেও ঊর্ধ্বমুখী ভোজ্যতেল ও মসলা

​🔹 দেশ সেবার অঙ্গীকার: সেনাবাহিনীতে দীর্ঘ কর্মজীবনে তিনি শৃঙ্খলা ও দেশপ্রেমের যে দীক্ষা পেয়েছিলেন, অবসরের পরও তার জীবনের প্রতিটি কাজে সেই ছাপ স্পষ্ট ছিল। এলাকার মানুষ তাকে সবসময় একজন দায়িত্বশীল এবং আদর্শ নাগরিক হিসেবেই জানত।

🔹 জনপ্রিয়তা ও মানবিকতা: একজন সাবেক সেনাসদস্য হিসেবে এলাকায় তার ব্যাপক পরিচিতি ও সম্মান ছিল। তার কথাবার্তা, চলাফেরা ও আচরণের মধ্যে ছিল এক ধরনের আভিজাত্য ও বিনয়, যা তাকে এলাকার তরুণ প্রজন্মের কাছে একজন রোল মডেলে পরিণত করেছিল। বিপদে-আপদে তিনি সবসময় মানুষের পাশে দাঁড়াতেন।

🔹 অকাল বিদায়: গত কয়েকদিন ধরে তিনি অসুস্থতায় ভুগছিলেন। তার উন্নত চিকিৎসার জন্য সিরাজগঞ্জের এনায়েতপুর খাজা ইউনুস আলী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল। সেখানে চিকিৎসকদের আপ্রাণ প্রচেষ্টা এবং পরিবারের সদস্যদের প্রার্থনার সবটুকু শক্তি উজাড় করে দেওয়ার পরও বিধাতার অমোঘ নিয়তির কাছে তাকে হার মানতে হলো। হাসপাতালের নিবিড় পর্যবেক্ষণে থাকা অবস্থায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

শোকাহত পরিবার ও এলাকার পরিবেশ

আজগর আলীর অকাল মৃত্যুতে দরগাপাড়া গ্রামসহ পুরো এলাকা শোকস্তব্ধ। তার মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তি, সহকর্মী এবং আত্মীয়স্বজনরা শোকে পাথর হয়ে তার বাড়িতে ভিড় জমান। শোকে কাতর পিতা মোঃ সাইদুর রহমানের আহাজারিতে বাতাস ভারী হয়ে উঠেছে। একমাত্র বড় সন্তানকে হারানোর বেদনা কোনোভাবেই ভাষায় প্রকাশ করার মতো নয়।

আরও পড়ুন: পাবনায় পদ্মার চরে অবৈধ বালু উত্তোলন নিয়ে রণক্ষেত্র, গুলিতে বিএনপি কর্মী মঞ্জু শেখ নিহত

​🔹 স্মৃতিচারণ: এলাকার সাধারণ মানুষ তাকে একজন ‘সহজ-সরল ও পরোপকারী’ মানুষ হিসেবেই চেনে। তার মৃত্যুতে সমাজ একজন তরুণ নেতৃত্ব এবং এক নিবেদিতপ্রাণ মানুষকে হারাল।

🔹 জানাজা ও শেষ শ্রদ্ধা: সেনাবাহিনী থেকে অবসরপ্রাপ্ত হওয়ায় তার শেষ বিদায় ও জানাজায় স্থানীয় সামরিক ও বেসামরিক ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। খুব শীঘ্রই পারিবারিক কবরস্থানে তাকে সমাহিত করা হবে।

🔹 শূন্যতা: তার এই শূন্যস্থান কোনোভাবেই পূরণ হওয়ার নয়। পরিবার আজ তাদের বড় অবলম্বনকে হারিয়ে নির্বাক। আমাদের নিউজ পোর্টালের পক্ষ থেকে আমরা তার শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি আমাদের গভীর সমবেদনা জ্ঞাপন করছি।

মহান রবের কাছে প্রার্থনা

মৃত্যু এক অনিবার্য সত্য, যা কাউকে ছাড় দেয় না। আজগর আলী তার কর্মগুণে এবং দেশপ্রেমের মাধ্যমে মানুষের হৃদয়ে অমর হয়ে থাকবেন। আমরা মহান আল্লাহ তায়ালার নিকট প্রার্থনা করি, তিনি যেন আজগর আলীকে জান্নাতুল ফিরদাউসের সুউচ্চ মাকাম দান করেন। তার জীবনের সকল ভালো কাজগুলোকে কবুল করে তাকে পরপারে শান্তিতে রাখুন।

​🔹 দোয়া: মহান আল্লাহ তায়ালা যেন এই শোকসন্তপ্ত পরিবারকে সবর বা ধৈর্য ধারণ করার তাওফিক দান করেন। আমিন।

সূত্র: দিগন্ত বাংলা নিউজ নিজস্ব প্রতিনিধি।

 

Post a Comment

আপনার মূল্যবান মতামত আমাদের জানান। কোনো উসকানিমূলক বা অশালীন মন্তব্য করা থেকে বিরত থাকুন।

নবীনতর পূর্বতন