সিলেটের কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার ৬ নং ওয়ার্ডের মোস্তফা নগর গ্রামে এক অসহায় ও নিরীহ পরিবারের ওপর দীর্ঘদিন ধরে ধারাবাহিক হামলা, ভয়ভীতি প্রদর্শন, জোরজুলুম এবং বসতবাড়ি ভাঙচুর করার এক গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় একটি প্রভাবশালী ও স্বার্থান্বেষী মহলের ক্রমাগত অত্যাচার এবং উচ্ছেদের হুমকিতে ভুক্তভোগী পরিবারটি চরম নিরাপত্তাহীনতা ও আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটাচ্ছে। গ্রামের একটি সংঘবদ্ধ সিন্ডিকেটের এই ধরণের বেআইনি ও সন্ত্রাসী কার্যকলাপে পুরো এলাকায় তীব্র ক্ষোভ এবং উত্তেজনা বিরাজ করছে। অনাকাঙ্ক্ষিত কোনো বড় ধরণের রক্তক্ষয়ী সংঘাত এড়াতে এবং নিরীহ পরিবারটির জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ভুক্তভোগীরা স্থানীয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
ঘটনার বিবরণ ও হামলার অভিযোগ:
ভুক্তভোগী পরিবার এবং স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মোস্তফা নগর গ্রামের বাসিন্দা আজিজুল ও নূর ইসলামসহ একটি সংঘবদ্ধ চক্র এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে অবৈধ প্রভাব বিস্তার করে আসছে। এই সিন্ডিকেটটি সাধারণ মানুষকে ভয়ভীতি দেখিয়ে এবং পেশিশক্তি ব্যবহার করে এলাকায় নিজেদের একক আধিপত্য বজায় রাখার চেষ্টা করছে।
অভিযোগে জানা যায়, গত কয়েকদিন আগে এই চক্রটি সম্পূর্ণ পরিকল্পিতভাবে দলবদ্ধ হয়ে দেশীয় অস্ত্রে সজ্জ্বিত হয়ে একই এলাকার বাসিন্দা মোঃ সফর মিয়ার বসতবাড়িতে আকস্মিক হামলা চালায়। হামলাকারীরা সফর মিয়ার সীমানা প্রাচীর ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে এবং ঘরের আসবাবপত্রসহ বিভিন্ন মূল্যবান জিনিসপত্র ব্যাপক ভাঙচুর করে। এ সময় বাধা দিতে গেলে পরিবারের সদস্যদের ওপর বর্বরভাবে চড়াও হয় সন্ত্রাসীরা। নারী ও শিশুদের সামনেই পরিবারের পুরুষ সদস্যদের মারধর করা হয় এবং গ্রাম ছাড়ার চূড়ান্ত হুমকি দেওয়া হয়। এই বর্বরোচিত হামলার পর থেকে সফর মিয়ার পুরো পরিবার চরম মানসিক ট্রমা এবং নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে দিন পার করছে। বিশেষ করে পরিবারের নারী ও শিশুদের মাঝে গভীর আতঙ্ক বিরাজ করছে, যার ফলে স্বাভাবিক জীবনযাত্রা পুরোপুরি ব্যাহত হচ্ছে।
বিরোধের নেপথ্যে ও ঐতিহাসিক সত্য:
ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা জানান, এই উচ্ছেদ ও হয়রানির বিরোধটি নতুন কিছু নয়। এর পেছনে রয়েছে বসতভিটা জোরপূর্বক দখল করার এক দীর্ঘমেয়াদী নীল নকশা। জমির মালিকানা এবং বসবাসের ইতিহাস টেনে তারা জানান, মরহুম তৈয়ব আলী শেখ বহু বছর আগে থেকেই ওই এলাকায় জমি ক্রয় করে স্থায়ীভাবে বসতবাড়ি নির্মাণ করেছিলেন। তখন থেকেই তার বংশধরেরা সেখানে অত্যন্ত শান্তিপূর্ণভাবে বসবাস করে আসছিলেন, যা এলাকার প্রবীণ ব্যক্তিত্ব এবং সাধারণ মানুষ খুব ভালো করেই অবগত আছেন। কিন্তু তৈয়ব আলী শেখের মৃত্যুর পর তার উত্তরসূরিদের অসহায়ত্বের সুযোগ নিয়ে এই প্রভাবশালী চক্রটি মিথ্যা দাবি ও ভুয়া কাগজপত্র তৈরি করে জোরপূর্বক জমি দখল এবং নিরীহ পরিবারটিকে তাদের পৈতৃক ভিটা থেকে সম্পূর্ণ উচ্ছেদের পাঁয়তারা চালিয়ে যাচ্ছে।
আরও পড়ুন: শি জিনপিংয়ের কড়া বার্তা নিয়ে বেইজিং ছাড়লেন ট্রাম্প: তাইওয়ান ইস্যুতে চরম উত্তেজনা
স্থানীয় সালিশ ও বিচারহীনতার সংস্কৃতি:
এই ন্যাক্কারজনক ঘটনার পর ভুক্তভোগী পরিবারটি প্রথম দিকে স্থানীয়ভাবে মীমাংসা এবং ন্যায়বিচারের আশায় গ্রাম্য মুরব্বিদের দ্বারস্থ হয়েছিলেন। কিন্তু সবচেয়ে দুঃখজনক বিষয় হলো, একাধিকবার চেষ্টা করেও স্থানীয় পর্যায়ে কোনো সঠিক বা নিরপেক্ষ বিচার পাওয়া যায়নি। ভুক্তভোগীদের জোরালো অভিযোগ, এলাকার কিছু চাটুকার, স্বার্থান্বেষী ও পক্ষপাতদুষ্ট প্রভাবশালী ব্যক্তি এই অবৈধ সিন্ডিকেটের সাথে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে জড়িত রয়েছেন। মোটা অঙ্কের অর্থ কিংবা ব্যক্তিগত স্বার্থের কারণে এই কথিত মুরব্বিরা অপরাধীদের আড়াল করার চেষ্টা করছেন, যার ফলে গ্রামীণ সালিশি ব্যবস্থা সম্পূর্ণ ভেঙে পড়েছে এবং নিরপেক্ষ বিচার প্রাপ্তি চরমভাবে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। গ্রামীণ বিচারে বারবার প্রতারিত ও অবহেলার শিকার হয়ে অবশেষে অসহায় পরিবারটি আইনি সুরক্ষার জন্য প্রশাসনের সরাসরি দ্বারস্থ হতে বাধ্য হয়েছে।
এলাকাবাসীর শঙ্কা ও প্রশাসনিক হস্তক্ষেপের দাবি:
মোস্তফা নগর গ্রামের সাধারণ ও বিবেকবান অধিবাসীদের অনেকেই এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক গ্রামবাসী জানান, আজিজুল ও নূর ইসলামের এই চক্রটির অত্যাচারে সাধারণ মানুষ অতিষ্ঠ। কিন্তু তাদের প্রতিশোধের ভয়ে কেউ প্রকাশ্যে মুখ খুলতে সাহস পায় না। সচেতন এলাকাবাসীর মতে, যদি এখনই এই উগ্র সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে দ্রুত কোনো কার্যকর প্রশাসনিক পদক্ষেপ বা আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা না হয়, তবে ভবিষ্যতে এই জমি সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে বড় ধরণের অনাকাঙ্ক্ষিত রক্তক্ষয় বা অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটতে পারে।
তাই স্থানীয় কোম্পানীগঞ্জ থানা পুলিশ, উপজেলা প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে ভুক্তভোগী পরিবার ও এলাকাবাসীর জোর দাবি—ঘটনার একটি সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত করা হোক। পর্দার আড়ালের মূল অপরাধীদের দ্রুত চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনা হোক এবং নিরীহ পরিবারটির অবরুদ্ধ জীবনের অবসান ঘটিয়ে তাদের স্বাভাবিকভাবে বেঁচে থাকার আইনি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হোক।
দিগন্ত বাংলা নিউজ-এর সম্পাদকীয় বার্তা:
একটি স্বাধীন ও সভ্য সমাজে কোনো ধরণের অন্যায়, সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি বা জোরজুলুমের স্থান হতে পারে না। জোর যার মুল্লুক তার—এই প্রাচীন বর্বর নীতি আধুনিক আইনকানুনের শাসনকে প্রশ্নবিদ্ধ করে। আমরা কোনো পক্ষের হয়ে ওকালতি করি না, তবে আমরা সবসময় সত্য, ন্যায় এবং মানবাধিকারের পক্ষে কথা বলি। আমরা চাই এই ঘটনার সত্যতা উদঘাটিত হোক এবং একটি সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত দোষীদের শাস্তি নিশ্চিত করে সমাজ থেকে বিচারহীনতার সংস্কৃতি দূর হোক। দেশ ও প্রবাসে থাকা সকল বিবেকবান ও মানবাধিকারকর্মী মানুষের প্রতি আমাদের আকুল অনুরোধ, সত্য ঘটনাটি সবার সামনে তুলে ধরতে এবং একটি অসহায় পরিবারকে পৈতৃক ভিটা রক্ষা করতে প্রতিবেদনটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বেশি বেশি শেয়ার করুন। আপনার একটি শেয়ার হয়তো স্থানীয় প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে পারে এবং একটি নিষ্পাপ পরিবারকে দিতে পারে কাঙ্ক্ষিত ন্যায়বিচার।


একটি মন্তব্য পোস্ট করুন
আপনার মূল্যবান মতামত আমাদের জানান। কোনো উসকানিমূলক বা অশালীন মন্তব্য করা থেকে বিরত থাকুন।