জাতীয় ডেস্ক: শামীম হোসাইন / দিগন্ত বাংলা নিউজ
পবিত্র ঈদুল আজহার পরবর্তী সময়ে দেশের খুচরা বাজারগুলোতে নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্যের উথাল-পাথাল চিত্র লক্ষ্য করা যাচ্ছে। একদিকে সরবরাহ বৃদ্ধির কারণে সবজি ও ডিমের বাজারে বড় ধরণের স্বস্তি ফিরলেও, চাল ও ভোজ্যতেলের বাজার সাধারণ ক্রেতাদের কপালে কিছুটা চিন্তার ভাঁজ ধরে রেখেছে।
## বাজার নিয়ন্ত্রণে সরকারের কঠোর নজরদারি: চালের বাজার সিন্ডিকেটের পাঁয়তারা রুখে দিল প্রশাসন, উৎসব পরবর্তী সময়ে রাজধানীর কাঁচাবাজারে ক্রেতাদের মিশ্র প্রতিক্রিয়া
পবিত্র ঈদুল আজহার প্রাক্কালে দেশের চালের বাজারে যে আকস্মিক ও অনভিপ্রেত মূল্যবৃদ্ধি ঘটেছিল, সরকারের কঠোর নজরদারি, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের হুঁশিয়ারি এবং নানামুখী প্রশাসনিক চাপের মুখে বর্তমানে তা একটি স্থিতিশীল পর্যায়ে এসে উপনীত হয়েছে। তবে চালের বাজার নিয়ন্ত্রণে এলেও রাজধানীর বিভিন্ন কাঁচাবাজারে অন্যান্য নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্যে এক ধরণের মিশ্র প্রবণতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। গত সপ্তাহের তুলনায় কাঁচাবাজারে সবজি, ডিম এবং নির্দিষ্ট কিছু অঞ্চলের পেঁয়াজের দাম উল্লেখযোগ্য হারে হ্রাস পেয়েছে, যা সাধারণ ও নিম্নআয়ের ভোক্তাদের মনে কিছুটা স্বস্তি এনে দিয়েছে। কিন্তু এর ঠিক বিপরীতে আমদানি করা সূর্যমুখী তেল (সানফ্লাওয়ার), রাইসব্র্যান্ড ও সরিষার তেলসহ বিভিন্ন ভোজ্যতেলের দাম নতুন করে বৃদ্ধি পাওয়ায় মধ্যবিত্তের রান্নাঘরের বাজেটে নতুন চাপ সৃষ্টি হয়েছে।
সম্প্রতি রাজধানীর অন্যতম বৃহৎ পাইকারি ও খুচরা বাজার কারওয়ানবাজার, নয়াবাজার এবং কেরানীগঞ্জের ঐতিহ্যবাহী বউবাজারসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বাজার সরজমিনে পরিদর্শন করে এবং সাধারণ ক্রেতা ও খুচরা বিক্রেতাদের সাথে দীর্ঘ আলাপচারিতার মাধ্যমে বর্তমান বাজার পরিস্থিতির এই বাস্তব চিত্রটি পরিষ্কারভাবে ফুটে উঠেছে। বাজার সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, ঈদের ছুটি কাটিয়ে দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে পণ্যবাহী ট্রাকগুলো রাজধানীতে পুনরায় নিয়মিত প্রবেশ করতে শুরু করায় সরবরাহ ব্যবস্থার উন্নতি ঘটেছে, যার সরাসরি ইতিবাচক প্রভাব পড়েছে কাঁচাবাজারের ওপর।
## পেঁয়াজ ও রসুনের বাজারে আঞ্চলিক ভিন্নতা: ফরিদপুরের পেঁয়াজে বড় ছাড়, পাবনার পেঁয়াজ এখনো চড়া
রাজধানীর কেরানীগঞ্জের বউবাজারের প্রবীণ খুচরা ব্যবসায়ী আপুল মিয়া বর্তমান মসলা বাজারের পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করতে গিয়ে দিগন্ত বাংলা নিউজকে জানান, বাজারে আদা ও রসুনের দাম গত কয়েক সপ্তাহের তুলনায় বর্তমান সময়ে বেশ স্থিতিশীল রয়েছে। তবে পেঁয়াজের বাজারে কিছুটা আঞ্চলিক ভিন্নতা ও দামের তারতম্য লক্ষ্য করা যাচ্ছে। বিশেষ করে, দেশের অন্যতম প্রধান পেঁয়াজ উৎপাদনকারী অঞ্চল ফরিদপুর থেকে ব্যাপক হারে নতুন পেঁয়াজের সরবরাহ বৃদ্ধি পাওয়ার কারণে খুচরা বাজারে এর দাম বেশ কমে গেছে। বর্তমানে ফরিদপুর অঞ্চলের ভালো মানের পেঁয়াজ প্রতি কেজি মাত্র ৩০ টাকা দরে বিক্রি হতে দেখা যাচ্ছে।
আরও পড়ুন: কিশোরগঞ্জের পাগলা মসজিদে দান সিন্দুকের রেকর্ড: ৬ মাস পর খুলে মিলল ৪৩ বস্তা টাকা
পেঁয়াজের দাম এখনো সাধারণ ক্রেতাদের জন্য কিছুটা চড়া রয়ে গেছে। পাবনার পেঁয়াজ আগের সপ্তাহের মতোই প্রতি কেজি ৪০ টাকা দরে স্থির হয়ে আছে। বিক্রেতারা বলছেন, পাবনার পেঁয়াজের মান ও স্থায়িত্ব কিছুটা বেশি হওয়ায় পাইকারি বাজারেই এর দাম একটু বাড়তি থাকে। তবে সামগ্রিকভাবে পেঁয়াজের বাজারে বড় ধরণের কোনো সংকটের আশঙ্কা নেই এবং সরবরাহ স্বাভাবিক থাকলে আগামী দিনগুলোতে দাম আরও কিছুটা হ্রাস পেতে পারে বলে মনে করছেন তারা।
## ভোজ্যতেল ও মুদি পণ্যের বাজারে নতুন অস্থিরতা: সানফ্লাওয়ার ও রাইসব্র্যান্ডের দাম এক লাফে অনেকখানি বৃদ্ধি
সবজি বাজারে স্বস্তি থাকলেও মুদি মনোহরি পণ্যের বাজারে এসে সাধারণ ক্রেতাদের পকেট কাটার নতুন চিত্র দেখা গেছে। রাজধানীর নয়াবাজারের মুদি ব্যবসায়ী ইমাম উদ্দিন বাবলু বর্তমান নিত্যপণ্যের দামের ঊর্ধ্বগতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তাঁর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গত সপ্তাহের তুলনায় প্যাকেটজাত ময়দার দাম কিছুটা বৃদ্ধি পেয়েছে, যার ফলে বর্তমানে দুই কেজির একটি ময়দার প্যাকেট ভোক্তাদের ১৪০ টাকা দিয়ে কিনতে হচ্ছে।
সবচেয়ে বড় ধাক্কাটি এসেছে ভোজ্যতেলের বাজারে, বিশেষ করে আমদানিকৃত প্রিমিয়াম কোয়ালিটির তেলগুলোর দাম আকাশচুম্বী হয়ে উঠেছে। বাজারে বহুল পরিচিত এবং আমদানিকৃত সূর্যমুখী ভোজ্যতেলের মধ্যে ‘সানফ্লাওয়ার’ ব্র্যান্ডের পাঁচ লিটারের একটি ক্যানের দাম এক লাফে প্রায় ২০০ টাকার মতো বৃদ্ধি পেয়ে বর্তমানে ১ হাজার ৮০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। একই সাথে ‘কিংস’ ব্র্যান্ডের সমপরিমাণ তেলের দাম ৩০০ টাকা পর্যন্ত বেড়ে গিয়ে বর্তমানে ১ হাজার ৭০০ টাকায় ঠেকেছে। স্বাস্থ্য সচেতন মানুষের পছন্দের তালিকায় থাকা রাইসব্র্যান্ড তেলের দামও প্রতি ক্যানে ৬০ টাকা বৃদ্ধি পেয়ে বর্তমানে ১ হাজার ১০০ টাকায় বিক্রি হতে দেখা গেছে। এর পাশাপাশি পাইকারি বাজারে লবণের প্রতি বস্তায় ১০০ টাকা এবং ড্রাই ফ্রুটসের মধ্যে অত্যন্ত চাহিদাসম্পন্ন কাজুবাদাম ও কিশমিশের দাম প্রতি কেজিতে এক ধাক্কায় ২০০ টাকা করে বেড়ে গেছে, যা উৎসব পরবর্তী বাজারে এক নতুন অস্বস্তি তৈরি করেছে।
## একনজরে রাজধানীর খুচরা বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যসমূহের বর্তমান সুনির্দিষ্ট মূল্য তালিকা
পাঠকদের সুবিধার্থে এবং প্রতিদিনের বাজার বাজেট সঠিকভাবে নির্ধারণ করার লক্ষ্যে রাজধানীর প্রধান কাঁচাবাজারগুলোর সর্বশেষ প্রফেশনাল দামের খতিয়ান নিচে পয়েন্ট আকারে সাজিয়ে দেওয়া হলো:
🔹 কাঁচা পেঁপের অবিশ্বাস্য মূল্যপতন: বাজারে সবচেয়ে বেশি দাম কমেছে কাঁচা পেঁপের। ঈদের আগে যে পেঁপে প্রতি কেজি ১০০ টাকা বিক্রি হয়েছিল, তা বর্তমান সময়ে অবিশ্বাস্যভাবে কমে মাত্র ২০ থেকে ৩০ টাকায় পাওয়া যাচ্ছে।
🔹 কাঁচামরিচের বাজারে স্বস্তি: রান্নার অন্যতম প্রধান অনুষঙ্গ কাঁচামরিচের দাম গত সপ্তাহের চড়া ভাব কাটিয়ে বর্তমানে প্রতি কেজি মাত্র ৪০ থেকে ৬০ টাকার মধ্যে নেমে এসেছে।
🔹 আলুর দামে নতুন রেকর্ড: অন্যান্য সবজির দাম কমলেও আলুর বাজারে উল্টো চিত্র দেখা গেছে। গত সপ্তাহের তুলনায় কেজিতে আরও ৫ টাকা বেড়ে বর্তমানে আলু প্রতি কেজি ৩০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, যা ঈদের আগে ছিল মাত্র ২০ টাকা।
🔹 টমেটোর বাজারে তীব্র আগুন: অমৌসুমি সবজি হওয়ায় বাজারে টমেটোর সরবরাহ অত্যন্ত সীমিত, যার ফলে প্রতি কেজি পাকা টমেটো বর্তমানে ১৪০ থেকে ১৬০ টাকা কেজিতে বিক্রি হতে দেখা গেছে।
🔹 ব্রয়লার ও সোনালি মুরগির দাম: সবজির সাথে সামঞ্জস্য রেখে কমেছে মুরগির দামও। বাজারে বর্তমানে প্রতি কেজি ব্রয়লার মুরগি ১৫০ থেকে ১৬০ টাকা এবং সোনালি মুরগি ২২০ থেকে ২৪০ টাকার মধ্যে কেনা যাচ্ছে।
🔹 ডিমের ডজনে বড় ছাড়: সাধারণ মানুষের প্রোটিনের প্রধান উৎস ডিমের দাম ডজনপ্রতি বর্তমানে ১০০ থেকে ১২০ টাকায় নেমে এসেছে, তবে পাড়া-মহল্লার খুচরা দোকানে তা ৫-১০ টাকা বাড়তি দামে বিক্রি হচ্ছে।
🔹 গুঁড়ো মসলার দাম আকাশচুম্বী: রান্নার গুঁড়ো মসলার বাজার অত্যন্ত উত্তপ্ত। বাজারে প্রতি কেজি গুঁড়া হলুদ বর্তমানে ৩৫০ টাকা এবং গুঁড়া মরিচ প্রতি কেজি ৪৫০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।
## ‘সরবরাহ বাড়ায় দাম নিম্নমুখী’: কারওয়ানবাজারের নারী বিক্রেতা শাহানাজ বেগমের এক্সক্লুসিভ সাক্ষাৎকার
রাজধানীর সর্ববৃহৎ পাইকারি আড়ত কারওয়ানবাজারের অন্যতম পরিচিত সবজি বিক্রেতা শাহানাজ বেগম বর্তমান কাঁচাবাজারের গতিপ্রকৃতি নিয়ে দিগন্ত বাংলা নিউজকে এক এক্সক্লুসিভ সাক্ষাৎকার দিয়েছেন। তিনি অত্যন্ত আশাবাদের সাথে জানান, দেশের বিভিন্ন প্রান্ত, বিশেষ করে উত্তরবঙ্গ এবং যশোর অঞ্চল থেকে প্রতিদিন শত শত সবজিবাহী ট্রাক কারওয়ানবাজারে প্রবেশ করছে। দেশের আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় এবং কৃষকদের ফলন ভালো হওয়ায় বাজারে শীতকালীন ও গ্রীষ্মকালীন সবজির এক দারুণ মেলবন্ধন তৈরি হয়েছে।
শাহানাজ বেগম আরও বলেন:
আরও পড়ুন: চাঁদপুরে স্বামীর পরকীয়ার প্রতিবাদ করায় গৃহবধূকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ, প্রেমিকা আটক
"ঈদের দিনগুলোতে পরিবহন সংকটের কারণে বাজারে মাল কম আসছিল, তাই দাম একটু বাড়তি ছিল। কিন্তু এখন উৎপাদন ব্যাপক হারে বেড়ে যাওয়ায় এবং বাজারে প্রতিদিন পর্যাপ্ত আমদানি হওয়ায় সবজির দাম দ্রুত নিম্নমুখী হয়েছে। বর্তমানে বাজার ও এলাকাভেদে কিছুটা দামের পার্থক্য থাকলেও বেশির ভাগ সাধারণ সবজির দাম ৫০ টাকার মধ্যেই রয়েছে। সাধারণ ক্রেতারা এখন স্বাচ্ছন্দ্যে বাজারে এসে সবজি কিনতে পারছেন, যা আমাদের মতো খুচরা বিক্রেতাদের জন্যও একটি ভালো লক্ষণ।"
## মাছের বাজারে নতুন ধাক্কা, মাংসের বাজার স্থিতিশীল: মাছ ব্যবসায়ী আব্দুল কাদেরের বক্তব্য
সবজি ও মুরগির বাজারে দামের পতন ঘটলেও মাছের বাজারে গিয়ে ক্রেতারা নতুন করে বিপাকে পড়ছেন। রাজধানীর কারওয়ানবাজারের প্রবীণ মাছ ব্যবসায়ী আব্দুল কাদের জানান, গত কয়েক দিনের ব্যবধানে বিভিন্ন জাতের মাছের দাম প্রকারভেদে প্রতি কেজিতে ৪০ থেকে ৫০ টাকা পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে। নদী ও হাওরাঞ্চলে পানি বৃদ্ধি পাওয়া এবং মাছ ধরার ওপর নির্দিষ্ট কিছু নিষেধাজ্ঞা থাকার কারণে পাইকারি বাজারে মাছের সরবরাহ কিছুটা কম। তবে আব্দুল কাদের আশ্বস্ত করে বলেন, আর কিছুদিন পর যখন অভ্যন্তরীণ মুক্ত জলাশয় এবং প্লাবনভূমিগুলো থেকে দেশি মাছের সরবরাহ পুরোদমে শুরু হবে, তখন মাছের দাম এক ধাক্কায় অনেকখানি কমে আসবে। অন্যদিকে, বাজার ঘুরে দেখা গেছে যে, ব্রয়লার ও সোনালি মুরগির দাম কমলেও লাল লেয়ার মুরগি প্রতি কেজি ৩৫০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। তবে স্বস্তির বিষয় হলো, ঈদের পর থেকে বাজারে গরুর মাংস এবং খাসির মাংসের দাম সম্পূর্ণ স্থিতিশীল রয়েছে এবং তা সাধারণ ক্রেতাদের নাগালের মধ্যেই রয়েছে।
## ‘সুযোগ পেলেই করপোরেট কোম্পানিগুলো দাম বাড়ায়’: চাঁদপুর রাইস এজেন্সির বাচ্চু মিয়ার বিস্ফোরক দাবি
এদিকে, দেশের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক অঙ্গনে সবচেয়ে আলোচিত বিষয় চালের দাম। ঈদের আগে চালের বাজারে যে কৃত্রিম সংকট তৈরি করা হয়েছিল, সরকারের কঠোর অবস্থান ও তদারকির কারণে বর্তমানে তা স্থিতিশীল রয়েছে। তেজগাঁও এলাকার অন্যতম প্রধান চাল সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান ‘চাঁদপুর রাইস এজেন্সি’-এর স্বত্বাধিকারী বাচ্চু মিয়া চালের বাজারের ভেতরের খবর নিয়ে এক বিস্ফোরক দাবি করেছেন। তিনি জানান, পবিত্র ঈদুল আজহার ঠিক আগের সপ্তাহে চালের দাম কেজিপ্রতি প্রায় ৮ থেকে ১০ টাকা পর্যন্ত বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছিল।
বাচ্চু মিয়া বলেন,
"সরকারের কড়া নজরদারি ও নানামুখী প্রশাসনিক চাপের কারণে দেশের বড় বড় করপোরেট কোম্পানি ও মিল মালিকরা এখন কিছুটা চুপচাপ রয়েছে। কিন্তু এটা সাময়িক। তারা সবসময় সুযোগের সন্ধানে থাকে এবং বাজার একটু শিথিল হলেই বা সরকারের নজরদারি কমলেই পুনরায় দাম বাড়ানোর পাঁয়তারা করবে।"
একই এলাকার ‘জনতা রাইস এজেন্সি’ সহ আরও কয়েকজন চাল ব্যবসায়ী জানান, সদ্য প্রস্তাবিত বাজেট ঘোষণার ঠিক এক সপ্তাহ আগে থেকেই কোম্পানিগুলো চালের দাম বাড়িয়ে নিজেদের আখের গুছিয়ে নিয়েছে। দাম সর্বোচ্চ পর্যায়ে নিয়ে যাওয়ার পর এখন বাজারে দাম ধরে রেখে স্থিতিশীলতার নাটক করা হচ্ছে।
## মিল মালিকদের পাঁয়তারা সফল হতে দেয়নি সরকার: বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদিরের স্পষ্ট বার্তা
চালের বাজারের এই অস্থিতিশীলতা এবং মিল মালিকদের কারসাজির বিষয়ে সরকারের অবস্থান পরিষ্কার করেছেন সরকারের নবনিযুক্ত বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। তিনি সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সাথে এক আনুষ্ঠানিক মতবিনিময় সভায় স্পষ্ট ভাষায় জানান যে, কিছু অসাধু মিল মালিক এবং বড় করপোরেট ব্যবসায়ী সিন্ডিকেট করে বাজার অস্থিতিশীল করার লক্ষ্যে চালের প্রতি বস্তায় (৫০ কেজি) ১০০ টাকা পর্যন্ত দাম বাড়ানোর একটি অপচেষ্টা ও পাঁয়তারা চালিয়েছিল।
বাণিজ্যমন্ত্রী দৃঢ়তার সাথে বলেন:
"আমাদের বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের বিশেষ টাস্কফোর্স এবং জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর তাৎক্ষণিকভাবে মাঠে নেমে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করায় বাজারে সেই অসাধু উদ্যোগের তেমন কোনো প্রভাব পড়তে পারেনি। আমরা মিল পর্যায় থেকে শুরু করে পাইকারি ও খুচরা বাজারে কঠোর নজরদারি বজায় রেখেছি, যার ফলে চালের বর্ধিত দাম আবার পূর্বের অবস্থানে ফিরে এসেছে এবং বাজারে দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীলতা বজায় রয়েছে। জনগণের খাদ্য নিরাপত্তা নিয়ে কাউকে ছিনিমিনি খেলতে দেওয়া হবে না।"
## ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট ও ৬০টি নিত্যপণ্যের কর হ্রাস: দীর্ঘমেয়াদি বাজার স্থিতিশীলতার নতুন আশার আলো
দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি এবং সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার মান সহজ করার লক্ষ্যে সদ্যঘোষিত ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জাতীয় বাজেটে সরকার একটি অত্যন্ত প্রশংসনীয় ও যুগান্তকারী পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। নতুন এই বাজেটে দেশের সাধারণ মানুষের নিত্যদিনের খাদ্য তালিকার অপরিহার্য অংশ—চালের ওপর থেকে শুরু করে ডাল, ভোজ্যতেল এবং পেঁয়াজসহ অন্তত ৬০টি অতিপ্রয়োজনীয় নিত্যপণ্যের ওপর বিদ্যমান আমদানি শুল্ক ও কর উল্লেখযোগ্য হারে কমানোর প্রস্তাব করা হয়েছে।
বাজেট বিশ্লেষণে দেখা গেছে, এবারের বাজেটে সরকারের মূল লক্ষ্যই হলো দেশের বর্তমান মূল্যস্ফীতি বা ইনফ্লেশন কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করা এবং দেশের অভ্যন্তরীণ খাদ্য সরবরাহ ব্যবস্থাকে আন্তর্জাতিক মানদণ্ডে উন্নত করা। সরকারের নীতি নির্ধারকদের দৃঢ় আশা, বাজেটের এই কর হ্রাসের প্রস্তাবটি চূড়ান্তভাবে বাস্তবায়িত হলে খুব দ্রুতই বাজারে এর ব্যাপক ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। এর ফলে সকল ধরণের নিত্যপণ্যের দাম দেশের সাধারণ ও শ্রমজীবী মানুষের ক্রয়ক্ষমতার নাগালের মধ্যে চলে আসবে এবং বাজারে কোনো অসাধু সিন্ডিকেট কৃত্রিম সংকট তৈরি করার সুযোগ পাবে না।
রাজধানীর কাঁচাবাজারের প্রতিদিনের সর্বশেষ সঠিক দরদাম, চাল ও ভোজ্যতেলের দামের পরিবর্তন সংক্রান্ত এক্সক্লুসিভ তথ্য এবং জাতীয় ও আন্তর্জাতিক অর্থনীতির প্রতিটি সত্য ও প্রফেশনাল খতিয়ান কোনো কপিরাইট বা ডুপ্লিকেট কনটেন্ট ইস্যু ছাড়াই সবার আগে শতভাগ ইউনিক উপায়ে নিয়মিত পড়তে আমাদের ‘দিগন্ত বাংলা নিউজ’ পোর্টালের সাথেই থাকুন।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন
আপনার মূল্যবান মতামত আমাদের জানান। কোনো উসকানিমূলক বা অশালীন মন্তব্য করা থেকে বিরত থাকুন।