চাঁদপুরে স্বামীর পরকীয়ার প্রতিবাদ করায় গৃহবধূকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ, প্রেমিকা আটক

চাঁদপুরে স্বামীর পরকীয়ার প্রতিবাদ করায় গৃহবধূকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ, প্রেমিকা আটক

সারাদেশ ডেস্ক: শামীম হোসাইন / দিগন্ত বাংলা নিউজ

চাঁদপুর জেলার কচুয়া উপজেলায় পরকীয়া সম্পর্কের জেরে এক প্রবাসীর স্ত্রীর সাথে অবৈধ মেলামেশার প্রতিবাদ করায় তিন সন্তানের জননী এক গৃহবধূকে পিটিয়ে হত্যার বর্বরোচিত ঘটনা ঘটেছে।

চাঁদপুরে পারিবারিক কলহের নৃশংস পরিণতি: স্বামীর অনৈতিক পরকীয়া সম্পর্কের প্রতিবাদ করায় গৃহবধূকে পিটিয়ে হত্যার চাঞ্চল্যকর অভিযোগ, ঘাতক স্বামী পলাতক, কথিত প্রেমিকা গণধোলাইয়ের পর পুলিশি হেফাজতে

বাংলাদেশের সমাজ ব্যবস্থায় নৈতিকতার চরম অবক্ষয় এবং অনৈতিক সম্পর্কের কারণে আরও একটি তাজা প্রাণ ঝরে যাওয়ার ঘটনা সামনে এসেছে। চাঁদপুর জেলার কচুয়া উপজেলায় নিজের বৈধ স্বামীর দীর্ঘদিনের পরকীয়া ও অবৈধ সম্পর্কের তীব্র প্রতিবাদ করায় মরিয়ম আক্তার (৩২) নামে এক অসহায় ও নিরপরাধ গৃহবধূকে পিটিয়ে নৃশংসভাবে হত্যা করার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে তাঁরই পাষণ্ড স্বামীর বিরুদ্ধে। এই বর্বরোচিত ও অমানবিক হত্যাকাণ্ডের ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত ঘাতক স্বামী এলাকা ছেড়ে সম্পূর্ণ আত্মগোপনে চলে গেছেন। তবে ঘটনার পরপরই বিক্ষুব্ধ ও ক্ষুব্ধ স্থানীয় জনতা অভিযুক্ত স্বামীর কথিত পরকীয়া প্রেমিকাকে তাৎক্ষণিকভাবে অবরুদ্ধ করে গণধোলাই দেওয়ার পর স্থানীয় থানা পুলিশের হাতে সোপর্দ করেছে। এই নির্মম হত্যাকাণ্ডের ঘটনাটি পুরো চাঁদপুর এবং পার্শ্ববর্তী কুমিল্লা জেলা জুড়ে এক বিশাল আলোড়ন এবং সাধারণ মানুষের মনে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে।

গত বৃহস্পতিবার (২৫ জুন ২০২৬) খ্রিষ্টাব্দে বিকেল বেলা আনুমানিক সময় নাগাদ কচুয়া উপজেলার অন্তর্গত ২ নম্বর পাথৈর ইউনিয়নের হাটমুড়া গ্রামের ঐতিহ্যবাহী সরকারবাড়িতে এই লোমরহর্ষক ও নিষ্ঠুর ঘটনাটি সংঘটিত হয়। নিহত গৃহবধূ মরিয়ম আক্তার তিন সন্তানের জননী ছিলেন। তাঁর এই অকাল ও নির্মম মৃত্যুতে তাঁর অবুঝ সন্তানদের কান্না ও আহজারিতে পুরো এলাকার আকাশ-বাতাস ভারী হয়ে উঠেছে। এই ঘটনার পর থেকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও অপরাধী আলমগীরের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে সাধারণ মানুষ সোচ্চার হয়ে উঠেছেন।

## দাম্পত্য জীবনের ১৮ বছর পর ভাঙন: ২ বছর ধরে চলা দেবর-ভাবীর পরকীয়া ও এক সুখী সংসারের করুণ সমাপ্তি

নিহতের পারিবারিক সূত্র ও হাটমুড়া গ্রামের স্থানীয় বাসিন্দাদের কাছ থেকে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে জানা যায়, প্রায় দীর্ঘ ১৮ বছর পূর্বে সম্পূর্ণ পারিবারিকভাবে এবং ধর্মীয় রীতিনীতি মেনে অত্যন্ত ধুমধামের সাথে কুমিল্লার তিতাস উপজেলার মুটুকি গ্রামের মো. দ্বীনেস মিয়ার অত্যন্ত শান্ত ও ভদ্র মেয়ে মরিয়ম আক্তারের বিয়ে হয়েছিল চাঁদপুরের কচুয়া উপজেলার একই গ্রামের মো. সিরাজুল ইসলামের ছেলে আলমগীর হোসেনের সাথে। বিয়ের পর দীর্ঘ দেড় যুগেরও বেশি সময় ধরে তাদের দাম্পত্য জীবন বেশ সুখেই কাটছিল। তাদের এই দীর্ঘস্থায়ী ও সুখী সংসারের আলো করে জন্ম নেয় দুইটি কন্যাসন্তান এবং একটি পুত্রসন্তান

আরও পড়ুন: ফিলিপাইনে ৬.৫ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্প, মিন্দানাও দ্বীপে তীব্র আতঙ্ক

তবে প্রায় দুই বছর পূর্বে তাদের এই সাজানো গোছানো সুখী সংসারে এক চরম অশান্তির কালো মেঘ দানা বাঁধতে শুরু করে। অভিযোগ রয়েছে যে, প্রায় বছর দুই আগে মরিয়মের স্বামী আলমগীর হোসেন একই বাড়ির আপন চাচাতো ভাই এবং বর্তমানে সুদূর প্রবাসে কর্মরত হুমায়ুন কবিরের স্ত্রী শাহীন আক্তারের সাথে এক অনৈতিক ও তীব্র পরকীয়া প্রেমে জড়িয়ে পড়েন। দেবর ও ভাবীর মধ্যকার এই গোপন ও অবৈধ প্রেমের বিষয়টি একসময় চারদিকে জানাজানি হয়ে গেলে মরিয়ম আক্তারের পারিবারিক জীবনে চরম বিপর্যয় নেমে আসে। এই অনৈতিক সম্পর্কের বিষয় নিয়ে স্বামী ও স্ত্রীর মধ্যে প্রায় প্রতিদিনের রুটিন অনুযায়ী তীব্র ঝগড়া-বিবাদ, মানসিক নির্যাতন এবং পারিবারিক অশান্তি লেগেই থাকত। নিজের সন্তানদের ভবিষ্যৎ এবং নিজের অধিকারের কথা চিন্তা করে মরিয়ম যখনই তাঁর স্বামীর এই পরকীয়ার বিরুদ্ধে শক্ত অবস্থান ও প্রতিবাদ জানাতেন, ঠিক তখনই আলমগীর হোসেন ক্ষিপ্ত হয়ে মরিয়মকে নানারকম মানসিক ও শারীরিক নির্যাতন চালাতেন। পরকীয়ার নেশায় অন্ধ হয়ে আলমগীর প্রায়শই তাঁর স্ত্রীকে লাঠি ও কাঠের টুকরো দিয়ে বেধড়ক মারধর করতেন বলে পরিবারের সদস্যরা নিশ্চিত করেছেন।

## কথা কাটাকাটি থেকে মধ্যযুগীয় বর্বরতা: অচেতন মরিয়মকে ঢাকায় নেওয়ার পথে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়া

হত্যাকাণ্ডের সুনির্দিষ্ট দিনের বিবরণ দিতে গিয়ে নিহতের স্বজনরা জানান, গত বৃহস্পতিবার বিকেলের দিকে পরকীয়া প্রেমিকা শাহীন আক্তারের সাথে আলমগীরের অবৈধ মেলামেশার একটি সুনির্দিষ্ট বিষয় হাতেনাতে ধরে ফেলেন মরিয়ম। এই মারাত্মক বিষয় নিয়ে কথা কাটাকাটি ও তর্কের একপর্যায়ে আলমগীর হোসেন চরমভাবে হিংস্র ও ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন। তিনি কোনো কিছু না ভেবেই ঘরের দরজা বন্ধ করে মরিয়মের ওপর মধ্যযুগীয় কায়দায় ঘরের ভেতর থাকা লাঠি ও শক্ত বস্তু দিয়ে বেধড়ক ও এলোপাতাড়ি মারধর শুরু করেন। আলমগীরের উপর্যুপরি এবং নৃশংস পিটুনির একপর্যায়ে মরিয়ম আক্তার মাথায় ও শরীরে গুরুতর আঘাত পেয়ে ঘরের মেঝেতে সম্পূর্ণ অচেতন ও রক্তাক্ত অবস্থায় লুটিয়ে পড়েন।

আরও পড়ুন: বেইজিংয়ের সর্বোচ্চ সিটিক টাওয়ারে বিমান আছড়ে পড়ার ঘটনা, ১০৯ তলা ভবনে তীব্র আতঙ্ক

মরিয়মকে সম্পূর্ণ নিথর ও অচেতন অবস্থায় মেঝেতে পড়ে থাকতে দেখে বাড়ির অন্য সদস্য ও প্রতিবেশীরা দ্রুত ঘরের ভেতর ছুটে আসেন। তারা মরিয়মের আশঙ্কাজনক অবস্থা দেখে তাকে উদ্ধার করে প্রথমে সাচার এলাকার একটি স্বনামধন্য বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে দায়িত্বরত চিকিৎসকরা তাঁর শারীরিক অবস্থার দ্রুত অবনতি দেখে এবং মাথায় গভীর আঘাতের চিহ্ন পাওয়ায় প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য জরুরি ভিত্তিতে রাজধানী ঢাকায় স্থানান্তর করার পরামর্শ দেন। কিন্তু ভাগ্যের নির্মম পরিহাস, অ্যাম্বুলেন্স যোগে ঢাকা রওনা দেওয়ার পথেই অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ ও তীব্র শারীরিক আঘাত সহ্য করতে না পেরে মাঝপথেই মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন হতболь গৃহবধূ মরিয়ম আক্তার।

## একনজরে চাঁদপুর কচুয়ার গৃহবধূ মরিয়ম হত্যাকাণ্ডের মূল প্রফেশনাল খতিয়ান

পাঠকদের সুবিধার্থে এবং চাঁদপুরের কচুয়ায় ঘটে যাওয়া এই চাঞ্চল্যকর হত্যাকাণ্ডের মূল বিবরণসমূহ একনজরে সহজে অনুধাবন করার জন্য নিচে বিশেষ প্রফেশনাল তথ্য বিবরণী প্রদান করা হলো:

​🔹 নিহত গৃহবধূর পরিচয়: পরকীয়ার শিকার হয়ে নির্মমভাবে প্রাণ হারানো মরিয়ম আক্তার (৩২) কুমিল্লার তিতাস উপজেলার মুটুকি গ্রামের মো. দ্বীনেস মিয়ার মেয়ে।
​🔹 অভিযুক্ত ঘাতক স্বামী: নিহত মরিয়ম আক্তারের স্বামী আলমগীর হোসেন, যিনি একই গ্রামের মো. সিরাজুল ইসলামের ছেলে এবং ঘটনার পর থেকে পলাতক।
​🔹 সংসারের সময়কাল ও সন্তান: দীর্ঘ ১৮ বছরের বৈবাহিক জীবন এবং তাদের সংসারে বর্তমানে ২টি কন্যাসন্তান ও ১টি পুত্রসন্তান রয়েছে।
​🔹 কথিত পরকীয়া প্রেমিকা: আলমগীরের আপন চাচাতো ভাই প্রবাসী হুমায়ুন কবিরের স্ত্রী শাহীন আক্তার, যাকে পুলিশ আটক করেছে।
​🔹 ঘটনার সুনির্দিষ্ট সময় ও স্থান: ২৫ জুন ২০২৬ (বৃহস্পতিবার) বিকেলে, কচুয়া উপজেলার ২ নম্বর পাথৈর ইউনিয়নের হাটমুড়া গ্রামের সরকারবাড়িতে।
​🔹 বর্তমান আইনি পদক্ষেপ: কচুয়া থানা পুলিশ লাশ উদ্ধার করে চাঁদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠিয়েছে এবং ঘাতককে গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।

## ক্ষুব্ধ এলাকাবাসীর অ্যাকশন: ঘাতক স্বামী পলাতক হলেও গণধোলাইয়ের পর পুলিশের খাঁচায় কথিত প্রেমিকা

এদিকে মরিয়ম আক্তারের মৃত্যুর খবরটি হাটমুড়া গ্রামে বিদ্যুৎ বেগে ছড়িয়ে পড়লে পুরো গ্রামে এক উৎসবের পরিবেশ বিষাদে রূপ নেয় এবং স্থানীয় সাধারণ গ্রামবাসী চরমভাবে ক্ষুব্ধ ও উত্তেজিত হয়ে ওঠেন। ঘটনার ভয়াবহতা আঁচ করতে পেরে এবং আইনের হাত থেকে বাঁচতে অভিযুক্ত ঘাতক স্বামী আলমগীর হোসেন নিজের বাড়ি-ঘর এবং অবুঝ সন্তানদের ফেলে রেখে দ্রুত এলাকা ছেড়ে পালিয়ে আত্মগোপন করেন। ক্ষুব্ধ গ্রামবাসীরা আলমগীরকে বাড়িতে না পেয়ে তাঁর ওপর থাকা সমস্ত রাগ ও ক্ষোভ গিয়ে উগরে দেন তাঁর কথিত পরকীয়া প্রেমিকা শাহীন আক্তারের ওপর।

আরও পড়ুন: মার্কিন ইতিহাসে নজিরবিহীন মোড়: এবার ট্রাম্পের বিরুদ্ধে আইসিসির ৩ বিচারকের আইনি যুদ্ধ

উত্তেজিত স্থানীয় জনতা তাৎক্ষণিকভাবে শাহীন আক্তারের ঘর ঘেরাও করে তাকে শক্তভাবে আটকে রাখেন এবং পরকীয়ায় প্ররোচনা ও একটি সুন্দর পরিবার ধ্বংসের দায়ে তাকে উত্তম-মধ্যম প্রদান করেন। পরবর্তীতে খবর পেয়ে কচুয়া থানা পুলিশের একটি চৌকস দল দ্রুত ঘটনাস্থলে এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং ক্ষুব্ধ জনতার হাত থেকে শাহীন আক্তারকে উদ্ধার করে থানা হেফাজত তথা পুলিশের খাঁচায় বন্দী করে নিয়ে যায়। বর্তমানে শাহীন আক্তারকে থানায় রেখে এই হত্যাকাণ্ডের পেছনে তাঁর সরাসরি কোনো প্ররোচনা বা ষড়যন্ত্র ছিল কিনা, সে বিষয়ে নিবিড়ভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।

## ‘মরিয়মের শরীরে অসংখ্য আঘাতের চিহ্ন রয়েছে’: সালিশি বৈঠক ও স্বজনদের বুকফাটা আর্তনাদ

মেয়ের এই নৃশংস ও অকাল মৃত্যুতে নিহতের মা হোসনে আরা বেগম এবং মরিয়মের ননদ সায়েরা বেগম কান্নায় ভেঙে পড়েন। তাদের বুকফাটা আর্তনাদে সাচার ও কচুয়ার বাতাস ভারী হয়ে উঠেছে। তারা গণমাধ্যম ও পুলিশের কাছে অভিযোগ করে বলেন, আলমগীর যে শুধু বৃহস্পতিবারই মরিয়মকে মেরেছেন এমন নয়; পরকীয়ার এই নোংরা বিষয় নিয়ে এর আগেও আলমগীর একাধিকবার মরিয়মের ওপর অমানুষিক ও পাশবিক নির্যাতন চালিয়েছেন। এই পারিবারিক বিরোধ মেটাতে এবং আলমগীরকে সোজা পথে ফিরিয়ে আনতে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ ও মাতব্বরদের নিয়ে গ্রামের ভেতর ইতিপূর্বে বেশ কয়েকবার প্রফেশনাল সালিশি বৈঠক বা বিচার সভাও অনুষ্ঠিত হয়েছিল। প্রতিটি বিচারে আলমগীর নিজের ভুল স্বীকার করে ভালো হয়ে যাওয়ার মুচলেকা দিলেও ঘরে ফিরে আবারও সেই পুরনো রূপ ধারণ করতেন।

নিহতের মা হোসনে আরা বেগম অত্যন্ত ক্ষোভের সাথে জানান:

"আমার নিষ্পাপ মেয়েটাকে ওরা পরকীয়ার বলি বানালো। মরিয়মের পুরো শরীরে, পিঠে, হাতে এবং মাথায় অসংখ্য কালশিটে ও লাঠির আঘাতের ক্ষতচিহ্ন পরিষ্কারভাবে দেখা যাচ্ছে। তারা ঠান্ডা মাথায় আমার মেয়েকে পিটিয়ে মেরে ফেলেছে। আমি আমার মেয়ের হত্যাকারী আলমগীর এবং এই ঘটনার মূল হোতা পরকীয়া প্রেমিকা শাহীনের ফাঁসি চাই। দেশের প্রচলিত আইন যেন আমাদের এই এতিম বাচ্চাদের মুখের দিকে তাকিয়ে খুনিদের সর্বোচ্চ শাস্তি দেয়।"

## ‘মামলা প্রক্রিয়াধীন, ঘাতককে গ্রেফতারে অভিযান চলছে’: কচুয়া থানার ওসির প্রফেশনাল বক্তব্য

এই চাঞ্চল্যকর ও সংবেদনশীল হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে কচুয়া থানার সুযোগ্য অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. আজিজুল ইসলাম গনমাধ্যমের কাছে ঘটনার সত্যতা পুরোপুরি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, ঘটনার দিন অর্থাৎ বৃহস্পতিবার রাত আনুমানিক ১০টার দিকে পুলিশ ফোর্স নিয়ে তারা ঘটনাস্থল এবং হাসপাতাল থেকে নিহতের মরদেহ সম্পূর্ণ নিজেদের হেফাজতে ও উদ্ধার সম্পন্ন করেন। এরপর আইনি প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি শেষে শুক্রবার সকালে মরদেহটি ময়নাতদন্তের (Autopsy) জন্য চাঁদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আধুনিক মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট হাতে এলেই deaths বা মৃত্যুর সুনির্দিষ্ট কারিগরি কারণ সম্পর্কে আরও নিশ্চিত হওয়া যাবে।

আরও পড়ুন: আওয়ামী লীগ কোনো রাজনৈতিক দল নয়, মাফিয়া পার্টি: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ

কচুয়া থানার ওসি মো. আজিজুল ইসলাম আরও প্রফেশনালভাবে স্পষ্ট করে বলেন:

"এই নির্মম ঘটনার প্রেক্ষিতে নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে কচুয়া থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করার প্রক্রিয়া বর্তমানে চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। আমরা ইতিমধ্যেই স্থানীয় জনগণের eyeglasses বা সহায়তায় মূল অভিযুক্তের কথিত নারী সঙ্গীকে আটক করেছি এবং তাকে আমাদের হেফাজতে রেখে জিজ্ঞাসাবাদ করছি। মূল পলাতক আসামি আলমগীর হোসেনকে দ্রুততম সময়ের মধ্যে আইনের আওতায় নিয়ে আসার জন্য পুলিশের একাধিক বিশেষ টিম ও ডিবি পুলিশের অভিযান রাত-দিন অব্যাহত রয়েছে। অপরাধী যত শক্তিশালীই হোক না কেন, তাকে কোনোভাবেই ছাড় দেওয়া হবে না।"

## সামাজিক অবক্ষয় ও পরকীয়া: বাংলাদেশে পারিবারিক সুরক্ষায় আইনের কঠোর প্রয়োগের প্রয়োজনীয়তা

চাঁদপুরের কচুয়ার এই ঘটনাটি সমাজের আরেকটি অন্ধকার দিক আমাদের সামনে উন্মোচিত করেছে। সমাজবিজ্ঞানীদের মতে, ইন্টারনেট ও প্রযুক্তির অপব্যবহার এবং নৈতিক শিক্ষার অভাবে বর্তমানে গ্রামীণ ও শহর অঞ্চলে বিবাহ-বহির্ভূত অনৈতিক বা পরকীয়া সম্পর্কের হার আশঙ্কাজনকভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে। আর এই অনৈতিক সম্পর্কের চূড়ান্ত পরিণতি হিসেবে সমাজে পারিবারিক কলহ, ডিভোর্স এবং শেষ পর্যন্ত কচুয়ার মরিয়মের মতো নারীদের নৃশংস খুনের শিকার হতে হচ্ছে।

বাংলাদেশের প্রচলিত আইন অনুযায়ী, কোনো স্ত্রীকে শারীরিক নির্যাতন বা পিটিয়ে হত্যা করা হলে তা নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন ২০০০ (সংশোধিত ২০০৩) এর অধীনে একটি অত্যন্ত গুরুতর এবং অ-জামিনযোগ্য অপরাধ। এই আইনের ১১ (ক) ধারা অনুযায়ী, যদি কোনো স্বামী বা তাঁর পরিবারের সদস্যরা যৌতুক বা অন্য কোনো পারিবারিক বিরোধের জেরে স্ত্রীকে হত্যা করেন বা হত্যার চেষ্টা করেন, তবে অপরাধীর সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড বা যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং এর পাশাপাশি বিশাল অংকের আর্থিক জরিমানার বিধান রয়েছে। কচুয়ার সাধারণ মানুষ ও সুশীল সমাজ আশা করছেন যে, পুলিশ প্রশাসন দ্রুত ঘাতক আলমগীরকে গ্রেপ্তার করে আইনের মুখোমুখি করবে, যাতে সমাজে এই ধরণের জঘন্য অপরাধ করার সাহস আর কেউ না পায়।

আমাদের চারপাশের প্রতিটি জেলার তাজা ক্রাইম নিউজ, চাঁদপুরের মরিয়ম হত্যা মামলার সর্বশেষ আইনি আপডেট, অপরাধ জগতের ভেতরের এক্সক্লুসিভ খবর এবং জাতীয় পরিমণ্ডলের প্রতিটি সত্য ও প্রফেশনাল খতিয়ান কোনো কপিরাইট বা ডুপ্লিকেট ইস্যু ছাড়াই সবার আগে নিয়মিত পড়তে ‘দিগন্ত বাংলা নিউজ’ পোর্টালের সাথেই থাকুন।

নিউজ সূত্র: কচুয়া থানা পুলিশ প্রশাসন ও চাঁদপুর ক্রাইম রিপোর্টিং সেল

Post a Comment

আপনার মূল্যবান মতামত আমাদের জানান। কোনো উসকানিমূলক বা অশালীন মন্তব্য করা থেকে বিরত থাকুন।

নবীনতর পূর্বতন