মার্কিন ইতিহাসে নজিরবিহীন মোড়: এবার ট্রাম্পের বিরুদ্ধে আইসিসির ৩ বিচারকের আইনি যুদ্ধ

মার্কিন ইতিহাসে নজিরবিহীন মোড়: এবার ট্রাম্পের বিরুদ্ধে আইসিসির ৩ বিচারকের আইনি যুদ্ধ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: শামীম হোসাইন / দিগন্ত বাংলা নিউজ

আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের (আইসিসি) বিচারিক স্বাধীনতার ওপর মার্কিন প্রশাসনের অন্যায় হস্তক্ষেপ ও নিষেধাজ্ঞার বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের আদালতেই পাল্টা আইনি লড়াই শুরু করেছেন ৩ বিশ্বখ্যাত বিচারক।

## পরাশক্তির একচ্ছত্র আধিপত্যের বিরুদ্ধে বৈশ্বিক আইনি চ্যালেঞ্জ: ট্রাম্পের নিষেধাজ্ঞাকে বেআইনি আখ্যা দিয়ে ম্যানহাটনের আদালতে আইসিসির ৩ বিচারকের নজিরবিহীন মামলা, তোলপাড় বিশ্ব রাজনীতিতে

আন্তর্জাতিক আইন, বৈশ্বিক কূটনীতি এবং পরাশক্তি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের একচ্ছত্র রাজনৈতিক আধিপত্যের ইতিহাসে এক নজিরবিহীন ও অত্যন্ত নাটকীয় মোড় সৃষ্টি হয়েছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং তাঁর প্রশাসনের জারি করা বিতর্কিত ও কঠোর অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞার বিরুদ্ধে এবার খোদ আমেরিকার আদালতেই পাল্টা বিচারিক যুদ্ধ শুরু করেছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের (আইসিসি) তিনজন শীর্ষস্থানীয় ও বিশ্বখ্যাত বিচারক। ট্রাম্প প্রশাসন কর্তৃক আইসিসির বিচারকদের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞাকে সম্পূর্ণ অবৈধ, বেআইনি এবং বিচার বিভাগের স্বাধীনতার ওপর নগ্ন হস্তক্ষেপ আখ্যা দিয়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের একটি ফেডারেল আদালতে এই ঐতিহাসিক মামলাটি দায়ের করা হয়েছে। আন্তর্জাতিক আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, কোনো পরাশক্তির রাষ্ট্রপ্রধানের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক আদালতের বিচারকদের এভাবে সরাসরি কোনো দেশের অভ্যন্তরীণ আদালতে মামলা করার ঘটনা বিশ্ব ইতিহাসে এটিই প্রথম।

আজ বৃহস্পতিবার (২৫ জুন ২০২৬) কাতারভিত্তিক আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার এক এক্সক্লুসিভ ও বিস্তারিত প্রতিবেদনে এই চাঞ্চল্যকর বিশ্ব সংবাদের সত্যতা নিশ্চিত করা হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, আইসিসির তিন প্রভাবশালী বিচারক—কানাডার বিচারক কিম্বারলি প্রোস্ট, উগান্ডার সলোমি বালুঙ্গি বোসা এবং বেনিনের রেইন অ্যাডিলেড সোফি অ্যালাপিনি গানসু যৌথভাবে বুধবার নিউইয়র্কের ম্যানহাটনের ফেডারেল আদালতে (Manhattan Federal Court) এই মামলাটি রুজু করেন। বিচারকদের দায়ের করা অভিযোগপত্রে অত্যন্ত স্পষ্ট ভাষায় উল্লেখ করা হয়েছে যে, সম্পূর্ণ বিচারবহির্ভূত ও বেআইনি রাজনৈতিক চাপ প্রয়োগ করার অসৎ উদ্দেশ্যে তাদের ওপর এই নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে, যার মূল লক্ষ্য হলো আন্তর্জাতিক আদালতের স্বায়ত্তশাসনকে ধূলিসাৎ করা, বিচারকদের ব্যক্তিগতভাবে শাস্তি দেওয়া এবং মার্কিন স্বার্থের সামনে তাদেরকে নতিস্বীকারে বাধ্য করা।

## কেন এই সংঘাতের সূত্রপাত: নেতানিয়াহুর গ্রেপ্তারি পরোয়ানা ও মার্কিন সেনাদের যুদ্ধাপরাধের তদন্ত

হোয়াইট হাউস এবং হেগের আন্তর্জাতিক আদালতের মধ্যে এই চরম ও বৈরী সংঘাতের বীজ রোপিত হয়েছিল গত বছর। মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনৈতিক সমীকরণ এবং আফগানিস্তানের যুদ্ধক্ষেত্রে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘস্থায়ী সামরিক ভূমিকার ওপর আইসিসির কঠোর বিচারিক অবস্থানের কারণে ট্রাম্প প্রশাসন চরম ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে। বিশেষ করে, ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে আইসিসি কর্তৃক আন্তর্জাতিক গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি এবং একই সাথে আফগানিস্তানে মার্কিন সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের দ্বারা সংঘটিত সম্ভাব্য সুনির্দিষ্ট যুদ্ধাপরাধের (War Crimes) নিরপেক্ষ আন্তর্জাতিক তদন্ত শুরু করার ঐতিহাসিক সিদ্ধান্তের পর মার্কিন প্রশাসন চরম আগ্রাসী নীতি গ্রহণ করে।

আরও পড়ুন: কাজিপুরে যমুনা নদীতে ডুবে দুই মাদরাসা ছাত্রের মর্মান্তিক মৃত্যু

ইসরায়েল ও নিজেদের সামরিক বাহিনীকে বৈশ্বিক জবাবদিহিতা থেকে রক্ষা করতে তৎকালীন ট্রাম্প প্রশাসন এক নির্বাহী আদেশের মাধ্যমে আইসিসির প্রধান প্রধান বিচারক ও কর্মকর্তাদের ওপর একতরফা কঠোর অর্থনৈতিক ও ভিসা নিষেধাজ্ঞা জারি করে। ডোনাল্ড ট্রাম্পের সেই বিতর্কিত নিষেধাজ্ঞার ফলে যুক্তরাষ্ট্রের আইনগত এক্তিয়ারের মধ্যে থাকা ওই বিচারকদের সমস্ত ব্যক্তিগত ও প্রাতিষ্ঠানিক ব্যাংক অ্যাকাউন্ট ও সম্পত্তি সম্পূর্ণ ক্রোক ও জব্দ করা হয়েছিল। একই সাথে মার্কিন কোনো নাগরিক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠানের সাথে ওই বিচারকদের সব ধরণের আর্থিক লেনদেন ও বাণিজ্যিক যোগাযোগ কঠোরভাবে নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছিল, যা আন্তর্জাতিক মহলে তীব্র নিন্দার ঝড় তোলে।

## আমাজন-গুগল বন্ধ, স্বাস্থ্যবিমা বাতিল: নিষেধাজ্ঞার কবলে বিচারকদের মানবেতর জীবনযাপন

ম্যানহাটনের আদালতে দায়ের করা আইনি নথিতে বিচারকরা ট্রাম্প প্রশাসনের এই নিষেধাজ্ঞার কারণে তাদের দৈনন্দিন ব্যক্তিগত, সামাজিক ও পেশাগত জীবনে নেমে আসা চরম ও নজিরবিহীন ভোগান্তির কথা অত্যন্ত পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে তুলে ধরেছেন। বিচারকরা অভিযোগ করেছেন, মার্কিন ডলার এবং আমেরিকার প্রযুক্তি খাত সমগ্র বিশ্বকে নিয়ন্ত্রণ করার কারণে এই মার্কিন নিষেধাজ্ঞার পর তারা কার্যত একবিংশ শতাব্দীতে এক আধুনিক অর্থনৈতিক ও সামাজিক অবরুদ্ধতার শিকার হয়েছেন।

অভিযোগপত্রে বিচারকরা যেসব মারাত্মক সংকটের কথা উল্লেখ করেছেন তা নিচে তুলে ধরা হলো:

  • ব্যাকিং ও ক্রেডিট কার্ড সেবা বন্ধ: মার্কিন নিষেধাজ্ঞার তালিকায় নাম থাকার কারণে বিচারকরা আন্তর্জাতিক কোনো ব্যাংক থেকে ক্রেডিট কার্ড ব্যবহার করতে পারছেন না এবং তাদের সাধারণ ব্যাংকিং সেবা ও লেনদেন সম্পূর্ণ স্থবির হয়ে পড়েছে।

  • অনলাইন প্ল্যাটফর্ম ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা: আধুনিক জীবনের অপরিহার্য অংশ হয়ে ওঠা মার্কিন জায়ান্ট আমাজন (Amazon) থেকে প্রয়োজনীয় সামগ্রী বা বই কেনা এবং গুগলের (Google) মতো সাধারণ ও জরুরি অনলাইন ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের বাণিজ্যিক সেবা গ্রহণ করা তাদের জন্য সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ হয়ে গেছে।

  • ভ্রমণ ও চিকিৎসা সেবা ব্যাহত: আন্তর্জাতিক বিমান সংস্থাগুলোর টিকিট বুকিং দিতে তারা চরম আইনি জটিলতার মুখোমুখি হচ্ছেন। এমনকি জীবনের সবচেয়ে মৌলিক চাহিদা তথা আন্তর্জাতিক উন্নত চিকিৎসা ও স্বাস্থ্যবিমার (Health Insurance) সুবিধা থেকেও তাদেরকে বঞ্চিত করা হয়েছে।

  • বিচারাধীন মামলার তথ্য-প্রমাণ উপস্থাপনে বাধা: বিচারকরা অত্যন্ত উদ্বেগের সাথে আদালতকে জানিয়েছেন যে, এই অমানবিক ও বেআইনি অর্থনৈতিক অবরোধের কারণে তাদের কাছে বর্তমানে বিচারাধীন থাকা কিংবা দূরভবিষ্যতে আসতে যাওয়া আন্তর্জাতিক মামলার অতি সংবেদনশীল ডিজিটাল তথ্য-প্রমাণ, যুক্তি এবং আইনি নথিপত্র যথাযথভাবে পর্যালোচনা ও উপস্থাপন করা প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে, যা পরোক্ষভাবে বৈশ্বিক ন্যায়বিচার প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করছে।

## আন্তর্জাতিক জরুরি অর্থনৈতিক ক্ষমতা আইনের নগ্ন লঙ্ঘন: আইনি যুক্তি বিচারকদের

ম্যানহাটনের ফেডারেল আদালতে দায়ের করা মামলায় আইসিসির ৩ বিচারক ট্রাম্প প্রশাসনের বিরুদ্ধে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নিজস্ব আইন লঙ্ঘনের সুনির্দিষ্ট প্রমাণ পেশ করেছেন। তারা তাদের অভিযোগে দাবি করেন, এই নিষেধাজ্ঞা সম্পূর্ণভাবে আমেরিকার নিজস্ব ‘আন্তর্জাতিক জরুরি অর্থনৈতিক ক্ষমতা আইন’ (International Emergency Economic Powers Act - IEEPA)-এর মূল আইনি স্পিরিটের পরিপন্থি এবং একটি স্পষ্ট নগ্ন লঙ্ঘন। মার্কিন আইন অনুযায়ী, কোনো বিদেশী ব্যক্তি বা সংস্থার ওপর এই বিশেষ ধারায় নিষেধাজ্ঞা দিতে হলে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তা, অর্থনীতি বা পররাষ্ট্রনীতির ওপর কোনো প্রকৃত ও অস্বাভাবিক জাতীয় জরুরি অবস্থা বা চরম আন্তর্জাতিক হুমকি বিদ্যমান থাকতে হয়।

বিচারকরা বিজ্ঞ আদালতের সামনে যুক্তি দেখিয়েছেন যে, আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত কোনো নির্দিষ্ট দেশের শত্রু নয়; এটি বিশ্বজুড়ে সংঘটিত হওয়া যুদ্ধাপরাধের বিচারের একটি স্বাধীন বৈশ্বিক ট্রাইব্যুনাল মাত্র। ফলে আইসিসি কোনোভাবেই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তার জন্য কোনো ‘অস্বাভাবিক বা চরম হুমকি’ হতে পারে না। কোনো প্রকার প্রকৃত ও বাস্তবসম্মত জাতীয় জরুরি অবস্থা ছাড়াই স্রেফ রাজনৈতিক প্রতিহিংসা চরিতার্থ করতে এবং বিচারকদের ব্যক্তিগত ও আর্থিক স্বার্থকে সুনির্দিষ্টভাবে লক্ষ্যবস্তু বানিয়ে হীন উদ্দেশ্যে এই নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছিল, যা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের আইনি কাঠামোর ভেতরেই একটি বড় অপরাধ।

আরও পড়ুন: শাহজাদপুরে প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে ইউএনওর কাছে গুরুতর অভিযোগ

## একনজরে ট্রাম্পের বিরুদ্ধে আইসিসি বিচারকদের ঐতিহাসিক মামলার মূল খতিয়ান

পাঠকদের সুবিধার্থে এবং বিশ্ব রাজনীতি কাঁপানো এই আইনি লড়াইয়ের প্রধান প্রধান দিকসমূহ একনজরে সহজে অনুধাবন করার জন্য নিচে একটি বিশেষ আধুনিক তথ্য সারণী প্রদান করা হলো:

মামলার মূল খাত ও আন্তর্জাতিক প্যারামিটারসমূহসুনির্দিষ্ট বিবরণ ও আইনি খতিয়ান
মামলার মূল বিবাদী ও অভিযুক্ত পক্ষমার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও তাঁর প্রশাসন।
মামলা দায়েরকারী আইসিসির ৩ বিচারক১. কিম্বারলি প্রোস্ট (কানাডা), ২. সলোমি বালুঙ্গি বোসা (উগান্ডা), ৩. রেইন অ্যাডিলেড সোফি অ্যালাপিনি গানসু (বেনিন)।
মামলা দায়েরের সুনির্দিষ্ট স্থান ও সময়যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের ম্যানহাটনের ফেডারেল আদালত; ২৪ জুন ২০২৬ (বুধবার)।
মার্কিন প্রশাসনের নিষেধাজ্ঞার মূল কারণইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুর গ্রেপ্তারি পরোয়ানা ও মার্কিন সেনাদের যুদ্ধাপরাধের তদন্ত শুরু।
লঙ্ঘিত হওয়া মূল মার্কিন আইনি ধারাআন্তর্জাতিক জরুরি অর্থনৈতিক ক্ষমতা আইন (IEEPA)-এর অপব্যবহার ও সুনির্দিষ্ট লঙ্ঘন।
বিচারকদের ওপর পড়া প্রধান ব্যক্তিগত প্রভাবক্রেডিট কার্ড, ব্যাংক অ্যাকাউন্ট, আমাজন-গুগল ব্যবহার নিষিদ্ধ এবং স্বাস্থ্যবিমা বাতিল।
বিচারকদের মূল আইনি ডিমান্ড বা দাবিট্রাম্পের এই নিষেধাজ্ঞাকে সম্পূর্ণ বেআইনি ঘোষণা করে তা অবিলম্বে প্রত্যাহার করা।

## পরাশক্তি বনাম আইসিসি: আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের কার্যকারিতা ও ঐতিহাসিক বৈরিতা

আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত বা আইসিসি (ICC) সুদীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে আজ থেকে প্রায় দুই দশক আগে, ২০০২ সালে রোম স্ট্যাটিউটের (Rome Statute) অধীনে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। বর্তমানে বিশ্বের ১২৫টি স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্র এই আদালতের পূর্ণাঙ্গ সদস্য দেশ হিসেবে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। বিশ্বজুড়ে সংঘটিত হওয়া যেকোনো ধরণের ভয়াবহ গণহত্যা (Genocide), মানবতাবিরোধী অপরাধ, আগ্রাসনের অপরাধ এবং আন্তর্জাতিক যুদ্ধাপরাধের বিচার করার সুনির্দিষ্ট ও আন্তর্জাতিক আইনি এখতিয়ার রয়েছে এই আদালতের। এছাড়াও যদি জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদ (UN Security Council) কোনো সুনির্দিষ্ট দেশের বা অঞ্চলের পরিস্থিতি তদন্তের জন্য এই আদালতকে সুপারিশ করে, তবে আইসিসি সদস্য বহির্ভূত দেশেও বিচারিক কার্যক্রম চালাতে পারে।

তবে আন্তর্জাতিক আইনের এই মহতী উদ্যোগের পেছনে সবসময়ই বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে বিশ্বের বড় বড় সামরিক পরাশক্তিগুলো। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, চীন, রাশিয়া এবং ইসরায়েলের মতো অর্থনৈতিক ও পারমাণবিক পরাশক্তি দেশগুলো আজ পর্যন্ত আইসিসির এই আন্তর্জাতিক আইনি সার্বভৌমত্ব ও আইনি কর্তৃত্বকে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকার বা অনুসমর্থন করেনি। পরাশক্তিগুলোর এই অবস্থানের কারণে আদালত প্রায়শই স্বাধীনভাবে কাজ করতে গিয়ে বড় ধরণের ভূ-রাজনৈতিক বাধার সম্মুখীন হয়। ডোনাল্ড ট্রাম্পের এই নিষেধাজ্ঞা এবং তার বিপরীতে বিচারকদের এই পাল্টা ঐতিহাসিক মামলা মূলত প্রমাণ করে যে, আন্তর্জাতিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে পরাশক্তিদের একতরফা ক্ষমতা বনাম আন্তর্জাতিক আইনের লড়াই এখন এক নতুন ও অত্যন্ত জটিল মোড়ে এসে উপনীত হয়েছে। ম্যানহাটনের ফেডারেল আদালত এখন এই মামলার বিষয়ে কী রায় দেয়, তার ওপরই নির্ভর করছে বিশ্ব রাজনীতির ভবিষ্যৎ বিচারিক রূপরেখা।

বিশ্ব রাজনীতির অন্দরের খবর, আন্তর্জাতিক আদালতের প্রতিটি চাঞ্চল্যকর আপডেট, আমেরিকার ক্যাপিটল হিল ও হোয়াইট হাউসের সর্বশেষ আইনি লড়াই এবং বৈশ্বিক কূটনীতির প্রতিটি নির্ভরযোগ্য খবরাখবর সবার আগে প্রফেশনাল ও শতভাগ ইউনিক উপায়ে আপনাদের সামনে নিয়মিত তুলে ধরতে ‘দিগন্ত বাংলা নিউজ’ পোর্টাল সর্বদা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

নিউজ সূত্র: আল জাজিরা আন্তর্জাতিক ডেস্ক ও নিউইয়র্ক ফেডারেল কোর্ট রেকর্ড

Post a Comment

আপনার মূল্যবান মতামত আমাদের জানান। কোনো উসকানিমূলক বা অশালীন মন্তব্য করা থেকে বিরত থাকুন।

নবীনতর পূর্বতন