আন্তর্জাতিক ডেস্ক: শামীম হোসমাজ / দিগন্ত বাংলা নিউজ
চীনের রাজধানী বেইজিংয়ের কেন্দ্রস্থলে অবস্থিত ১০৯ তলা বিশিষ্ট বিখ্যাত ‘সিটিক টাওয়ার’ বা চায়না জুন ভবনে একটি হালকা উড়োজাহাজ সরাসরি আঘাত হানার পর সেখানে এক ভয়াবহ ও অভূতপূর্ব পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।
বেইজিংয়ের আকাশে নজিরবিহীন বিপর্যয়: ১০৯ তলার মেগা স্কাইস্ক্র্যাপার ‘সিটিক টাওয়ারে’ সজোরে আঘাত হানল বিমান, অবরুদ্ধ গোটা রাজধানী, প্রাণভয়ে পালাচ্ছেন হাজারো মানুষ
বিশ্বের অন্যতম সুরক্ষিত এবং কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রিত আকাশসীমা হিসেবে পরিচিত চীনের রাজধানী বেইজিংয়ের কেন্দ্রস্থলে এক গা শিউরে ওঠা নজিরবিহীন ও ভয়াবহ বিমান দুর্ঘটনা সংঘটিত হয়েছে। বেইজিংয়ের বুকে দাঁড়িয়ে থাকা সবচেয়ে উঁচু এবং ঐতিহ্যবাহী আকাশচুম্বী মেগা অট্টালিকা ‘সিটিক টাওয়ার’ (CITIC Tower)-এর ওপরের দিকের একটি তলায় হুট করেই সজোরে আছড়ে পড়েছে একটি চলন্ত হালকা বিমান। অত্যন্ত সুরক্ষিত এই কূটনৈতিক ও বাণিজ্যিক জোনে ভরসন্ধ্যায় ঘটে যাওয়া এই আকস্মিক ও রোমহর্ষক ঘটনার পর পুরো বহুতল ভবন এবং এর আশেপাশের বিস্তীর্ণ এলাকা জুড়ে চরম আতঙ্ক, বিশৃঙ্খলা ও হুলস্থুল পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। দুর্ঘটনার পর পরই ভবনের ভেতরে থাকা হাজার হাজার কর্মকর্তা ও সাধারণ মানুষকে অতি দ্রুততম সময়ের মধ্যে নিরাপদে বাইরে বের করে নিয়ে আসার জন্য উদ্ধারকারী দল কাজ শুরু করেছে।
হংকং-ভিত্তিক স্বনামধন্য ও আন্তর্জাতিকভাবে প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম সাউথ চায়না মর্নিং পোস্ট (South China Morning Post) আজ শুক্রবার (২৬ জুন ২০২৬) রাতে প্রকাশিত তাদের একটি বিশেষ ও প্রফেশনাল এক্সক্লুসিভ প্রতিবেদনে এই রোমহর্ষক ও সংবেদনশীল দুর্ঘটনার খবরটি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে বিশ্ববাসীর সামনে তুলে ধরেছে। ঘটনার পর থেকেই বেইজিংয়ের স্থানীয় প্রশাসন এবং আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমগুলোর চোখ এখন এই মেগা স্কাইস্ক্র্যাপারের দিকে। এই আকস্মিক আঘাতের পেছনে কোনো যান্ত্রিক ত্রুটি নাকি অন্য কোনো গভীর রহস্য লুকিয়ে রয়েছে, তা নিয়ে ইতিমধ্যেই চীনের উচ্চপর্যায়ের গোয়েন্দা সংস্থাগুলো এবং সিভিল এভিয়েশন কর্তৃপক্ষ একযোগে তদন্তে নেমেছে।
## হতাহতের সংখ্যা নিয়ে ধোঁয়াশা: আকাশ থেকে পড়া ধ্বংসাবশেষে বিপর্যস্ত বেইজিংয়ের রাজপথ
সাউথ চায়না মর্নিং পোস্টের প্রকাশিত বিস্তারিত প্রতিবেদন থেকে জানা গেছে, অত্যন্ত সুরক্ষিত বেইজিংয়ের আকাশসীমায় ঘটে যাওয়া এই চাঞ্চল্যকর ও আকস্মিক বিমান দুর্ঘটনায় এখন পর্যন্ত কতজন মানুষ গুরুতর আহত হয়েছেন কিংবা কোনো প্রাণহানি ঘটেছে কিনা, সে বিষয়ে বেইজিংয়ের স্থানীয় পুলিশ প্রশাসন অথবা চীনের বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে সুনির্দিষ্ট কোনো আনুষ্ঠানিক তথ্য বা বিবৃতি প্রদান করা হয়নি। এমনকি দুর্ঘটনার শিকার হওয়া ওই ক্ষুদ্রাকার বিমানটিতে ঠিক কতজন আরোহী বা ক্রু অবস্থান করছিলেন, সেটি ঠিক কোথা থেকে উড্ডয়ন করেছিল এবং ঠিক কী ধরণের যান্ত্রিক বা কৌশলগত কারণে বেইজিংয়ের প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত এই বিশালাকার টাওয়ারটিতে আঘাত হানল, তার কোনো সুস্পষ্ট উত্তর এখনও পাওয়া যায়নি। পুরো বিষয়টি ঘিরে বেইজিংয়ের প্রশাসনিক মহলে এক ধরণের কঠোর গোপনীয়তা ও সতর্ক অবস্থা বজায় রাখা হচ্ছে।
ইতিমধ্যেই চীনের নিজস্ব সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ‘উইবো’ (Weibo) এবং আন্তর্জাতিক বিভিন্ন ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে এই দুর্ঘটনার বেশ কিছু শিউরে ওঠার মতো ভিডিও ও ফুটেজ দ্রুত ভাইরাল হয়ে ছড়িয়ে পড়েছে। ছড়ানো ভিডিওগুলোতে অত্যন্ত পরিষ্কারভাবে দেখা গেছে, চলন্ত বিমানটি সিটিক টাওয়ারের ১০৯ তলা ভবনের একেবারে ওপরের দিকের একটি ফ্লোরে তীব্র গতিতে সরাসরি গিয়ে সজোরে আঘাত হানছে। বিমানের এই প্রচণ্ড ও প্রলয়ঙ্কারী ধাক্কার কারণে ভবনটির জানালার গ্লাস এবং দেয়ালের একটি বড় অংশ ভেঙে চুরমার হয়ে যায়। বিমান ও ভবনের সেই ধ্বংসাবশেষের বিশালাকার ও ভারী টুকরোগুলো অত্যন্ত বিপজ্জনকভাবে আকাশ থেকে নিচের মূল ব্যস্ত সড়ক, পথচারীদের হাঁটার রাস্তা এবং ভবনের চারপাশের সবুজ চত্বরের ওপর এসে আছড়ে পড়তে থাকে। এ সময় নিচে থাকা সাধারণ মানুষ প্রাণভয়ে চারদিকে ছুটতে শুরু করেন। এ ছাড়া বিভিন্ন ফুটেজে ভবনটির ভেতর থেকে শত শত মানুষকে সাইরেনের শব্দের মধ্যে অত্যন্ত দ্রুত ও আতঙ্কিত অবস্থায় নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়ার দৃশ্য দেখা গেছে।
## ‘পরিচয়পত্র বা ব্যাগ নেওয়ার সময়ও পাইনি’: প্রত্যক্ষদর্শীদের বয়ানে বিভীষিকাময় সন্ধ্যার চিত্র
দুর্ঘটনার সময় সিটিক টাওয়ারের ভেতরে অবস্থান করা একাধিক প্রত্যক্ষদর্শী এবং চাকুরিজীবীদের সাথে কথা বলে সেই মুহূর্তের ভয়াবহতার এক লোমহর্ষক বিবরণ পাওয়া গেছে। বহুতল ভবনটির ভেতরে কর্মরত স্থানীয় এক নারী চাকরিজীবী অত্যন্ত আতঙ্কিত ও কম্পিত কণ্ঠে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমকে তাঁর অভিজ্ঞতার কথা জানিয়ে বলেন:
আরও পড়ুন: পরমাণু স্থাপনা পরিদর্শনে আইএইএ-কে অনুমতি দেবে না ইরান, ট্রাম্পের পাল্টা দাবি
"তখন সন্ধ্যা প্রায় ৬টার মতো হবে। আমরা অফিসে দৈনন্দিন কাজ করছিলাম, হঠাৎ করেই পুরো ভবনটি এক বিকট শব্দে কেঁপে ওঠে। আমাদের মনে হয়েছিল যেন কোনো বড় ধরণের ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে। এর কিছুক্ষণের মধ্যেই ভবনের স্পিকারে জরুরি অ্যালার্ম বেজে ওঠে এবং নিরাপত্তারক্ষীরা আমাদের চিৎকার করে অবিলম্বে ভবন খালি করার নির্দেশ দেন। পরিস্থিতি এতটাই আকস্মিক ও ভয়াবহ ছিল যে, আমি টেবিল থেকে আমার নিজস্ব পরিচয়পত্র (ID Card), পার্স বা হাতব্যাগটি নেওয়ার মতো ন্যূনতম সময়টুকুও পাইনি। আমরা সবাই শুধু জীবন বাঁচানোর তাগিদে সিঁড়ি দিয়ে হুড়মুড় করে নিচের দিকে দৌড়ে নেমে এসেছি। নিচে এসে দেখি চারদিকে ধোঁয়া আর আকাশ থেকে কাঁচের টুকরো বৃষ্টির মতো পড়ছে।"
সাউথ চায়না মর্নিং পোস্টের প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়েছে যে, ঘটনার খবর পাওয়া মাত্রই বেইজিংয়ের বিশেষ নিরাপত্তা পুলিশ ও সোয়াত টিম দ্রুত অ্যাকশনে নেমেছে। তারা অত্যন্ত কঠোরভাবে দুর্ঘটনাস্থলের চারপাশের সমস্ত প্রধান প্রধান রাস্তা ও ট্রাফিক সিগন্যাল সম্পূর্ণ অবরুদ্ধ বা ব্লক করে রেখেছে। ওই পুরো বাণিজ্যিক এলাকাটি থেকে সাধারণ পথচারী ও উৎসুক জনতাকে সম্পূর্ণ নিরাপদ দূরত্বে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। এই ১০৯ তলা বিশিষ্ট মেগা স্থাপনাটির চারপাশ জুড়ে বর্তমানে শত শত সশস্ত্র পুলিশ, ফায়ার সার্ভিসের বিশেষ কমান্ডো এবং উদ্ধারকারী দল মোতায়েন করা হয়েছে। পাশাপাশি যেকোনো ধরণের জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে এবং আহতদের দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার জন্য ভবনটির নিচে সারিবদ্ধভাবে বেশ কয়েকটি অত্যাধুনিক অ্যাম্বুলেন্সকে সাইরেন বাজিয়ে অবস্থান করতে দেখা গেছে।
## বিমানটির পরিচয় ও অরোরা মডেলের কারিগরি দিক: সামনে এল ফ্লাইটরাডার২৪-এর চাঞ্চল্যকর তথ্য
অনলাইনে ও ইন্টারনেটের বিভিন্ন ব্লগে ছড়িয়ে পড়া দুর্ঘটনাকবলিত বিমানের ছবি ও প্রামাণ্য চিত্র বিশ্লেষণ করে বিমানটির পরিচয় সম্পর্কে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ ও প্রযুক্তিগত তথ্য উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। বিমানের ডানায় স্পষ্ট অক্ষরে দৃশ্যমান ধ্বংসাবশেষের ছবি থেকে জানা গেছে, বিমানটির অফিশিয়াল রেজিস্ট্রেশন বা নিবন্ধন নম্বর ছিল বি-১২পিপি (B-12PP)। আন্তর্জাতিকভাবে নির্ভরযোগ্য ও বিশ্বখ্যাত লাইভ ফ্লাইট-সংক্রান্ত তথ্য ও ট্র্যাকিং প্রদানকারী সংস্থা ফ্লাইটরাডার২৪ (Flightradar24) তাদের ডাটাবেজ বিশ্লেষণ করে নিশ্চিত করেছে যে, বিধ্বস্ত হওয়া এই উড়োজাহাজটি মূলত চীনের সুপরিচিত বিমান প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান স্টারএয়ার এয়ারক্রাফট কোম্পানির (StarAir Aircraft Company) তৈরি করা অত্যন্ত আধুনিক ও জনপ্রিয় ‘সানওয়ার্ড এসএ৬০এল অরোরা’ (Sunward SA60L Aurora) মডেলের একটি বিমান। এটি মূলত অত্যন্ত হালকা ও ছোট আকারের একটি বিশেষ দুই আসনের (2-Seater Light Aircraft) স্পোর্টস বিমান।
চীনের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সক্রিয় বিভিন্ন সামরিক ও বেসামরিক বিমান চলাচল বিশ্লেষকদের একটি পোস্টে দাবি করা হয়েছে, বিধ্বস্ত হওয়া এই হালকা বিমানটি মূলত বেইজিংয়ের স্থানীয় একটি ব্যক্তিগত পাইলট প্রশিক্ষণ কেন্দ্র (Pilot Training Academy) এবং আকাশপথে বিনোদনমূলক পর্যটনসেবা (Aerial Tourism Service) প্রদানকারী একটি বেসরকারি এভিয়েশন কোম্পানি দ্বারা পরিচালিত ও নিয়ন্ত্রিত হচ্ছিল। ধারণা করা হচ্ছে, পাইলট প্রশিক্ষণের কোনো রুটিন ফ্লাইটের সময় অথবা পর্যটকদের নিয়ে বেইজিংয়ের আকাশ ঘোরার সময় এই দুর্ঘটনাটি ঘটেছে। তবে এই দাবির সত্যতা যাচাই করার জন্য এবং ঘটনার মূল রহস্য জানতে উক্ত বেসরকারি এভিয়েশন কোম্পানির প্রধান কার্যালয়ে আন্তর্জাতিক সাংবাদিকদের পক্ষ থেকে বারবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও প্রতিষ্ঠানটির শীর্ষ কর্মকর্তাদের কোনো সাড়া বা আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
## একনজরে সিটিক টাওয়ারে বিমান দুর্ঘটনার প্রধান প্রধান তথ্য ও কারিগরি খতিয়ান
পাঠকদের সুবিধার্থে এবং চীনের রাজধানীতে ঘটে যাওয়া এই অত্যন্ত সংবেদনশীল ও রোমহর্ষক বিমান দুর্ঘটনার মূল প্রধান বিষয়সমূহ একনজরে সহজে অনুধাবন করার জন্য নিচে একটি বিশেষ প্রফেশনাল ও আধুনিক তথ্য সারণী প্রদান করা হলো:
| দুর্ঘটনার মূল সূচক ও প্যারামিটারসমূহ | সুনির্দিষ্ট বিবরণ ও আন্তর্জাতিক কারিগরি খতিয়ান (২০২৬) |
| ১. দুর্ঘটনার সুনির্দিষ্ট স্থান | সিটিক টাওয়ার (চায়না জুন), বেইজিং, চীন। |
| ২. ভবনের উচ্চতা ও তলার সংখ্যা | উচ্চতা প্রায় ৫২৮ মিটার (১,৭৩২ ফুট); মোট তলার সংখ্যা ১০৯ তলা। |
| ৩. দুর্ঘটনার সুনির্দিষ্ট সময় | ২৬ জুন ২০২৬ (শুক্রবার), স্থানীয় সময় সন্ধ্যা আনুমানিক ৬:০০ টা। |
| ৪. দুর্ঘটনাকবলিত বিমানের মডেল | সানওয়ার্ড এসএ৬০এল অরোরা (Sunward SA60L Aurora)। |
| ৫. বিমানের আসন ও নির্মাতা | ২টি আসন বিশিষ্ট হালকা স্পোর্টস বিমান; নির্মাতা: স্টারএয়ার কোম্পানি। |
| ৬. বিমানের অফিশিয়াল নিবন্ধন নম্বর | B-12PP (ফ্লাইটরাডার২৪ দ্বারা নিশ্চিতকৃত)। |
| ৭. ভবনের প্রাতিষ্ঠানিক মালিকানা | রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন বৃহৎ প্রতিষ্ঠান ‘চায়না ইন্টারন্যাশনাল ট্রাস্ট অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট কর্পোরেশন’। |
| ৮. বেইজিংয়ের বর্তমান বিমান নীতি | সব ধরণের সাধারণ বিনোদনমূলক ও ড্রোন উড্ডয়ন সম্পূর্ণরূপে নিষিদ্ধ ও অনুমতি সাপেক্ষ। |
## বেইজিংয়ের আকাশসীমার কঠোর সামরিক আইন: অনুমতি ছাড়া ড্রোন ওড়ানোও যেখানে অপরাধ
চীনের রাজধানী বেইজিংয়ের আকাশসীমা কোনো সাধারণ আকাশপথ নয়; এটি বিশ্বের অন্যতম কঠোরতম এবং মিলিটারী গ্রেড সিকিউরিটি জোন হিসেবে পরিচিত। নিয়মানুযায়ী, বেইজিংয়ের আকাশে যেকোনো ধরনের সাধারণ হালকা বিমান, হেলিকপ্টার কিংবা হট এয়ার বেলুন ওড়ানোর জন্য সাধারণ মানুষকে চীনের মূল বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (CAAC) এবং সরাসরি দেশটির শক্তিশালী সশস্ত্র বাহিনী পিপলস লিবারেশন আর্মি এয়ার ফোর্স (PLAAF)-এর কাছ থেকে সুনির্দিষ্ট, লিখিত ও দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে পূর্বানুমতি গ্রহণ করতে হয়। এই দুই পরাক্রমশালী সংস্থার সবুজ সংকেত ছাড়া বেইজিংয়ের আকাশে একটি পাখিরও ওড়ার সাধ্য নেই।
আরও পড়ুন: ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে জামায়াতের মিছিল থেকে সাংবাদিকদের ওপর বর্বরোচিত হামলা
বিশেষ করে, ভূ-রাজনৈতিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি বিবেচনা করে গত মাসেই বেইজিংয়ের স্থানীয় প্রশাসন ও কেন্দ্রীয় সরকার পুরো রাজধানী জুড়ে সব ধরনের সাধারণ বিনোদনমূলক উড্ডয়ন, অপেশাদার বিমান চালনা এবং ব্যক্তিগত ও বাণিজ্যিক ড্রোন উড্ডয়ন সম্পূর্ণরূপে নিষিদ্ধ করে একটি অত্যন্ত কঠোর ও নতুন রাষ্ট্রীয় আইন জারি করেছে। এই নতুন প্রবর্তিত নিয়মের অধীনে, বর্তমানে বেইজিংয়ের আকাশসীমায় যেকোনো ধরণের ছোটখাটো উড্ডয়নের আগেও সরাসরি কেন্দ্রীয় সরকার, বেসামরিক বিমান চলাচল উইং এবং এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোল (ATC)-এর বাধ্যতামূলক রিয়েল-টাইম অনুমতি ও ট্র্যাকিং সিস্টেম চালু রাখতে হয়। এত সব কঠোর নিরাপত্তা বেষ্টনী এবং কড়া সামরিক আইন বলবৎ থাকার পরেও কীভাবে একটি দুই আসনের সাধারণ বাণিজ্যিক স্পোর্টস বিমান বেইজিংয়ের কেন্দ্রস্থলে ঢুকে এই বিশাল ভবনে আঘাত হানল, তা চীনের জাতীয় নিরাপত্তার জন্য এক মস্ত বড় প্রশ্নবোধক চিহ্ন এঁকে দিয়েছে।
## সিটিক টাওয়ারের ইতিহাস ও গুরুত্ব: বেইজিংয়ের বুকে দাঁড়িয়ে থাকা এক রাষ্ট্রীয় গৌরব
যে সিটিক টাওয়ারটিতে এই বিমানটি আঘাত হেনেছে, সেটি কেবল একটি সাধারণ বহুতল ভবন নয়, এটি আধুনিক চীনের অর্থনৈতিক শক্তি ও রাষ্ট্রীয় আভিজাত্যের অন্যতম প্রধান প্রতীক। আন্তর্জাতিক স্থাপত্য অঙ্গনে এটি ‘চায়না জুন’ (China Zun) নামেও ব্যাপকভাবে পরিচিত। এই ভবনটি চীনের অন্যতম বৃহত্তম, শীর্ষস্থানীয় এবং প্রভাবশালী রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন মেগা কোম্পানি ‘চায়না ইন্টারন্যাশনাল ট্রাস্ট অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট কর্পোরেশন’ (CITIC Group)-এর প্রধান বৈশ্বিক সদর দপ্তর বা হেডকোয়ার্টার হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। এই ভবনের ভেতরে চীনের বিলিয়ন ডলারের অর্থনৈতিক ও কৌশলগত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
বিশালাকার এই ভবনটির নির্মাণ কাজ শুরু হয়ে সুদীর্ঘ পথ পরিক্রমা শেষে বিগত ২০১৮ সালে এটি সম্পূর্ণ প্রফেশনালভাবে নির্মিত ও উদ্বোধিত হয়েছিল। বর্তমানে ৫২৮ মিটার উচ্চতার এই অনন্য স্থাপত্যশৈলীর ভবনটি সমগ্র বেইজিং শহরের মধ্যে এককভাবে সর্বোচ্চ উঁচু স্থাপনা ও স্কাইস্ক্র্যাপার হিসেবে নিজের অবস্থান ধরে রেখেছে। এর স্থাপত্য নকশাটি চীনের প্রাচীন ঐতিহ্যবাহী ব্রোঞ্জের তৈরি ধর্মীয় পাত্র 'জুন'-এর আকৃতি থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে তৈরি করা হয়েছিল। এমন একটি জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ ও রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন সংবেদনশীল স্থাপনায় বিমানের এই আঘাত হানার ঘটনাটি তাই স্বাভাবিকভাবেই সাধারণ চীনা নাগরিকদের মনে তীব্র আতঙ্ক ও নানা ধরণের জল্পনা-কল্পনার জন্ম দিয়েছে। অনেকেই এই ঘটনার সাথে আমেরিকার টুইন টাওয়ারের ঐতিহাসিক ঘটনার মিল খুঁজে পেয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উদ্বেগ প্রকাশ করছেন। তবে চীনের রাষ্ট্রীয় মিডিয়া সাধারণ মানুষকে শান্ত থাকার এবং কোনো ধরণের গুজব না ছড়ানোর আহ্বান জানিয়েছে।
বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ব্রেকিং নিউজ, পরাশক্তি চীনের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা ও বিমান দুর্ঘটনার লাইভ আপডেট এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনের প্রতিটি নির্ভরযোগ্য, প্রফেশনাল ও শতভাগ ইউনিক খবরাখবর কোনো কপিরাইট ইস্যু ছাড়াই সবার আগে আপনাদের সামনে নিয়মিত তুলে ধরতে ‘দিগন্ত বাংলা নিউজ’ পোর্টাল সর্বদা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন
আপনার মূল্যবান মতামত আমাদের জানান। কোনো উসকানিমূলক বা অশালীন মন্তব্য করা থেকে বিরত থাকুন।