জাতীয় ডেস্ক: শামীম হোসাইন / দিগন্ত বাংলা নিউজ
ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে জামায়াতে ইসলামীর বিক্ষোভ সমাবেশ ও ঝটিকা মিছিল শেষে পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে সাংবাদিকদের ওপর অতর্কিত হামলা চালায় দলটির নেতাকর্মীরা।
## ধানমন্ডি ৩২ এ চরম উত্তেজনা: জামায়াতের বিক্ষোভ মিছিল থেকে ‘আওয়ামী লীগের দোসর’ অ্যাখ্যা দিয়ে সাংবাদিকদের ওপর বর্বরোচিত হামলা, আহত বেশ কয়েকজন গণমাধ্যমকর্মী
রাজধানীর ঐতিহাসিক ধানমন্ডি ৩২ নম্বর এলাকায় তীব্র রাজনৈতিক উত্তেজনা ও বিশৃঙ্খলার মধ্য দিয়ে এক অনাকাঙ্ক্ষিত ও নজিরবিহীন ঘটনা ঘটেছে। দেশের বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষিত রাজনৈতিক দল বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীকে কেন্দ্র করে রাজপথে নামা জামায়াতে ইসলামীর একটি বড় ধরণের বিক্ষোভ মিছিল থেকে পেশাদার সাংবাদিকদের ওপর অতর্কিত ও বর্বরোচিত হামলার ঘটনা ঘটেছে। মিছিল শেষে গণমাধ্যমকর্মীদের ‘ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগের দোসর’ বলে স্লোগান দিয়ে উসকানি ছড়ানো হয় এবং একপর্যায়ে তাদের ওপর চড়াও হয়ে লাঠিসোঁটা দিয়ে নির্মমভাবে মারধর করা হয়। জামায়াত নেতাকর্মীদের এই আকস্মিক হামলায় ঘটনাস্থলে পেশাগত দায়িত্ব পালনরত বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের বেশ কয়েকজন সাংবাদিক ও ক্যামেরাপার্সন গুরুতর আহত হয়েছেন।
আরও পড়ুন: সংসদে জামায়াতের রাজনীতি নিষিদ্ধের দাবি তুললেন বিএনপি এমপি রফিকুল ইসলাম
আজ মঙ্গলবার (২৩ জুন ২০২৬) সকাল আনুমানিক ৯টার দিকে ধানমন্ডি ৩২ নম্বর এবং এর আশেপাশের এলাকায় এই অনাকাঙ্ক্ষিত ও উসকানিমূলক হামলার ঘটনাটি ঘটে। এই ঘটনার পর রাজধানী জুড়ে কর্মরত সাধারণ সাংবাদিক ও গণমাধ্যমকর্মীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ ছড়িয়ে পড়েছে। ঘটনার পরপরই মাজার ও ধানমন্ডি এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে।
## আওয়ামী লীগ পুনর্বাসনের চেষ্টার বিরুদ্ধে ক্ষোভ: ধানমন্ডি ৩২ অবরুদ্ধ করে জামায়াতের স্লোগান
প্রত্যক্ষদর্শী ও মাজার সূত্র থেকে জানা গেছে, আজ ২৩ জুন আওয়ামী লীগের ঐতিহ্যবাহী প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী হওয়া সত্ত্বেও দলটির সকল কার্যক্রম আইনগতভাবে নিষিদ্ধ থাকায় সকাল থেকেই ধানমন্ডি ৩২ নম্বর সড়ক ও বঙ্গবন্ধু ভবনের চারপাশ সম্পূর্ণ জনমানবহীন ছিল। তবে ভোর থেকেই ওই এলাকায় অবস্থান নিতে শুরু করেন জামায়াতে ইসলামী ও ছাত্রশিবিরের শত শত নেতাকর্মী। সকাল ৯টার দিকে তারা ধানমন্ডি ৩২ নম্বরের প্রধান সড়কসহ বিভিন্ন অলিগলিতে এক বিশাল ও ঝটিকা বিক্ষোভ মিছিল বের করেন। মিছিল থেকে তারা পতিত আওয়ামী লীগ ও শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণাত্মক এবং উসকানিমূলক বিভিন্ন স্লোগান দিতে থাকেন।
বিক্ষোভ সমাবেশ থেকে জামায়াতের স্থানীয় নেতারা অন্তর্বর্তীকালীন সরকার এবং বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটের ওপর তীব্র ক্ষোভ ও গভীর অভিযোগ তুলে বলেন, দেশের একটি সুনির্দিষ্ট বড় রাজনৈতিক দল পর্দার আড়াল থেকে পতিত ও গণহত্যাকারী দল আওয়ামী লীগকে পুনরায় বাংলাদেশের রাজনীতিতে পুনর্বাসনের এক গোপন ও অপচেষ্টা চালাচ্ছে। জামায়াতের নেতাকর্মীরা রাজপথে দাঁড়িয়ে স্পষ্ট হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, চব্বিশের ছাত্র-জনতার রক্তের সাথে যারা বেইমানি করে স্বৈরাচারকে পুনর্বাসনের চেষ্টা করবে, তাদের যেকোনো মূল্যে রাজপথেই কঠোরভাবে প্রতিহত করা হবে। এই রাজনৈতিক বক্তব্যের পরপরই মিছিলের শেষভাগে থাকা কিছু উগ্র কর্মী সেখানে উপস্থিত সাংবাদিকদের ওপর চড়াও হয়।
## সাংবাদিকদের মারধরের তীব্র নিন্দা এবং জামায়াত নেতা মজিবুর রহমানের ‘তৃতীয় পক্ষের ইন্ধন’ তত্ত্ব
সেখানে উপস্থিত সাংবাদিকরা ঘটনার বিবরণ দিয়ে জানান, তারা যখন জামায়াতের এই বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদের ভিডিও ফুটেজ ও ছবি তুলছিলেন, ঠিক তখনই মিছিলের ভেতর থেকে কিছু নেতাকর্মী আচমকা সাংবাদিকদের লক্ষ্য করে ‘আওয়ামী লীগের দোসর’ ও ‘দালাল’ বলে কটূক্তি করতে শুরু করে। সাংবাদিকরা এর প্রতিবাদ করলে কোনো কিছু বুঝে ওঠার আগেই জামায়াতের উগ্র কর্মীরা লাঠিসোঁটা ও রড নিয়ে সাংবাদিকদের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। তাদের এলোপাতাড়ি মারধরে কয়েকজন গণমাধ্যমকর্মীর মাথা ফেটে যায় এবং বেশ কয়েকটি দামি ভিডিও ক্যামেরা ও মোবাইল ফোন সম্পূর্ণ ভাঙচুর করা হয়। পরবর্তীতে অন্য সহকর্মীরা এগিয়ে এসে আহত সাংবাদিকদের উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য নিয়ে যান।
গণমাধ্যমের ওপর এই বর্বরোচিত হামলার খবর ছড়িয়ে পড়লে চারদিকে তীব্র নিন্দা ও সমালোচনার ঝড় ওঠে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে পরিস্থিতি সামাল দিতে এবং নিজেদের ভাবমূর্তি রক্ষা করতে জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় অন্যতম শীর্ষ নেতা মজিবুর রহমান গণমাধ্যমের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে গভীর দুঃখপ্রকাশ ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন। তিনি এক বিবৃতিতে দাবি করেন:
আরও পড়ুন: ইতিহাসে প্রথমবার প্রকাশ্যে খোলা হলো শাহজালালের মাজারের দানবাক্স ও ডেগ
"আজ সকালে ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে সাংবাদিকদের ওপর হামলার যে ঘটনাটি ঘটেছে, তা অত্যন্ত অনাকাঙ্ক্ষিত, দুঃখজনক এবং নিন্দনীয়। জামায়াতে ইসলামী সর্বদা গণমাধ্যমের স্বাধীনতায় বিশ্বাসী। আমাদের প্রাথমিক ধারণা, এই সুপরিকল্পিত হামলার পেছনে জামায়াতের কোনো আদর্শিক কর্মী জড়িত নয়, বরং আমাদের দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করতে কোনো ‘তৃতীয় পক্ষের’ বিশেষ ইন্ধন ও উসকানি রয়েছে। আমরা এই ঘটনার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ অভ্যন্তরীণ তদন্ত নিশ্চিত করব।"
## একনজরে ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে জামায়াতের মিছিল ও সাংবাদিক লাঞ্ছনার খতিয়ান
পাঠকদের সুবিধার্থে এবং আজ সকালের এই চাঞ্চল্যকর ও অনাকাঙ্ক্ষিত রাজনৈতিক ঘটনার বিবরণ একনজরে সহজে অনুধাবন করার জন্য নিচে একটি বিশেষ তথ্য সারণী প্রদান করা হলো:
| ঘটনার প্রধান খাতসমূহ | সুনির্দিষ্ট বিবরণ ও দাপ্তরিক খতিয়ান |
| ঘটনার সুনির্দিষ্ট স্থান | ধানমন্ডি ৩২ নম্বর সড়ক ও বঙ্গবন্ধু ভবন এলাকা, ঢাকা। |
| ঘটনার তারিখ ও সময় | মঙ্গলবার (২৩ জুন ২০২৬), সকাল ঠিক ৯টা। |
| উদ্যোক্তা রাজনৈতিক দল | বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ও অঙ্গসংগঠন। |
| হামলার শিকার মূল পক্ষ | পেশাগত দায়িত্ব পালনরত মাঠপর্যায়ের সংবাদকর্মী ও সাংবাদিক। |
| আক্রান্তদের ওপর দেওয়া তকমা | ‘পতিত ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগের দোসর’। |
| জামায়াত নেতৃত্বের অফিসিয়াল বক্তব্য | দুঃখপ্রকাশ এবং ‘তৃতীয় পক্ষের ইন্ধন’ বলে দাবি। |
| আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর বর্তমান অবস্থা | ধানমন্ডি ৩২ এলাকায় ডিবির কড়া নজরদারি ও সর্বোচ্চ সতর্কতা। |
## মাঠে দেখা মেলেনি নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের: সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে ডিএমপি প্রশাসন
এদিকে, আজ ২৩ জুন আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী হওয়া সত্ত্বেও দলটির সকল কার্যক্রম সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ থাকায় সকাল থেকে ধানমন্ডি ৩২ নম্বর বা ধানমন্ডির লেক পাড়ের কোথাও আওয়ামী লীগ কিংবা যুবলীগের কোনো নেতাকর্মীর ন্যূনতম কর্মসূচি বা কোনো প্রকার ঝটিকা মিছিলের দেখা মেলেনি। তবে যেকোনো ধরণের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি ও আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির মারাত্মক অবনতি এড়াতে ভোর থেকেই পুরো ধানমন্ডি এলাকা নিরাপত্তার চাদরে ঢেকে রেখেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)।
আরও পড়ুন: হাইকোর্টের দেওয়া জামিন স্থগিত: কারাগারেই থাকতে হচ্ছে সাবেক এমপি মমতাজকে
সকালে পরিস্থিতি সশরীরে পর্যবেক্ষণ ও মাঠপর্যায়ের নিরাপত্তা ব্যবস্থা পরিদর্শনে ধানমন্ডি ৩২ নম্বর এলাকায় আসেন ডিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার এস এন নজরুল ইসলাম। তিনি সেখানে উপস্থিত সাংবাদিকদের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার আশ্বাস দিয়ে বলেন,
"রাজধানীর কোনো পয়েন্টেই কোনো নিষিদ্ধ সংগঠনের নামে কোনো প্রকার বিশৃঙ্খলা বা উসকানিমূলক কর্মকাণ্ড করতে দেওয়া হবে না। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও ডিএমপির বিশেষ টিম সর্বোচ্চ সতর্ক ও অ্যালার্ট অবস্থানে রয়েছে। যারা সাংবাদিকদের ওপর হামলা করেছে, তাদের সিসিটিভি ফুটেজ দেখে শনাক্ত করে দ্রুত আইনের আওতায় আনা হবে।"
ধানমন্ডি ৩২ এলাকার পরিস্থিতি বর্তমানে থমথমে থাকলেও সম্পূর্ণ পুলিশের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। রাজধানীর রাজনৈতিক মাঠের খবর, আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির সর্বশেষ আপডেট এবং দেশের প্রতিটি চাঞ্চল্যকর ঘটনার বস্তুনিষ্ঠ ও অনুসন্ধানী প্রতিবেদন সবার আগে প্রফেশনাল ও শতভাগ ইউনিক উপায়ে আপনাদের সামনে নিয়মিত তুলে ধরতে ‘দিগন্ত বাংলা নিউজ’ পোর্টাল সর্বদা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন
আপনার মূল্যবান মতামত আমাদের জানান। কোনো উসকানিমূলক বা অশালীন মন্তব্য করা থেকে বিরত থাকুন।