কিশোরগঞ্জের পাগলা মসজিদে দান সিন্দুকের রেকর্ড: ৬ মাস পর খুলে মিলল ৪৩ বস্তা টাকা

কিশোরগঞ্জের পাগলা মসজিদে দান সিন্দুকের রেকর্ড: ৬ মাস পর খুলে মিলল ৪৩ বস্তা টাকা

জাতীয় ডেস্ক: শামীম হোসাইন / দিগন্ত বাংলা নিউজ

কিশোরগঞ্জের ঐতিহাসিক পাগলা মসজিদের সিন্দুকগুলো দীর্ঘ ৬ মাস পর খোলার পর অলৌকিক ও নজিরবিহীন জনস্রোতের মতো টাকার পাহাড় দেখা গেছে, যা দেশের ইতিহাসে এক বিরল ঘটনা।

কিশোরগঞ্জে আধ্যাত্মিকতার অনন্য নজির: ঐতিহাসিক পাগলা মসজিদের ১৩টি দান সিন্দুক উন্মোচন, গণনা চলছে ৪৩ বস্তা নগদ টাকা, দেশি-বিদেশি মুদ্রা ও বিপুল পরিমাণ স্বর্ণালঙ্কার

বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান ঐতিহাসিক ও আধ্যাত্মিক দর্শনীয় স্থান হিসেবে সুপরিচিত কিশোরগঞ্জের পাগলা মসজিদ। এই অলৌকিক ও ঐতিহ্যবাহী ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের দান সিন্দুক বা বাক্সগুলো খোলার পর প্রতিবারই দেশজুড়ে এক বিপুল চাঞ্চল্য ও কৌতূহলের সৃষ্টি হয়। এবারও তার কোনো ব্যতিক্রম ঘটেনি। দীর্ঘ প্রায় ৬ মাস বা আধা বছর পর আজ শনিবার (২৭ জুন ২০২৬) সকাল বেলা অত্যন্ত কঠোর ও নিচ্ছিদ্র নিরাপত্তা বলয়ের মধ্য দিয়ে মসজিদের সিন্দুকগুলো সর্বসাধারণের সামনে উন্মোচন করা হয়েছে। সিন্দুকগুলো খোলার পর সেখান থেকে এক এক করে বের করে আনা হয়েছে রেকর্ডসংখ্যক ৪৩ বস্তা নগদ টাকা। শুধু নগদ টাকা বা কাগজের নোটই নয়, এই বিশাল দানযজ্ঞের থলিতে জমা পড়েছে বিপুল পরিমাণ দেশি-বিদেশি স্বর্ণ ও রৌপ্যালঙ্কার এবং বিশ্বের বিভিন্ন শক্তিশালী দেশের মূল্যবান বৈদেশিক মুদ্রা।

আজ শনিবার সকাল ঠিক ৭টার সময় প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তাদের প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধানে এই দান বাক্সগুলো খোলার বিশেষ প্রক্রিয়া শুরু হয়। সিন্দুক থেকে লোহা ও কাঠের তৈরি বড় বড় তালা ভেঙে একে একে ৪৩টি বিশাল চটের বস্তায় টাকাগুলো ভর্তি করা হয়। এরপর সুপরিসর পাগলা মসজিদের দোতলার বিশাল মেঝেতে এই বিপুল পরিমাণ অর্থ ঢেলে দেওয়া হলে এক অভূতপূর্ব দৃশ্যের অবতারণা হয়। চারদিকে শুধু টাকার পাহাড় আর তা গণনার জন্য নিয়োজিত শত শত মানুষের ব্যস্ততা। পুরো কিশোরগঞ্জ জেলা শহর জুড়ে এই টাকার পাহাড় দেখার জন্য সাধারণ মানুষের কৌতুহলী চোখ এখন পাগলা মসজিদ কমপ্লেক্সের দিকে নিবদ্ধ।

## প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তাদের উপস্থিতি: স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতায় জেলা প্রশাসনের নজিরবিহীন উদ্যোগ

কিশোরগঞ্জের মানুষের আবেগ, ভালোবাসা ও ধর্মীয় বিশ্বাসের কেন্দ্রবিন্দু এই পাগলা মসজিদের অর্থ ব্যবস্থাপনায় যেন শতভাগ স্বচ্ছতা, সততা ও সঠিক জবাবদিহিতা বজায় থাকে, তার জন্য জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে নেওয়া হয়েছে সর্বোচ্চ প্রফেশনাল ও আধুনিক পদক্ষেপ। শনিবার সকালে যখন এই ঐতিহাসিক দান সিন্দুকগুলো একে একে খোলা হচ্ছিল, তখন সেখানে উপস্থিত থেকে পুরো কার্যক্রমের ওপর কড়া নজরদারি রাখছিলেন কিশোরগঞ্জের সম্মানিত জেলা প্রশাসক (ডিসি) এবং পাগলা মসজিদ পরিচালনা কমিটির সম্মানিত সভাপতি সোহানা নাসরিন

আরও পড়ুন: চাঁদপুরে স্বামীর পরকীয়ার প্রতিবাদ করায় গৃহবধূকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ, প্রেমিকা আটক

তাঁর পাশাপাশি এই বিশাল ও স্পর্শকাতর অর্থ গণনা কার্যক্রমটি সুষ্ঠুভাবে পরিচালনা করার জন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে উপস্থিত ছিলেন কিশোরগঞ্জ জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার নাজমুস সাকিব খান। এছাড়াও এই দান সিন্দুক খোলা ও ব্যবস্থাপনা উপ-কমিটির প্রধান আহ্বায়ক এবং অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. এরশাদুল আহমেদসহ জেলা প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও সংশ্লিষ্ট রাজস্ব কর্মকর্তারা সার্বক্ষণিক উপস্থিত থেকে পুরো প্রক্রিয়াটি নিখুঁতভাবে তদারকি করছেন। প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, প্রতিটি পয়সা গণনার কাজ যেন নির্ভুল হয়, তার জন্য আধুনিক সিসিটিভি ক্যামেরা ও ডিজিটাল কাউন্টিং মনিটরের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।

## একনজরে পাগলা মসজিদের আজকের ঐতিহাসিক দানযজ্ঞের সুনির্দিষ্ট ও প্রফেশনাল খতিয়ান

পাঠকদের সুবিধার্থে এবং কিশোরগঞ্জের পাগলা মসজিদের এই নজিরবিহীন দানবাক্স খোলার মূল প্রশাসনিক, বৈজ্ঞানিক ও জনবল সংক্রান্ত উপাত্তসমূহ নিচে অত্যন্ত সুন্দর ও প্রফেশনাল উপায়ে উপস্থাপন করা হলো:

​🔹 দান সিন্দুকের সুনির্দিষ্ট বিন্যাস: জেলা প্রশাসক সোহানা নাসরিন জানিয়েছেন, ঐতিহাসিক এই মসজিদ ও ইসলামিক কমপ্লেক্সের ভেতরে মোট ১০টি স্থায়ী লোহার সিন্দুক এবং ৩টি অস্থায়ী বিশেষ ট্রাংক দানবাক্স হিসেবে সার্বক্ষণিক ব্যবহৃত হয়ে আসছিল, যার সবগুলোই আজ খোলা হয়েছে।

​🔹 টাকা গণনাকারীদের বিশাল জনবল: এই বিশাল পরিমাণ অর্থ ও সামগ্রী গণনার কাজে সরাসরি অংশ নিয়েছেন জামিয়া ইমদাদিয়া মাদ্রাসার ৩০০ জন শিক্ষার্থী, পাগলা মসজিদ মাদ্রাসার ১০৬ জন শিক্ষার্থী, রূপালী ব্যাংকের ১৩০ জন প্রফেশনাল কর্মকর্তা-কর্মচারী, মসজিদের নিজস্ব ৩৫ জন স্টাফ এবং জেলা প্রশাসনের ১৯ জন কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ সর্বমোট প্রায় সাড়ে পাঁচ শতাধিক মানুষ।

​🔹 নিচ্ছিদ্র নিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী: টাকা গণনাকে কেন্দ্র করে কোনো ধরণের বিশৃঙ্খলা বা অপ্রীতিকর ঘটনা যেন না ঘটে, সেজন্য নিয়োগ করা হয়েছে ১৩ জন বিজ্ঞ নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট, ৪০ জন চৌকস পুলিশ সদস্য, ৮ জন এলিট ফোর্স র‍্যাব (RAB) সদস্য এবং ২০ জন ডেডিকেটেড আনসার সদস্য।

​🔹 অতীতের অর্থনৈতিক খতিয়ান: এর আগে গত বছরের অর্থাৎ ২০২৫ সালের ২৭ ডিসেম্বর, দীর্ঘ ৩ মাস ২৭ দিন পর যখন এই দানবাক্সগুলো খোলা হয়েছিল, তখন সেখান থেকে সর্বমোট ১১ কোটি ৭৮ লাখ ৪৮ হাজার ৫৩৮ টাকা ক্যাশ উদ্ধার করা হয়েছিল।

​🔹 তহবিলের বর্তমান মোট স্থিতি: কিশোরগঞ্জ জেলা প্রশাসনের দেওয়া সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, অতীতের সকল রেকর্ড ভেঙে বর্তমানে পাগলা মসজিদের মূল ব্যাংকিং তহবিলে সর্বমোট জমা অর্থের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১১৪ কোটি ১৩ লাখ ৭ হাজার ৩৫২ টাকা।

​🔹 ডিজিটাল ও অনলাইন অনুদান: আধুনিক যুগের সাথে তাল মেলাতে এবং প্রবাসী ও দূরদূরান্তের মানুষের সুবিধার জন্য চালু করা হয়েছে অফিশিয়াল ওয়েবসাইট (www.paglamosque.org)। এর মাধ্যমে এ পর্যন্ত অনলাইনের মাধ্যমে ২৪ লাখ ৭৬ হাজার ৮৮২ টাকা অনুদান সরাসরি ফান্ডে জমা হয়েছে।

## সর্বজনীন বিশ্বাসের অনন্য প্রতীক: কেন এই মসজিদে ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সবাই দান করেন?

কিশোরগঞ্জ শহরের পাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া ঐতিহাসিক নরসুন্দা নদীর তীরে অবস্থিত এই পাগলা মসজিদের দান প্রাপ্তির ইতিহাস যেকোনো সাধারণ মানুষের চিন্তাভাবনাকে হার মানায়। এই মসজিদে শুধু মুসলিম ধর্মাবলম্বীরাই দান করেন না, বরং হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিষ্টাব্দ বা সনাতন ধর্মসহ বিভিন্ন জাতি, গোষ্ঠী ও বর্ণের মানুষ এখানে এসে মুক্তহস্তে মানত ও দান করে থাকেন। লোকমুখে এবং মানুষের মনে এই সুদৃঢ় বিশ্বাস রয়েছে যে, এই ঐতিহাসিক পাগলা মসজিদে কোনো নিয়ত বা মনের আশা নিয়ে দান করলে মহান সৃষ্টিকর্তা মানুষের মনের নেক মকসুদ ও রোগ-বালাই থেকে মুক্তি দান করেন।

আরও পড়ুন: ফিলিপাইনে ৬.৫ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্প, মিন্দানাও দ্বীপে তীব্র আতঙ্ক

আর এই অন্ধ ও প্রগাঢ় বিশ্বাস থেকেই দেশের ৬৪টি জেলা এবং টেকনাফ থেকে তেঁতুলিয়া পর্যন্ত বিস্তীর্ণ অঞ্চল থেকে প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ এই মসজিদে ছুটে আসেন। তারা শুধু নগদ টাকাই দান করেন না; বরং প্রতিদিনের রুটিন অনুযায়ী জীবন্ত হাঁস-মুরগি, দামি গরু-ছাগল, খাঁটি সোনা ও রূপার গহনা, এমনকি নতুন ফলমূল বা চাল-ডালও মসজিদের নির্দিষ্ট মানত কেন্দ্রে জমা দিয়ে যান। মানুষের এই নিঃস্বার্থ ও পবিত্র দানকে অত্যন্ত সম্মানের সাথে দেখে কিশোরগঞ্জ জেলা প্রশাসন।

## মহৎ কাজে বিশাল তহবিলের ব্যবহার: আন্তর্জাতিক মানের ইসলামিক কমপ্লেক্স নির্মাণ ও মানবকল্যাণ

পাগলা মসজিদের এই বিশাল ব্যাংক ব্যালেন্স বা তহবিলের টাকা কোথায় খরচ করা হয়—এই প্রশ্নটি অনেকের মনেই জাগতে পারে। জেলা প্রশাসক সোহানা নাসরিন এই বিষয়ে অত্যন্ত প্রফেশনাল ও বিস্তারিত তথ্য গণমাধ্যমের সামনে তুলে ধরেছেন। তিনি জানান, এই ফান্ডের একটি বিশাল অংশ ব্যয় করা হয় সম্পূর্ণ মানবকল্যাণ, শিক্ষা এবং ধর্মীয় আধুনিকায়নের পেছনে।

তহবিলের ব্যয়ের মূল খাতসমূহ নিচে বিস্তারিত আলোচনা করা হলো:

পাগলা মসজিদ ও ইসলামিক কমপ্লেক্সের অধীনে পরিচালিত মাদ্রাসার প্রায় ১৩০ জন অত্যন্ত এতিম, অনাথ ও অসহায় শিক্ষার্থীর সম্পূর্ণ লেখাপড়া, জামাকাপড়, চিকিৎসা এবং তিন বেলার উন্নত ভরণপোষণের সম্পূর্ণ ব্যয়ভার এই তহবিল থেকে শতভাগ বহন করা হয়। এছাড়াও মসজিদের বিদ্যুৎ বিল, নানামুখী উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডসহ এখানে কর্মরত ৩৫ জন স্থায়ী কর্মচারী এবং ১০ জন আনসার সদস্যের মাসিক বেতন-ভাতা এখান থেকেই নিয়মিত প্রদান করা হয়। এর পাশাপাশি এই বিশাল ফান্ডের লভ্যাংশ থেকে কিশোরগঞ্জ জেলার প্রত্যন্ত অঞ্চলের দরিদ্র ও অসহায় রোগীদের জটিল চিকিৎসার জন্য বড় অংকের আর্থিক অনুদান বা চিকিৎসা সহায়তা দেওয়া হয়ে থাকে।

সবচেয়ে বড় সুখবর হলো, এই ঐতিহাসিক পাগলা মসজিদকে একটি আন্তর্জাতিক মানের দৃষ্টিনন্দন ও আধুনিক স্থাপত্যশৈলী সমৃদ্ধ ‘পাগলা মসজিদ ও আন্তর্জাতিক ইসলামিক কমপ্লেক্স’ হিসেবে রূপান্তর করার মেগা প্রকল্পটির কাজ বর্তমানে অত্যন্ত দ্রুত গতিতে এগিয়ে চলছে। এই বিশাল ও আধুনিক কমপ্লেক্স এবং কবরস্থানের মধ্যবর্তী এলাকার প্রায় ৫৩ দশমিক ৭৭ শতাংশ জমি ইতিমধ্যেই সম্পূর্ণভাবে মসজিদের নিজস্ব নামে ক্রয় বা অধিগ্রহণ সম্পন্ন করা হয়েছে। বর্তমানে আন্তর্জাতিক মানের স্থপতিদের দ্বারা এর একটি নান্দনিক ও দৃষ্টিনন্দন আর্কিটেকচারাল নকশা (Design) প্রণয়নের কাজ চূড়ান্ত পর্যায়ে চলমান রয়েছে। পাশাপাশি দূরদূরান্ত থেকে আসা হাজার হাজার মুসল্লিদের সুবিধার্থে মসজিদের প্রধান ভবনের বাইরে আধুনিক পাবলিক টয়লেট ও অজুখানা নির্মাণের কাজও সমানতালে এগিয়ে চলছে।

দিনভর চলা এই রেকর্ড পরিমাণ অর্থ গণনার কাজ শেষ হতে আজ গভীর রাত পর্যন্ত সময় লেগে যেতে পারে বলে ধারণা করছেন রূপালী ব্যাংকের কর্মকর্তারা। গণনা শেষে প্রাপ্ত চূড়ান্ত টাকার অঙ্কটি আজ রাতেই আনুষ্ঠানিকভাবে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে দেশবাসীকে জানিয়ে দেওয়া হবে। উদ্ধার হওয়া সোনা, রূপা এবং বিদেশি মুদ্রাগুলো সম্পূর্ণ সিলগালা করে রাষ্ট্রীয় কোষাগার বা জেলা ট্রেজারিতে অত্যন্ত নিরাপদে সংরক্ষণ করা হয়েছে।

কিশোরগঞ্জের ঐতিহাসিক পাগলা মসজিদের লাইভ আপডেট, ৪৩ বস্তা টাকা গণনার সর্বশেষ চূড়ান্ত হিসাবের খবর, জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলের প্রতিটি সত্য ও প্রফেশনাল খতিয়ান কোনো কপিরাইট বা ডুপ্লিকেট কনটেন্ট ইস্যু ছাড়াই সবার আগে শতভাগ ইউনিক উপায়ে নিয়মিত পড়তে আমাদের ‘দিগন্ত বাংলা নিউজ’ পোর্টালের সাথেই থাকুন।

নিউজ সূত্র: কিশোরগঞ্জ জেলা প্রশাসন কন্ট্রোল রুম ও রূপালী ব্যাংক পাগলা মসজিদ শাখা

Post a Comment

আপনার মূল্যবান মতামত আমাদের জানান। কোনো উসকানিমূলক বা অশালীন মন্তব্য করা থেকে বিরত থাকুন।

নবীনতর পূর্বতন