সারাদেশ ডেস্ক: শামীম হোসাইন / দিগন্ত বাংলা নিউজ
পাবনা সদর উপজেলার জোতকাকুরিয়া পদ্মার চরে অবৈধ বালু উত্তোলনকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের পর থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে, মোতায়েন করা হয়েছে অতিরিক্ত পুলিশ।
পদ্মাপাড়ের রক্তক্ষয়ী আধিপত্য বিস্তার: পাবনায় অবৈধ বালু উত্তোলন নিয়ে দুই সিন্ডিকেটের মধ্যে ভয়াবহ বন্দুকযুদ্ধ, গুলিতে ঝাঁঝরা হয়ে বিএনপি কর্মী মঞ্জু শেখের মর্মান্তিক মৃত্যু
পাবনা জেলা প্রতিনিধি: নদীমাতৃক বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান অর্থনৈতিক চালিকাশক্তি ও প্রাকৃতিক সম্পদের ভাণ্ডার হিসেবে পরিচিত পদ্মা নদীকে কেন্দ্র করে আবারও উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে পাবনার চরাঞ্চল। জেলা সদরের সীমান্তবর্তী এলাকায় পদ্মার বুক থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের একচ্ছত্র নিয়ন্ত্রণ এবং চরের আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুই প্রভাবশালী সশস্ত্র সিন্ডিকেটের মধ্যে এক ভয়াবহ ও রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এই নির্মম ও রক্তক্ষয়ী বন্দুকযুদ্ধের ঘটনায় প্রতিপক্ষের ছোঁড়া তপ্ত বুলেটের আঘাতে ঘটনাস্থলেই শরীর ঝাঁঝরা হয়ে নির্মমভাবে প্রাণ হারিয়েছেন মঞ্জু শেখ (৩৫) নামের এক যুবক। নিহত মঞ্জু শেখ স্থানীয় রাজনীতির মাঠে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) একজন সক্রিয় ও একনিষ্ঠ কর্মী ছিলেন বলে জোরালো দাবি করেছে উপজেলা ও ইউনিয়ন বিএনপির শীর্ষস্থানীয় নেতৃবৃন্দ।
আজ শুক্রবার (২৬ জুন ২০২৬) দুপুর আনুমানিক ১টার দিকে পাবনা সদর উপজেলার চরম সহিংসতা প্রবণ এলাকা হিসেবে পরিচিত চরতারাপুর ইউনিয়ন এবং ভাঁড়ারা ইউনিয়নের সীমান্তবর্তী জোতকাকুরিয়া কলাবাগান এলাকার পদ্মার চরে এই লোমহর্ষক হত্যাকাণ্ড ও সংঘর্ষের ঘটনাটি ঘটে। ভরদুপুরে চরের বুকে একযোগে অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র থেকে দফায় দফায় গুলি বর্ষণ ও ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনায় সমগ্র চরাঞ্চল জুড়ে চরম আতঙ্ক ও থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। সাধারণ চরের বাসিন্দারা প্রাণের ভয়ে এদিক-ওদিক ছোটাছুটি শুরু করেন। এই চাঞ্চল্যকর ও নৃশংস হত্যাকাণ্ডের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন পাবনা জেলা পুলিশের অন্যতম শীর্ষ কর্মকর্তা তথা অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রেজিনূর রহমান।
## নিহতের পারিবারিক ও রাজনৈতিক পরিচয়: সুজানগর ও চরতারাপুর বিএনপিতে শোকের ছায়া
পদ্মার চরে নির্মম হত্যাকাণ্ডের শিকার হওয়া মঞ্জু শেখ পাবনা সদর উপজেলার আড়িয়া গোহাইলবাড়ি এলাকার বাসিন্দা এবং অত্যন্ত সুপরিচিত স্থানীয় ব্যক্তিত্ব দারোগ শেখের ছেলে। মঞ্জু শেখের এই অকাল ও নৃশংস মৃত্যুর খবর তাঁর গ্রামের বাড়ি আড়িয়া গোহাইলবাড়িতে পৌঁছামাত্রই পরিবার ও আত্মীয়-স্বজনদের মাঝে এক হৃদয়বিদারক দৃশ্যের অবতারণা হয়। চরের রাজনীতি এবং ক্ষমতার দ্বন্দ্বে একজন তরতাজা যুবকের এমন অবসান কোনোভাবেই মেনে নিতে পারছেন না স্থানীয় সাধারণ মানুষ।
আরও পড়ুন: নতুন প্রযুক্তির ক্ষেপণাস্ত্র ও রকেট লঞ্চারের সফল পরীক্ষা চালাল উত্তর কোরিয়া
পাবনা জেলা ও উপজেলা রাজনৈতিক অঙ্গন সূত্রে জানা গেছে, নিহত মঞ্জু শেখ অত্যন্ত প্রভাবশালী ও ঐতিহ্যবাহী এক রাজনৈতিক পরিবারের সন্তান ছিলেন। তিনি পাবনা জেলার সুজানগর উপজেলা বিএনপির বর্তমান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতা তথা সদস্য সচিব শেখ আব্দুর রউফ এবং পাবনা সদর উপজেলার চরতারাপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সফল সভাপতি শেখ রহমত আলীর আপন ভাতিজা। এই দুই শীর্ষ নেতার আপন ভাতিজা হওয়ার কারণে মঞ্জু শেখ নিজেও স্থানীয় যুবসমাজকে সংগঠিত করে দীর্ঘদিন ধরে বিএনপির সাংগঠনিক কর্মসূচিতে অত্যন্ত সক্রিয় ভূমিকা পালন করে আসছিলেন। তাঁর এই নির্মম মৃত্যুতে সুজানগর ও চরতারাপুর থানা বিএনপি এবং এর অঙ্গসংগঠনের নেতা-কর্মীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ, গভীর শোক ও ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে।
## ঘটনার নেপথ্য কারণ: বৃহস্পতিবারের চাপা উত্তেজনা ও শুক্রবারের রক্তক্ষয়ী বন্দুকযুদ্ধ
প্রত্যক্ষদর্শী, চরের কৃষক এবং স্থানীয় সুশীল সমাজ সূত্রে এই ঘটনার সুদীর্ঘ ও পুঙ্খানুপুঙ্খ পটভূমি জানা গেছে। পাবনা সদর উপজেলার চরতারাপুর এবং ভাঁড়ারা ইউনিয়নের এই সীমান্তবর্তী জোতকাকুড়িয়া কলাবাগান এলাকার পদ্মার চরটি দীর্ঘদিন ধরেই ভূ-প্রকৃতিগত কারণে এবং অবৈধ বালু উত্তোলনের জন্য একটি অতি লোভনীয় পয়েন্ট হিসেবে চিহ্নিত। এই চরের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের কব্জায় রাখতে স্থানীয় দুই অঞ্চলের দুটি শক্তিশালী সশস্ত্র গ্রুপ বা সিন্ডিকেটের মধ্যে গত বেশ কয়েক মাস ধরেই ভেতরে ভেতরে চরম কোন্দল এবং আধিপত্য বিস্তারের সুগভীর বিরোধ চলে আসছিল। প্রশাসনকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে পদ্মার বুক থেকে প্রতিদিন লাখ লাখ টাকার বালু অবৈধ ড্রেজার দিয়ে কেটে বিক্রি করার নিয়ন্ত্রণই ছিল এই দীর্ঘস্থায়ী ঝামেলার মূল উৎস।
এরই ধারাবাহিকতায়, গত গতকাল বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) সকালেও উক্ত চরের বালুঘাট দখল এবং বালু তোলাকে কেন্দ্র করে উভয় পক্ষের লোকজনের মধ্যে চরম উত্তেজনা সৃষ্টি হয় এবং দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে মহড়া দেওয়া হয়। তবে গতকাল বড় কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটলেও আজ শুক্রবার সকাল থেকেই পরিস্থিতি সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। আজ সকালে দুই গ্রুপের একদল সশস্ত্র ক্যাডার ও লাঠিয়াল বাহিনী চরের নির্দিষ্ট পয়েন্টে বালু মজুদ আছে কিনা এবং ড্রেজার বসানোর জায়গা ঠিক করতে নদীর চরে গিয়ে অবস্থান নেয়। সেখানে উভয় পক্ষের মুখোমুখি অবস্থান একপর্যায়ে বাকবিতণ্ডা থেকে শুরু করে ভয়াবহ ইটপাটকেল নিক্ষেপ, দেশীয় ধারালো অস্ত্রের মহড়া এবং সবশেষে লঙ্কাকাণ্ডে রূপ নেয়।
আরও পড়ুন: সিন্ধু নদ জলচুক্তি স্থগিত: ভারতের বিরুদ্ধে যুদ্ধের হুঁশিয়ারি পাকিস্তানের
উভয় পক্ষই নিজেদের কাছে থাকা অবৈধ পিস্তল, শটগান এবং ওয়ান শুটার গান নিয়ে একে অপরকে লক্ষ্য করে নির্বিচারে গুলি বর্ষণ শুরু করে। চরের শান্ত পরিবেশ মুহূর্তের মধ্যেই যেন এক যুদ্ধক্ষেত্রে পরিণত হয়। এই ত্রিমুখী ও দ্বিমুখী গোলাগুলির ঠিক মাঝখানে পড়ে যান বিএনপি কর্মী মঞ্জু শেখ। প্রতিপক্ষের ছোঁড়া একটি মারাত্মক বুলেট সরাসরি তাঁর বুক ও শরীর ভেদ করে চলে যায়। এর ফলে কোনো প্রকার চিকিৎসার সুযোগ পাওয়ার আগেই ঘটনাস্থলেই অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের কারণে ছটফট করতে করতে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন মঞ্জু শেখ। মঞ্জুর পতনের পর তাঁর পক্ষের লোকজনের মধ্যে চরম ভাঙন ধরে এবং প্রতিপক্ষ গ্রুপটি চরের বুকে নিজেদের আধিপত্য বজায় রেখে বীরদর্পে অস্ত্র উঁচিয়ে চম্পট দেয়। এরপর দুপুরের দিকে স্থানীয় চরের সাহসী কৃষকরা সাহস করে এগিয়ে গিয়ে পুলিশ প্রশাসনকে খবর দেয়।
## ‘আমার ভাতিজারা বালু তুলতে বাধা দিতে গেলে গুলি করে’: সুজানগর উপজেলা বিএনপি’র সদস্য সচিব
হত্যাকাণ্ডের সুনির্দিষ্ট অভিযোগ ও ক্ষোভ প্রকাশ করে নিহতের আপন চাচা এবং সুজানগর উপজেলা বিএনপির বর্তমান সদস্য সচিব শেখ আব্দুর রউফ গণমাধ্যমকে বলেন, "চরতারাপুর ও ভাঁড়ারা এলাকার কিছু চিহ্নিত ভূমিদস্যু, নদীখেকো ও বালু সন্ত্রাসী সিন্ডিকেটের লোকজন সম্পূর্ণ অবৈধ ও অনৈতিক উপায়ে আমাদের পৈতৃক সীমানা এবং পদ্মার সংরক্ষিত চর থেকে ড্রেজার বসিয়ে বালু উত্তোলনের চেষ্টা করছিল। এই বেআইনি কাজের কারণে চরের আবাদি জমি ও পরিবেশ চরম হুমকির মুখে পড়ছিল। শুক্রবার দুপুরে আমার ভাতিজা মঞ্জু শেখসহ স্থানীয় সাধারণ চরের মানুষেরা এই অবৈধ বালু তুলতে বাধা প্রদান করতে যায়। তারা যখন শান্তভাবে এই বেআইনি বালু উত্তোলনের প্রতিবাদ করছিল, ঠিক তখনই বালু খেকো ওই সন্ত্রাসী বাহিনী পূর্ব পরিকল্পিতভাবে আধুনিক আগ্নেয়াস্ত্র বের করে আমার ভাতিজাদের ওপর নির্বিচারে ব্রাশফায়ার ও গুলি বর্ষণ করে। এতে আমার নিষ্পাপ ভাতিজা মঞ্জু শেখ ঘটনাস্থলেই বুলেটের আঘাতে মারা গেছে। আমি এই পরিকল্পিত ও নৃশংস রাজনৈতিক এবং অর্থনৈতিক হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িত প্রতিটি খুনি ও বালু মাফিয়ার দ্রুত গ্রেফতার এবং সর্বোচ্চ শাস্তির জোর দাবি জানাচ্ছি।"
## একনজরে পাবনার পদ্মার চরে সংঘর্ষ ও হত্যাকাণ্ডের মূল বিবরণ ও প্রশাসনিক খতিয়ান
পাঠকদের সুবিধার্থে এবং পাবনা সদরের চরাঞ্চলে ঘটে যাওয়া এই ভয়াবহ সংঘর্ষ, রাজনৈতিক পরিচয় এবং পুলিশের পদক্ষেপসমূহ একনজরে সহজে অনুধাবন করার জন্য নিচে একটি প্রফেশনাল ও আধুনিক তথ্য সারণী প্রদান করা হলো:
| হত্যাকাণ্ডের মূল সূচক ও তথ্যসমূহ | ঘটনার সুনির্দিষ্ট বিবরণ ও প্রাতিষ্ঠানিক আপডেট খতিয়ান |
| ১. নিহত ব্যক্তির নাম ও বয়স | মঞ্জু শেখ, বয়স আনুমানিক ৩৫ বছর। |
| ২. নিহত ব্যক্তির পারিবারিক পরিচয় | পাবনা সদর উপজেলার আড়িয়া গোহাইলবাড়ি এলাকার দারোগ শেখের সন্তান। |
| ৩. রাজনৈতিক দল ও পদবি | বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) একজন সক্রিয় ও মাঠ পর্যায়ের কর্মী। |
| ৪. পারিবারিক রাজনৈতিক ব্যাকগ্রাউন্ড | সুজানগর উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব শেখ আব্দুর রউফ এবং চরতারাপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি শেখ রহমত আলীর আপন ভাতিজা। |
| ৫. ঘটনার সুনির্দিষ্ট তারিখ ও সময় | ২৬ জুন ২০২৬ (শুক্রবার), দুপুর আনুমানিক ১:০০ টার দিকে। |
| ৬. সংঘর্ষের মূল ভৌগোলিক স্থান | সদর উপজেলার চরতারাপুর ও ভাঁড়ারা ইউনিয়নের সীমান্তবর্তী জোতকাকুরিয়া কলাবাগান পদ্মার চর এলাকা। |
| ৭. রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের মূল কারণ | পদ্মা নদী থেকে বেআইনি ও অবৈধভাবে বালু উত্তোলন ও ঘাটের আধিপত্য বিস্তার। |
| ৮. আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অ্যাকশন | অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন, লাশ উদ্ধার এবং হত্যার প্রকৃত কারণ উদঘাটনে বিশেষ তদন্ত শুরু। |
## পুলিশ প্রশাসনের তৎপরতা: মরদেহ উদ্ধার ও পাবনা জেনারেল হাসপাতাল মর্গে প্রেরণ
চরাঞ্চলে এই রক্তক্ষয়ী বন্দুকযুদ্ধ এবং রাজনৈতিক কর্মী নিহতের ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর পরই পাবনা জেলা পুলিশের উচ্চপর্যায়ের একদল চৌকস ফোর্স ও ডিবি পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলের উদ্দেশ্যে রওনা দেয়। ভৌগোলিক দুর্গমতার কারণে চরের নির্দিষ্ট পয়েন্টে পৌঁছাতে পুলিশের কিছুটা বেগ পেতে হলেও, পরবর্তীতে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রেজিনূর রহমানের সরাসরি নির্দেশনায় পুলিশ দল জোতকাকুরিয়া কলাবাগান পদ্মার চরে প্রবেশ করে পরিস্থিতি সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে নেয়। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে নিহত মঞ্জু শেখের রক্তাক্ত ও বুলেটবিদ্ধ মরদেহটি উদ্ধার করে সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে।
আরও পড়ুন: একটাও সামনে আইবি না, একদম মাই"রা ফেলামু’: গাজীপুরে তোলপাড়
পাবনার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রেজিনূর রহমান সার্বিক পরিস্থিতির বিষয়ে সাংবাদিকদের ব্রিফিং করতে গিয়ে বলেন:
"পদ্মা নদীর চরাঞ্চলে বালু উত্তোলন এবং ঘাটের নিয়ন্ত্রণ নেওয়াকে কেন্দ্র করে দুটি স্থানীয় পক্ষের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। আজ দুপুরে সেই বিরোধের জের ধরে উভয়পক্ষের মধ্যে ব্যাপক সংঘর্ষ ও গোলাগুলির ঘটনা ঘটে, যার ফলশ্রুতিতে মঞ্জু শেখ নামের এক যুবক গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যান। খবর পাওয়ার পরপরই আমরা সেখানে ভারী পুলিশ ফোর্স পাঠিয়েছি যাতে নতুন করে কোনো সংঘাত না ঘটে। আমরা ইতিমধ্যে নিহতের লাশ উদ্ধার করেছি এবং ময়না তদন্তের জন্য মরদেহটি পাবনা জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠানোর প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হচ্ছে। এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের আসল কারণ পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে উদঘাটন করতে এবং ঘটনার সাথে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে জড়িত আসামিদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনতে জেলা পুলিশ ও গোয়েন্দা শাখা (DB) যৌথভাবে কাজ শুরু করেছে। চরাঞ্চলে বর্তমানে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে এবং পরিস্থিতি সম্পূর্ণ শান্ত রয়েছে।"
## স্থানীয় জনগণের ক্ষোভ ও চরাঞ্চলের ভবিষ্যৎ আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি
পাবনা সদরের এই চরতারাপুর ও ভাঁড়ারা ইউনিয়ন দুটি বরাবরই পাবনা জেলার অন্যতম রাজনৈতিক ও সামাজিক সংঘাতপ্রবণ অঞ্চল হিসেবে কুখ্যাত। বিগত দিনগুলোতেও চরের জমি ও বালুঘাট দখলকে কেন্দ্র করে এখানে একাধিক খুনের ঘটনা ঘটেছে। স্থানীয় সাধারণ কৃষকদের অভিযোগ, নদী থেকে অবৈধ বালু উত্তোলনের মাধ্যমে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়া এই মাফিয়া চক্রগুলোর কাছে সাধারণ মানুষের জানমালের কোনো মূল্য নেই। প্রতিবারই কোনো না কোনো তরতাজা প্রাণ ঝরে যাওয়ার পর প্রশাসন কিছুদিন কঠোর থাকে, কিন্তু কিছুদিন পর আবারো আড়ালে শুরু হয় বালু কাটার উৎসব। স্থানীয় বাসিন্দারা অবিলম্বে পদ্মার চরে স্থায়ী পুলিশ ক্যাম্প স্থাপন করার এবং অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার অভিযান জোরদার করার জন্য সরকারের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রতি জোর আহ্বান জানিয়েছেন।
পাবনা জেলার আনাচে-কানাচে ঘটে যাওয়া প্রতিটি রাজনৈতিক সংঘাতের লাইভ আপডেট, চরাঞ্চলের অপরাধ জগতের ভেতরের খবর, আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির সর্বশেষ প্রশাসনিক অগ্রগতি এবং দেশের প্রতিটি প্রান্তের শতভাগ প্রফেশনাল ও ইউনিক নিউজ সবার আগে পেতে ‘দিগন্ত বাংলা নিউজ’ পোর্টালের সাথে থাকুন।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন
আপনার মূল্যবান মতামত আমাদের জানান। কোনো উসকানিমূলক বা অশালীন মন্তব্য করা থেকে বিরত থাকুন।