আন্তর্জাতিক ডেস্ক: শামীম হোসাইন / দিগন্ত বাংলা নিউজ
উত্তর কোরিয়ার সর্বোচ্চ নেতা কিম জং উনের স্বশরীরে উপস্থিতিতে দেশটির সামরিক বাহিনী একযোগে নতুন প্রজন্মের রকেট ও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের সফল মহড়া সম্পন্ন করেছে।
পিয়ংইয়ংয়ের নতুন সামরিক চমক: আধুনিক রকেট আর্টিলারি ও নিখুঁত ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থার সফল পরীক্ষা সম্পন্ন, রণকৌশল বদলানোর হুঁশিয়ারি কিম জং উনের
পূর্ব এশিয়ার ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা ও সামরিক শক্তির ভারসাম্যকে সম্পূর্ণ নতুন এক মাত্রায় নিয়ে গেল উত্তর কোরিয়া। সমস্ত আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা ও পশ্চিমা বিশ্বের চোখ রাঙানিকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে দেশটি একযোগে তাদের সর্বাধুনিক রকেট আর্টিলারি ব্যবস্থা এবং নতুন প্রজন্মের কৌশলগত ক্ষেপণাস্ত্রের সফল ও নিখুঁত পরীক্ষা সম্পন্ন করেছে। পিয়ংইয়ংয়ের এই আকস্মিক ও শক্তিশালী সামরিক পরীক্ষা কোরিয় উপদ্বীপসহ সমগ্র আন্তর্জাতিক মহলে নতুন করে উদ্বেগের কাঁপন ধরিয়ে দিয়েছে। উত্তর কোরিয়ার স্বকীয় ও অত্যন্ত শক্তিশালী সামরিক উইংয়ের এই মহড়াটি কেবল প্রথাগত কোনো অস্ত্রের পরীক্ষা ছিল না, বরং এটি ছিল তাদের নিখুঁত আঘাত হানার প্রযুক্তির এক বিশাল প্রদর্শনী। বরাবরের মতোই দেশটির সুপ্রিম লিডার বা সর্বোচ্চ নেতা কিম জং উন নিজে রণক্ষেত্রে উপস্থিত থেকে এই হাই-প্রোফাইল সামরিক পরীক্ষার সরাসরি তদারকি ও কমান্ড পরিচালনা করেন। পরীক্ষা শেষে সন্তুষ্টি প্রকাশ করে তিনি তাঁর দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় সামরিক সক্ষমতাকে কল্পনাতীত পর্যায়ে জোরদার করার অনড় অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছেন।
আজ শুক্রবার (২৬ জুন ২০২৬) উত্তর কোরিয়ার অত্যন্ত প্রভাবশালী ও রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা কোরিয়ান সেন্ট্রাল নিউজ এজেন্সি বা কেসিএনএ (KCNA) তাদের বিশেষ সামরিক বুলেটিনে এই চাঞ্চল্যকর তথ্যটি বিশ্ববাসীর সামনে প্রকাশ করে। কেসিএনএ-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) উত্তর কোরিয়ার একটি অত্যন্ত গোপন ও কৌশলগত সামরিক পরীক্ষাকেন্দ্রে কিম জং উনের উপস্থিতিতে এই অত্যাধুনিক অস্ত্রগুলোর পরীক্ষা চালানো হয়। এই পরীক্ষাটি মূলত পিয়ংইয়ংয়ের দীর্ঘমেয়াদি প্রতিরক্ষামূলক আধুনিকায়ন পরিকল্পনারই একটি অংশ, যা তাদের সম্ভাব্য প্রতিপক্ষ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও দক্ষিণ কোরিয়াকে এক শক্ত বার্তা প্রদান করল।
## ৫ বছর মেয়াদি প্রতিরক্ষা আধুনিকায়ন পরিকল্পনা: পিয়ংইয়ংয়ের মূল লক্ষ্য ও রণকৌশল
আন্তর্জাতিক সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, উত্তর কোরিয়া বর্তমানে তাদের পূর্ব নির্ধারিত ৫ বছর মেয়াদি প্রতিরক্ষা আধুনিকায়ন পরিকল্পনা (5-Year Defense Modernization Plan)-এর চূড়ান্ত ধাপে রয়েছে। এই মহাপরিকল্পনার মূল উদ্দেশ্য হলো—প্রথাগত বা পুরোনো আমলের সামরিক সরঞ্জামগুলোকে সম্পূর্ণ আধুনিক, কম্পিউটার নিয়ন্ত্রিত এবং দূরপাল্লার মারণাস্ত্রে রূপান্তর করা। কিম জং উনের ওয়ার্কার্স পার্টি এই পরিকল্পনার অধীনে প্রতি বছরই নতুন নতুন প্রযুক্তির উদ্ভাবন করছে।
বৃহস্পতিবারের এই বিশেষ পরীক্ষায় মূলত তিনটি প্রধান সামরিক সমরাস্ত্রের কার্যকারিতা, আঘাতের নিখুঁততা এবং ধ্বংসক্ষমতা অত্যন্ত নিখুঁতভাবে যাচাই করা হয়েছে। এই সমরাস্ত্রগুলো হলো:
আরও পড়ুন: হরমুজ প্রণালিতে টোল চালুর মেগা প্ল্যান ইরানের, পাশে চীন; বেঁকে বসেছে ট্রাম্প প্রশাসন
উন্নত ২৪০ মিলিমিটারের ২৪-নলবিশিষ্ট মাল্টিপল রকেট লঞ্চার (MRL)
বিশেষ ধরনের শক্তিশালী ওয়ারহেডযুক্ত ট্যাকটিক্যাল ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র
১৫৫ মিলিমিটারের স্বয়ংচালিত হাউইটজারের জন্য তৈরি নতুন প্রযুক্তির দীর্ঘপাল্লার গোলাবারুদ
এই তিনটি ভিন্ন ক্যাটাগরির অস্ত্রের পরীক্ষা একসাথে করার মাধ্যমে উত্তর কোরিয়া প্রমাণ করেছে যে, তারা যেকোনো ধরণের স্থল ও আকাশভিত্তিক যুদ্ধে প্রতিপক্ষকে একযোগে একাধিক ফ্রন্ট থেকে কোণঠাসা করার প্রযুক্তিগত সক্ষমতা অর্জন করে ফেলেছে।
## ২৪০ মিমি রকেট লঞ্চার থেকে ১৫৫ মিমি হাউইটজার: পাল্লা ও প্রযুক্তির অভাবনীয় উন্নয়ন
কেসিএনএ তাদের প্রতিবেদনে উত্তর কোরিয়ার এই নতুন সামরিক প্রযুক্তির বেশ কিছু চাঞ্চল্যকর ও প্রফেশনাল কারিগরি দিক উন্মোচন করেছে। সামরিক বিশেষজ্ঞদের চমকে দিয়ে তারা জানায়, উত্তর কোরিয়ার আধুনিকায়ন করা ২৪০ মিলিমিটারের ২৪-নলবিশিষ্ট মাল্টিপল রকেট লঞ্চারটির (MRLS) কার্যক্ষমতা ও পাল্লা আগের চেয়ে বহুগুণ বৃদ্ধি করা হয়েছে। নতুন সংস্করণের এই দানবীয় রকেট লঞ্চারটির কার্যকর আঘাত হানার রেঞ্জ বা পাল্লা এখন ৯০ কিলোমিটারে গিয়ে পৌঁছেছে। শুধু পাল্লা বাড়ানোই নয়, এই রকেট সিস্টেমে সম্পূর্ণ নতুনভাবে যুক্ত করা হয়েছে স্বয়ংক্রিয় ফায়ার কন্ট্রোল বা অটোমেটিক গাইডেড সিস্টেম এবং অত্যন্ত নিখুঁতভাবে লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানার জিপিএস প্রযুক্তি। এর ফলে, এই রকেটগুলো উৎক্ষেপণের পর মাঝ আকাশেই নিজেদের গতিপথ আংশিক পরিবর্তন করে শত্রুর রাডারকে ফাঁকি দিয়ে সুনির্দিষ্ট বাঙ্কারে আঘাত হানতে সক্ষম।
অন্যদিকে, পরীক্ষা করা ১৫৫ মিলিমিটারের স্বয়ংচালিত হাউইটজার গোলার সক্ষমতাও আন্তর্জাতিক সামরিক মানদণ্ডকে ছাড়িয়ে গেছে। উত্তর কোরিয়ার নিজস্ব প্রযুক্তিতে তৈরি এই নতুন কামানের গোলার কার্যকর পাল্লা বৃদ্ধি করে ৬৫ কিলোমিটার করা হয়েছে। এই দীর্ঘ দূরত্বে সাধারণ কামানের গোলা এত নিখুঁতভাবে আঘাত হানার নজির সামরিক ইতিহাসে বেশ বিরল। এর মাধ্যমে উত্তর কোরিয়ার সীমান্ত আর্টিলারি বাহিনী এখন অনেক দূর থেকেই দক্ষিণ কোরিয়ার ভেতরের সামরিক ঘাঁটিগুলোকে সরাসরি টার্গেট করার সক্ষমতা অর্জন করল।
## কৌশলগত স্থাপনা ধ্বংসের ব্লু-প্রিন্ট: বিশেষ ওয়ারহেডযুক্ত ট্যাকটিক্যাল ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র
মঙ্গলবারের এই সামরিক পরীক্ষার সবচেয়ে আকর্ষণীয় এবং বিপজ্জনক অংশটি ছিল একটি বিশেষ ও আধুনিক ট্যাকটিক্যাল ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের (Tactical Ballistic Missile) সফল উৎক্ষেপণ। এই ক্ষেপণাস্ত্রটির সম্মুখভাগে একটি সম্পূর্ণ নতুন প্রযুক্তির এবং অত্যন্ত শক্তিশালী বিশেষ ওয়ারহেড (Special Warhead) যুক্ত করা হয়েছে। পিয়ংইয়ংয়ের সামরিক বিজ্ঞানীদের দাবি, এই ক্ষেপণাস্ত্রটি সাধারণ কোনো লক্ষ্যবস্তুর জন্য তৈরি করা হয়নি; এটি মূলত শত্রুপক্ষের অত্যন্ত সংবেদনশীল এবং উচ্চ-মূল্যের কৌশলগত স্থাপনাগুলোকে এক নিমেষেই ধূলিসাৎ করে দেওয়ার জন্য ডিজাইন করা হয়েছে।
আরও পড়ুন: নৌবাহিনীকে পারমাণবিক অস্ত্রে সাজানোর ঘোষণা কিম জং উনের
উত্তর কোরিয়ার সামরিক কমান্ড স্পষ্ট করেছে যে, এই বিশেষ ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রটির প্রাথমিক লক্ষ্যবস্তু হবে প্রতিপক্ষের:
কৌশলগত বিমানঘাঁটি ও ফাইটার জেট হাঙ্গার (Airbases)
আন্তর্জাতিক ও সামরিক সমুদ্র বন্দরসমূহ (Ports)
জাতীয় বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র ও গ্রিড লাইন (Power Plants)
ক্ষেপণাস্ত্রটির নিখুঁত নেভিগেশন সিস্টেমের কারণে এটি শত্রুর আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে সম্পূর্ণ ফাঁকি দিয়ে সুনির্দিষ্ট ভবনের ওপর আঘাত হানতে পারে। যুদ্ধকালীন পরিস্থিতিতে শত্রুর সরবরাহ ব্যবস্থা এবং যোগাযোগ কাঠামোকে প্রথম আঘাতেই অচল করে দেওয়ার রণকৌশল থেকেই এই ক্ষেপণাস্ত্রটি তৈরি করা হয়েছে।
## একনজরে উত্তর কোরিয়ার নতুন সমরাস্ত্রের কারিগরি ও রণকৌশলগত বিবরণ
পাঠকদের সুবিধার্থে এবং কিম জং উনের উপস্থিতিতে পরীক্ষিত নতুন প্রযুক্তির অস্ত্রসমূহের কার্যক্ষমতা সহজে অনুধাবন করার জন্য নিচে একটি বিশেষ আধুনিক তথ্য সারণী প্রদান করা হলো:
| পরীক্ষিত সামরিক সমরাস্ত্রের নাম | উন্নত প্রযুক্তির সুনির্দিষ্ট বিবরণ ও কার্যকর রেঞ্জ (Range) | কৌশলগত মূল সামরিক লক্ষ্যবস্তু |
| ২৪০ মিমি ২৪-নলবিশিষ্ট রকেট লঞ্চার | ৯০ কিমি পাল্লা, স্বয়ংক্রিয় ফায়ার কন্ট্রোল ও নিখুঁত গাইডেড সিস্টেম। | শত্রুর ফ্রন্টলাইন ডিফেন্স এবং সেনা সমাবেশ ধ্বংসকরণ। |
| বিশেষ ওয়ারহেডযুক্ত ট্যাকটিক্যাল ক্ষেপণাস্ত্র | অত্যাধুনিক রাডার-ফাঁকি দেওয়া বিশেষ প্রযুক্তির শক্তিশালী ওয়ারহেড। | বিমানঘাঁটি, প্রধান সমুদ্র বন্দর এবং বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র। |
| ১৫৫ মিমি স্বয়ংচালিত হাউইটজার গোলা | ৬৫ কিমি বর্ধিত পাল্লা, দূরপাল্লার আর্টিলারি সাপোর্টের সক্ষমতা। | দূরবর্তী শত্রু ঘাঁটি ও বাঙ্কার বা প্রতিরক্ষামূলক প্রাচীর। |
| সার্বিক সামরিক প্রজেক্টের ভিশন | ৫ বছর মেয়াদি জাতীয় প্রতিরক্ষা আধুনিকায়ন পরিকল্পনার অংশ। | দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষা ও আগ্রাসী প্রতিরোধ ক্ষমতা তৈরি। |
## ‘শক্তিতে পূর্ণ আধিপত্যই সার্বভৌমত্বের চাবিকাঠি’: কিম জং উনের ঐতিহাসিক উক্তি
নামপো বা আশেপাশের সামরিক পরীক্ষাগারে এই অভূতপূর্ব অস্ত্র পরীক্ষার সফল সমাপ্তির পর, উত্তর কোরিয়ার বীর সামরিক বিজ্ঞানী ও প্রকৌশলীদের উষ্ণ অভিনন্দন জানান সর্বোচ্চ নেতা কিম জং উন। তিনি অত্যন্ত গর্বের সাথে উল্লেখ করেন যে, এই পরীক্ষাগুলো শাসক দল অর্থাৎ ওয়ার্কার্স পার্টির (Workers' Party of Korea) সামরিক আধুনিকায়ন নীতির অধীনে দেশের প্রতিরক্ষা খাতের এক ‘বিশাল ও ঐতিহাসিক প্রযুক্তিগত অগ্রগতির বাস্তব প্রমাণ’।
বর্তমান অস্থিতিশীল ও জটিল আন্তর্জাতিক ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতির কথা উল্লেখ করে কিম জং উন তাঁর ভাষণে বিশ্ববাসীকে উদ্দেশ্য করে অত্যন্ত কঠোর ও দ্ব্যর্থহীন ভাষায় বলেন:
"বর্তমান বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে কেবল মিষ্টি কথায় বা আন্তর্জাতিক আইনের দোহাই দিয়ে কোনো দেশের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব নয়। আজ যদি নিজের দেশের সার্বভৌমত্ব, অখণ্ডতা এবং রাষ্ট্রের অস্তিত্বকে চিরতরে টিকিয়ে রাখতে হয়, তবে সামরিক শক্তিতে শত্রুর ওপর আমাদের পূর্ণ ও নিরঙ্কুশ আধিপত্য (Absolute Supremacy) থাকতে হবে। শক্তিহীন দেশের কোনো মর্যাদা নেই। আর সেই কারণেই, আমাদের জাতীয় কৌশলের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার হলো দিন দিন এই প্রতিরক্ষা সক্ষমতাকে আরও শক্তিশালী এবং অপ্রতিরোধ্য করে গড়ে তোলা।"
কিমের এই বক্তব্য স্পষ্ট করে দেয় যে, উত্তর কোরিয়া বিশ্বশক্তির সাথে কোনো ধরণের আপস বা নিরস্ত্রীকরণের আলোচনায় বসতে বিন্দুমাত্র আগ্রহী নয়, বরং তারা নিজেদের শক্তির জোরেই বিশ্বমঞ্চে টিকে থাকার নীতিতে বিশ্বাসী।
## প্রতিরক্ষামূলক অবস্থান থেকে ‘প্রাণঘাতী আক্রমণাত্মক’ কৌশলে রূপান্তর পিয়ংইয়ংয়ের
সংবাদ সম্মেলনের শেষ অংশে কেসিএনএ কিম জং উনের সামরিক দর্শনের এক নতুন ও বিপজ্জনক মোড় উন্মোচন করেছে। কিম জং উন স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দিয়েছেন যে, পিয়ংইয়ংয়ের বর্তমান সামরিক নীতি কেবল নিজেদের সীমানা পাহারা দেওয়া বা প্রতিরক্ষামূলক সক্ষমতা বৃদ্ধির মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। বরং যেকোনো সম্ভাব্য বৈরী প্রতিপক্ষ বা শত্রুপক্ষকে আক্রমণ করার চিন্তা থেকে চিরতরে নিবৃত্ত (Deter) করতে উত্তর কোরিয়া এখন অত্যন্ত ‘প্রাণঘাতী ও ধ্বংসাত্মক আক্রমণাত্মক সক্ষমতা’ (Lethal and Destructive Offensive Capabilities) গড়ে তোলার দিকে পূর্ণ মনোযোগ দিয়েছে। অর্থাৎ, শত্রুপক্ষ যদি উত্তর কোরিয়ার ওপর কোনো ধরণের হামলার পরিকল্পনাও করে, তবে পিয়ংইয়ং তার আগেই শত্রুর ওপর এমন এক প্রাণঘাতী পাল্টা আঘাত হানবে যা শত্রুকে সম্পূর্ণ ধ্বংস করে দেবে।
কিম জং উন অত্যন্ত আত্মবিশ্বাসের সাথে দাবি করেন যে, উত্তর কোরিয়ার সশস্ত্র বাহিনীর বর্তমান দূরপাল্লার হামলার সক্ষমতা ও পুরোনো সমরাস্ত্রগুলোকে খুব অল্প সময়ের মধ্যেই এই ধরণের নতুন ও সর্বাধুনিক প্রযুক্তির মারণাস্ত্র দিয়ে সম্পূর্ণ প্রতিস্থাপন (Replace) করা হবে। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, এই প্রতিস্থাপন প্রক্রিয়া এতটাই দ্রুত এবং বড় আকারে করা হবে যে, তাদের সম্ভাব্য প্রতিপক্ষরা এই শক্তির বিশাল ও গুণগত পরিবর্তন খুব স্পষ্টভাবেই টের পাবে এবং উত্তর কোরিয়ার দিকে চোখ তুলে তাকানোর আগে দশবার ভাবতে বাধ্য হবে।
বিশ্বের সামরিক পরাশক্তিগুলোর নতুন অস্ত্র প্রতিযোগিতা, উত্তর কোরিয়ার পারমাণবিক ও ক্ষেপণাস্ত্র মিশনের গোপন খবর এবং আন্তর্জাতিক ডিফেন্সের প্রতিটি নির্ভরযোগ্য ও প্রফেশনাল খবরাখবর সবার আগে শতভাগ ইউনিক উপায়ে আপনাদের সামনে নিয়মিত তুলে ধরতে ‘দিগন্ত বাংলা নিউজ’ পোর্টাল সর্বদা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন
আপনার মূল্যবান মতামত আমাদের জানান। কোনো উসকানিমূলক বা অশালীন মন্তব্য করা থেকে বিরত থাকুন।