হরমুজ প্রণালিতে টোল চালুর মেগা প্ল্যান ইরানের, পাশে চীন; বেঁকে বসেছে ট্রাম্প প্রশাসন

হরমুজ প্রণালিতে টোল চালুর মেগা প্ল্যান ইরানের, পাশে চীন; বেঁকে বসেছে ট্রাম্প প্রশাসন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: শামীম হোসাইন / দিগন্ত বাংলা নিউজ

বিশ্বের অন্যতম প্রধান কৌশলগত ও জ্বালানি রুট হরমুজ প্রণালি দিয়ে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল পুনরায় শুরু হওয়ার পর সেখান থেকে বড় অংকের রাজস্ব আদায়ের নকশা আঁকছে তেহরান।

জ্বালানি রুটের নতুন ভূ-অর্থনৈতিক সমীকরণ: হরমুজ প্রণালিতে ৪ হাজার কোটি ডলার টোল আদায়ের মেগা প্ল্যান ইরানের, বেইজিংকে সাথে পাওয়ার চেষ্টা তেহরানের

বিশ্বের সামগ্রিক অর্থনীতি, আন্তর্জাতিক নৌ-বাণিজ্য এবং খনিজ তেলের প্রধান সরবরাহ রুট হিসেবে পরিচিত কৌশলগত হরমুজ প্রণালি (Strait of Hormuz) নিয়ে এক নতুন এবং অত্যন্ত সংবেদনশীল ভূ-অর্থনৈতিক চাল চালছে মধ্যপ্রাচ্যের পরাশক্তি ইরান। সাময়িক অচলাবস্থা কাটিয়ে এই গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক জলপথটি বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের জন্য পুনরায় উন্মুক্ত হওয়ার পর, এর সার্বিক ব্যবস্থাপনা ও নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণের নামে প্রতি বছর প্রায় ৪ হাজার কোটি মার্কিন ডলার (৪০ বিলিয়ন ডলার) রাজস্ব বা টোল আদায়ের এক মহাপরিকল্পনা হাতে নিয়েছে তেহরান প্রশাসন। বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারের ওপর নিজেদের একচ্ছত্র নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা এবং পশ্চিমা অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞার ধকল সামাল দিতেই ইরানের এই নজিরবিহীন ও গোপন পদক্ষেপ বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশেষজ্ঞরা।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাবশালী ও আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক সংবাদমাধ্যম ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল (Wall Street Journal) গত বৃহস্পতিবার (২৫ জুন ২০২৬) ইরানের উচ্চপর্যায়ের একাধিক শীর্ষ কর্মকর্তার বরাত দিয়ে প্রকাশিত এক চাঞ্চল্যকর এক্সক্লুসিভ প্রতিবেদনে এই মেগা প্ল্যানের তথ্য বিশ্ববাসীর সামনে উন্মোচন করেছে। প্রতিবেদনে অত্যন্ত স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে যে, তেহরানের নীতি-নির্ধারকদের ধারণা অনুযায়ী—হরমুজ প্রণালির সামগ্রিক সামুদ্রিক নিরাপত্তা রক্ষা, জলদস্যুতা রোধ এবং পরিবেশগত বিপর্যয় রোধে সেবা পরিচালনার দায়িত্বে যে সমস্ত দেশ থাকবে, তারা যৌথভাবে আন্তর্জাতিক এই জলপথ থেকে প্রতি বছর ন্যূনতম ৪ হাজার কোটি ডলারেরও বেশি অর্থ সম্পূর্ণ বৈধ উপায়ে আয় করতে সক্ষম। এই বিশাল আয়ের লোভনীয় টোপ দিয়েই ইরান এখন তার এশীয় মিত্র চীন এবং উপসাগরীয় ধনী রাষ্ট্রগুলোকে নিজের পাশে টানার এক নতুন কূটনৈতিক মিশন শুরু করেছে।

## তুরস্কের দারদানেলস মডেল অনুসরণ: আয় ভাগাভাগির প্রস্তাবে চীন ও উপসাগরীয় দেশসমূহ

ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের প্রতিবেদন অনুযায়ী, হরমুজ প্রণালির ভবিষ্যৎ প্রশাসনিক ও টোল আদায়ের আইনি কাঠামো তৈরি করতে গিয়ে ইরান অত্যন্ত চতুরতার সাথে ইউরোপের একটি সফল মডেলকে সামনে নিয়ে এসেছে। তেহরান মূলত তুরস্কের বিখ্যাত দারদানেলস প্রণালিতে (Dardanelles Strait) প্রচলিত কর, শুল্ক এবং প্রশাসনিক কর কাঠামোকে নিজেদের জন্য একটি আদর্শ ও আন্তর্জাতিকভাবে অনুসরণযোগ্য মডেল হিসেবে বিবেচনা করছে। মন্ট্রেক্স কনভেনশনের আওতায় তুরস্ক যেভাবে তাদের জলসীমা দিয়ে যাওয়া বিদেশী বাণিজ্যিক জাহাজ থেকে আইনি প্রক্রিয়ায় ফি আদায় করে, ইরানও ঠিক সেই কায়দায় হরমুজে নিজেদের একচ্ছত্র আইনি কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা করতে চায়।

আরও পড়ুন: বৈশ্বিক পরিবর্তনের মাঝেও অটুট ঢাকা-বেইজিং বন্ধন: শি জিনপিং ও তারেক রহমানের ঐতিহাসিক বৈঠক

তবে এই বিশাল ও ঝুঁকিপূর্ণ পরিকল্পনাটি একা বাস্তবায়ন করা ইরানের পক্ষে সম্ভব নয় জেনেই, তেহরান ইতিমধ্যে এই প্রস্তাবটি বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম অর্থনৈতিক পরাশক্তি চীন এবং পারস্য উপসাগরীয় বেশ কয়েকটি প্রভাবশালী ও তেল সমৃদ্ধ আরব দেশের দ্বিপক্ষীয় টেবিলে আনুষ্ঠানিকভাবে তুলে ধরেছে। ইরানের মূল লক্ষ্য হলো—আঞ্চলিক অন্যান্য দেশগুলো এবং বেইজিং যেন এই প্রণালির যৌথ নিরাপত্তা ও পরিচালনার গুরুদায়িত্ব কাঁধে নেয়। এর বিনিময়ে জাহাজ চলাচল থেকে অর্জিত সম্ভাব্য বিশাল অঙ্কের টোল বা আয়ের একটি বড় অংশ সকলের মধ্যে সমানভাবে ভাগাভাগি বা অংশীদারিত্বের ভিত্তিতে বণ্টন করা হবে। চীন যেহেতু এই রুটের অন্যতম প্রধান তেল আমদানিকারক, তাই বেইজিংকে এই প্রজেক্টে যুক্ত করতে পারলে আমেরিকার চাপ অনেকটাই এড়ানো যাবে বলে মনে করছে তেহরানের থিংক ট্যাংকগুলো।

## পটভূমি: মার্কিন-ইসরায়েল সংঘাত, হরমুজের অবরুদ্ধতা এবং জুনের সমঝোতা স্মারক

হঠাৎ করে হরমুজ প্রণালি নিয়ে ইরানের এই নতুন ও আগ্রাসী পরিকল্পনার পেছনে রয়েছে সাম্প্রতিক সময়ের এক রক্তক্ষয়ী ও দীর্ঘস্থায়ী ভূ-রাজনৈতিক সংঘাতের ইতিহাস। গত বছর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল এবং ইরানের মধ্যে মধ্যপ্রাচ্যে এক প্রলয়ঙ্কারী ত্রিমুখী সামরিক সংঘাত শুরু হওয়ার পর, তেহরান কৌশলগতভাবে অত্যন্ত আগ্রাসী নীতি গ্রহণ করে। তারা কার্যত পারস্য উপসাগরের প্রবেশদ্বার খ্যাত হরমুজ প্রণালি দিয়ে পশ্চিমা দেশগুলোর সব ধরনের বাণিজ্যিক ও পণ্যবাহী জাহাজ চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ করে দেয়। সে সময় ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (IRGC) ঘোষণা করেছিল যে, যেকোনো আন্তর্জাতিক জাহাজ এই প্রণালি অতিক্রম করার আগে অবশ্যই ইরানের নৌবাহিনীর কাছ থেকে সুনির্দিষ্ট ও লিখিত পূর্বানুমতি নিতে বাধ্য থাকবে।

বিশ্বের মোট উৎপাদিত খনিজ তেলের এক-পঞ্চমাংশ বা প্রায় ২০ শতাংশেরও বেশি জ্বালানি সরবরাহকারী এই গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক রুটটি আকস্মিক বন্ধ হয়ে যাওয়ায় সমগ্র বৈশ্বিক অর্থনীতিতে এক ভয়াবহ ধস নেমে এসেছিল। আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম আকাশচুম্বী হয়ে পড়ে এবং বিশ্বজুড়ে মূল্যস্ফীতি চরম আকার ধারণ করে। এই অচলাবস্থা নিরসনে দীর্ঘ পর্দার আড়ালের কূটনীতির পর, চলতি জুনের মাঝামাঝি সময়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং ইরানের মধ্যে ওমানের মধ্যস্থতায় একটি ঐতিহাসিক সমঝোতা স্মারক (MoU) স্বাক্ষরিত হয়। ওই আন্তর্জাতিক চুক্তি অনুযায়ী, হরমুজ প্রণালিকে পুনরায় সমস্ত বৈশ্বিক বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের জন্য খুলে দেওয়া হয়। সমঝোতার অন্যতম প্রধান শর্ত ছিল—আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক আইন (International Maritime Law) সম্পূর্ণরূপে অনুসরণ করে এই প্রণালির ভবিষ্যৎ স্থায়ী প্রশাসনিক কাঠামো ও নিরাপত্তা বলয় কেমন হবে, তা নিয়ে ইরান ও ওমান যৌথভাবে আলোচনা করে চূড়ান্ত রূপরেখা তৈরি করবে। কিন্তু ইরান এখন সেই আলোচনার আড়ালে টোল আদায়ের এই নতুন ফাঁদ তৈরি করেছে।

## ‘কোনো টোল দিতে দেওয়া হবে না’: মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও ও ট্রাম্পের তীব্র হুঁশিয়ারি

ইরানের এই ৪ হাজার কোটি ডলারের টোল বা ফি আরোপের গোপন পরিকল্পনার খবর আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে ফাঁস হওয়ার পর পরই বিশ্বজুড়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। বিশেষ করে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং তার পশ্চিমা মিত্ররা ইরানের এই পদক্ষেপকে আন্তর্জাতিক সমুদ্র আইনের পরিপন্থী এবং বিশ্ব বাণিজ্যের ওপর নতুন এক ধরণের অর্থনৈতিক ব্ল্যাকমেইল হিসেবে দেখছে। চলতি সপ্তাহে পারস্য উপসাগরীয় দেশগুলো এবং মধ্যপ্রাচ্যের মিত্রদের সাথে এক জরুরি উচ্চপর্যায়ের কৌশলগত নিরাপত্তা সফরে বের হয়েছেন নবনিযুক্ত মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও (Marco Rubio)। সফরকালীন সময়ে তিনি ইরানের এই পরিকল্পনার কড়া সমালোচনা করে অত্যন্ত স্পষ্ট ভাষায় বলেন, "আমেরিকা বা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় হরমুজ প্রণালিকে ইরানের ব্যক্তিগত সম্পত্তি হতে দেবে না। ইরানকে কোনো অবস্থাতেই আন্তর্জাতিক জলসীমায় এই ধরনের অবৈধ টোল বা জোরপূর্বক ফি আরোপ করতে দেওয়া হবে না। যদি তেহরান এমন কোনো পদক্ষেপ নেয়, তবে ওয়াশিংটন তার কঠোর জবাব দেবে।"

এর আগে গত মে মাসেও যখন প্রথমবার ইরানের এই সম্ভাব্য টোল আদায়ের পরিকল্পনার গোয়েন্দা তথ্য মার্কিন প্রশাসনের হাতে আসে, তখনই তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি সে সময় অত্যন্ত কঠোরভাবে এই পরিকল্পনা নাকচ করে দিয়ে বলেছিলেন, "আমরা আন্তর্জাতিক কোনো মুক্ত বাণিজ্য রুটে ইরানের কোনো অন্যায্য টোল বা চাঁদাবাজি দেখতে চাই না।" ট্রাম্পের সেই কঠোর অবস্থানের পর মার্কিন প্রশাসনের দাবি ছিল, ইরান শেষ পর্যন্ত আন্তর্জাতিক চাপের মুখে নতি স্বীকার করেছে এবং হরমুজ প্রণালিতে কোনো প্রকার টোল বা অতিরিক্ত মাশুল আরোপ না করার বিষয়ে ওয়াশিংটনকে অনানুষ্ঠানিক চ্যানেলে আশ্বস্ত করেছে।

## ট্রুথ সোশ্যালে ট্রাম্পের বার্তা: ভুয়া সংবাদমাধ্যমের উসকানি বনাম ইরানের আশ্বাস

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের এই প্রতিবেদনকে উসকানিমূলক আখ্যা দিয়ে তাঁর নিজস্ব সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’ (Truth Social)-এ একটি দীর্ঘ ও বিশেষ পোস্ট শেয়ার করেছেন। ট্রাম্প দাবি করেছেন যে, ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল বা অন্যান্য পশ্চিমা সংবাদমাধ্যমগুলো বিষয়টিকে অতিরিক্ত বাড়িয়ে দেখাচ্ছে।

আরও পড়ুন: তিস্তাসহ নদী ব্যবস্থাপনায় ঐতিহাসিক বাংলাদেশ-চীন ঐকমত্য

নিজের ভেরিফাইড ট্রুথ সোশ্যাল হ্যান্ডেলে দেওয়া এক পোস্টে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প লিখেছেন:

"কিছু ভুয়া ও উসকানিমূলক মূলধারার সংবাদমাধ্যমের মনগড়া ও ভিত্তিহীন প্রতিবেদনের বিপরীতে সম্পূর্ণ ভিন্ন চিত্র বিদ্যমান। ইরান ইতিমধ্যে আনুষ্ঠানিকভাবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে সুনির্দিষ্টভাবে আশ্বস্ত করেছে এবং জানিয়েছে যে, হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী কোনো আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক বা পণ্যবাহী জাহাজের কাছ থেকে কোনো ধরনের টোল, কোনো অতিরিক্ত সামুদ্রিক বিমা ব্যয় কিংবা অন্য কোনো প্রকারের অতিরিক্ত অন্যায্য অর্থ বা ফি আদায় করা হবে না। আন্তর্জাতিক সমুদ্রপথ সবার জন্য উন্মুক্ত থাকবে এবং আমেরিকা তার বাণিজ্যিক জাহাজের অবাধ চলাচল নিশ্চিত করতে যেকোনো পদক্ষেপ নিতে দ্বিধা করবে না।"

## একনজরে হরমুজ প্রণালির টোল প্ল্যান ও ভূ-রাজনৈতিক সংঘাতের মূল খতিয়ান

পাঠকদের সুবিধার্থে এবং মধ্যপ্রাচ্যের এই নতুন অর্থনৈতিক ও সামরিক চালের প্রধান প্রধান দিকসমূহ একনজরে সহজে অনুধাবন করার জন্য নিচে একটি বিশেষ তথ্য সারণী প্রদান করা হলো:

হরমুজ প্রণালির সংকটের মূল প্যারামিটারসমূহতেহরান ও ওয়াশিংটনের সুনির্দিষ্ট অবস্থান ও আইনি খতিয়ান
ইরানের মূল অর্থনৈতিক লক্ষ্যহরমুজ প্রণালির নতুন ব্যবস্থাপনা থেকে বছরে ৪ হাজার কোটি ডলার আয় করা।
অনুসরণ করা ঐতিহাসিক আইনি মডেলতুরস্কের বিখ্যাত দারদানেলস প্রণালির কর ও প্রশাসনিক আইনি কাঠামো।
ইরানের প্রস্তাব পাওয়া প্রধান পক্ষসমূহএশীয় পরাশক্তি চীন এবং পারস্য উপসাগরীয় বেশ কয়েকটি ধনী আরব দেশ।
প্রণালি পুনরায় খোলার সুনির্দিষ্ট চুক্তিচলতি জুনের মাঝামাঝি সময়ে স্বাক্ষরিত হওয়া মার্কিন-ইরান সমঝোতা স্মারক (MoU)।
যৌথ প্রশাসনিক আলোচনার দায়িত্বআন্তর্জাতিক সামুদ্রিক আইন অনুযায়ী যৌথভাবে আলোচনার দায়িত্বে ইরান ও ওমান
মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও’র অবস্থানইরানকে কোনো অবস্থাতেই এই ধরণের অবৈধ টোল বা ফি আরোপ করতে দেওয়া হবে না।
প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দাবিইরান মার্কিন প্রশাসনকে আশ্বস্ত করেছে যে তারা কোনো টোল বা অতিরিক্ত ফি নেবে না

## বৈশ্বিক অর্থনীতি ও আগামী দিনের আন্তর্জাতিক নৌ-রাজনীতি

আন্তর্জাতিক নৌ-বাণিজ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, ইরান যদি শেষ পর্যন্ত চীন এবং উপসাগরীয় দেশের আংশিক সমর্থন নিয়ে হরমুজ প্রণালিতে কোনো ধরণের 'নিরাপত্তা ফি' বা ছদ্মবেশী টোল চালু করতে সক্ষম হয়, তবে তা হবে আন্তর্জাতিক সমুদ্র আইনের ইতিহাসে এক নজিরবিহীন ঘটনা। এটি মুক্ত সমুদ্র চলাচলের স্বাধীনতার (Freedom of Navigation) ওপর একটি বড় ধরণের আঘাত হিসেবে গণ্য হবে। অন্যদিকে, ইরানের ওপর মার্কিন কঠোর অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা বহাল থাকায়, তেহরান এই ৪ হাজার কোটি ডলারের রাজস্বের লোভ কোনোভাবেই সহজে সামলাতে পারবে না। ফলে আপাতদৃষ্টিতে মার্কিন-ইরান সমঝোতার মাধ্যমে যুদ্ধ থামলেও, হরমুজের টোল আদায়কে কেন্দ্র করে আগামী দিনগুলোতে ওয়াশিংটন ও তেহরান আবারো এক নতুন শীতল যুদ্ধ ও সামুদ্রিক সংঘাতে জড়িয়ে পড়তে পারে, যার প্রভাব পড়বে আপনার-আমার দৈনন্দিন জীবনের জ্বালানি তেলের দামের ওপর।

বিশ্ব রাজনীতির অন্দরের খবর, মধ্যপ্রাচ্যের সামরিক ও অর্থনৈতিক কূটনীতির সর্বশেষ আপডেট, আমেরিকার হোয়াইট হাউসের কঠোর সিদ্ধান্ত এবং বৈশ্বিক বাণিজ্যের প্রতিটি নির্ভরযোগ্য খবরাখবর সবার আগে প্রফেশনাল ও শতভাগ ইউনিক উপায়ে আপনাদের সামনে নিয়মিত তুলে ধরতে ‘দিগন্ত বাংলা নিউজ’ পোর্টাল সর্বদা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

নিউজ সূত্র: ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল আন্তর্জাতিক ব্যুরো ও মার্কিন স্টেট ডিপার্টমেন্ট মিডিয়া সেল

Post a Comment

আপনার মূল্যবান মতামত আমাদের জানান। কোনো উসকানিমূলক বা অশালীন মন্তব্য করা থেকে বিরত থাকুন।

নবীনতর পূর্বতন