বৈশ্বিক পরিবর্তনের মাঝেও অটুট ঢাকা-বেইজিং বন্ধন: শি জিনপিং ও তারেক রহমানের ঐতিহাসিক বৈঠক

বৈশ্বিক পরিবর্তনের মাঝেও অটুট ঢাকা-বেইজিং বন্ধন: শি জিনপিং ও তারেক রহমানের ঐতিহাসিক বৈঠক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: শামীম হোসাইন / দিগন্ত বাংলা নিউজ

বেইজিংয়ের গ্রেট হল অব দ্য পিপলে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়ে এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

ভূ-রাজনীতির নতুন সমীকরণ: বেইজিংয়ে শি জিনপিং ও তারেক রহমানের যুগান্তকারী শীর্ষ বৈঠক, ‘নতুন যুগের চীন-বাংলাদেশ অভিন্ন সম্প্রদায়’ গঠনের ঐতিহাসিক ঘোষণা

সমগ্র বিশ্বের চলমান ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতা, শক্তির ভারসাম্যবদল এবং বৈশ্বিক নানা পরিবর্তনের মাঝেও এশিয়ার দুই বন্ধুপ্রতিম রাষ্ট্র বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যকার দীর্ঘস্থায়ী কৌশলগত ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক এক অভূতপূর্ব এবং ঐতিহাসিক উচ্চতায় উপনীত হয়েছে। বৈশ্বিক প্রেক্ষাপট বা আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে যে ধরণের পরিবর্তনই আসুক না কেন, বাংলাদেশের সঙ্গে বেইজিংয়ের গভীর দ্বিপক্ষীয় ও কূটনৈতিক সম্পর্ক চিরকাল অটুট, অবিচল এবং অক্ষুণ্ণ থাকবে বলে দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন বিশ্বের অন্যতম পরাশক্তি চীনের মহামান্য প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং। একই সাথে, ঢাকা ও বেইজিংয়ের মধ্যকার এই বহুমাত্রিক অংশীদারিত্বকে একবিংশ শতাব্দীর চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার উপযোগী করে গড়ে তুলতে এবং দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতাকে সম্পূর্ণ নতুন এক শিখরে নিয়ে যেতে দুই দেশের শীর্ষ নেতা যৌথভাবে ‘নতুন যুগের চীন-বাংলাদেশ অভিন্ন সম্প্রদায়’ (China-Bangladesh Community with a Shared Future in the New Era) গঠনের এক যুগান্তকারী ও মহাপরিকল্পনামূলক ঘোষণা দিয়েছেন।


আজ শুক্রবার (২৬ জুন ২০২৬) চীনের রাজধানী বেইজিংয়ের বিশ্বখ্যাত এবং রাষ্ট্রীয় মর্যাদাপূর্ণ গ্রেট হল অব দ্য পিপলে (Great Hall of the People) বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এবং চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের মধ্যে অত্যন্ত সৌহার্দ্যপূর্ণ, সুনিপুণ ও ফলপ্রসূ এক দ্বিপক্ষীয় শীর্ষ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এই উচ্চপর্যায়ের বৈঠকেই দুই দেশের ভবিষ্যৎ কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক সম্পর্কের নতুন এই ঐতিহাসিক রূপরেখা চূড়ান্ত করা হয়। আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বাংলাদেশের নতুন রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের এই বেইজিং সফর এবং প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সাথে এই দ্বিপক্ষীয় বোঝাপড়া আগামী দিনগুলোতে দক্ষিণ এশিয়ার সামগ্রিক ভূ-রাজনীতি এবং অর্থনৈতিক উন্নয়নে এক বিশাল ও সুদূরপ্রসারী মাইলফলক হিসেবে কাজ করবে।

## বাংলাদেশকে বিশ্বস্ত অংশীদার মনে করে চীন: বাহ্যিক হস্তক্ষেপের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান শি জিনপিংয়ের

গ্রেট হল অব দ্য পিপলে অনুষ্ঠিত এই শীর্ষ বৈঠকে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের মূল ভিত্তির ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন। তিনি অত্যন্ত স্পষ্ট ও দ্ব্যর্থহীন কণ্ঠে পুনর্ব্যক্ত করেন যে, চীনের পররাষ্ট্রনীতি ও বৈশ্বিক কৌশলগত অংশীদারিত্বের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্কের উন্নয়নকে বেইজিং সবসময়ই সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার ও অত্যন্ত গভীর গুরুত্ব দিয়ে এসেছে। আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে শক্তির সমীকরণ বা বিশ্ব পরিস্থিতি যেভাবেই পরিবর্তিত হোক না কেন, বাংলাদেশের উন্নয়ন অভিযাত্রায় চীন সবসময় একটি নির্ভরযোগ্য ও বিশ্বস্ত শক্তি হিসেবে পাশে থাকবে।

আরও পড়ুন: মেসিকে সর্বকালের সেরা বলার দাবি ওড়াল ব্রাজিলিয়ান কিংবদন্তি রোনালদো

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সাথে আলাপকালে চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণভাবে উল্লেখ করে বলেন:

"বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যকার এই গভীর ঐতিহাসিক বন্ধন স্রেফ কোনো সাময়িক চুক্তি নয়, এটি একটি দীর্ঘস্থায়ী ও পরীক্ষিত বন্ধুত্ব। বিশ্বমঞ্চের পরিস্থিতি বা আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে যতই ঝড়-ঝাপটা আসুক না কেন, বাংলাদেশের সঙ্গে কৌশলগত ও বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক আরও জোরদার করতে চীন নিজের অবস্থানে সদা অটল থাকবে। আমরা সবসময়ই বাংলাদেশকে একটি পরম বিশ্বস্ত বন্ধু, নির্ভরযোগ্য প্রতিবেশী এবং অন্যতম প্রধান কৌশলগত অংশীদার হিসেবে আমাদের পাশে রাখব এবং ভবিষ্যতেও এই ধারা অব্যাহত থাকবে।"

একই সাথে, বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ স্থিতিশীলতা এবং সার্বভৌমত্বের প্রতি চীনের পূর্ণাঙ্গ সমর্থনের কথা জানিয়ে শি জিনপিং বলেন, চীন অত্যন্ত দৃঢ়ভাবে বাংলাদেশের জাতীয় স্বাধীনতা, রাষ্ট্রীয় সার্বভৌমত্ব এবং ভৌগোলিক অখণ্ডতাকে সর্বাবস্থায় সমর্থন করে। বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক বা প্রশাসনিক বিষয়ে যেকোনো ধরণের অনাকাঙ্ক্ষিত বিদেশী বা বাহ্যিক হস্তক্ষেপের (External Interference) তীব্র বিরোধিতা করে বেইজিং। তিনি আগামী দিনে দুই দেশের মূল স্বার্থ-সংশ্লিষ্ট এবং আন্তর্জাতিক অতি সংবেদনশীল বিষয়গুলোতে একে অপরকে পারস্পরিক কূটনৈতিক সমর্থন অব্যাহত রাখার ওপর বিশেষভাবে জোর দেন।

## তথ্যপ্রযুক্তি, এআই ও বিআরআই সহযোগিতা: চিনের মেগা অর্থনৈতিক করিডোরের নতুন দিগন্ত

বৈঠকে দুই দেশের অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক সম্পর্ককে আরও আধুনিক এবং প্রযুক্তিনির্ভর করার লক্ষ্যে বেশ কিছু বড় ধরণের গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে। প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং জানান, চীন বাংলাদেশের অবকাঠামোগত উন্নয়নে তাদের বিখ্যাত এবং উচ্চমানের বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভ (BRI) সহযোগিতা আরও বেগবান ও সামনের দিকে এগিয়ে নিতে চায়। তবে প্রথাগত অবকাঠামো নির্মাণের পাশাপাশি চীন এখন বাংলাদেশকে সাথে নিয়ে ভবিষ্যৎ প্রযুক্তির দিকে নজর দিচ্ছে।

চীন আগামী দিনে বাংলাদেশের টেকসই উন্নয়নের লক্ষ্যে যেসব সুনির্দিষ্ট ও আধুনিক খাতে যৌথভাবে কাজ করার গভীর আগ্রহ প্রকাশ করেছে, তার একটি সংক্ষিপ্ত বিবরণ নিচে দেওয়া হলো:

  • কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও তথ্যপ্রযুক্তি: বাংলাদেশের উদীয়মান তরুণ প্রজন্মকে চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের উপযোগী করে গড়ে তুলতে তথ্যপ্রযুক্তি ও উন্নত কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) খাতে চীন ব্যাপক প্রযুক্তিগত সহায়তা ও বিনিয়োগ প্রদান করবে।

  • ডিজিটাল অর্থনীতি: বাংলাদেশের সার্বিক আর্থিক খাত ও শাসন ব্যবস্থাকে সম্পূর্ণ ডিজিটাল অর্থনীতিতে (Digital Economy) রূপান্তর করার লক্ষ্যে দুই দেশ যৌথ ফ্রেমওয়ার্ক তৈরি করবে।

  • সবুজ ও স্বল্প-কার্বন উন্নয়ন: জলবায়ু পরিবর্তনের চরম ঝুঁকি মোকাবিলায় পরিবেশবান্ধব, সবুজ প্রযুক্তি এবং স্বল্প-কার্বন নির্গমনকারী শিল্পায়নের উন্নয়নে চীন নিজেদের আধুনিক অভিজ্ঞতা বাংলাদেশের সাথে শেয়ার করবে।

  • স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও সংস্কৃতি: দুই দেশের জনগণের মধ্যে পারস্পরিক যোগাযোগ (People-to-People Contact) বৃদ্ধি করতে শিক্ষা ক্ষেত্রে বৃত্তির সংখ্যা বাড়ানো, আধুনিক স্বাস্থ্যসেবার উন্নয়ন এবং সাংস্কৃতিক বিনিময় কর্মসূচি আরও জোরদার করা হবে।

এর পাশাপাশি, এই অঞ্চলের অর্থনৈতিক সংযোগের ক্ষেত্রে এক বিশাল গেম-চেইঞ্জার হিসেবে পরিচিত চীন-মিয়ানমার-বাংলাদেশ অর্থনৈতিক করিডোর (China-Myanmar-Bangladesh Economic Corridor)-এর উন্নয়ন কাজকে দ্রুত গতিতে এগিয়ে নিতে এবং এই অঞ্চলের বাণিজ্যিক সম্ভাবনাকে শতভাগ কাজে লাগাতে বাংলাদেশের সাথে একসাথে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করার জোরালো আহ্বান জানান চীনা প্রেসিডেন্ট।

## চীনের কমিউনিস্ট পার্টির ১০৫তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের অভিনন্দন

দ্বিপক্ষীয় এই শীর্ষ বৈঠকের শুরুতে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আন্তর্জাতিক স্তরে চীনের অভূতপূর্ব ও অভাবনীয় সাফল্যের প্রশংসা করেন। তিনি ঐতিহ্যবাহী চীনের কমিউনিস্ট পার্টির (CCP) প্রতিষ্ঠার ১০৫তম গৌরবোজ্জ্বল বার্ষিকী উপলক্ষে প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং, চীনা সরকার এবং দেশটির সর্বস্তরের জনগণকে বাংলাদেশের আপামর জনগণের পক্ষ থেকে আন্তরিক ও উষ্ণ অভিনন্দন জানান। প্রধানমন্ত্রী উল্লেখ করেন যে, একটি রাজনৈতিক দল কীভাবে সুদীর্ঘ পথ পরিক্রমায় একটি বিশাল রাষ্ট্রকে বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ অর্থনৈতিক ও সামরিক পরাশক্তিতে রূপান্তর করতে পারে, চীনের কমিউনিস্ট পার্টি তার এক উজ্জ্বল বৈশ্বিক দৃষ্টান্ত।

আরও পড়ুন: সংসদে জামায়াতের রাজনীতি নিষিদ্ধের দাবি তুললেন বিএনপি এমপি রফিকুল ইসলাম

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তাঁর বক্তব্যে অত্যন্ত দৃঢ়তার সাথে উল্লেখ করেন যে, বাংলাদেশের সামগ্রিক ও সুষম পররাষ্ট্রনীতিতে চীন একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, অপরিহার্য এবং পরম বিশ্বস্ত দীর্ঘদিনের অংশীদার। প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের বলিষ্ঠ, দূরদর্শী ও অনন্য নেতৃত্বে চীনের যে আধুনিকায়ন (Chinese Modernization) সাধিত হয়েছে, তা বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল রাষ্ট্রগুলোর জন্য একটি অত্যন্ত চমৎকার ও অনুকরণীয় উদাহরণ। বাংলাদেশ চীনের এই অর্থনৈতিক মডেল থেকে শিক্ষা নিয়ে নিজেদের উন্নয়ন কর্মকাণ্ড সাজাতে আগ্রহী। তিনি দুই দেশের রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে পারস্পরিক যোগাযোগ ও বোঝাপড়া বৃদ্ধি, বিআরআই (BRI) প্রকল্পের দ্রুত বাস্তবায়ন এবং বিশেষ করে বাণিজ্য, সরাসরি বৈদেশিক বিনিয়োগ, আঞ্চলিক যোগাযোগ, আধুনিক কৃষি ব্যবস্থার আধুনিকায়ন, উন্নত প্রযুক্তি, নবায়নযোগ্য জ্বালানি (Renewable Energy), উচ্চশিক্ষা এবং স্বাস্থ্য খাতে দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা আরও জোরদার করার জন্য বেইজিংয়ের প্রতি আহ্বান জানান।

## একনজরে ঢাকা-বেইজিং শীর্ষ বৈঠকের মূল এজেন্ডা ও কৌশলগত সিদ্ধান্তসমূহ

পাঠকদের সুবিধার্থে এবং বেইজিংয়ের গ্রেট হল অব দ্য পিপলে অনুষ্ঠিত এই ঐতিহাসিক শীর্ষ বৈঠকের প্রধান প্রধান দ্বিপক্ষীয় চুক্তি ও গুরুত্বপূর্ণ দিকসমূহ একনজরে সহজে অনুধাবন করার জন্য নিচে একটি বিশেষ আধুনিক তথ্য সারণী প্রদান করা হলো:

দ্বিপক্ষীয় বৈঠকের মূল খাতসমূহসুনির্দিষ্ট বিবরণ ও কৌশলগত আন্তর্জাতিক খতিয়ান
বৈঠকের সুনির্দিষ্ট স্থান ও সময়চীনের বেইজিংয়ের ঐতিহাসিক গ্রেট হল অব দ্য পিপল; ২৬ জুন ২০২৬ (শুক্রবার)।
ঘোষিত মূল দ্বিপক্ষীয় ভিশন‘নতুন যুগের চীন-বাংলাদেশ অভিন্ন সম্প্রদায়’ গঠনের ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত।
সার্বভৌমত্বে চীনের অবস্থানবাংলাদেশের অখণ্ডতা ও স্বাধীনতার প্রতি পূর্ণ সমর্থন এবং বিদেশী হস্তক্ষেপের তীব্র বিরোধিতা
ভবিষ্যৎ প্রযুক্তির প্রধান খাতসমূহকৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI), ডিজিটাল অর্থনীতি, তথ্যপ্রযুক্তি এবং সবুজ ও স্বল্প-কার্বন উন্নয়ন।
আঞ্চলিক মেগা প্রজেক্টচীন-মিয়ানমার-বাংলাদেশ অর্থনৈতিক করিডোর উন্নয়নে যৌথভাবে কাজ করার আহ্বান।
বাংলাদেশের রাজনৈতিক অবস্থানবেইজিংয়ের ঘোষিত আন্তর্জাতিক ‘এক চীন নীতি’ (One China Policy)-র প্রতি দৃঢ় ও অবিচল সমর্থন।
তাইওয়ান ও জাতিসংঘ ইস্যুতাইওয়ানকে চীনের অবিচ্ছেদ্য অংশ মনে করা এবং জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ২৭৫৮ নম্বর প্রস্তাবের সমর্থন।
বৈশ্বিক উদ্যোগের সমন্বয়প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের প্রস্তাবিত ৪টি বিশেষ বৈশ্বিক উদ্যোগের প্রতি বাংলাদেশের পূর্ণ আস্থা।

## দৃঢ়ভাবে ‘এক চীন নীতি’ অনুসরণের পুনর্ব্যক্ত: আন্তর্জাতিক ন্যায়বিচারে একাত্মতা

এই দ্বিপক্ষীয় বৈঠকের অন্যতম সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ এবং আন্তর্জাতিকভাবে সংবেদনশীল রাজনৈতিক দিকটি ছিল ‘এক চীন নীতি’ বা ওয়ান চায়না পলিসি (One China Policy)-র প্রতি বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের রাষ্ট্রীয় অবস্থানের পুনরায় জোরালো সমর্থন ব্যক্ত করা। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান চীনের প্রেসিডেন্টের সামনে অত্যন্ত সুস্পষ্টভাবে পুনর্ব্যক্ত করেন যে, বাংলাদেশ রাষ্ট্রগতভাবে অত্যন্ত দৃঢ় ও আপসহীনভাবে ‘এক চীন নীতি’ অনুসরণ করে এবং বেইজিংয়ের সার্বভৌমত্বকে পূর্ণ শ্রদ্ধা জানায়। বাংলাদেশ অত্যন্ত স্পষ্টভাবে বিশ্বাস করে এবং স্বীকৃতি দেয় যে, তাইওয়ান হলো মূল চীনের একটি অবিচ্ছেদ্য এবং অবিকল্প অংশ

একই সাথে, তাইওয়ানের তথাকথিত স্বাধীনতা বা বিচ্ছিন্নতাবাদের যেকোনো ধরণের রাজনৈতিক ও আন্তর্জাতিক উদ্যোগের তীব্র বিরোধিতা করে বাংলাদেশ। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বিশ্বমঞ্চে চীনের আইনি অধিকারের প্রতি সমর্থন জানিয়ে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ঐতিহাসিক ২৭৫৮ নম্বর প্রস্তাবের (UN General Assembly Resolution 2758) প্রতি বাংলাদেশের অনড় ও ঐতিহাসিক সমর্থনের কথা আবারও উল্লেখ করেন।

প্রধানমন্ত্রী তাঁর বক্তব্যের শেষ অংশে আরও বলেন, সমগ্র বিশ্বজুড়ে মানবজাতির অভিন্ন ভবিষ্যতের জন্য একটি বৈশ্বিক সম্প্রদায় গঠন এবং প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের ব্যক্তিগত উদ্যোগে প্রস্তাবিত বিখ্যাত চারটি বৈশ্বিক উদ্যোগ বর্তমান বিশ্বে শান্তি, টেকসই উন্নয়ন, পারস্পরিক প্রগতি এবং আন্তর্জাতিক ন্যায়বিচার (International Justice) প্রতিষ্ঠায় অত্যন্ত সময়োপযোগী ও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। এই মহান ও আন্তর্জাতিক শান্তি উদ্যোগগুলোর লক্ষ্য বাস্তবায়নে চীনের সঙ্গে আন্তর্জাতিক এবং আঞ্চলিক উভয় পর্যায়ে কূটনৈতিক ও কৌশলগত সমন্বয় আরও জোরদার করতে বাংলাদেশ রাষ্ট্র হিসেবে সম্পূর্ণরূপে প্রস্তুত রয়েছে।

বিশ্বের পরাশক্তিগুলোর কূটনৈতিক চাল, বাংলাদেশ-চীন সম্পর্কের নতুন অর্থনৈতিক দিগন্ত, আন্তর্জাতিক চুক্তি এবং বিশ্ব রাজনীতির অন্দরের প্রতিটি নির্ভরযোগ্য ও প্রফেশনাল খবরাখবর সবার আগে শতভাগ ইউনিক উপায়ে আপনাদের সামনে নিয়মিত তুলে ধরতে ‘দিগন্ত বাংলা নিউজ’ পোর্টাল সর্বদা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

নিউজ সূত্র: বেইজিংয়ে নিযুক্ত বাংলাদেশ দূতাবাস ও চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় মিডিয়া উইং

Post a Comment

আপনার মূল্যবান মতামত আমাদের জানান। কোনো উসকানিমূলক বা অশালীন মন্তব্য করা থেকে বিরত থাকুন।

নবীনতর পূর্বতন