ন্যায্য অধিকার না দিলে রাজপথে তীব্র লড়াইয়ের হুঁশিয়ারি বিরোধী দলীয় নেতার

ন্যায্য অধিকার না দিলে রাজপথে তীব্র লড়াইয়ের হুঁশিয়ারি বিরোধী দলীয় নেতার

জাতীয় ডেস্ক: শামীম হোসাইন / দিগন্ত বাংলা নিউজ

রাজধানীর মগবাজারে মজলিসে শূরার গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক শেষে আয়োজিত জনাকীর্ণ সংবাদ সম্মেলনে দেশবাসীর উদ্দেশ্যে দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্য রাখছেন বিরোধী দলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান।

অধিকার হরণের বিরুদ্ধে রাজপথে চূড়ান্ত প্রতিরোধের ডাক: ন্যায্য অধিকার না দিলে চুপ থাকবে না বিরোধী দল, মগবাজারের সংবাদ সম্মেলনে জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমানের তীব্র হুঁশিয়ারি

দেশের চলমান রাজনৈতিক সংকট, জনগণের ভোটাধিকার এবং মৌলিক মানবাধিকারের চরম লঙ্ঘনের বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে রাজপথে চূড়ান্ত ও শান্তিপূর্ণ গণতান্ত্রিক আন্দোলনের হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন জাতীয় সংসদের মাননীয় বিরোধী দলীয় নেতা এবং বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। তিনি অত্যন্ত স্পষ্ট ভাষায় শাসকগোষ্ঠীকে সতর্ক করে দিয়ে বলেছেন, দেশের সাধারণ ও মজলুম জনগণের ন্যায্য ও আইনসংগত অধিকার যদি রাজবংশীয় বা স্বৈরাচারী কায়দায় হরণ করা হয়, তবে বিরোধী দল কখনোই নিস্পৃহ বা চুপচাপ বসে থাকবে না। জনগণের জানমালের নিরাপত্তা রক্ষা এবং তাদের হৃত অধিকার পুনঃপ্রতিষ্ঠা করার লক্ষ্যে সর্বস্তরের সাধারণ মানুষকে সাথে নিয়ে রাজপথে শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত লড়াই ও প্রতিরোধ সংগ্রাম চালিয়ে যাওয়া হবে।

আজ শুক্রবার (২৬ জুন ২০২৬) সকালে রাজধানীর মগবাজারে অবস্থিত দলটির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে অত্যন্ত গোপনীয় ও গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরার বিশেষ অধিবেশন অনুষ্ঠিত হয়। দীর্ঘ সময়ব্যাপী চলা উক্ত বৈঠক শেষে বেলা ১১টার দিকে আয়োজিত এক জনাকীর্ণ ও প্রফেশনাল সংবাদ সম্মেলনে দেশবাসীর সামনে রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক এই চূড়ান্ত অবস্থানের কথা জানান বিরোধী দলীয় নেতা। ডা. শফিকুর রহমান বলেন, জামায়াতে ইসলামী সবসময় একটি নিয়মতান্ত্রিক, গণতান্ত্রিক এবং মজলুম জনগণের পক্ষের রাজনৈতিক শক্তি। ফলে জনগণের পিঠ যখন দেয়ালে ঠেকে যায়, তখন ঘরে বসে থাকার কোনো রাজনৈতিক বা নৈতিক সুযোগ নেই।

## ৭০ শতাংশ জনগণের গণভোটের রায় অগ্রাহ্য করার খেসারত দিচ্ছে দেশ

সংবাদ সম্মেলনে দেশের বর্তমান ভঙ্গুর রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং অর্থনৈতিক স্থবিরতার মূল কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমান সরকারের চরম উদাসীনতা ও একগুঁয়েমি নীতিকে দায়ী করেন। তিনি দাবি করেন, দেশের সামগ্রিক শাসনব্যবস্থা আজ সম্পূর্ণ ভেঙে পড়েছে কারণ সরকার জনগণের প্রকৃত ম্যান্ডেট বা রায়কে সম্মান জানাতে ব্যর্থ হয়েছে।

আরও পড়ুন: দেশজুড়ে পবিত্র আশুরা পালিত, কারবালার চেতনায় অন্যায় ও স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে প্রতিরোধের ডাক

দেশের চলমান সংকটময় পরিস্থিতি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেন:

"বর্তমান সরকার দেশের প্রায় ৭০ শতাংশ সাধারণ জনগণের দেওয়া স্বতঃস্ফূর্ত গণভোটের রায়কে সম্পূর্ণ অনৈতিকভাবে অগ্রাহ্য ও উপক্ষো করেছে। জনগণের এই বিশাল অংশের আকাঙ্ক্ষাকে অবমূল্যায়ন করার কারণেই দেশ আজ দীর্ঘ সময় ধরে যেখানে স্থবির হয়ে পড়ে ছিল, ঠিক সেখানেই রয়ে গেছে। জাতীয় জীবনের কোনো ক্ষেত্রে, তা হোক অর্থনীতি, রাজনীতি কিংবা সামাজিক নিরাপত্তা—কোথাও বিন্দুমাত্র ইতিবাচক পরিবর্তন বা উন্নয়ন সাধিত হয়নি। একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে জনগণের রায়ের এমন অবমাননা কখনোই মেনে নেওয়া যায় না। আর একটি বৃহৎ ও গঠনমূলক বিরোধী দল হিসেবে আমরা এই চরম সত্যটি দেশ ও বিদেশের মানুষের কাছে পরিষ্কার করতে এবং জনগণের অধিকার ফিরিয়ে দিতেই আজ রাজপথে নেমে এসেছি।"

## গাইবান্ধা ও লক্ষ্মীপুরের ঘটনা দুঃখজনক: দেশজুড়ে আইন-শৃঙ্খলার চরম অবক্ষয়

দেশের অভ্যন্তরীণ আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির ভয়াবহ চিত্র তুলে ধরে সংবাদ সম্মেলনে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন বিরোধী দলীয় নেতা। তিনি অভিযোগ করেন, সাধারণ মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাপনের ন্যূনতম কোনো নিরাপত্তা আজ দেশের কোথাও নেই। দিনদুপুরে ডাকাতি, খুন, গুম এবং রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করার নোংরা সংস্কৃতি ডালপালা মেলেছে।

বিশেষ করে সাম্প্রতিক সময়ে দেশের দুটি জেলায় ঘটে যাওয়া অরাজকতার উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, গাইবান্ধা এবং লক্ষ্মীপুর জেলায় সাম্প্রতিক দিনগুলোতে যে সমস্ত বর্বরোচিত, সহিংস এবং অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটেছে, তা অত্যন্ত দুঃখজনক, লজ্জাজনক এবং মানবতাবিরোধী। এই ঘটনাগুলো প্রমাণ করে যে, দেশের সাধারণ মানুষের জানমালের নিরাপত্তা দিতে স্থানীয় প্রশাসন ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছে। দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে শুরু করে মেগাসিটি পর্যন্ত সর্বত্রই এক ধরণের অরাজক পরিস্থিতি বিরাজ করছে, যা একটি স্বাধীন ও সভ্য রাষ্ট্রের জন্য চরম বিপদের সংকেত।

## স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের ব্যর্থতার তীব্র সমালোচনা: নিজ মন্ত্রণালয়ে চরম উদাসীনতা

সংবাদ সম্মেলনে সরকারের মন্ত্রিসভার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সদস্য তথা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ-এর তীব্র সমালোচনা ও তাঁর পদত্যাগ দাবি করেন ডা. শফিকুর রহমান। তিনি অভিযোগ করেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী নিজের মূল সাংবিধানিক দায়িত্ব পালন না করে অন্য সব বিষয়ে অতিরিক্ত রাজনৈতিক মাতব্বরি করছেন।

আরও পড়ুন: নৌবাহিনীকে পারমাণবিক অস্ত্রে সাজানোর ঘোষণা কিম জং উনের

জামায়াত আমির কড়া ভাষায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কর্মকাণ্ডের সমালোচনা করে বলেন, বর্তমান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ সাহেবকে দেখলে মনে হয় তিনি রাষ্ট্রের সব মন্ত্রণালয়ের অলিখিত অভিভাবক বা দায়িত্ব পালন করছেন। দেশের অর্থনীতি, পররাষ্ট্রনীতি থেকে শুরু করে সব বিষয়ে তিনি প্রতিদিন অযাচিত ও ভিত্তিহীন রাজনৈতিক বক্তব্য দিয়ে যাচ্ছেন। কিন্তু অত্যন্ত পরিতাপের বিষয় হলো, দেশের ভেতরের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি যখন ধূলিসাৎ হয়ে যাচ্ছে, তখন তিনি নিজের মূল স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দেখভাল ও জননিরাপত্তা নিশ্চিতকরণের ব্যাপারে সম্পূর্ণ উদাসীন ও ভ্রূক্ষেপহীন হয়ে পড়েছেন। বিরোধী দলীয় নেতা অবিলম্বে সরকারকে তাদের সাংবিধানিক দায়িত্ব যথাযথভাবে এবং সততার সাথে পালন করার জন্য কড়া আহ্বান জানান।

## একনজরে বিরোধী দলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমানের প্রধান বক্তব্য ও দাবি সমূহ

পাঠকদের সুবিধার্থে এবং মজলিসে শূরার বৈঠক শেষে জামায়াত আমিরের উত্থাপিত মূল রাজনৈতিক এজেন্ডা ও দেশের বর্তমান পরিস্থিতি একনজরে সহজে অনুধাবন করার জন্য নিচে একটি বিশেষ আধুনিক তথ্য সারণী প্রদান করা হলো:

রাজনৈতিক খাতের মূল ইস্যুসমূহবিরোধী দলীয় নেতার সুনির্দিষ্ট রাজনৈতিক অবস্থান ও প্রতিক্রিয়া
১. জনগণের ন্যায্য অধিকারঅধিকার আদায়ের জন্য চুপ না থেকে জনগণের সাথে নিয়ে রাজপথে চূড়ান্ত লড়াই
২. দেশের বর্তমান স্থবিরতাসরকারের পক্ষ থেকে দেশের ৭০% মানুষের গণভোটের রায়কে অনৈতিকভাবে অগ্রাহ্য করা।
৩. আইন-শৃঙ্খলার চরম অবনতিদেশের সার্বিক নিরাপত্তা বিঘ্নিত; বিশেষ করে গাইবান্ধা ও লক্ষ্মীপুরের ঘটনা অত্যন্ত দুঃখজনক।
৪. স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ব্যর্থতাস্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ নিজের মূল মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পালনে সম্পূর্ণ ব্যর্থ।
৫. সরকারের ভালো উদ্যোগসরকার দেশের স্বার্থে কোনো ভালো বা জনকল্যাণমুখী পদক্ষেপ নিলে বিরোধী দলের পূর্ণ সহযোগিতা
৬. গণবিরোধী কালো সিদ্ধান্তজনগণের স্বার্থবিরোধী কোনো সিদ্ধান্ত নিলে রাজপথে তীব্র প্রতিবাদ ও কঠোর প্রতিরোধ

## ভালো উদ্যোগে সহযোগিতা, মন্দ সিদ্ধান্তে কঠোর প্রতিরোধ: দ্ব্যর্থহীন ঘোষণা

সংবাদ সম্মেলনের শেষ অংশে বিরোধী দলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান তাঁর দলের রাজনৈতিক দূরদর্শিতা ও গঠনমূলক বিরোধী রাজনীতির এক চমৎকার রূপরেখা তুলে ধরেন। তিনি স্পষ্ট করেন যে, জামায়াতে ইসলামী অন্ধ বিরোধিতায় বিশ্বাসী নয়। সরকার যদি দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষা, অর্থনৈতিক মুক্তি এবং জনকল্যাণের জন্য কোনো ধরণের ভালো, ইতিবাচক ও প্রগতিশীল উদ্যোগ গ্রহণ করে, তবে দেশের বৃহত্তম বিরোধী দল হিসেবে তারা সরকারকে সব ধরণের প্রফেশনাল ও নৈতিক সহযোগিতা প্রদান করবে।

আরও পড়ুন: পরমাণু স্থাপনা পরিদর্শনে আইএইএ-কে অনুমতি দেবে না ইরান, ট্রাম্পের পাল্টা দাবি

তবে এর বিপরীতে সরকার যদি কোনো ধরণের গণবিরোধী কালো আইন পাস করে কিংবা জনগণের স্বার্থ ক্ষুণ্ন করে এমন কোনো জাতীয় সিদ্ধান্ত নেয়, তবে তার বিরুদ্ধে ঘরে বসে থাকা হবে না। ডা. শফিকুর রহমান দ্ব্যর্থহীন কণ্ঠে ঘোষণা করেন, "জনগণের স্বার্থের পরিপন্থী যেকোনো সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আমরা প্রথমে নিয়মতান্ত্রিক উপায়ে রাজপথে তীব্র প্রতিবাদ করব এবং পরিস্থিতি বিবেচনায় তা সর্বশক্তি দিয়ে প্রয়োজনে কঠোরভাবে প্রতিরোধ করব। আমি আবারও দেশের কোটি কোটি জনতাকে আশ্বস্ত করে বলতে চাই, কেউ আমাদের ন্যায্য অধিকার আমাদের থালায় সাজিয়ে দেবে না, তা লড়াই করে ছিনিয়ে নিতে হবে। আমরা জনগণের পাশে ছিলাম, আছি এবং অধিকার আদায় না হওয়া পর্যন্ত এই রাজপথের লড়াই জারি রাখব।"

দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনের প্রতিটি অন্তিম মুহূর্তের খবর, বিরোধী দলের মাঠ পর্যায়ের আন্দোলনের সর্বশেষ আপডেট, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত এবং দেশের আনাচে-কানাচে ঘটে যাওয়া প্রতিটি ঘটনার প্রফেশনাল ও শতভাগ ইউনিক বিশ্লেষণ সবার আগে পেতে ‘দিগন্ত বাংলা নিউজ’ পোর্টাল সর্বদা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

নিউজ সূত্র: বিরোধী দলীয় নেতার প্রেস উইং ও জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় মিডিয়া সেল

Post a Comment

আপনার মূল্যবান মতামত আমাদের জানান। কোনো উসকানিমূলক বা অশালীন মন্তব্য করা থেকে বিরত থাকুন।

নবীনতর পূর্বতন