মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও কৌশলগত সমুদ্রপথ হরমুজ প্রণালী ব্যবহার নিয়ে বড় ধরনের ছাড় ঘোষণা করেছে ইরান। তেহরানের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বিশ্বের কিছু নির্দিষ্ট 'বন্ধুপ্রতিম' রাষ্ট্রের জন্য এই জলপথ ব্যবহারের নির্ধারিত ফি মওকুফ করা হয়েছে। এই পদক্ষেপকে বৈশ্বিক রাজনীতিতে ইরানের মিত্র বলয় শক্তিশালী করার কৌশল হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা।
মিত্রদের জন্য বিশেষ সুবিধা:
মস্কোয় নিযুক্ত ইরানের রাষ্ট্রদূত কাজেম জালালি এই সিদ্ধান্তের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, বর্তমানে রাশিয়ার মতো মিত্র রাষ্ট্রগুলোর ক্ষেত্রে এই ছাড় কার্যকর রয়েছে। জালালি আরও উল্লেখ করেন যে, আপাতত ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এই বিশেষ সুবিধা কার্যকর রাখতে কাজ করছে, তবে ভবিষ্যতে এই নীতির কোনো পরিবর্তন হবে কি না তা পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করবে।
কৌশলগত বার্তা ও মার্কিন অবরোধ:
যুক্তরাষ্ট্রের আরোপিত কঠোর সামুদ্রিক অবরোধের প্রতিক্রিয়ায় ইরানের এই সিদ্ধান্ত অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। এর মাধ্যমে তেহরান একদিকে যেমন মিত্র দেশগুলোর সঙ্গে বাণিজ্যিক ও সামরিক সম্পর্ক গভীর করছে, অন্যদিকে হরমুজ প্রণালীর ওপর নিজেদের একচ্ছত্র নিয়ন্ত্রণের বিষয়টি বিশ্ববাসীকে মনে করিয়ে দিচ্ছে। হরমুজ প্রণালী দিয়ে বিশ্বের মোট জ্বালানি তেলের একটি বিশাল অংশ পরিবাহিত হয়, ফলে এই ঘোষণা বৈশ্বিক অর্থনীতিতেও প্রভাব ফেলতে পারে।
মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক তৎপরতা:
ইরানের এই ঘোষণার মধ্যেই মধ্যপ্রাচ্যে পুনরায় সামরিক উপস্থিতি জোরদার করার খবর দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। জানা গেছে, মার্কিন বিমানবাহী রণতরী 'ইউএসএস জর্জ এইচডব্লিউ বুশ' ইতিমধ্যে সেন্টকমের (CENTCOM) দায়িত্বপূর্ণ এলাকায় প্রবেশ করেছে। সেন্টকম জানিয়েছে, রণতরীটি বর্তমানে ভারত মহাসাগর হয়ে ধীরে ধীরে মধ্যপ্রাচ্যের দিকে অগ্রসর হচ্ছে। তবে এটি আগে থেকে মোতায়েন থাকা কোনো জাহাজকে প্রতিস্থাপন করবে নাকি অতিরিক্ত শক্তি হিসেবে যোগ দেবে, সে বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি।
উপসংহার:
হরমুজ প্রণালী নিয়ে ইরানের এই নমনীয় নীতি এবং অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের রণতরী মোতায়েন মধ্যপ্রাচ্যের উত্তপ্ত পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে। তেহরান আপাতত পূর্ণমাত্রার সংঘাতের চেয়ে কৌশলগত ও অর্থনৈতিক মিত্রতার মাধ্যমেই পশ্চিমা চাপ মোকাবিলা করতে চাইছে বলে প্রতীয়মান হচ্ছে।
সূত্র: মিডল ইস্ট আই।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন
আপনার মূল্যবান মতামত আমাদের জানান। কোনো উসকানিমূলক বা অশালীন মন্তব্য করা থেকে বিরত থাকুন।