যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটনে সাংবাদিকদের বার্ষিক নৈশভোজে ভয়াবহ বন্দুক হামলার ঘটনায় কোনো আন্তর্জাতিক চক্র বা ইরানের সংশ্লিষ্টতার দাবি নাকচ করে দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি জানিয়েছেন, সন্দেহভাজন বন্দুকধারী একাই এই হামলার পরিকল্পনা করেছিল এবং এর সাথে ইরান যুদ্ধের কোনো যোগসূত্র নেই।
সংবাদ সম্মেলনে ট্রাম্পের বক্তব্য:
স্থানীয় সময় শনিবার (২৫ এপ্রিল) হোয়াইট হাউসে আয়োজিত এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ঘটনার বিস্তারিত তুলে ধরেন। তিনি বলেন, “আজ রাতে যা ঘটেছে আমরা তা গভীরভাবে খতিয়ে দেখেছি। সন্দেহভাজন ব্যক্তি ছিল একজন সম্ভাব্য আততায়ী যার কাছে একাধিক শক্তিশালী অস্ত্র ছিল।” ট্রাম্প আরও জানান, ওই ব্যক্তি নিরাপত্তার কড়াকড়ি উপেক্ষা করে সিকিউরিটি চেকপোস্ট ভেঙে অনুষ্ঠানস্থলের ভেতরে ঢুকে পড়েছিল।
নিরাপত্তা ঝুঁকি ও প্রাণরক্ষা:
ওয়াশিংটন হিলটন হোটেলে যখন হোয়াইট হাউস করেসপন্ডেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের নৈশভোজ চলছিল, ঠিক সেই মুহূর্তে এই হামলার ঘটনা ঘটে। ঘটনার আকস্মিকতায় সিক্রেট সার্ভিস দ্রুত প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ও ফার্স্ট লেডি মেলানিয়া ট্রাম্পকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেয়। প্রেসিডেন্ট স্বীকার করেন যে, ভবনটি পর্যাপ্ত নিরাপদ ছিল না। তবে একজন নিরাপত্তা কর্মকর্তা গুলিবিদ্ধ হলেও বুলেটপ্রুফ জ্যাকেট পরা থাকায় তিনি বড় ধরনের বিপদ থেকে বেঁচে গেছেন।
গ্রেপ্তার ও পরবর্তী পদক্ষেপ:
হামলার প্রায় এক ঘণ্টা পর প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প তাঁর নিজস্ব সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ নিশ্চিত করেন যে, সন্দেহভাজন বন্দুকধারীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। উদ্ভূত পরিস্থিতির কারণে অনুষ্ঠানটি স্থগিত করা হয়েছে এবং আগামী ৩০ দিনের মধ্যে নতুন সময়সূচি ঘোষণা করা হবে বলে তিনি জানান।
ফার্স্ট লেডির অবস্থা ও গণমাধ্যমের প্রশংসা:
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এই ঘটনাকে ফার্স্ট লেডির জন্য ‘অত্যন্ত ট্রমাটিক’ বা মানসিক বেদনাদায়ক হিসেবে বর্ণনা করেছেন। শুরুতে মেলানিয়া অনুষ্ঠানস্থলে থাকতে চাইলেও নিরাপত্তার স্বার্থে তাঁকে সরে যেতে হয়। সংবাদ সম্মেলনে ট্রাম্প এই সংকটময় পরিস্থিতিতে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করায় সংবাদমাধ্যমের ভূয়সী প্রশংসা করেন।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন
আপনার মূল্যবান মতামত আমাদের জানান। কোনো উসকানিমূলক বা অশালীন মন্তব্য করা থেকে বিরত থাকুন।