ব্রেকিং নিউজ

শুরু হলো ২০২৭ সালের হজের প্রাক-নিবন্ধন: জেনে নিন জরুরি রোডম্যাপ ও সময়সীমা

শুরু হলো ২০২৭ সালের হজের প্রাক-নিবন্ধন: জেনে নিন জরুরি রোডম্যাপ ও সময়সীমা
ছবি: সংগৃহীত

ইসলামী ডেস্ক: শামীম হোসাইন / দিগন্ত বাংলা নিউজ

ঢাকা: বিশ্বের মুসলিম উম্মাহর অন্যতম প্রধান ধর্মীয় উৎসব ও পবিত্র ইবাদত হলো হজ পালন করা। প্রতি বছরের মতো এবারও বাংলাদেশের ধর্মপ্রাণ মুসলিমদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি সুখবর প্রকাশ করেছে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়। ২০২৭ সালে সৌদি আরবের পবিত্র নগরী মক্কা ও মদিনায় অত্যন্ত সুষ্ঠু ও সুশৃঙ্খল পরিবেশের মধ্য দিয়ে যারা পবিত্র হজব্রত পালন করার আন্তরিক ইচ্ছা পোষণ করছেন, তাদের জন্য হজের প্রাক-নিবন্ধন বা প্রি-রেজিস্ট্রেশন প্রক্রিয়া আনুষ্ঠানিকভাবে চালু করা হয়েছে। আজ বুধবার (১ জুলাই, ২০২৬) থেকে দেশব্যাপী এই প্রাক-নিবন্ধন কার্যক্রম শুরু করার বিষয়ে ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয় এক জরুরি প্রশাসনিক প্রজ্ঞাপন ও বার্তার মাধ্যমে দেশবাসীকে নিশ্চিত করেছে। বাংলাদেশ থেকে আগামী বছর হজে গমনেচ্ছুকদের প্রথম ও প্রধান আইনি ধাপ হিসেবে এই প্রাক-নিবন্ধন করা অত্যন্ত আবশ্যক।

আরও পড়ুন: হোলি আর্টিজান ট্র্যাজেডির ১০ বছর: এক দশকের ক্ষত ও রক্তাক্ত স্মৃতির উপাখ্যান

মন্ত্রণালয়ের অফিশিয়াল তথ্য এবং নির্দেশিকা অনুযায়ী, রাজকীয় সৌদি আরব সরকারের নির্ধারিত কঠোর সময়সূচি ও আন্তর্জাতিক কোটা ব্যবস্থাপনা অনুসরণ করে আগামী ২৬ সেপ্টেম্বরের মধ্যেই হজের চূড়ান্ত ও মূল নিবন্ধন কার্যক্রম সম্পন্ন করতে হবে। অন্যথায় পরবর্তীতে হজে যাওয়ার কোনো সুযোগ থাকবে না। তাই যে সমস্ত আগ্রহী আল্লাহর মেহমান ও হজযাত্রী আগামী বছর হজ করতে চান, তাদেরকে কোনো প্রকার বিলম্ব না করে এই নির্ধারিত ও সংক্ষিপ্ত সময়ের মধ্যেই নিজেদের প্রাথমিক প্রাক-নিবন্ধন সম্পন্ন করার জন্য বিশেষভাবে আহ্বান জানানো হয়েছে। মূলত সৌদি সরকারের ঘোষিত আধুনিক হজ রোডম্যাপ অত্যন্ত নিখুঁতভাবে অনুসরণ করে বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে এই বিশেষ সময়সীমা ও বিধিমালা কঠোরভাবে নির্ধারণ করা হয়েছে।

মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে হজযাত্রীদের উদ্দেশ্যে প্রচারিত বিশেষ সচেতনতামূলক বার্তায় বলা হয়েছে যে, যারা ২০২৭ সালের হজের জন্য মানসিকভাবে প্রস্তুতি নিচ্ছেন, তারা যেন চলতি বছরের ১ জুলাই থেকেই দ্রুত নিজেদের প্রাক-নিবন্ধন প্রক্রিয়া শেষ করেন। সৌদি সরকারের কঠোর আন্তর্জাতিক রোডম্যাপ অনুযায়ী, চলতি ২০২৬ সালের ২৬ সেপ্টেম্বরের পর কোনো অবস্থাতেই আর কোনো নতুন আবেদন বা নিবন্ধন গ্রহণ করা হবে না। হজের পুরো প্রক্রিয়াটি যেন স্বচ্ছ এবং দুর্নীতিমুক্ত উপায়ে সম্পন্ন করা যায়, সেজন্য এবার শুরু থেকেই প্রযুক্তিবান্ধব ই-হজ সিস্টেমের মাধ্যমে এই নিবন্ধন কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে।

এই নতুন ও আগাম হজ রোডম্যাপের পটভূমি ব্যাখ্যা করতে গিয়ে মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা জানান যে, গত ২৯ মে সৌদি আরবের পবিত্র শহর জেদ্দায় এক জাঁকজমকপূর্ণ ও অনাড়ম্বর আন্তর্জাতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছিল সৌদি হজ ও উমরাহ মন্ত্রণালয়। ওই বিশেষ অনুষ্ঠানে রাজকীয় সৌদি সরকারের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে ২০২৭ সালের হজের সম্পূর্ণ সময়সূচি ও বার্ষিক পরিকল্পনা ঘোষণা করা হয় এবং বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে আমন্ত্রিত হয়ে আসা ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রীদের কাছে সেই রোডম্যাপের অনুলিপি আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করা হয়। বাংলাদেশের সম্মানিত ধর্মমন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জাল হোসেন আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে ওই আন্তর্জাতিক অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের পক্ষে সশরীরে অংশগ্রহণ করেছিলেন।

জেদ্দার সেই বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানে সৌদি হজ ও উমরাহ মন্ত্রণালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিষয়ক সহকারী মন্ত্রী ড. আল হাসান বিন ইয়াহইয়া আল মানাখরাহ অত্যন্ত সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে বাংলাদেশের ধর্মমন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জাল হোসেনের হাতে আনুষ্ঠানিকভাবে ২০২৭ সালের হজের রোডম্যাপ ও নির্দেশিকা তুলে দেন। এর ফলে বাংলাদেশ অন্যান্য মুসলিম দেশের তুলনায় অনেক আগেই নিজেদের অভ্যন্তরীণ হজ ব্যবস্থাপনা ও বিমান টিকিট বুকিংয়ের কাজ গুছিয়ে নেওয়ার এক দারুণ সুবর্ণ সুযোগ পেয়েছে।

আরও পড়ুন: সরিষাবাড়ীতে মাদ্রাসা থেকে ফেরার পথে পুকুরে ডুবে শিক্ষার্থীর মর্মান্তিক মৃত্যু

সৌদি সরকারের সেই আন্তর্জাতিক রোডম্যাপের সুনির্দিষ্ট ধারা ও আইনি শর্ত অনুসারে, চলতি বছরের ২৬ সেপ্টেম্বরের মধ্যে বাংলাদেশের সরকারি ও বেসরকারি উভয় ব্যবস্থাপনার হজযাত্রীদের মূল নিবন্ধন কার্যক্রম শতভাগ শেষ করতে হবে। এরপর চলতি বছরের ৮ নভেম্বর সৌদি সরকারের সাথে বাংলাদেশের দ্বিপাক্ষিক চূড়ান্ত হজ চুক্তি সম্পাদিত ও স্বাক্ষরিত হবে, যেখানে বাংলাদেশের মোট কোটা ও সুযোগ-সুবিধার বিষয়টি চূড়ান্ত হবে। চুক্তি স্বাক্ষরের পর পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া হিসেবে ২০২৭ সালের ২৮ জানুয়ারি থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে হজযাত্রীদের জন্য আন্তর্জাতিক হজ ভিসা ইস্যু করার কাজ শুরু করবে সৌদি দূতাবাস।

সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে এবং পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী ২০২৭ সালের ৮ এপ্রিল থেকে বাংলাদেশ থেকে মক্কার উদ্দেশ্যে হজের প্রথম আনুষ্ঠানিক ডেডিকেটেড ফ্লাইট বা বিমান যাত্রা শুরু হবে। আর আকাশে পবিত্র হিজরি সনের জিলহজ মাসের চাঁদ দেখা সাপেক্ষে আগামী ২০২৭ সালের ১৫ মে (অর্থাৎ পবিত্র ০৯ জিলহজ) হজের মূল আনুষ্ঠানিকতা তথা আরাফাতের ময়দানে অবস্থানের মধ্য দিয়ে পবিত্র হজ অনুষ্ঠিত হবে। ধর্ম মন্ত্রণালয় সকল হজযাত্রীকে দালালের খপ্পর থেকে দূরে থেকে সরকারি নিয়ম মেনে এজেন্সির মাধ্যমে প্রাক-নিবন্ধন করার পরামর্শ দিয়েছে।

নিউজের সূত্র: গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের হজ অনুবিভাগ এবং সৌদি হজ ও উমরাহ মন্ত্রণালয়ের প্রেস উইং।

 

Post a Comment

আপনার মূল্যবান মতামত আমাদের জানান। কোনো উসকানিমূলক বা অশালীন মন্তব্য করা থেকে বিরত থাকুন।

নবীনতর পূর্বতন