ঢাকা: পবিত্র ইসলাম ধর্মের অন্যতম প্রধান ও গুরুত্বপূর্ণ আর্থিক এবং শারীরিক ইবাদত হলো মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের উদ্দেশ্যে পবিত্র মক্কা নগরীতে হজ পালন করা। প্রতি বছরের মতো এবারও বাংলাদেশের ধর্মপ্রাণ মুসলিমদের হজের পুরো প্রক্রিয়াটিকে আরও বেশি সহজ, নিরাপদ, প্রযুক্তিগতভাবে আধুনিক ও সুশৃঙ্খল করার লক্ষ্যে প্রাতিষ্ঠানিক প্রস্তুতি শুরু করে দিয়েছে বাংলাদেশ সরকারের ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়। সেই ধারাবাহিকতায় পবিত্র হজের প্রাক-নিবন্ধন বা প্রাথমিক আবেদনের সময় পবিত্র কাবা শরিফে গমনেচ্ছু সাধারণ হজযাত্রীদের আবশ্যিকভাবে ও বাধ্যতামূলকভাবে যেসব গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র ও ব্যক্তিগত তথ্য প্রদান করতে হবে, তা বিস্তারিত জানিয়ে এক জরুরি ও বিশেষ প্রাতিষ্ঠানিক সরকারি বিজ্ঞপ্তি জারি করেছে দেশের ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়। আজ বুধবার (১ জুলাই) সচিবালয়ের সংশ্লিষ্ট বিভাগ থেকে হজে গমনেচ্ছু সর্বস্তরের জনসাধারণের অবগতির জন্য এই গুরুত্বপূর্ণ অফিসিয়াল বিজ্ঞপ্তিটি আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হয়, যা দেশের হজের সার্বিক ব্যবস্থাপনায় একটি বড় ও দায়িত্বশীল পদক্ষেপ।
আরও পড়ুন: মহাকাশে আধিপত্যের লড়াই: চাঁদে স্থায়ী মানব ঘাঁটি বানানোর মহাপরিকল্পনা নাসার
ধর্ম মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জারি করা ওই বিশেষ বিজ্ঞপ্তিতে অত্যন্ত স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে যে, সুদূর সৌদি আরবে পবিত্র হজব্রত পালনের উদ্দেশ্যে যাত্রার প্রথম ও সবচেয়ে প্রধান প্রাথমিক আইনি ধাপ হলো হজের প্রাক-নিবন্ধন প্রক্রিয়া সফলভাবে সম্পন্ন করা। এই প্রাথমিক প্রাক-নিবন্ধনকালে প্রত্যেক হজযাত্রীর নিজের কাছে আবশ্যিকভাবে তাদের হালনাগাদ করা মূল জাতীয় পরিচয়পত্র (NID) অথবা সম্পূর্ণ বৈধ ও মেয়াদসম্পন্ন বাংলাদেশি আন্তর্জাতিক পাসপোর্ট অথবা আইনানুগ ডিজিটাল জন্মসনদ অবশ্যই থাকতে হবে। এর পাশাপাশি আবেদনকারীর সাম্প্রতিক সময়ে তোলা একদম স্পষ্ট পাসপোর্ট সাইজের রঙিন ছবি, সার্বক্ষণিক সচল ও যোগাযোগের উপযোগী নিজস্ব ব্যক্তিগত মোবাইল নম্বর এবং যেকোনো স্বীকৃত বাণিজ্যিক ব্যাংকের একটি বৈধ সচল ব্যাংক হিসাব নম্বর (Bank Account Number) প্রাক-নিবন্ধন ফরমে যুক্ত করা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। তবে সাধারণ মধ্যবিত্ত ও সাধারণ পরিবারের হজে গমনের সুবিধার্থে নীতিমালায় কিছুটা ছাড় দিয়ে বলা হয়েছে যে, যদি একই পরিবারের একাধিক ব্যক্তি বা রক্তসম্পর্কীয় আত্মীয় একসাথে হজে যেতে চান, তবে তাদের সবার জন্য আলাদা ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খোলার কোনো প্রয়োজন নেই, বরং একই পরিবারের একাধিক সদস্যের জন্য মাত্র একটি একক সচল ব্যাংক অ্যাকাউন্ট নম্বর ব্যবহার করলেও তা হজের পুরো প্রক্রিয়ায় আইনগতভাবে সম্পূর্ণ বৈধ বলে গৃহীত হবে।
মন্ত্রণালয়ের জারি করা নীতিমালায় আরও উল্লেখ করা হয়েছে যে, হজের মতো একটি বিশাল ও আন্তর্জাতিক ধর্মীয় আয়োজনের যাবতীয় আর্থিক লেনদেনকে সম্পূর্ণ প্রতারণামুক্ত, নিরাপদ, স্বচ্ছ এবং রাষ্ট্রীয় ও বৈশ্বিক নিয়মানুযায়ী অত্যন্ত সুশৃঙ্খল করার লক্ষ্যে সরকারি মাধ্যম এবং বেসরকারি কোটার এজেন্সি— উভয় মাধ্যমেরই প্রত্যেক হজযাত্রীর নিজস্ব বা পারিবারিক একটি সক্রিয় ব্যাংক হিসাব থাকা এখন সময়ের দাবিতে অত্যন্ত আবশ্যক একটি বিষয়। এছাড়া ধর্ম মন্ত্রণালয়ের আইটি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে যে, ইতোপূর্বে যেসব ধর্মপ্রাণ হজযাত্রী তাদের প্রাক-নিবন্ধন সম্পন্ন করার সময়ে কোনো কারণে নিজেদের সচল ব্যাংক হিসাবের প্রয়োজনীয় তথ্য বা বিবরণ ডাটাবেজে সাবমিট করেননি, তাদের চূড়ান্ত বা মূল হজ নিবন্ধনের ফরম পূরণ করার সময় অবশ্যই নিজেদের সচল ব্যাংক হিসাবের যাবতীয় তথ্য ডাটাবেজে যুক্ত করতে বিশেষভাবে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
আরও পড়ুন: আত্মশুদ্ধির অমূল্য বাণী: যে উক্তিগুলো মানুষের অন্তরকে কাঁপায় এবং আত্মাকে জাগিয়ে তোলে
বাংলাদেশ ও সৌদি আরব সরকারের পারস্পরিক চুক্তি ও রোডম্যাপ অনুযায়ী, আগামী ২০২৭ সালের পবিত্র ও ঐতিহাসিক হজের জন্য চলতি ১ জুলাই থেকেই দেশজুড়ে প্রাক-নিবন্ধন প্রক্রিয়া অত্যন্ত জাঁকজমকপূর্ণ ও সুশৃঙ্খলভাবে শুরু হয়ে গেছে। পবিত্র সৌদি আরব সরকার কর্তৃক আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষিত আন্তর্জাতিক হজ রোডম্যাপ ও কঠোর নিয়মনীতি অনুসারে, এ বছরের আগামী ২৬ সেপ্টেম্বরের একটি সুনির্দিষ্ট ও চূড়ান্ত সময়সীমার মধ্যেই বাংলাদেশের সকল কোটার হজযাত্রীদের সম্পূর্ণ হজ নিবন্ধন প্রক্রিয়া অত্যন্ত সফলভাবে ও নিখুঁতভাবে সম্পন্ন করতে হবে। অন্যথায় নির্ধারিত সময়ের পরে কোনোভাবেই আর নতুন কোনো প্রাক-নিবন্ধন বা মূল হজ নিবন্ধনের আবেদন গ্রহণ করা হবে না বলে ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের হজ উইং থেকে কঠোরভাবে সতর্ক করে দেওয়া হয়েছে।
নিউজের সূত্র: ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়, বাংলাদেশ সরকার।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন
আপনার মূল্যবান মতামত আমাদের জানান। কোনো উসকানিমূলক বা অশালীন মন্তব্য করা থেকে বিরত থাকুন।