প্রতিবেদন: শামীম হোসাইন / শাহজাদপুর / দিগন্ত বাংলা নিউজ
সৌদি আরবের সামুদ্রিক প্রতিরক্ষা জোটে যুক্ত হলো বাংলাদেশ
আন্তর্জাতিক জলসীমায় জাহাজ চলাচল নিরাপদ রাখা এবং বৈশ্বিক বাণিজ্যের চাকা গতিশীল রাখার লক্ষ্যে সৌদি আরবের উদ্যোগে একটি বহুজাতিক সামুদ্রিক প্রতিরক্ষা জোট গঠনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ এই বৈশ্বিক ও আঞ্চলিক জোটে আনুষ্ঠানিকভাবে যুক্ত হয়েছে বাংলাদেশ। সমুদ্রপথের নিরাপত্তাহীনতা দূর করা এবং নৌচলাচলের ওপর তৈরি হওয়া নানামুখী হুমকি দক্ষতার সাথে মোকাবেলায় এই আন্তর্জাতিক জোট কাজ করবে।
এই জোট গঠনের প্রাথমিক ভিত্তি ও রূপরেখা নির্ধারণের লক্ষ্যে সৌদি প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের আয়োজনে রিয়াধে এক উচ্চপর্যায়ের আন্তর্জাতিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। গত ৩০ জুলাই ২০২৬ (১৬ সফর ১৪৪৮ হিজরি) বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত এ বৈঠকে বিভিন্ন বন্ধুত্বপূর্ণ দেশের সেনাপ্রধান, সামরিক প্রতিনিধি এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের উচ্চপদস্থ প্রতিনিধিদল সশরীরে ও ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে অংশগ্রহণ করেন। বৈঠকে বৈশ্বিক সমুদ্রপথ রক্ষা এবং বাব এল-মান্দেব প্রণালী, লোহিত সাগর ও এডেন উপসাগরে জলদস্যুতা বা অন্যান্য আক্রমণ প্রতিরোধের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।
আরও পড়ুন: ভালুকায় ফেসবুকে বিদায়ী স্ট্যাটাস দিয়ে নিখোঁজের পর তরুণের মরদেহ উদ্ধার
সম্মেলনে বিশ্বের ৫১টি দেশ ও সংস্থাকে আমন্ত্রণ জানানো হলেও ৪৩টি দেশের সেনাপ্রধান ও প্রতিনিধিরা এতে উপস্থিত থেকে সমর্থন জানান। আলোচনা সভায় আন্তর্জাতিক রুটে বাণিজ্যিক জাহাজ ও জ্বালানি পরিবাহী ট্যাঙ্কারের ওপর হামলা রোধে একটি যৌথ প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো গঠনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। জোটের মূল কার্যালয় বা সদর দপ্তর প্রতিষ্ঠিত হবে মধ্যপ্রাচ্যের প্রভাবশালী রাষ্ট্র সৌদি আরবে এবং রিয়াদই এই বৈশ্বিক জোটের নেতৃত্বে থাকবে।
বৈঠক শেষে অংশগ্রহণকারী দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশসহ মোট ১৪টি রাষ্ট্র যৌথ ঘোষণা পত্রে স্বাক্ষর করে জোটটির প্রতি পূর্ণ সমর্থন নিশ্চিত করেছে। দেশগুলোর তালিকায় রয়েছে সৌদি আরব, কুয়েত, বাহরাইন, কাতার, পাকিস্তান, তুরস্ক, মিশর, জর্ডান, ইয়েমেন, বাংলাদেশ, নাইজেরিয়া, সুদান, জিবুতি এবং সোমালিয়া। অন্য আমন্ত্রিত দেশগুলোও নিজ নিজ দেশের জাতীয় আইনি অনুমোদন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার মাধ্যমে দ্রুতই এ জোটে যুক্ত হওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেছে।
আরও পড়ুন: গোপালপুরে অগ্নিকাণ্ডে প্রতিবন্ধী রাসেলের বসতবাড়ি ভস্মীভূত: লক্ষাধিক টাকার ক্ষতি
জোটটি মূলত একটি উন্মুক্ত ও নিরপেক্ষ আন্তর্জাতিক প্রতিরক্ষা প্রয়াস হিসেবে পরিচালিত হবে, যা আন্তর্জাতিক সমুদ্রসীমার স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে কার্যকর ভূমিকা রাখবে। সেনা ও নৌ রূপরেখা চূড়ান্তকরণ, কমান্ড ও কন্ট্রোল সিস্টেম স্থাপন এবং অবকাঠামো নির্মানের কাজ বর্তমানে অব্যাহত রয়েছে। চুক্তি সই ও সার্বিক প্রক্রিয়া শেষে দ্রুতই জোটটি মাঠপর্যায়ে তাদের সামুদ্রিক টহল ও নিরাপত্তা কার্যক্রম শুরু করবে।
সূত্র: সৌদি প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় ও আন্তর্জাতিক ডেস্ক, দিগন্ত বাংলা নিউজ।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন
আপনার মূল্যবান মতামত আমাদের জানান। কোনো উসকানিমূলক বা অশালীন মন্তব্য করা থেকে বিরত থাকুন।