শাহজাদপুর কেন্দ্রীয় মহাশ্মশান পরিচালনা এবং উন্নয়ন কমিটি গঠন সম্পন্ন

শাহজাদপুর কেন্দ্রীয় মহাশ্মশান পরিচালনা এবং উন্নয়ন কমিটি গঠন সম্পন্ন
ছবি: সংগৃহীত

প্রতিবেদন: সুফিয়ান নোমান / শাহজাদপুর / দিগন্ত বাংলা নিউজ

বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ও ঐতিহাসিক জনপদ হিসেবে পরিচিত সিরাজগঞ্জ জেলার শাহজাদপুর উপজেলা বিভিন্ন সংস্কৃতি, কৃষ্টি এবং ধর্মীয় সম্প্রদায়ের মানুষের দীর্ঘদিনের শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের এক অনন্য জনপদ হিসেবে সর্বমহলে পরিচিত। এই অঞ্চলের স্থানীয় অধিবাসীদের সামাজিক এবং ধর্মীয় বিভিন্ন আচার-অনুষ্ঠান সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করার জন্য বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান, ট্রাস্ট এবং সেবামূলক কমিটিগুলো অত্যন্ত সক্রিয়ভাবে কাজ করে আসছে। বিশেষ করে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের শেষকৃত্য সম্পন্ন করার পবিত্র স্থান কেন্দ্রীয় মহাশ্মশানের ব্যবস্থাপনা, রক্ষণাবেক্ষণ এবং সার্বিক অবকাঠামোগত উন্নয়ন সাধনের জন্য একটি সুসংগঠিত ও দায়িত্বশীল পরিচালনা কমিটি থাকা অত্যন্ত জরুরি। দীর্ঘদিন ধরে এই শ্মশানের কার্যক্রমকে আরও বেশি গতিশীল করার লক্ষ্যে স্থানীয় ধর্মীয় নেতৃবৃন্দ এবং গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ একটি দীর্ঘমেয়াদী রূপরেখা নিয়ে চিন্তা-ভাবনা করছিলেন, যার ফলশ্রুতিতে সম্প্রতি এই অঞ্চলের সনাতন সম্প্রদায়ের অংশগ্রহণে একটি অত্যন্ত সুশৃঙ্খল ও উৎসবমুখর সাধারণ সভার মধ্য দিয়ে নতুন নেতৃত্ব নির্বাচন সম্পন্ন হয়েছে।

আরও পড়ুন: কলকাতায় বাংলাদেশি পর্যটকদের হোটেল পাড়ায় অভিযান, ৮ হোটেল সিলগালা

ঘটনার সম্পূর্ণ পটভূমি এবং স্থানীয় সূত্রে প্রাপ্ত দাপ্তরিক ও অনুসন্ধানী তথ্যাবলি থেকে বিস্তারিতভাবে জানা যায় যে, ক্যালেন্ডারের পাতা অনুযায়ী আজকের এই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দিনটি অর্থাৎ গত শুক্রবার সকাল ঠিক ১১.০০ ঘটিকায় শাহজাদপুর উপজেলার কান্দাপাড়া কেন্দ্রীয় মহাশ্মশান চত্বর ও প্রাঙ্গণে এক বিশেষ সাধারণ সভা ও আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়েছিল। শাহজাদপুর উপজেলার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আগত সনাতন ধর্মাবলম্বী বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ, বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ এবং সর্বস্তরের ভক্তপ্রাণ মানুষের সরব উপস্থিতিতে পুরো প্রাঙ্গণ এক প্রাণবন্ত মিলনমেলায় পরিণত হয়। মহাশ্মশানের বর্তমান সার্বিক অবস্থা পর্যালোচনা করা, বিভিন্ন সমস্যা চিহ্নিত করা এবং ভবিষ্যতের উন্নয়ন পরিকল্পনা গ্রহণ করার উদ্দেশ্যে আয়োজিত এই গুরুত্বপূর্ণ সভায় স্থানীয় হিন্দু সম্প্রদায়ের মুরুব্বিরা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মতামত প্রদান করেন। ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য এবং পারস্পরিক সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশের মধ্য দিয়ে এই সাধারণ সভার কার্যক্রম সফলভাবে পরিচালিত হয়, যা স্থানীয় সামাজিক পরিমণ্ডলে এক নতুন উদ্দীপনার সৃষ্টি করেছে।

আয়োজিত এই বিশেষ সাধারণ সভায় অত্যন্ত সুনামের সাথে সভাপতিত্বের দায়িত্ব পালন করেন শাহজাদপুর উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সম্মানিত সভাপতি শ্রী অসীম কুমার সাহা, যাঁর সুচিন্তিত দিকনির্দেশনা পুরো সভার কার্যক্রমকে সুশৃঙ্খল রাখতে বিশেষ ভূমিকা রেখেছিল। এছাড়া পুরো অনুষ্ঠানটির অত্যন্ত সুন্দর ও সাবলীল সঞ্চালনার দায়িত্ব সফলভাবে পালন করেন বিপ্লব কুমার সরকার, যিনি অত্যন্ত দক্ষতার সাথে সভার বিভিন্ন এজেন্ডা উপস্থাপন করেন। সভায় আমন্ত্রিত অতিথি এবং বিশিষ্ট বক্তা হিসেবে বক্তব্য প্রদান করেন শাহজাদপুর উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক শ্রী বাসুদেব দত্ত, শাহজাদপুর প্রেসক্লাবের সম্মানিত সাধারণ সম্পাদক আলামিন হোসেন, এবং পৌর পূজা উদযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক মানিক কুমার সরকারসহ সনাতন ধর্মাবলম্বী সমাজের অন্যান্য শীর্ষস্থানীয় নেতৃবৃন্দ। বক্তাগণ তাঁদের বক্তব্যে মহাশ্মশানের পবিত্রতা রক্ষা, সীমানা প্রাচীর সংস্কার, অভ্যন্তরীণ পরিবেশ উন্নয়ন এবং দাহকার্য পরিচালনার আধুনিক সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধির ওপর বিশেষ জোর দিয়ে মূল্যবান বক্তব্য রাখেন।

সভার মূল আকর্ষণ ও নির্ধারিত এজেন্ডা অনুযায়ী কেন্দ্রীয় মহাশ্মশানের পরিচালনা পর্ষদ এবং সার্বিক উন্নয়ন কার্যক্রমকে আরও বহুলাংশে গতিশীল ও ফলপ্রসূ করার লক্ষ্যে একটি নতুন ও পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠনের প্রক্রিয়া শুরু করা হয়। উপস্থিত সকলের স্বতঃস্ফূর্ত মতামত ও সর্বসম্মতিক্রমে বিভিন্ন পদের বিপরীতে নতুন নেতৃত্বের জন্য প্রার্থী আহ্বান করা হলে স্থানীয় সমাজসেবক ও ধর্মপ্রাণ ব্যক্তিরা একে একে বিভিন্ন পদে নিজেদের নাম ঘোষণা করেন। সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সভাপতি পদে শ্রী রতন বসাক, সাধারণ সম্পাদক পদে শ্রী রাজকুমার নন্দী এবং কোষাধ্যক্ষ পদে পবিত্র কুমার কুণ্ডু আনুষ্ঠানিকভাবে তাঁদের প্রার্থিতা ঘোষণা করেন। অত্যন্ত আনন্দের বিষয় হলো যে, এই গুরুত্বপূর্ণ পদগুলোতে তাদের বিপরীতে অন্য কোনো প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী না থাকায় উপস্থিত সাধারণ সদস্য ও নেতৃবৃন্দের অকুণ্ঠ সমর্থনে তারা সবাই সম্পূর্ণ বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় আনুষ্ঠানিকভাবে নির্বাচিত হিসেবে ঘোষিত হন।

আরও পড়ুন: নাটোরের লালপুরে ৭০ পিস ইয়াবাসহ গুরুদাসপুর ও বড়াইগ্রামের দুই যুবক গ্রেপ্তার

নবগঠিত কমিটির শীর্ষ দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতৃবৃন্দ অর্থাৎ নবনির্বাচিত সভাপতি শ্রী রতন বসাক এবং সাধারণ সম্পাদক শ্রী রাজকুমার নন্দী তাঁদের তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় উপস্থিত সকলের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন এবং নিজেদের অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন। তাঁরা দ্ব্যর্থহীন কণ্ঠে বলেন যে, শাহজাদপুর কেন্দ্রীয় মহাশ্মশানের সার্বিক উন্নয়ন, সৌন্দর্যবর্ধন এবং আধুনিকায়ন করাই হবে তাঁদের কার্যকালের প্রধান ও সর্বাগ্রে বিবেচ্য লক্ষ্য। একই সঙ্গে মহাশ্মশানের তহবিল পরিচালনা, রক্ষণাবেক্ষণ এবং অন্যান্য সাংগঠনিক কার্যক্রমে সর্বোচ্চ মাত্রায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার ওপর তারা বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করেন, যেন সাধারণ মানুষ কোনো ধরনের ভোগান্তির শিকার না হয়। নতুন এই নেতৃত্ব আসার ফলে এলাকার সনাতন ধর্মাবলম্বীদের দীর্ঘদিনের বিভিন্ন সমস্যার সুরাহা হবে এবং মহাশ্মশানের সার্বিক ব্যবস্থাপনা ও সেবামূলক কার্যক্রম আরও অনেক বেশি কার্যকর রূপ লাভ করবে বলে সভায় উপস্থিত সকলে দৃঢ় আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন।

পরিশেষে বলা যায়, শাহজাদপুর কেন্দ্রীয় মহাশ্মশান পরিচালনা ও উন্নয়ন কমিটি গঠনের এই পুরো প্রক্রিয়াটি অত্যন্ত শান্তিপূর্ণ ও গণতান্ত্রিক উপায়ে সম্পন্ন হওয়ার মধ্য দিয়ে স্থানীয় সনাতন সম্প্রদায়ের ঐক্য ও সংহতির এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপিত হয়েছে। নতুন এই কমিটির সুযোগ্য নেতৃত্বে কান্দাপাড়া কেন্দ্রীয় মহাশ্মশানটি অচিরেই আরও বেশি উন্নত ও সুব্যবস্থাপিত একটি পবিত্র তীর্থস্থান হিসেবে গড়ে উঠবে বলে দেশবাসীর পাশাপাশি স্থানীয় জনগণও প্রত্যাশা করছে। সবার সম্মিলিত সহযোগিতা, আন্তরিক সদিচ্ছা এবং সঠিক মনিটরিংয়ের মাধ্যমেই কেবল সামাজিক ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করা সম্ভব হতে পারে। এই ধরনের ইতিবাচক সামাজিক উদ্যোগগুলো স্থানীয় জনপদের সামগ্রিক অগ্রগতিতে সবসময় অগ্রণী ভূমিকা পালন করে আসছে এবং ভবিষ্যতেও তা অব্যাহত থাকবে বলে আমরা বিশ্বাস করি।

সূত্র: শাহজাদপুর মহাশ্মশান কমিটি প্রেস বিজ্ঞপ্তি ও স্থানীয় প্রতিনিধি।

Post a Comment

আপনার মূল্যবান মতামত আমাদের জানান। কোনো উসকানিমূলক বা অশালীন মন্তব্য করা থেকে বিরত থাকুন।

নবীনতর পূর্বতন