প্রতিবেদন: শামীম হোসাইন / শাহজাদপুর / দিগন্ত বাংলা নিউজ
বন্দরনগরী চট্টগ্রামের কর্মজীবী নারীদের প্রতিদিনের যাতায়াত ব্যবস্থাকে আরও বেশি স্বস্তিদায়ক, নিরাপদ এবং হয়রানিমুক্ত করার দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা পূরণের লক্ষে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা হতে যাচ্ছে। নগরের নারীদের জন্য বিশেষভাবে ডিজাইনকৃত এবং সম্পূর্ণ নারী চালক ও কুশীলব পরিচালিত বিশেষ বাস সার্ভিস চালুর উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে, যা আগামী ১৮ আগস্ট থেকে রাজপথে যাত্রী পরিবহন শুরু করতে যাচ্ছে। মূলত বিভিন্ন করপোরেট অফিস, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, ব্যাংক ও শপিংমলে কর্মরত নারীরা প্রতিদিন সকালে গন্তব্যে পৌঁছাতে এবং বিকেলে নিজ গৃহে ফিরতে গিয়ে গণপরিবহনে যে ধরনের নানা প্রতিবন্ধকতা ও অস্বস্তিকর পরিস্থিতির মুখোমুখি হন, তা নিরসনে এই যুগান্তকারী পদক্ষেপটি অত্যন্ত কার্যকরী ভূমিকা পালন করবে বলে সংশ্লিষ্ট মহল আশা প্রকাশ করছেন। দীর্ঘদিন ধরে নগরবাসীর পক্ষ থেকে নারীদের জন্য আলাদা ও সংরক্ষিত গণপরিবহন চালুর জোরালো দাবি জানিয়ে আসা হচ্ছিল, যার বাস্তব রূপায়ণ হিসেবে বিআরটিসির এই বিশেষ বহরটি যুক্ত হচ্ছে।
আরও পড়ুন: জামিরতা বিদ্যালয় ও হাসপাতালের উন্নয়নে প্রতিমন্ত্রীর সাথে মতবিনিময়
প্রাথমিক পর্যায়ে পরীক্ষামূলকভাবে মাত্র দুটি বাস দিয়ে এই কার্যক্রমের শুভসূচনা করা হলেও পরবর্তীতে যাত্রীর চাহিদা ও প্রয়োজনীয়তা বিবেচনা করে নগরীর অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ রুটগুলোতেও এর পরিসর ধাপে ধাপে বিস্তৃত করা হবে। বর্তমান সময়ে নারীদের ক্ষমতায়ন, কর্মক্ষেত্রে তাদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ এবং জনকল্যাণমূলক রাষ্ট্র গঠনে সরকারের এই ধরনের জনবান্ধব সিদ্ধান্তগুলোকে সাধারণ মানুষ অত্যন্ত ইতিবাচক দৃষ্টিতে দেখছে। বিশেষ করে যেসব নারী প্রতিদিন বাসে যাতায়াত করার সময় নানা ধরনের সামাজিক বা পরিবেশগত সংকোচ ও নিরাপত্তার সংকটে ভুগতেন, তাদের জন্য এই গোলাপি রঙের বিশেষ বাসগুলো এক স্বস্তির নিঃশ্বাস হয়ে আসবে। বাসের ভেতরের সুপরিসর আসন ব্যবস্থা এবং আধুনিক সুযোগ-সুবিধা যাত্রীদের দীর্ঘপথের ক্লান্তি দূর করতে দারুণভাবে সাহায্য করবে।
প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, এই বিশেষ বাস সার্ভিসটি চট্টগ্রামের অত্যন্ত ব্যস্ততম এবং জনবহুল রুট হিসেবে পরিচিত কালুরঘাট এলাকা থেকে শুরু হয়ে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্ট অতিক্রম করে পতেঙ্গা পর্যন্ত নিয়মিত চলাচল করবে। কালুরঘাট ও পতেঙ্গার মধ্যকার এই দীর্ঘ যাতায়াত পথে প্রতিদিন হাজার হাজার নারী বিভিন্ন পেশাগত কাজে যাতায়াত করেন, ফলে এই রুটে বাসটি চালু হওয়ার ফলে তাদের যাতায়াতের দীর্ঘদিনের কষ্ট বহুলাংশে লাঘব হবে। বাসের পুরো পরিচালনা পর্ষদ অর্থাৎ চালক থেকে শুরু করে কন্ডাক্টর ও সুপারভাইজার পর্যন্ত প্রতিটি পদে শুধুমাত্র নারী কর্মীরাই তাদের ওপর অর্পিত দায়িত্ব পালন করবেন, যা দেশের গণপরিবহন ইতিহাসে এক অনন্য নজির স্থাপন করতে চলেছে। এর ফলে নারীরা যেকোনো ধরনের দ্বিধা বা সংকোচ ছাড়াই সম্পূর্ণ স্বাধীন ও নিরাপদ পরিবেশে যাতায়াত করার দারুণ সুযোগ পাবেন।
পরিবহন বিশেষজ্ঞদের মতে, নারীদের জন্য ডেডিকেটেড এই ধরনের গণপরিবহন ব্যবস্থা চালুর মাধ্যমে কেবল নারীর নিরাপত্তা নিশ্চিত হওয়াই নয়, বরং সামগ্রিক ট্রাফিক ব্যবস্থার মান উন্নয়ন এবং কর্মমুখী সমাজে নারীদের অংশগ্রহণ আরও বেশি গতিশীল হবে। বর্তমান প্রতিযোগিতাপূর্ণ বিশ্বে নারীর অর্থনৈতিক স্বাধীনতা ও কর্মসংস্থানের সুযোগ দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে, আর সেই অগ্রযাত্রাকে টিকিয়ে রাখতে নিরাপদ যাতায়াতের বিকল্প কিছু হতে পারে না। বাংলাদেশ রোড ট্রান্সপোর্ট কর্পোরেশন বা বিআরটিসির এই কল্যাণমুখী উদ্যোগটি সফল হলে তা অন্যান্য বিভাগীয় শহরগুলোর জন্যও একটি চমৎকার অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে। সাধারণ জনগণ এবং নারী সমাজের পক্ষ থেকে এই মহতী উদ্যোগকে সাধুবাদ জানানো হয়েছে এবং ভবিষ্যতে এর পরিধি আরও ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি করার জোর দাবি জানানো হয়েছে।
পরিশেষে বলা যায়, চট্টগ্রামের নারীদের এই বিশেষ বাস সার্ভিস চালুর মধ্য দিয়ে দেশের গণপরিবহন খাতে এক নতুন যুগের সূচনা হলো। ১৮ আগস্ট থেকে শুরু হওয়া এই সেবা যেন দীর্ঘস্থায়ী হয় এবং কোনো ধরনের ব্যঘাত ছাড়াই নিয়মিত চলতে পারে, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কতৃপক্ষ কঠোর নজরদারি বজায় রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে। নারীদের আত্মবিশ্বাস বৃদ্ধি এবং সমাজের মূল স্রোতোধারায় তাদের অবদানকে আরও সুদৃঢ় করতে এই ধরনের জনকল্যাণমূলক কার্যক্রমের বিস্তার অত্যন্ত জরুরি। পরিচ্ছন্ন ব্যবস্থাপনা এবং সুশৃঙ্খল পরিবেশের মাধ্যমে এই বাসগুলো খুব দ্রুতই নগরবাসীর আস্থা অর্জন করতে সক্ষম হবে বলে সচেতনমহল মনে করছেন।
সূত্র: নিজস্ব প্রতিবেদক ও সংগৃহীত তথ্য।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন
আপনার মূল্যবান মতামত আমাদের জানান। কোনো উসকানিমূলক বা অশালীন মন্তব্য করা থেকে বিরত থাকুন।