ব্রেকিং নিউজ

ডিজিটাল সাফল্যের গোপন চাবিকাঠি: কখন পোস্ট করলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভিউ ও রিচ বাড়ে

ডিজিটাল সাফল্যের গোপন চাবিকাঠি: কখন পোস্ট করলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভিউ ও রিচ বাড়ে
ছবি: সংগৃহীত

 তথ্যপ্রযুক্তি ডেস্ক: শামীম হোসাইন / দিগন্ত বাংলা নিউজ

ঢাকা: বর্তমান একবিংশ শতাব্দীর বৈপ্লবিক ডিজিটাল যুগে এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার চরম উৎকর্ষের সময়ে এসে বিশ্বজুড়ে অনলাইন বা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ভার্চুয়াল প্ল্যাটফর্মগুলোতে সফলতার চূড়ায় আরোহণ করতে হলে শুধুমাত্র একটি আকর্ষণীয় ও উচ্চ গুণমানসম্পন্ন কনটেন্ট বা ভিডিও তৈরি করাই কিন্তু একমাত্র শেষ কথা নয়। বৈশ্বিক ডিজিটাল বিপণন ব্যবস্থার দিকে তাকালে প্রায়শই দেখা যায় যে, অত্যন্ত নিখুঁত ও চমৎকার আঙ্গিকে তৈরি করা কোনো তথ্যবহুল ভিডিও কিংবা লিখিত পোস্টও অনেক সময় আশানুরূপ দর্শকের কাছে পৌঁছাতে পুরোপুরি ব্যর্থ হচ্ছে এবং মুখ থুবড়ে পড়ছে। আবার এর ঠিক বিপরীত চিত্রে দেখা যায় যে, তুলনামূলকভাবে অত্যন্ত সাধারণ মানের কিংবা সাদামাটা ঘরানার কোনো একটি ভিডিও ক্লিপ বা ছবি সোশ্যাল মিডিয়ার জগতে আপলোড করার পর তা মুহূর্তের মধ্যেই কোটি মানুষের টাইমলাইনে ছড়িয়ে পড়ছে এবং ব্যাপকভাবে ভাইরাল হয়ে যাচ্ছে। এই রহস্যময় ও বৈসাদৃশ্যপূর্ণ ঘটনার পেছনে মূলত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের আধুনিক অ্যালগরিদমের অত্যন্ত জটিল বিন্যাস, পোস্ট প্রকাশের সুনির্দিষ্ট সময়, নির্দিষ্ট মুহূর্তে সক্রিয় থাকা দর্শকদের লাইভ অনলাইন উপস্থিতি এবং কনটেন্টটি পাবলিশ হওয়ার ঠিক পরপরই প্রাথমিক দর্শকদের কাছ থেকে পাওয়া ক্ষণস্থায়ী এনগেজমেন্টের একটি বিশাল ও অলক্ষিত ভূমিকা কাজ করে। ফলে বর্তমান যুগের পেশাদার কনটেন্ট ক্রিয়েটর ও আইটি বিশেষজ্ঞদের নিকট কনটেন্টের অভ্যন্তরীণ মানের পাশাপাশি সঠিক ও জাদুকরী সময় নির্বাচন করার বিষয়টি এখন ডিজিটাল মার্কেটিং ও অনলাইন সাফল্যের অন্যতম প্রধান কৌশলগত হাতিয়ার হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে।

বিশ্বখ্যাত ডিজিটাল বিপণন বিশেষজ্ঞদের গভীর গবেষণামূলক মতামত বিশ্লেষণ করলে স্পষ্ট জানা যায় যে, আপনি কত বড় নামকরা নির্মাতা বা কত ভালো মানের এডিটিং করেছেন, তার ওপর কিন্তু আপনার কনটেন্টটি কত বেশি মানুষের কাছে পৌঁছাবে বা অর্গানিক রিচ পাবে তার শতভাগ কোনো গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তা নেই। প্রতিটি বড় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের নিজস্ব কিছু স্বয়ংক্রিয় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাসম্পন্ন অ্যালগরিদম থাকে, যার সফলতা নির্ভর করে প্রধানত পোস্ট প্রকাশের একদম নিখুঁত টাইমিংয়ের ওপর। এর পাশাপাশি আপনার নির্দিষ্ট টার্গেটেড অডিয়েন্স বা দর্শকদের বড় একটি অংশ দিনের কোন বিশেষ প্রহরে ইন্টারনেট বা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজেদের মোবাইল স্ক্রিনে সবচেয়ে বেশি সক্রিয় ও লাইভ অবস্থান করছেন, তাও সমান গুরুত্বপূর্ণ। কারণ আপনি যখন এমন একটি সময়ে পোস্ট পাবলিশ করবেন যখন দর্শকেরা অনলাইনে নেই, তখন সেই কনটেন্টটি মুহূর্তের মধ্যেই অ্যালগরিদমের ফিডের নিচে তলিয়ে যাবে। তাই কনটেন্টটি আপলোড করার ঠিক পরপরই দর্শকদের কাছ থেকে লাইক, কমেন্ট ও শেয়ারের মাধ্যমে যে প্রাথমিক ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া বা ফিডব্যাক পাওয়া যায়, তা-ই মূলত একটি পোস্টকে লাখ লাখ মানুষের টাইমলাইনে স্বয়ংক্রিয়ভাবে বুস্ট করার মূল জ্বালানি হিসেবে কাজ করে।

বৈশ্বিক প্রযুক্তিবিদ ও আইটি বিশেষজ্ঞদের ধারণা ও পরিসংখ্যান অনুযায়ী, আগামী এক দশকের মধ্যে পৃথিবীর চিত্র এতটা আমূল বদলে যাবে যে, বিশ্বের প্রতি তিনজন সাধারণ মানুষের মধ্যে অন্তত একজন মানুষ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কোনো না কোনো ঘরানার পেশাদার কনটেন্ট নির্মাতা হিসেবে নিজেদের ক্যারিয়ার গড়ে তুলবেন। এমনকি এদেশের প্রায় প্রতিটি মধ্যবিত্ত বা উচ্চবিত্ত পরিবারেই অন্তত একজন করে হলেও স্বাধীন ডিজিটাল কনটেন্ট ক্রিয়েটর বা ইনফ্লুয়েন্সার খুঁজে পাওয়া যাবে। এর ফলে সামনের দিনগুলোতে অনলাইনের বাজারে প্রতিযোগিতার পারদ স্বাভাবিকভাবেই বহুগুণ বৃদ্ধি পাবে, যেখানে প্রতিটি নতুন ও পুরোনো ক্রিয়েটরের মূল লক্ষ্য ও স্বপ্ন থাকবে একই সুতোয় গাঁথা— তা হলো কীভাবে সবচেয়ে বেশি সংখ্যক মানুষের কাছে নিজেদের কনটেন্ট নিয়ে পৌঁছানো যায় এবং কীভাবে খুব দ্রুততম সময়ে নিজেদের তৈরি করা ভিডিওটি ভাইরাল করা সম্ভব হয়। বর্তমান বাজারে অনেক সময় একটি মজার বাস্তবতা দেখা যায় যে, একই রকম কোনো বড় রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠান, খেলাধুলা কিংবা বিনোদনমূলক উৎসব থেকে তৈরি করা দুটি প্রায় হুবহু অভিন্ন কোয়ালিটির ভিডিও যদি দুইজন ভিন্ন নির্মাতা একই সময়ে দুই প্ল্যাটফর্মে প্রকাশ করেন, তবে একটি ভিডিওর ভিউ মাত্র কয়েক ঘণ্টায় লাখের ঘর ছাড়িয়ে মিলিয়ন ছুঁয়ে ফেলে, অথচ অন্যটি হাজার ভিউয়ের কোটাও স্পর্শ করতে পারে না। এমন বৈষম্যমূলক ফলাফলের কারণে স্বাভাবিকভাবেই প্রতিটি নতুন তথ্যপ্রযুক্তি প্রেমী মানুষের মনে একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন বারবার উঁকি দেয় যে, সোশ্যাল মিডিয়াতে পোস্ট করার সঠিক সময়টি কি আসলেই এতটাই তাৎপর্যপূর্ণ ও অলৌকিক প্রভাব বিস্তারকারী বিষয়?

আরও পড়ুন: ফোন নম্বর ছাড়াই মেসেজিং: হোয়াটসঅ্যাপে আসছে যুগান্তকারী ইউজারনেম ফিচার

বিশ্বের বিভিন্ন নামকরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম নিয়ে আন্তর্জাতিকভাবে পরিচালিত দীর্ঘমেয়াদী আইটি গবেষণা ও ডেটা অ্যানালাইসিস রিপোর্ট বলছে যে, একটি সপ্তাহের সব দিনে মানুষের ইন্টারনেট ব্যবহারের মানসিকতা ও আচরণ কখনোই একরকম থাকে না। সপ্তাহের মাঝামাঝি কর্মদিবসের দিনগুলোতে সাধারণত সারা বিশ্বের ইন্টারনেট ব্যবহারকারীদের সামগ্রিক সক্রিয়তা ও সোশ্যাল মিডিয়ায় স্ক্রলিং করার প্রবণতা তুলনামূলকভাবে অনেক বেশি থাকে। বিশেষ করে প্রতি সপ্তাহের মঙ্গলবার, বুধবার এবং বৃহস্পতিবার এই তিনটি দিনকে ডিজিটাল মার্কেটিংয়ের ভাষায় কনটেন্ট আপলোডের জন্য অত্যন্ত উর্বর সময় হিসেবে বিবেচনা করা হয়, কারণ এই দিনগুলোতে যেকোনো মানসম্মত পোস্ট সাবমিট করলে সবচেয়ে ভালো রেসপন্স ও সর্বোচ্চ এনগেজমেন্ট পাওয়ার সম্ভাবনা অনেকাংশে বেড়ে যায়। তবে আমাদের বাংলাদেশের ভৌগোলিক প্রেক্ষাপট এবং স্থানীয় বাঙালি ব্যবহারকারীদের যাপনচিত্র ও ইন্টারনেটের ব্যবহারের অভ্যাস বিশ্লেষণ করলে দেখা যায় যে, এদেশের মানুষের জন্য প্রতিদিন সন্ধ্যা ৭টা থেকে শুরু করে রাত ১০টা পর্যন্ত সময়টুকুকে সাধারণভাবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের আসল 'প্রাইম টাইম' হিসেবে বিশ্বস্ততার সাথে গণ্য করা হয়। এর প্রধান ও সবচেয়ে বড় কারণ হলো, বাংলাদেশের একটি বড় অংশের মানুষ সাধারণত দিনের বেলা নিজ নিজ চাকরি, ব্যবসা বা পড়ালেখার কাজে চরম ব্যস্ত থাকেন এবং দিনশেষে সন্ধ্যায় ঘরে ফিরে যখন তারা একটু অবসর বা বিশ্রামের সুযোগ পান, ঠিক তখনই বিনোদনের খোঁজে সবচেয়ে বেশি পরিমাণে অনলাইনে সক্রিয় হয়ে ওঠেন।

তবে আইটি বিশেষজ্ঞদের মতে, এই সাধারণ নিয়মের চেয়েও যে বিষয়টি আপনার অনলাইন ক্যারিয়ারে সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ ও ফলপ্রসূ ভূমিকা রাখতে পারে, তা হলো আপনার নিজস্ব পেজ বা চ্যানেলের দর্শকদের একদম নিজস্ব আচরণগত ডেটা। অর্থাৎ আপনার তৈরি করা নির্দিষ্ট ক্যাটাগরির ভিডিওগুলো যারা পছন্দ করেন, সেই বিশেষ দর্শকেরা মূলত ২৪ ঘণ্টার মধ্যে কখন সবচেয়ে বেশি ফেসবুক বা ইউটিউবে অনলাইনে সক্রিয় থাকেন, তা আপনাকে খুঁজে বের করতে হবে। আর এই জন্য একজন প্রফেশনাল ক্রিয়েটরকে নিয়মিত বিরতিতে নিজের ফেসবুক পেজের ইনসাইটস বা চ্যানেলের অ্যাডভান্সড অ্যানালাইটিকস ড্যাশবোর্ড খুব গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ ও স্টাডি করা উচিত, যা ব্যবহারকারীকে তার অডিয়েন্সের লাইভ থাকার সঠিক গ্রাফ নিখুঁতভাবে প্রদর্শন করে।

বর্তমান সময়ে এসে এটি আমাদের খুব ভালো করে বুঝতে হবে যে, গুগল বা মেটার মতো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ব্যাকগ্রাউন্ডে কাজ করা অ্যালগরিদম সিস্টেম আগের আমলের তুলনায় এখন বহুগুণ বেশি বুদ্ধিমান ও সংবেদনশীল হয়ে উঠেছে। এখনকার দিনে কোনো ভিডিওর রিচ বা ভাইরাল হওয়ার বিষয়টি শুধু বাহ্যিক কিছু লাইক বা রিয়্যাকশনের ওপর ভিত্তি করে নির্ধারিত হয় না; বরং একটি ভিডিও স্ক্রিনে আসার পর একজন সাধারণ ব্যবহারকারী সেটি স্কিপ না করে ঠিক কতক্ষণ ধরে মনোযোগ সহকারে দেখছেন, অর্থাৎ তার ওয়াচটাইম বা রিটেনশন রেট কত বেশি, তার ওপর অ্যালগরিদমের মূল অ্যালগরিদম কাজ করে। এর পাশাপাশি কতজন দর্শক সেই ভিডিওটি দেখার পর তাদের নিজেদের ভালো লাগা থেকে সেটি নিজেদের ওয়ালে শেয়ার করছেন, কতজন মানুষ ভবিষ্যতের জন্য পোস্টটি সেভ করে রাখছেন এবং কমেন্ট বক্সে এসে কতখানি অর্থবহ ও দীর্ঘ মন্তব্য বা সুস্থ আলোচনায় অংশ নিচ্ছেন— এই সমস্ত গভীর প্যারামিটারগুলোই এখন একটি পেজের রিচ ও ভিউ নির্ধারণে সবচেয়ে বড় ও প্রধান ভূমিকা পালন করে থাকে।

ডিজিটাল বিপণন ও সোশ্যাল মিডিয়া অপ্টিমাইজেশনের সুদীর্ঘ গবেষণার ওপর ভিত্তি করে সাধারণত যে সমস্ত নির্দিষ্ট ধরনের ও ক্যাটাগরির কনটেন্ট বর্তমান বৈশ্বিক অ্যালগরিদমে সবচেয়ে বেশি দ্রুত ও ভালো ফলাফল দিচ্ছে, সেগুলোর একটি বিশেষ তালিকা নিচে ক্রমানুসারে প্রকাশ করা হলো:

১. ছোট, সংক্ষিপ্ত, দ্রুতগতিসম্পন্ন ও প্রথম ৩ সেকেন্ডে দর্শককে ধরে রাখতে পারে এমন চমৎকার ও আকর্ষণীয় শর্ট ভিডিও বা রিলস কনটেন্ট।

২. মানুষের বাস্তব জীবনের সত্য অভিজ্ঞতা, সামাজিক অসঙ্গতি কিংবা গল্পভিত্তিক চমৎকার ও আবেগঘন ঘরানার স্টোরিটেলিং কনটেন্ট।

৩. যেকোনো সাধারণ মানুষের প্রাত্যহিক জীবনের সমস্যা সমাধানকারী ও শিক্ষণীয় ‘কীভাবে করবেন’ বা তথ্যসমৃদ্ধ টিউটোরিয়াল ও গাইডলাইন ভিত্তিক পোস্ট।

৪. ইন্টারনেটের চলমান ট্রেন্ড, ভাইরাল মিউজিক এবং সমসাময়িক বা একদম সাম্প্রতিক চাঞ্চল্যকর বিষয়ভিত্তিক যুক্তিযুক্ত কনটেন্ট।

৫. যে সমস্ত পোস্টের ক্যাপশন বা বিষয়বস্তু খুব সহজেই সাধারণ দর্শকদের কমেন্ট বক্সে এসে নিজস্ব মতামত প্রকাশ করতে এবং সুস্থ বিতর্কে অংশ নিতে প্রবলভাবে উৎসাহিত করে।

এখন প্রশ্ন আসতে পারে যে, আপনি যদি একদম ঘড়ির কাঁটা মেপে ঠিক এই সুনির্দিষ্ট সময়েই প্রতিদিন নিয়ম মেনে পোস্ট করেন, তবে কি আপনার প্রতিটি ভিডিও নিশ্চিতভাবে ভাইরাল হয়ে যাবে? আইটি বিশেষজ্ঞদের মতে এর এককথায় সংক্ষিপ্ত উত্তর হলো— না, কখনোই নয়। ডিজিটাল মিডিয়া বিশেষজ্ঞদের সূক্ষ্ম বিশ্লেষণ অনুযায়ী, শুধু একটি নির্দিষ্ট সময় অন্ধের মতো মেনে পোস্ট করলেই কোনো কনটেন্ট রাতারাতি ভাইরাল হওয়ার কোনো চিরন্তন গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তা প্রযুক্তি জগতে নেই। কারণ বর্তমান আধুনিক যুগের উন্নত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অ্যালগরিদমগুলো প্রতিটি ইন্ডিভিজুয়াল ব্যবহারকারীর ব্যক্তিগত আগ্রহের বিষয়, তাদের প্রতিদিনকার ভিডিও দেখার অভ্যাস, তাদের সার্চ হিস্ট্রি ও নিখুঁত আচরণ পুঙ্খানুপুঙ্খ বিশ্লেষণ করে তবেই তার হোম ফিডে বা সাজেশনে নতুন নতুন কনটেন্ট প্রদর্শন করে। তাই ডিজিটাল মিডিয়ায় দীর্ঘমেয়াদে একজন সফল ব্যক্তিত্ব বা বড় ক্রিয়েটর হতে হলে শুধু শর্টকাট না খুঁজে বরং নিজের টার্গেটেড দর্শকের আসল চাহিদা ও মনস্তত্ত্ব বুঝতে হবে, সম্পূর্ণ মৌলিক, অনন্য ও উচ্চ মানসম্মত কনটেন্ট নিয়মিত তৈরি করতে হবে এবং প্রতিদিন বা প্রতি সপ্তাহে কনটেন্ট প্রকাশের সেই ধারাবাহিকতা বা রেগুলারিটি কঠোরভাবে বজায় রাখাই হলো সবচেয়ে দীর্ঘমেয়াদী ও কার্যকর কৌশল।

আরও পড়ুন: রায়গঞ্জে এসপির ব্যতিক্রমী উদ্যোগ: গুজব রুখতে ইমাম ও মন্দির কমিটির সাথে বিশেষ বৈঠক

বিশ্বের প্রধান প্রধান প্রভাবশালী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমগুলোতে দর্শকদের লাইভ উপস্থিতি ও গবেষণার ওপর ভিত্তি করে কোন প্ল্যাটফর্মে ঠিক কোন সময়ে পোস্ট করলে সবচেয়ে বেশি রিচ ও ভিউ পাওয়ার সম্ভাবনা থাকে, তার একটি প্রফেশনাল গাইডলাইন নিচে আন্তর্জাতিক টাইম জোন ও ব্যবহারকারীদের আচরণের আলোকে তুলে ধরা হলো:

১. ইনস্টাগ্রাম প্ল্যাটফর্মের ক্ষেত্রে প্রতি সপ্তাহের মঙ্গলবার সকাল ১০টা থেকে শুরু করে দুপুর ২টার মধ্যে পোস্ট করা সবচেয়ে ভালো। এছাড়া সপ্তাহের শুক্রবার সকাল ৯টা থেকে বেলা ১১টার মধ্যে পোস্ট করলে ভালো ফল পাওয়া যায় এবং বিশেষ করে তরুণদের আকর্ষণ করার জন্য রিলস ও স্টোরিজগুলো প্রতিদিন সন্ধ্যা ৭টা থেকে রাত ৯টার মধ্যে আপলোড করা উচিত, কারণ এই সময়ে ব্যবহারকারীরা সাধারণত বিনোদনমূলক কনটেন্ট বেশি উপভোগ করেন।

২. ফেসবুকের ক্ষেত্রে প্রতি সপ্তাহের বুধবার থেকে শুরু করে শুক্রবার পর্যন্ত দিনগুলোকে সবচেয়ে বেশি কার্যকরী ধরা হয়। এই দিনগুলোতে বিশেষ করে সকাল ৯টা থেকে শুরু করে দুপুর ১টার মধ্যে পোস্ট সাবমিট করা উচিত, কারণ মধ্যসকালের এই বিশেষ সময়ে অফিস বা ক্লাসের ফাঁকে ব্যবহারকারীদের অনলাইন সক্রিয়তা সবচেয়ে বেশি থাকে, যা আপনার পেজের রিচ ও অর্গানিক এনগেজমেন্ট বহুগুণ বাড়িয়ে দিতে পারে।

৩. লিংকডইনের মতো সম্পূর্ণ পেশাদার ও কর্পোরেট প্ল্যাটফর্মের জন্য প্রতি সপ্তাহের মঙ্গলবার ও বুধবার এই দুই দিনকে গোল্ডেন টাইম বলা হয়। লিংকডইনে বিশেষ করে কর্মদিবসের শুরুতে অর্থাৎ সকাল ৮টা থেকে বেলা ১১টার মধ্যে নিজের পেশাদার পোস্ট বা আর্টিকেলগুলো প্রকাশ করা উচিত, কারণ এই সময়ে বিশ্বের বড় বড় পেশাজীবী, চাকরিজীবী ও করপোরেট লিডারেরা এই প্ল্যাটফর্মে তুলনামূলকভাবে সবচেয়ে বেশি সক্রিয় ও নজরদারিতে থাকেন।

৪. টিকটকের মতো দ্রুত বর্ধনশীল শর্ট ভিডিও প্ল্যাটফর্মের জন্য প্রতি সপ্তাহের মঙ্গলবার ও বৃহস্পতিবার এই দুই দিন সবচেয়ে বেশি কার্যকরী প্রমাণিত হয়েছে। টিকটকে মূলত দুপুর ২টা থেকে বিকেল ৫টা এবং পরবর্তীতে পুনরায় সন্ধ্যা ৬টা থেকে শুরু করে রাত ১০টা পর্যন্ত সময়ে ভিডিও আপলোড করলে সবচেয়ে বেশি ভিউ পাওয়ার সম্ভাবনা থাকে, কারণ এই দীর্ঘ সময়ে তরুণ ব্যবহারকারীরা বিছানায় বা অবসরে শুয়ে দীর্ঘ সময় ধরে স্ক্রিনে ভিডিও স্ক্রল করতে থাকেন।

নিউজের সূত্র: আন্তর্জাতিক সোশাল মিডিয়া অ্যানালিটিক্স হাব 'স্প্রাউট সোশ্যাল' (Sprout Social) এর বৈশ্বিক ব্যবহারকারী আচরণ সমীক্ষা রিপোর্ট ২০২৬ এবং আইটি গবেষণা প্রতিষ্ঠান 'ডিজিটাল মার্কেটিং ইনস্টিটিউট' এর বার্ষিক গাইডলাইন।

Post a Comment

আপনার মূল্যবান মতামত আমাদের জানান। কোনো উসকানিমূলক বা অশালীন মন্তব্য করা থেকে বিরত থাকুন।

নবীনতর পূর্বতন