সিরাজগঞ্জ ডেস্ক: শামীম হোসাইন / দিগন্ত বাংলা নিউজ
রায়গঞ্জ (সিরাজগঞ্জ): বর্তমান সময়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের অপব্যবহার এবং বিভিন্ন ধরনের ভিত্তিহীন অপপ্রচার ও গুজবের কারণে গ্রামীণ ও শহর অঞ্চলের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি বিঘ্নিত হওয়ার একটি বড় প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। এই ধরনের অস্থিতিশীল পরিস্থিতি রুখতে এবং সমাজে চিরায়ত ভ্রাতৃত্ববোধ অটুট রাখার লক্ষ্যে সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জে একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও ব্যতিক্রমী উদ্যোগ গ্রহণ করেছে জেলা পুলিশ প্রশাসন। অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশের মূল চেতনাকে ধারণ করে সামাজিক শান্তি, সনাতন ও মুসলিম সম্প্রদায়ের ধর্মীয় সম্প্রীতি এবং পারস্পরিক সৌহার্দ্য বজায় রাখার প্রত্যয়ে রায়গঞ্জের বিভিন্ন মসজিদের ইমাম, খতিব এবং স্থানীয় বিভিন্ন মন্দির কমিটির শীর্ষস্থানীয় নেতৃবৃন্দের সাথে এক বিশেষ মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। এই মহতী সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে উপস্থিত সবার উদ্দেশ্যে দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্য প্রদান করেন সিরাজগঞ্জ জেলার সুযোগ্য পুলিশ সুপার (এসপি) মো. সাইফুল ইসলাম সানতু।
আজ মঙ্গলবার (৩০ জুন, ২০২৬) দুপুরের দিকে সিরাজগঞ্জ জেলার রায়গঞ্জ থানা চত্বরে নবনির্মিত দৃষ্টিনন্দন সার্ভিস ডেলিভারি সেন্টারে অত্যন্ত সুশৃঙ্খল পরিবেশে এই মতবিনিময় সভার আয়োজন করা হয়। অত্যন্ত ফলপ্রসূ এই সভায় উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের সর্বস্তরের ধর্মীয় নেতৃবৃন্দ, জেলা ও থানার ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তাবৃন্দ এবং স্থানীয় সুশীল সমাজের প্রতিনিধি ও গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ করেন। রায়গঞ্জ থানার চৌকস অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. আহসানুজ্জামানের সুচারু সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত এই গুরুত্বপূর্ণ সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে নিজেদের মতামত প্রকাশ করেন রায়গঞ্জ সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সাইফুল ইসলাম খান এবং অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস্) মো. হাফিজুর রহমানসহ জেলা পুলিশের বিভিন্ন পদমর্যাদার বিশেষ কর্মকর্তারা।
মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে পুলিশ সুপার মো. সাইফুল ইসলাম সানতু বলেন যে শত শত বছর ধরে এই অঞ্চলে সকল ধর্মের মানুষ একসাথে যেভাবে পরম শান্তিতে বসবাস করে আসছে, সেই ধর্মীয় সম্প্রীতি ও শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান বজায় রাখা আমাদের প্রত্যেকের নৈতিক ও নাগরিক দায়িত্ব। বর্তমান সময়ে প্রযুক্তির অপব্যবহার করে সমাজে কৃত্রিম বিভ্রান্তি সৃষ্টি করার লক্ষ্যে কিছু স্বার্থান্বেষী মহল উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে বিভিন্ন ধরনের গুজব, ধর্মীয় অপপ্রচার ও উসকানিমূলক মিথ্যা তথ্য ছড়িয়ে দেওয়ার অপচেষ্টা চালায়। এই ধরনের ডিজিটাল জালিয়াতি ও গুজব থেকে সমাজের প্রতিটি স্তরের মানুষকে অত্যন্ত সতর্ক ও সজাগ থাকতে হবে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে কোনো কিছু দেখেই যাচাই না করে হুট করে উত্তেজিত হওয়া যাবে না। তিনি অত্যন্ত দৃঢ়তার সাথে ঘোষণা করেন যে কোনো এলাকায় কোনো ধরনের সমস্যা বা অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা কিংবা অপ্রীতিকর পরিস্থিতি তৈরি হওয়ার সামান্যতম আশঙ্কা দেখা দিলে, কেউ আইন নিজের হাতে তুলে না নিয়ে তাৎক্ষণিকভাবে স্থানীয় থানা পুলিশ কিংবা জেলা আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীকে অবহিত করবেন।
পুলিশ সুপার তাঁর বক্তব্যের শেষ অংশে ধর্মীয় নেতাদের সামাজিক গুরুত্বের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে বলেন যে পুলিশ মূলত জনগণের জানমালের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ২৪ ঘণ্টা মাঠে কাজ করে যাচ্ছে। তবে একটি সম্পূর্ণ অপরাধমুক্ত, শান্ত, সহনশীল ও মানবিক সমাজ বিনির্মাণ করতে হলে আলেম সমাজ এবং পুরোহিত ও মন্দির কমিটির নেতাদের অগ্রণী ভূমিকা পালন করতে হবে। কারণ সাধারণ মানুষ ধর্মীয় ব্যক্তিত্বদের কথা অত্যন্ত ভক্তি ও শ্রদ্ধার সাথে মেনে চলে। জুমার খুতবা কিংবা ধর্মীয় যেকোনো ধর্মীয় সভায় যদি শান্তি ও পরমতসহিষ্ণুতার বার্তা দেওয়া হয়, তবে তা সমাজে সম্প্রীতি বজায় রাখতে সবচেয়ে কার্যকর ও বুলেটের মতো শক্তিশালী ভূমিকা রাখবে।
আরও পড়ুন: তৃণমূল পর্যায়ে বিস্তৃত হচ্ছে দুদকের জাল: এবার ইউনিয়ন স্তরেও ‘দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটি’
এই মতবিনিময় সভায় উপস্থিত মুসলিম ও সনাতন ধর্মের শীর্ষস্থানীয় নেতারাও প্রশাসনের এই দুর্দান্ত উদ্যোগকে সাধুবাদ জানান। তাঁরা প্রত্যেকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে সামাজিক শান্তি রক্ষা, আইন-শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং যেকোনো ধরনের ভুয়া তথ্য ও সাইবার গুজব প্রতিরোধে পুলিশের সাথে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে সম্মিলিতভাবে কাজ করার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। রায়গঞ্জ থানা পুলিশের সদস্য ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গের উপস্থিতিতে এই সভাটি মূলত হিন্দু-মুসলিম সম্প্রদায়ের পারস্পরিক ঐতিহ্যগত বন্ধন আরও সুদৃঢ় করার এক অনন্য মিলনমেলায় পরিণত হয়, যা জেলাজুড়ে প্রশংসিত হচ্ছে।
নিউজের সূত্র: সিরাজগঞ্জ জেলা পুলিশের জনসংযোগ শাখা এবং রায়গঞ্জ থানা নিয়ন্ত্রণ কক্ষের দৈনিক কার্যবিবরণী।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন
আপনার মূল্যবান মতামত আমাদের জানান। কোনো উসকানিমূলক বা অশালীন মন্তব্য করা থেকে বিরত থাকুন।