সিন্ধুর পানিতে হাত দিলে হাত কেটে দেওয়া হবে: ভারতকে পাকিস্তানের চরম হুমকি

সিন্ধুর পানিতে হাত দিলে হাত কেটে দেওয়া হবে: ভারতকে পাকিস্তানের চরম হুমকি
ছবি: সংগৃহীত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: শামীম হোসাইন / দিগন্ত বাংলা নিউজ

ইসলামাবাদ: দক্ষিণ এশিয়ার দুই চিরবৈরী পারমাণবিক অস্ত্রধারী প্রতিবেশী রাষ্ট্র ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে দীর্ঘদিনের অমীমাংসিত সিন্ধু নদের পানিবণ্টন চুক্তি বা ইনডাস ওয়াটারস ট্রিটি নিয়ে বিদ্যমান কূটনৈতিক বিরোধ এবার এক মারাত্মক এবং বিপজ্জনক রূপ ধারণ করেছে। আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে নয়া দিল্লির নানা কৌশলগত চালের বিরুদ্ধে এবার সরাসরি সামরিক ও চরম রাজনৈতিক হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছে ইসলামাবাদ। পাকিস্তানের ন্যায্য পাওনা ও পানির ঐতিহাসিক হিস্যা যদি কোনোভাবে কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা করা হয়, তবে তার অত্যন্ত কঠোর, নির্মম ও দাঁতভাঙা জবাব দেওয়া হবে বলে পরিষ্কার জানিয়ে দেওয়া হয়েছে। পাকিস্তানের বর্তমান জলবায়ু পরিবর্তনবিষয়ক ফেডারেল মন্ত্রী মুসাদিক মালিক এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে নয়া দিল্লিকে সরাসরি এই চরম আঘাতের হুমকি দেন। বিশ্বখ্যাত ভারতীয় গণমাধ্যম এনডিটিভির এক বিশেষ ও চাঞ্চল্যকর আন্তর্জাতিক প্রতিবেদনে দুই দেশের মধ্যকার এই নতুন পারমাণবিক উত্তেজনার খবরটি আজ মঙ্গলবার (৩০ জুন, ২০২৬) বৈশ্বিক গণমাধ্যমে প্রকাশ করা হয়েছে।

পাক জলবায়ু মন্ত্রী মুসাদিক মালিক বিশ্ব গণমাধ্যমের সাংবাদিকদের সামনে ক্ষোভ উগরে দিয়ে অভিযোগ করেন যে ভারত অত্যন্ত পরিকল্পিত এবং সুদূরপ্রসারী উপায়ে আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করে পাকিস্তানের দিকে প্রবাহিত হওয়া সিন্ধু নদের পানির স্বাভাবিক প্রবাহকে কৃত্রিমভাবে নিয়ন্ত্রণ করার অপচেষ্টা চালাচ্ছে। তিনি অত্যন্ত জোরালোভাবে মনে করিয়ে দেন যে পাকিস্তানের জাতীয় খাদ্য নিরাপত্তা, বিশাল কৃষি খাত, গ্রামীণ জীবনযাত্রা এবং সামগ্রিক অর্থনীতি এই সিন্ধু নদের পানির প্রবাহের সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। ফলে পাকিস্তান নিজের দেশের অস্তিত্ব ও পানির অধিকার রক্ষা করার তাগিদে আন্তর্জাতিক যেকোনো চরম ও সংঘাতময় পদক্ষেপ নিতে বিন্দুমাত্র দ্বিধাবোধ করবে না। নয়া দিল্লিকে কড়া বার্তা দিয়ে তিনি এক পর্যায়ে অত্যন্ত উসকানিমূলক ও কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন যে পাকিস্তানের জীবন রক্ষাকারী পানির স্বাভাবিক হিস্যায় যদি কোনো শত্রু রাষ্ট্র হাত দেওয়ার দুঃসাহস দেখায়, তবে সেই হাত কেটে নামিয়ে দেওয়া হবে। তাঁর এই যুদ্ধংদেহী মন্তব্য প্রকাশের পর আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক মহলে তীব্র তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে।

আরও পড়ুন: রায়গঞ্জে এসপির ব্যতিক্রমী উদ্যোগ: গুজব রুখতে ইমাম ও মন্দির কমিটির সাথে বিশেষ বৈঠক

জলবায়ু মন্ত্রীর এই বিস্ফোরক বক্তব্যের পরপরই পাকিস্তানের তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী আত্তাউল্লাহ তারার এই বিষয়ে সরকারের অবস্থান পরিষ্কার করে একটি আনুষ্ঠানিক রাষ্ট্রীয় বিবৃতি প্রদান করেছেন। তিনি তাঁর বিবৃতিতে আন্তর্জাতিক আইনের বিভিন্ন ধারা ও বিশ্বব্যাংকের মধ্যস্থতার কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে বলেন যে ১৯৬০ সালে স্বাক্ষরিত ঐতিহাসিক সিন্ধু পানি চুক্তিটি এখনো আন্তর্জাতিক আইন অনুসারে সম্পূর্ণরূপে বহাল এবং কার্যকর রয়েছে। এটি কোনো একটি একক দেশের খেয়ালখুশি কিংবা রাজনৈতিক স্বার্থে একতরফাভাবে স্থগিত, বাতিল বা পুরোপুরি সংশোধন করা মোটেও সম্ভব নয়। তিনি আরও দাবি করেন যে এই সংবেদনশীল পানিবণ্টন ইস্যুতে বিশ্ব দরবারে এবং আন্তর্জাতিক আইনি ফোরামেও পাকিস্তান ব্যাপক শক্তিশালী কূটনৈতিক ও কৌশলগত সমর্থন লাভ করছে।

আরও পড়ুন: উপমহাদেশের সূর্যসন্তান আল্লামা সালমান নদভী আর নেই: লখনউয়ের হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ

পাকিস্তানের তথ্যমন্ত্রী আত্তাউল্লাহ তারার তাঁর বিবৃতিতে দেশের অভ্যন্তরীণ সামরিক ও রাজনৈতিক ঐক্যের কথা তুলে ধরে উল্লেখ করেন যে পাকিস্তানের বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ এবং দেশের প্রভাবশালী সেনাপ্রধান জেনারেল অসীম মুনির যৌথভাবে একাধিকবার এই বিষয়ে তাদের অনড় অবস্থানের কথা পুনর্ব্যক্ত করেছেন। দেশের সর্বোচ্চ এই দুই নীতিনির্ধারক স্পষ্ট করে বলেছেন যে সিন্ধু নদের পানি হলো মূলত পাকিস্তানের কোটি কোটি মানুষের বেঁচে থাকার প্রধান জীবনরেখা। আর এই জীবনরক্ষাকারী পানিবণ্টন ইস্যুটি পাকিস্তানের জাতীয় নিরাপত্তার জন্য একটি অত্যন্ত স্পর্শকাতর ‘রেড লাইন’ বা চূড়ান্ত সীমা হিসেবে নির্ধারিত রয়েছে। এই নির্দিষ্ট সীমারেখা অতিক্রম করার চেষ্টা করলে কোনো শত্রুপক্ষকেই আর কোনো প্রকার ছাড় বা সহানুভূতি দেখানো হবে না বলে পাকিস্তান স্পষ্ট বার্তা দিয়েছে।

দক্ষিণ এশিয়ার এই দুই পরাশক্তির মধ্যে পানিবণ্টন নিয়ে নতুন করে এই তীব্র যুদ্ধাবস্থা তৈরি হওয়ার পেছনে একটি সুনির্দিষ্ট এবং বড় ধরনের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট রয়েছে। গত বছর অর্থাৎ ২০২৫ সালে ভারতের শাসিত কাশ্মীরের মনোরম পাহাড়ি অঞ্চল পহেলগামে একটি অত্যন্ত ভয়াবহ ও নৃশংস সন্ত্রাসী হামলা সংঘটিত হয়েছিল, যেখানে প্রায় ২৫ জন নিরীহ পর্যটক এবং একজন স্থানীয় বাসিন্দা প্রাণ হারান। ভারত সরকার সেই রক্তক্ষয়ী ও বর্বরোচিত হামলার জন্য সরাসরি পাকিস্তানকে রাষ্ট্রীয়ভাবে দায়ী করে এবং এর প্রতিশোধ ও শাস্তিস্বরূপ সিন্ধু পানি চুক্তির কার্যকারিতা একতরফাভাবে স্থগিত রাখার মতো অত্যন্ত কঠোর ও একমুখী সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে। নয়া দিল্লির এই একতরফা পদক্ষেপের পর থেকেই দুই পারমাণবিক ক্ষমতাধর প্রতিবেশীর মধ্যে সুপ্ত থাকা পানিবণ্টন বিরোধটি নতুন করে এক চরম ও ধ্বংসাত্মক আঞ্চলিক উত্তেজনায় রূপ নিয়েছে, যা সমগ্র দক্ষিণ এশিয়ার আঞ্চলিক শান্তি ও স্থিতিশীলতাকে এক গভীর সংকটের মুখে ঠেলে দিয়েছে।

নিউজের সূত্র: ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি (NDTV) এবং পাকিস্তানের তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের অফিশিয়াল প্রেস রিলিজ।

 

Post a Comment

আপনার মূল্যবান মতামত আমাদের জানান। কোনো উসকানিমূলক বা অশালীন মন্তব্য করা থেকে বিরত থাকুন।

নবীনতর পূর্বতন