শিক্ষার্থীদের ভিসা সহজীকরণ ও চীন-বাংলাদেশ শিক্ষা চুক্তির ঘোষণা

শিক্ষার্থীদের ভিসা সহজীকরণ ও চীন-বাংলাদেশ শিক্ষা চুক্তির ঘোষণা
ছবি: সংগৃহীত

প্রতিবেদন: শামীম হোসাইন / শাহজাদপুর / দিগন্ত বাংলা নিউজ

উচ্চশিক্ষার উদ্দেশ্যে বিদেশে গমনেচ্ছু তরুণ শিক্ষার্থীদের ভিসা সংক্রান্ত জটিলতা, প্রশাসনিক বিলম্ব ও নানা আকস্মিক ভোগান্তি নিরসন করে সার্বিক প্রক্রিয়াকরণ অত্যন্ত সহজ ও দ্রুততর করতে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে একটি উচ্চপর্যায়ের বিশেষ কমিটি গঠন করা হয়েছে। রোববার (৩০ আগস্ট ২০২৬) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আয়োজিত এক গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক দ্বিপক্ষীয় বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের আনুষ্ঠানিকভাবে এই ইতিবাচক প্রশাসনিক অগ্রগতির কথা নিশ্চিত করেছেন শিক্ষামন্ত্রী এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। পররাষ্ট্র মন্ত্রী এবং বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনের মান্যবর রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েনের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠিত এই উচ্চপর্যায়ের ত্রিপক্ষীয় বৈঠকে বাংলাদেশ থেকে বিভিন্ন উন্নত দেশে পড়তে যাওয়া শিক্ষার্থীদের ভিসাপ্রাপ্তির অনাকাঙ্ক্ষিত দীর্ঘসূত্রতা দূরীকরণ এবং চীন ও বাংলাদেশের শিক্ষা খাতের পারস্পরিক দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক গভীরতর করার বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা সম্পন্ন হয়।

আরও পড়ুন: শাহজাদপুরে আইনশৃঙ্খলা কমিটির গুরুত্বপূর্ণ সভা অনুষ্ঠিত

সংবাদ মাধ্যমকে ব্রিফিংকালে শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন জানান যে, বর্তমান সরকারের বিশেষ প্রশাসনিক তৎপরতার ফলে বিগত দিনগুলোর তুলনায় বর্তমানে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের ভিসা প্রক্রিয়াকরণের ক্ষেত্রে বড় ধরনের ইতিবাচক পরিবর্তন দৃশ্যমান হচ্ছে। বিভিন্ন বৈদেশিক দূতাবাসে উদ্ভূত ভিসা আবেদন সংকট ও সময়ের দীর্ঘসূত্রতা অনেকাংশে প্রশমিত হয়েছে। তিনি আরও উল্লেখ করেন, দেশের উদীয়মান ছাত্রসমাজকে আন্তর্জাতিক মানের দক্ষ মানবসম্পদ হিসেবে গড়ে তুলতে এবং কারিগরি শিক্ষার প্রসারে বন্ধুপ্রতিম রাষ্ট্র চীন থেকে অভিজ্ঞ শিক্ষক ও গবেষকদের বাংলাদেশে নিয়ে আসার প্রক্রিয়া সহজতর করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে বাংলাদেশি ছাত্র-ছাত্রীদের ভিসা প্রাপ্তি যাতে কোনো ধরনের আমলাতান্ত্রিক বা প্রাতিষ্ঠানিক বাধার মুখে না পড়ে, সে বিষয়ে নবগঠিত বিশেষ মন্ত্রিপরিষদ কমিটি সরাসরি নজরদারি রাখবে।

আন্তর্জাতিক শিক্ষা অঙ্গনে দুই দেশের পারস্পরিক সহযোগিতার পরিধি আরও বাড়াতে বাংলাদেশ ও গণচীন সরকারের যৌথ উদ্যোগে এক যুগান্তকারী শিক্ষক-শিক্ষার্থী বিনিময় কর্মসূচি চালুর চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে। এই বিশেষ দ্বিপক্ষীয় শিক্ষামূলক বিনিময় কর্মসূচির আওতায় বাংলাদেশের মেধা সম্পন্ন শিক্ষার্থীরা চীনের শীর্ষ বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে গবেষণা ও উচ্চশিক্ষার সুবর্ণ সুযোগ পাবেন, আর চীনা শিক্ষাবিদ ও গবেষকগণ বাংলাদেশে এসে আধুনিক শিক্ষা প্রসারে সরাসরি ভূমিকা রাখবেন। শিক্ষামন্ত্রী অত্যন্ত আশা প্রকাশ করে বলেন, আগামী এক থেকে দেড় মাসের মধ্যে এই যৌথ শিক্ষা বিনিময় কর্মসূচির বাস্তব কার্যক্রম দৃশ্যমান হবে, যা দুই দেশের পারস্পরিক সম্পর্ককে এক নতুন দিগন্তে উপনীত করবে।

আরও পড়ুন: আব্দুল্লাহপুরে মোটরসাইকেলে নিস্তেজ তরুণী উদ্ধারের রহস্য উদ্ঘাটন

বিশেষজ্ঞদের মতে, উচ্চশিক্ষার্থে প্রবাসে গমনেচ্ছু মেধাবী শিক্ষার্থীরা দীর্ঘকাল যাবৎ বিভিন্ন বৈদেশিক দূতাবাসের ভিসা প্রক্রিয়াকরণের বিলম্ব ও তথ্য যাচাই-বাছাইয়ের জটিলতায় সীমাহীন ভোগান্তির শিকার হয়ে আসছিলেন। অনেক ক্ষেত্রে সময়মতো ভিসা না পাওয়ায় স্কলারশিপ ও ভর্তির সেশন বাতিল হয়ে যাওয়ার চরম ঝুঁকি তৈরি হতো। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ কর্তৃক এই বিশেষ কমিটি গঠিত হওয়ার ফলে শিক্ষা, পররাষ্ট্র এবং স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সম্মিলিতভাবে বিদেশি দূতাবাসগুলোর সাথে দ্রুত প্রশাসনিক সংযোগ রক্ষা করে ভিসা প্রদান ত্বরান্বিত করতে পারবে। এর ফলে শিক্ষার্থীদের শিক্ষাজীবনের অনিশ্চয়তা দূর হওয়ার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের শিক্ষার্থীদের বিশ্বমানের দক্ষতা অর্জনের পথ আরও স্বাচ্ছন্দ্যময় ও গতিশীল হবে।

শিক্ষা ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এই যৌথ কৌশলগত পদক্ষেপ দেশের সার্বিক শিক্ষাব্যবস্থাকে আরও আধুনিক ও বিশ্বমানের করে তুলবে। সরকারের এ সময়োচিত পদক্ষেপে বিদেশের ঐতিহ্যবাহী বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের প্রবেশাধিকার যেমন সহজ হবে, তেমনি অর্জিত আন্তর্জাতিক জ্ঞান ও গবেষণা প্রয়োগ করে তারা পরবর্তীতে দেশের সার্বিক প্রবৃদ্ধি ও অর্থনৈতিক উন্নয়নে অভাবনীয় ভূমিকা রাখতে সক্ষম হবেন। দুই দেশের এই সমঝোতা ও সার্বিক সুযোগ বৃদ্ধি বাংলাদেশের উদীয়মান শিক্ষাঙ্গনে এক নতুন যুগের সূচনা করবে বলে বিশ্বাস করা হচ্ছে।

সূত্র: শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও পররাষ্ট্র বিষয়ক কূটনৈতিক উইং।

Post a Comment

আপনার মূল্যবান মতামত আমাদের জানান। কোনো উসকানিমূলক বা অশালীন মন্তব্য করা থেকে বিরত থাকুন।

নবীনতর পূর্বতন