প্রতিবেদন: শামীম হোসাইন / শাহজাদপুর / দিগন্ত বাংলা নিউজ
মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনার পারদ বাড়িয়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও তেল আবিবের সামরিক দূরভিসন্ধির বিরুদ্ধে চরম হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছে ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরান। দেশটির শীর্ষ নিরাপত্তা নীতি নির্ধারণী পরিষদ ‘সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিল’-এর অন্যতম প্রভাবশালী ব্যক্তিত্ব ও সচিব মেজর জেনারেল মহসেন রেজাই এক চাঞ্চল্যকর বক্তব্যে ওয়াশিংটন ও ইসরায়েলকে কঠোর পরিণতি ভোগ করার সতর্কবার্তা প্রদান করেছেন। তিনি স্পষ্ট জানান, আমেরিকা যদি ইরানের বিরুদ্ধে বিদ্যমান অর্থনৈতিক অবরোধ তুলে না নিয়ে তা অব্যাহত রাখে, তবে সমগ্র মধ্যপ্রাচ্য এক অনাকাঙ্ক্ষিত ও নজিরবিহীন সশস্ত্র সংঘাতের দাবানলে জ্বলে উঠবে, যা সামাল দেওয়া আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের জন্য অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়বে।
আরও পড়ুন:সিরাজগঞ্জে ট্রাকে সিএনজির সজোরে ধাক্কা, চালকসহ ২ জনের মৃত্যু
আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল-মানারকে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে জেনারেল রেজাই ইরানের সামরিক কৌশলের নতুন কাঠামো প্রকাশ করেন। তিনি দাবি করেন, অর্থনৈতিক দিক থেকে ইরানকে চেপে ধরার সাম্রাজ্যবাদী ষড়যন্ত্রের জবাব কেবল কূটনৈতিক আলোচনায় সীমাবদ্ধ থাকবে না। যদি ইরানের ওপর বিধিনিষেধের চাপ প্রতিনিয়ত বাড়ায়, তবে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন অঞ্চলে ছড়িয়ে থাকা আমেরিকান সমস্ত বাণিজ্যিক, আর্থিক ও অর্থনৈতিক স্বার্থ সংশ্লিষ্ট স্থাপনার ওপর সরাসরি পাল্টা হামলা চালিয়ে উপযুক্ত জবাব দেবে তেহরান। রেজাইয়ের এই মোক্ষম মন্তব্যের পর থেকে পুরো মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থানরত মার্কিন কূটনৈতিক ও বাণিজ্যিক স্থাপনাগুলোতে তীব্র উদ্বেগ ও সর্বোচ্চ সতর্কতা ছড়িয়ে পড়েছে।
আরও পড়ুন: নেপালে ভয়াবহ বন্যা ও ভূমিধসে প্রাণহানি বেড়ে ১৬২, শতাধিক পর্যটক নিখোঁজ
লেবানন ও ফিলিস্তিন ভূখণ্ডে ইসরায়েলের অব্যাহত সামরিক আগ্রাসন এবং দেশটির প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর নীতির তীব্র সমালোচনা করে মহসেন রেজাই বলেন, তেল আবিব বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যে অন্যায্য সংঘাত তৈরি করছে। তিনি স্মরণ করিয়ে দেন, ভবিষ্যতে তেহরান ও তেল আবিবের মধ্যে পুনরায় কোনো সামরিক যুদ্ধ শুরু হলে তার রূপ ও তীব্রতা অতীতের যেকোনো লড়াইয়ের চেয়ে সম্পূর্ণ ভিন্ন ও ভয়াবহ হবে। তেহরান তাদের প্রতিরক্ষা ও সামরিক সক্ষমতাকে বহুগুণ শক্তিশালী করেছে। একই সাথে লেবাননের সার্বভৌমত্ব ক্ষুণ্ন করে দখলকৃত সমস্ত ভূখণ্ড থেকে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীকে অবিলম্বে সরে যেতে বাধ্য করার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের হুঁশিয়ারিও প্রদান করেন তিনি।
বিশ্ব রাজনীতির মাঠে ইসরায়েলি প্রচারণাকে চরম বানোয়াট ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে আখ্যায়িত করেন রেজাই। তিনি অভিযোগ করেন, প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু বিশ্ব মহলের সহানুভূতি কুড়াতে এবং আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে ফায়দা হাসিল করতে সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে হত্যা প্রচেষ্টার পেছনে ইরানের হাত রয়েছে বলে অবাস্তব গল্প ছড়াচ্ছেন। তেহরানকে বিশ্ব দরবারে সন্ত্রাসী রাষ্ট্র হিসেবে চিহ্নিত করতেই এ ধরনের কাল্পনিক তথ্য ছড়ানো হচ্ছে। সাক্ষাৎকারে অত্যন্ত ক্ষুব্ধ কণ্ঠে নেতানিয়াহুর অপপ্রচারের তীব্র বিরোধিতা করে তাঁকে সরাসরি ‘নরকে পাঠানোর’ হুঙ্কার দেন এই সামরিক ব্যক্তিত্ব, যা বিশ্বজুড়ে নতুন তোলপাড় সৃষ্টি করেছে।
আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ইরানের এই শক্ত হুঁশিয়ারি কেবল ফাঁকা বুলি নয়, বরং এটি মধ্যপ্রাচ্যে বহুমাত্রিক প্রক্সি যুদ্ধ এবং বৈশ্বিক সমুদ্র বাণিজ্য পথ সংকুচিত করার নতুন সামরিক কৌশলের ইঙ্গিত হতে পারে। বিশ্ব অর্থনীতি যখন নানা প্রতিকূল পরিস্থিতির মুখোমুখি, তখন মধ্যপ্রাচ্যের জ্বালানি বাজারে এই ধরণের উত্তেজনাকর পরিস্থিতি বজায় থাকলে আন্তর্জাতিক অর্থনীতির চাকা মারাত্মক সংকটে পড়বে। ফলে ওয়াশিংটন ও তেল আবিবের উদ্দেশ্যে দেওয়া এই কড়া বার্তা কেবল আঞ্চলিক সংঘাতের বিষয় নয়, বরং বৈশ্বিক অর্থনীতির ভবিষ্যতের জন্যও একটি বড় সতর্কসংকেত। আগামী দিনে পরিস্থিতি কোন দিকে গড়ায়, সেদিকেই এখন নজর আন্তর্জাতিক মহলের।
সূত্র: আল-মানার ও আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন
আপনার মূল্যবান মতামত আমাদের জানান। কোনো উসকানিমূলক বা অশালীন মন্তব্য করা থেকে বিরত থাকুন।