প্রতিবেদন: শামীম হোসাইন / শাহজাদপুর / দিগন্ত বাংলা নিউজ
বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের অন্যতম প্রধান বাণিজ্যিক ও জনবহুল জনপদ হিসেবে পরিচিত খুলনা মহানগরে সাম্প্রতিক সময়ে ডেঙ্গু রোগের প্রকোপ এক মারাত্মক ও আতঙ্কজনক রূপ ধারণ করেছে, যা সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রাকে চরমভাবে বিপর্যস্ত করে তুলেছে। বর্ষাকালের স্থায়ী জলাবদ্ধতা এবং মশার উপদ্রব বৃদ্ধি পাওয়ার কারণে এই অঞ্চলের বিভিন্ন পাড়া-মহল্লায় প্রতিনিয়ত ডেঙ্গুতে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা আশঙ্কাজনক হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে, যার ফলে চিকিৎসা কেন্দ্রগুলোতে উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা যাচ্ছে। ডেঙ্গুর এই ভয়াল থাবা থেকে শহরবাসীকে রক্ষা করার পাশাপাশি আক্রান্ত রোগীদের সুচিকিৎসা নিশ্চিত করার জন্য সামাজিক ও রাজনৈতিক সচেতনতার পাশাপাশি প্রশাসনিক উদ্যোগও অত্যন্ত জরুরি হয়ে পড়েছে। এই সংকটময় পরিস্থিতিতে সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়ানোর ব্রত নিয়ে খুলনার দায়িত্বশীল রাজনৈতিক নেতৃত্ব সরাসরি মাঠে নেমেছেন এবং হাসপাতালগুলোতে চিকিৎসাধীন রোগীদের শারীরিক অবস্থার খোঁজখবর নিচ্ছেন। নগরজুড়ে ছড়িয়ে পড়া এই স্বাস্থ্যঝুঁকি মোকাবিলায় বিভিন্ন মহলের পক্ষ থেকে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের জোরালো দাবি জানানো হচ্ছে এবং দুর্গত মানুষের সেবায় সবাই এগিয়ে আসছেন।
আরও পড়ুন: লালমনিরহাট সীমান্তে বিএসএফের অনুপ্রবেশ ও কৃষকদের মারধরের ঘটনায় অস্ত্র জব্দ
ঘটনার বিস্তারিত বিবরণ এবং স্থানীয় রাজনৈতিক সূত্র থেকে প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, গত মঙ্গলবার দুপুরে খুলনা মহানগরীর বিভিন্ন চিকিৎসালয়ে একটি বিশেষ প্রতিনিধি দল ঝটিকা পরিদর্শন পরিচালনা করে সামগ্রিক পরিস্থিতি স্বচক্ষে পর্যবেক্ষণ করেছে। খুলনা মহানগর বিএনপির সম্মানিত সভাপতি এবং একই সঙ্গে খুলনা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালনকারী এডভোকেট শফিকুল আলম মনার নেতৃত্বাধীন এই প্রতিনিধি দলটিতে আরও বেশ কয়েকজন শীর্ষস্থানীয় নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন। ডেঙ্গু রোগীদের চিকিৎসা কার্যক্রমে কোনো ধরনের অবহেলা বা সংকট রয়েছে কি না এবং চিকিৎসকরা যথাযথ সেবা প্রদান করছেন কি না, তা সরেজমিনে দেখার জন্যই এই পরিদর্শনের আয়োজন করা হয়েছিল। দুপুরের দিকে অত্যন্ত সুশৃঙ্খলভাবে এই প্রতিনিধি দলটি প্রথমে নগরীর প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত ঐতিহ্যবাহী ও জনবহুল খুলনা আড়াই শ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে প্রবেশ করেন এবং সেখানে চিকিৎসাধীন রোগীদের ওয়ার্ডগুলো ঘুরে দেখেন। হাসপাতালের বিভিন্ন কক্ষে শয্যা সংকট এবং রোগীর অতিরিক্ত চাপের বিষয়টি তারা অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করেন এবং কর্তব্যরত চিকিৎসকদের সঙ্গে বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা করেন।
জেনারেল হাসপাতালের বিভিন্ন ওয়ার্ডে দীর্ঘ সময় ধরে অবস্থান করার পাশাপাশি প্রতিনিধি দলের নেতৃবৃন্দ ডেঙ্গু আক্রান্ত সাধারণ রোগীদের শয্যার পাশে গিয়ে তাদের শারীরিক সুস্থতার বিষয়ে সরাসরি খোঁজখবর নেন এবং তাদের সাথে কথা বলেন। চিকিৎসাধীন রোগীরা ও তাদের স্বজনরা হাসপাতালের ভেতরে চিকিৎসা সেবা পাওয়ার ক্ষেত্রে যেসব সুযোগ-সুবিধা পাচ্ছেন কিংবা যেসব সমস্যার মুখোমুখি হচ্ছেন, সে বিষয়ে নেতৃবৃন্দকে বিস্তারিতভাবে অবহিত করেন। ডেঙ্গুর তীব্র জ্বরে আক্রান্ত হয়ে যারা কাতরাচ্ছেন, তাদের সুচিকিৎসা এবং প্রয়োজনীয় ওষুধপত্র প্রাপ্তির বিষয়টি নিশ্চিত করার জন্য হাসপাতালের সংশ্লিষ্ট কতৃপক্ষকে তাৎক্ষণিকভাবে বিভিন্ন দিকনির্দেশনা ও অনুরোধ জানানো হয়। সাধারণ মানুষের এই দুর্দিনে রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের এমন সান্নিধ্য এবং তাদের দুঃখ-কষ্টের কথা শোনার উদ্যোগ রোগীদের মনে কিছুটা হলেও স্বস্তি ও মানসিক শক্তি জোগাতে সাহায্য করেছে বলে স্থানীয়রা মন্তব্য করেছেন। জেনারেল হাসপাতালের সার্বিক পরিবেশ ঘুরে দেখার পর প্রতিনিধি দলটির সদস্যরা দ্রুত অন্য আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ স্বাস্থ্যকেন্দ্রের উদ্দেশ্যে রওনা হয়ে যান।
আরও পড়ুন: স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানে জরুরি জনবল নিয়োগ
জেনারেল হাসপাতাল পরিদর্শন সফলভাবে শেষ করার পরপরই খুলনা মহানগর বিএনপির শীর্ষ এই প্রতিনিধি দলটি নগরীর শিশু রোগীদের চিকিৎসার জন্য বিশেষভাবে পরিচিত খুলনা শিশু হাসপাতালের উদ্দেশ্যে যাত্রা করেন এবং সেখানেও একই ধরনের কার্যক্রম পরিচালনা করেন। ডেঙ্গুর এই ভয়ংকর মৌসুমে বড়দের পাশাপাশি কোমলমতি শিশুরা সবচেয়ে বেশি পরিমাণে আক্রান্ত হচ্ছে এবং তাদের সুচিকিৎসা নিশ্চিত করা অভিভাবকদের জন্য এক বিরাট চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। শিশু হাসপাতালের ওয়ার্ডে প্রবেশ করে নেতৃবৃন্দ ডেঙ্গুতে আক্রান্ত শিশু রোগীদের বিছানার পাশে বেশ কিছুক্ষণ সময় অতিবাহিত করেন এবং ছোট ছোট শিশুগুলোর শারীরিক অবস্থার অবনতি বা উন্নতির বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য নেন। কান্নায় ভেঙে পড়া উদ্বিগ্ন অভিভাবক ও মায়েদের সান্ত্বনা দিয়ে নেতৃবৃন্দ তাদের সব ধরনের সহযোগিতার আশ্বাস প্রদান করেন এবং হাসপাতালের চিকিৎসকদের শিশুদের প্রতি বিশেষ নজর রাখার আহ্বান জানান। শিশু রোগীদের এই সংকটময় পরিস্থিতিতে চিকিৎসকরা যেভাবে দিনরাত পরিশ্রম করে সেবা দিয়ে যাচ্ছেন, তার জন্য তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা হয় এবং সেবার মান আরও উন্নত করার তাগিদ দেওয়া হয়।
হাসপাতাল পরিদর্শনের এই পুরো সময়টিতে রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের সঙ্গে আরও উপস্থিত ছিলেন মহানগর বিএনপির বিভিন্ন অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের স্থানীয় দায়িত্বশীল নেতারা, যারা সার্বিক কার্যক্রমে সক্রিয়ভাবে অংশ নেন। চিকিৎসাকেন্দ্রগুলোতে ডেঙ্গু রোগীদের ক্রমবর্ধমান চাপের কথা উল্লেখ করে নেতৃবৃন্দ বলেন যে কেবল হাসপাতালগুলোর ওপর নির্ভর না করে মশা নিধনের জন্য সিটি কর্পোরেশন ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরের পক্ষ থেকে জোরালো ক্রাশ প্রোগ্রাম পরিচালনা করা উচিত। ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়ন এবং জমে থাকা ময়লা-আবর্জনা দ্রুত পরিষ্কার করার মাধ্যমে এডিস মশার বংশবিস্তার রোধ করা সম্ভব না হলে এই পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ রূপ ধারণ করতে পারে বলে তারা আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন। সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিত করার জন্য দলীয় সীমানার ঊর্ধ্বে উঠে সকলকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানানো হয় এবং ডেঙ্গু সচেতনতা বৃদ্ধির জন্য বিভিন্ন প্রচারণামূলক কার্যক্রম চালানোর ওপর জোর দেওয়া হয়। রাজনৈতিক নেতাদের এই সরব উপস্থিতি এবং জনকল্যাণমুখী পদক্ষেপের ফলে স্থানীয় সাধারণ মানুষের মাঝে ইতিবাচক প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে।
পরিশেষে বলা যায় যে, খুলনা মহানগরে ডেঙ্গু পরিস্থিতি যখন দিন দিন অবনতির দিকে যাচ্ছে, ঠিক সেই মুহূর্তে রাজনৈতিক শীর্ষ নেতৃবৃন্দের এই হাসপাতাল পরিদর্শন ও রোগীর খোঁজখবর নেওয়ার ঘটনাটি অত্যন্ত সময়োপযোগী ও প্রশংসনীয়। জনগণের মৌলিক অধিকার ও স্বাস্থ্যসেবা প্রাপ্তির ক্ষেত্রে এ ধরনের দায়িত্বশীল ভূমিকা সমাজে ইতিবাচক প্রভাব ফেলে এবং প্রশাসনকে আরও বেশি সক্রিয় হতে বাধ্য করে। আমরা আশা করি স্বাস্থ্য বিভাগ ও স্থানীয় প্রশাসনের যৌথ উদ্যোগে খুলনার ডেঙ্গু পরিস্থিতির দ্রুত উন্নতি ঘটবে এবং আক্রান্তরা সবাই সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরতে পারবেন। নগরবাসীর সম্মিলিত সচেতনতা এবং কার্যকর মশা নিধন অভিযানের মাধ্যমেই কেবল এই মরণব্যাধি ডেঙ্গুর প্রকোপ থেকে খুলনাকে সম্পূর্ণ মুক্ত করা সম্ভব—এটাই আজকের দিনে সকলের সর্বসম্মত প্রত্যাশা।
প্রতিবেদনের সূত্র: প্রেস বিজ্ঞপ্তি ও স্থানীয় গণমাধ্যম প্রতিনিধি।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন
আপনার মূল্যবান মতামত আমাদের জানান। কোনো উসকানিমূলক বা অশালীন মন্তব্য করা থেকে বিরত থাকুন।