প্রতিবেদন: শামীম হোসাইন / শাহজাদপুর / দিগন্ত বাংলা নিউজ
দেশের স্বাস্থ্য খাতে জনবল সংকট নিরসনে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নিয়েছে সরকার। স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের আওতাধীন সারা দেশের সকল স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানে ত্রয়োদশ থেকে ষোড়শ গ্রেডের শূন্য পদগুলোতে জরুরি ভিত্তিতে জনবল নিয়োগ দেওয়ার নির্দেশনা জারি করা হয়েছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে জারি করা এই প্রজ্ঞাপনে বিষয়টি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে।
গতহস্পতিবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্রশাসন শাখা থেকে জারি করা স্মারকে বলা হয়, গত চৌদ্দ জুলাই অনুষ্ঠিত মাসিক সমন্বয় সভায় মাননীয় প্রধানমন্ত্রী স্বাস্থ্য খাতের গুরুত্বপূর্ণ শূন্য পদগুলো দ্রুত পূরণের নির্দেশ দিয়েছেন। সেই নির্দেশনার আলোকে বর্তমান সরকার স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অধীন সকল প্রতিষ্ঠানে ত্রয়োদশ থেকে ষোড়শ গ্রেডের শূন্য পদগুলোতে প্রয়োজনীয় জনবল নিয়োগের উদ্যোগ গ্রহণ করেছে।
আরও পড়ুন: বগুড়ায় মেয়ে ধর্ষণে মৃত্যুদণ্ড
এই নির্দেশনা অনুযায়ী নন-ক্যাডার কর্মচারী নিয়োগ বিধিমালা অনুসারে সকল শূন্য পদে অস্থায়ী বা চুক্তিভিত্তিক ভিত্তিতে জরুরি নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে। বিশেষ করে যেসব প্রতিষ্ঠানে বর্তমান সরকার ক্ষমতা গ্রহণের আগে জাতীয় পর্যায়ে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশিত হয়েছিল এবং প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে, সেসব ক্ষেত্রে পূর্বে জমা দেওয়া আবেদনগুলো বিবেচনায় নিয়ে দ্রুত নিয়োগ সম্পন্ন করার কথা বলা হয়েছে।
একই সঙ্গে বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর যেসব নিয়োগ প্রক্রিয়ায় কোনো প্রশাসনিক জটিলতা সৃষ্টি হয়েছে, সেগুলো দ্রুত নিষ্পত্তি করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। নিয়োগ প্রক্রিয়ায় বিভাগীয় প্রার্থীদের অগ্রাধিকার দেওয়ার বিষয়টিও স্পষ্ট করা হয়েছে। ত্রয়োদশ গ্রেডের পদে সিভিল সার্জন বা হাসপাতাল সুপারিনটেনডেন্টের অধীন কর্মরতদের অগ্রাধিকার থাকবে। চৌদ্দশ গ্রেডের ক্ষেত্রে বিভাগীয় প্রার্থী না পাওয়া গেলে বাইরের প্রার্থীদের বিবেচনা করা যাবে। পঞ্চদশ ও ষোড়শ গ্রেডের পদে বিধিমালা অনুসারে প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের এই নির্দেশনা দেশের স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থার মান উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে সংশ্লিষ্ট মহল মনে করছে। দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন হাসপাতাল ও স্বাস্থ্যকেন্দ্রে জনবল সংকটের কারণে সেবা প্রদানে বিঘ্ন ঘটছিল। বিশেষ করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, জেলা হাসপাতাল এবং বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানগুলোতে প্রয়োজনীয় জনবলের অভাবে রোগীদের সেবায় বিলম্ব হচ্ছিল। এই জরুরি নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলে সেই সংকট অনেকাংশে কেটে যাবে।
স্বাস্থ্য খাত দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ খাত। জনগণের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার। সেই লক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রীর সরাসরি নির্দেশনার পর স্বাস্থ্য অধিদপ্তর দ্রুত পদক্ষেপ নিয়েছে। প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, সকল স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানকে নিয়োগ সংক্রান্ত তথ্য নির্ধারিত সময়ের মধ্যে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্ধারিত ইমেইলে পাঠাতে হবে। এতে নিয়োগ প্রক্রিয়া আরও স্বচ্ছ ও দ্রুত সম্পন্ন হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
আরও পড়ুন: নারীদের অনার্স পর্যন্ত শিক্ষা অবৈতনিক করার ঘোষণা দিলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান
এই নিয়োগ প্রক্রিয়ায় অস্থায়ী বা চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। এর ফলে দ্রুত জনবল নিয়োগ সম্ভব হবে এবং পরবর্তীতে স্থায়ী নিয়োগের প্রক্রিয়াও সহজ হবে। বিশেষ করে প্রত্যন্ত অঞ্চলের স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলোতে দক্ষ জনবল নিয়োগের মাধ্যমে সেবার মান বৃদ্ধি পাবে। গ্রামীণ জনগোষ্ঠী যারা দীর্ঘদিন ধরে মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা থেকে বঞ্চিত, তারা উপকৃত হবেন।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক প্রশাসন এই প্রজ্ঞাপনে স্বাক্ষর করেছেন। প্রজ্ঞাপনে স্পষ্ট করে বলা হয়েছে যে, নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার ক্ষেত্রে বিধিমালা মেনে চলতে হবে এবং কোনো ধরনের অনিয়ম যেন না হয় সেদিকে বিশেষ নজর দিতে হবে। একই সঙ্গে পূর্বে চলমান নিয়োগ প্রক্রিয়াগুলো দ্রুত শেষ করার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে যাতে প্রার্থীরা দীর্ঘ অপেক্ষার সম্মুখীন না হন।
দেশের স্বাস্থ্য ব্যবস্থায় জনবল সংকট একটি পুরনো সমস্যা। বিশেষ করে করোনা মহামারীর পর থেকে স্বাস্থ্য খাতে জনবলের চাহিদা আরও বেড়েছে। নতুন নতুন সেবা সম্প্রসারণ এবং রোগীর চাপ বৃদ্ধির কারণে শূন্য পদগুলো পূরণ করা জরুরি হয়ে পড়েছে। এই পরিপ্রেক্ষিতে সরকারের এই পদক্ষেপকে ইতিবাচক হিসেবে দেখা হচ্ছে।
নিয়োগ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার জন্য স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সকল প্রতিষ্ঠানকে নির্দেশ দিয়েছে যাতে তারা নিয়োগ সংক্রান্ত সকল তথ্য নির্ধারিত সময়ের মধ্যে পাঠায়। এতে কেন্দ্রীয় পর্যায় থেকে মনিটরিং করা সহজ হবে এবং কোনো প্রতিষ্ঠান যেন পিছিয়ে না থাকে সেটি নিশ্চিত করা যাবে।
এই জরুরি নিয়োগের ফলে স্বাস্থ্য খাতে কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে। তরুণ প্রজন্মের মধ্যে যারা স্বাস্থ্য খাতে কাজ করতে আগ্রহী, তাদের জন্য এটি একটি সুযোগ হয়ে উঠতে পারে। একই সঙ্গে অভিজ্ঞ কর্মীরাও নতুন পদে যোগ দিয়ে সেবা প্রদানের সুযোগ পাবেন।
স্বাস্থ্যসেবার মান উন্নয়ন শুধু জনবল নিয়োগের ওপর নির্ভর করে না। তবে পর্যাপ্ত জনবল থাকলে সেবা প্রদানের গতি বৃদ্ধি পায় এবং রোগীদের অপেক্ষার সময় কমে আসে। বিশেষ করে জরুরি বিভাগ, মাতৃত্বকালীন সেবা এবং শিশু স্বাস্থ্যসেবায় জনবলের অভাব দীর্ঘদিন ধরে সমস্যা সৃষ্টি করছিল। এই নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলে সেই সমস্যাগুলো অনেকাংশে সমাধান হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
সরকারের এই উদ্যোগকে স্বাস্থ্য খাতের সঙ্গে সংশ্লিষ্টরা স্বাগত জানিয়েছেন। তারা মনে করেন, প্রধানমন্ত্রীর সরাসরি নির্দেশনার পর দ্রুত এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে যা ইতিবাচক। এখন নিয়োগ প্রক্রিয়া স্বচ্ছ ও দ্রুত সম্পন্ন হলে দেশের স্বাস্থ্য ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী হবে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের এই নির্দেশনা দেশের সকল স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানের জন্য প্রযোজ্য। কেন্দ্রীয় পর্যায় থেকে শুরু করে উপজেলা পর্যায় পর্যন্ত সকল প্রতিষ্ঠানকে এই নির্দেশনা মেনে চলতে হবে। এর ফলে সারা দেশে একযোগে নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু হবে এবং জনবল সংকট দ্রুত কাটবে।
আগামী দিনগুলোতে এই নিয়োগ প্রক্রিয়ার অগ্রগতি নিয়ে আরও তথ্য প্রকাশ পাবে বলে আশা করা হচ্ছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর নিয়মিত মনিটরিংয়ের মাধ্যমে নিয়োগ প্রক্রিয়া তদারকি করবে যাতে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সকল শূন্য পদ পূরণ করা সম্ভব হয়।
সূত্র: স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্রজ্ঞাপন।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন
আপনার মূল্যবান মতামত আমাদের জানান। কোনো উসকানিমূলক বা অশালীন মন্তব্য করা থেকে বিরত থাকুন।