প্রতিবেদন: আব্দুস ছাত্তার (শামীম) / শাহজাদপুর / দিগন্ত বাংলা নিউজ
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি পদে আসীন হওয়ার পর প্রথমবার নিজ জন্মভূমি ও প্রিয় জেলা ঠাকুরগাঁওয়ে দুই দিনের ঐতিহাসিক ও অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ রাষ্ট্রীয় সফরে যাচ্ছেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। আগামী ৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ (রবিবার) দুপুরে বিশেষ সামরিক হেলিকপ্টারযোগে তিনি ঠাকুরগাঁও শহরের প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত ঐতিহ্যবাহী শহীদ মোহাম্মদ আলী স্টেডিয়ামে অবতরণ করবেন বলে রাষ্ট্রপতির কার্যালয় ও স্থানীয় জেলা প্রশাসন সূত্র আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেছে। নিজ ভূমির সন্তান দেশের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক আসনে অধিষ্ঠিত হওয়ার পর প্রথমবারের মতো এলাকায় আগমনকে কেন্দ্র করে সমগ্র ঠাকুরগাঁও জেলা জুড়ে এখন বইছে আনন্দ, উদ্দীপনা ও উচ্ছ্বাসের জোয়ার। মহামান্য রাষ্ট্রপতির সফরসূচিকে সার্বিকভাবে নির্বিঘ্ন, সফল ও স্মরণীয় করে তুলতে স্থানীয় জেলা প্রশাসন, পুলিশ বিভাগ ও নিরাপত্তা সংস্থাগুলোর সমন্বয়ে গৃহীত হয়েছে অভূতপূর্ব ও নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা ব্যবস্থা।
আরও পড়ুন: ইতালিতে বিশ্বযুদ্ধোত্তর দীর্ঘতম সরকারের নতুন রেকর্ড গড়লেন জর্জিয়া মেলোনি
ঘোষিত রাষ্ট্রীয় সফরসূচি অনুযায়ী, আগামী ৬ সেপ্টেম্বর রবিবার দুপুরে স্টেডিয়ামে হেলিকপ্টার থেকে অবতরণের পর রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে জেলা পুলিশের একটি চৌকস দলের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক গার্ড অব অনার প্রদান করা হবে ঠাকুরগাঁও সার্কিট হাউসে। সার্কিট হাউসে সংক্ষিপ্ত বিশ্রাম ও স্থানীয় প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের সাথে কুশল বিনিময়ের পর বিকেলের দিকে তিনি যোগ দেবেন বিশেষ সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে। ঠাকুরগাঁও সরকারি বালক উচ্চবিদ্যালয়ের সুপরিচিত বড় মাঠে জেলাবাসীর পক্ষ থেকে এক বর্ণাঢ্য নাগরিক সংবর্ধনার আয়োজন করা হয়েছে। স্থানীয় আপামর জনসাধারণ, শিক্ষক, বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ ও সর্বস্তরের মানুষের উপস্থিতিতে আয়োজিত এই বিশাল সংবর্ধনা সভায় মহামান্য রাষ্ট্রপতি প্রধান অতিথি হিসেবে ভাষণ প্রদান করবেন এবং জেলাবাসীর ভালোবাসা ও আন্তরিক অভিনন্দনের জবাব দেবেন।
সফরের দ্বিতীয় দিন অর্থাৎ ৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ (সোমবার) সকালে রাষ্ট্রপতির ব্যস্ততম কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে এক যুগান্তকারী উন্নয়নমূলক প্রকল্পের শুভ সূচনা। এদিন সকালে তিনি ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার জামালপুর এলাকায় গমন করবেন এবং সেখানে বহুল প্রতীক্ষিত ‘ঠাকুরগাঁও বিশ্ববিদ্যালয়’-এর ভিত্তিপোস্তর আনুষ্ঠানিকভাবে স্থাপন করবেন। উত্তরবঙ্গের পিছিয়ে পড়া সীমান্তঘেঁষা জনপদের উচ্চশিক্ষার প্রসার, মানসম্মত গবেষণা এবং তরুণ প্রজন্মের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টিতে এই বিশ্ববিদ্যালয় এক নতুন দিগন্তের উন্মোচন করবে বলে মনে করছেন শিক্ষাবিদ ও স্থানীয় সচেতন মহল। দীর্ঘদিন ধরে ঠাকুরগাঁওবাসী যে পূর্ণাঙ্গ পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের দাবি জানিয়ে আসছিলেন, রাষ্ট্রপতির হাত ধরে তার শুভ সূচনা হতে চলায় সর্বস্তরের মানুষের মাঝে আনন্দঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়েছে।
আরও পড়ুন: কালিয়াকৈরে যুবলীগের ঝটিকা মিছিল, যুবদলের পাল্টা বিক্ষোভ
বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠান সম্পন্ন করে মহামান্য রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর তাঁর মরহুম পিতা-মাতার কবর জিয়ারত ও বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনায় বিশেষ দোয়া মাহফিলে অংশগ্রহণ করবেন। পারিবারিক গোরস্থানে পরম শ্রদ্ধেয় পিতামাতার স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন ও মোনাজাত শেষে তিনি স্থানীয় আত্মীয়স্বজন ও শুভানুধ্যায়ীদের সাথে কিছুটা সময় কুশল বিনিময় করবেন। সফরের যাবতীয় আনুষ্ঠানিক কর্মসূচি সফলভাবে সম্পন্ন করে ৭ সেপ্টেম্বর বিকেলের দিকেই তিনি পুনরায় সুনির্দিষ্ট সামরিক হেলিকপ্টারযোগে ঢাকার উদ্দেশ্যে রওয়ানা হবেন। রাষ্ট্রপতির আগমনকে ঘিরে ঠাকুরগাঁও শহরের প্রধান প্রধান সড়ক, গুরুত্বপূর্ণ মোড় এবং সার্কিট হাউস এলাকা সাজানো হয়েছে দৃষ্টিনন্দন তোরণ, ব্যানার ও রঙিন আলোকসজ্জায়।
উত্তরবঙ্গের সীমান্ত সংলগ্ন এই জনপদের আর্থ-সামাজিক রূপান্তর এবং জাতীয় মূলধারায় ঠাকুরগাঁওকে তুলে ধরার ক্ষেত্রে রাষ্ট্রপতির এই সফর অত্যন্ত গুরুত্ব বহন করে। স্থানীয় ব্যবসায়ী, শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষ মনে করছেন যে, রাষ্ট্রপতির নিজ জেলায় এই সফরের মাধ্যমে কেবল শিক্ষা ক্ষেত্রই নয়, বরং আঞ্চলিক যোগাযোগ ব্যবস্থা ও কর্মসংস্থানে এক নতুন গতিশীলতা তৈরি হবে। নিজ জেলার সন্তান হিসেবে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের এই পদার্পণ সমগ্র ঠাকুরগাঁওবাসীর জন্য পরম গর্বের এবং আঞ্চলিক ইতিহাসের এক সোনাঝরা অধ্যায় হিসেবে স্বর্ণাক্ষরে লিপিবদ্ধ হয়ে থাকবে।
রাষ্ট্রপতির সার্বিক নিরাপত্তায় ঠাকুরগাঁও জেলা পুলিশ, র্যাব, বিশেষ নিরাপত্তা বাহিনী (এসএসএফ) এবং বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার প্রতিনিধিরা চব্বিশ ঘণ্টা সতর্ক অবস্থানে রয়েছেন। স্টেডিয়াম, সার্কিট হাউস, সংবর্ধনা স্থল এবং জামালপুরের বিশ্ববিদ্যালয় নির্মাণ এলাকা জুড়ে গঠন করা হয়েছে নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা বলয়। ঠাকুরগাঁওয়ের জেলা প্রশাসন জানিয়েছে, মহামান্য রাষ্ট্রপতির প্রথম জেলা সফরকে উৎসবমুখর ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে সম্পন্ন করতে সব ধরনের প্রশাসনিক প্রস্তুতি ইতিমধ্যে সুসম্পন্ন হয়েছে। প্রিয় অভিভাবককে সানন্দে বরণ করে নিতে অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছেন ঠাকুরগাঁওয়ের সর্বস্তরের জনতা।
সূত্র: ঠাকুরগাঁও জেলা প্রশাসন ও রাষ্ট্রপতি দপ্তর।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন
আপনার মূল্যবান মতামত আমাদের জানান। কোনো উসকানিমূলক বা অশালীন মন্তব্য করা থেকে বিরত থাকুন।