তারেক রহমানের ১৯তম কারামুক্তি দিবস আজ

তারেক রহমানের ১৯তম কারামুক্তি দিবস আজ
ছবি: সংগৃহীত

প্রতিবেদন: আব্দুস ছাত্তার (শামীম) / শাহজাদপুর / দিগন্ত বাংলা নিউজ

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের ঐতিহাসিক ১৯তম কারামুক্তি দিবস আজ। সেনাসমর্থিত বহুল আলোচিত ও বিতর্কিত এক-এগারোর সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের শাসনামলে দায়ের করা একাধিক রাজনৈতিক মামলায় টানা ৫৫৪ দিন কারারুদ্ধ থাকার পর এই দিনে আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে কারাগার থেকে মুক্ত হন তিনি। দীর্ঘ আঠারো মাসের বন্দিজীবনে শারীরিক নির্যাতন, শারীরিক চরম অবক্ষয় এবং নানান প্রতিকূলতা অতিক্রম করে অবশেষে উচ্চ আদালতের নির্দেশে সব মামলায় জামিন পান তিনি। পরবর্তীতে চিকিৎসকদের পরামর্শ ও আদালতের অনুমতি সাপেক্ষে চিকিৎসার উদ্দেশ্যে ২০০৮ সালের ৩ সেপ্টেম্বর তিনি পরিবারের সদস্যদের সাথে দেশত্যাগ করে যুক্তরাজ্যের লন্ডনে গমন করেন। সেই থেকে দেশের জাতীয় রাজনীতি ও বিরোধী দলের গণতান্ত্রিক আন্দোলনে এই দিনটি বিএনপি এবং তার অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের কাছে এক পরম তাৎপর্যপূর্ণ ও অবিস্মরণীয় স্মারক হিসেবে বিবেচিত হয়ে আসছে।

আরও পড়ুন: জয়পুরহাটে ৩ ঘণ্টার প্যারোলে মুক্ত হয়ে মায়ের জানাজায় সাবেক লীগ নেতা

ঐতিহাসিক পটভূমি পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, ২০০৭ সালের ১১ জানুয়ারি দেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট আকস্মিকভাবে পরিবর্তিত হওয়ার পর গঠিত হয় তৎকালীন বিতর্কিত সেনা সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকার। ওই সরকারের আমলে রাজনৈতিক সংস্কার এবং তথাকথিত বিরাজনীতিকরণের প্রক্রিয়া শুরু হয়, যার প্রধান নিশানা করা হয় দেশের শীর্ষ রাজনীতিবীদ ও তরুণ নেতৃত্বকে। সেই ধারাবাহিকতায় ২০০৭ সালের ৭ মার্চ গভীর রাতে কোনো প্রকার পূর্ববর্তী গ্রেফতারি পরোয়ানা, নির্দিষ্ট অভিযোগ কিংবা সাধারণ ডায়েরি ব্যতিরেকেই বিএনপির তৎকালীন সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব তারেক রহমানকে যৌথবাহিনী তাঁর ক্যানটনমেন্টস্থ বাসভবন থেকে হেফাজতে গ্রহণ করে। পরবর্তীতে তাঁর বিরুদ্ধে একের পর এক দুর্নীতি, চাঁদাবাজি ও বিভিন্ন ধারায় মোট ১২টি মামলা দায়ের করা হয় এবং জাতীয় গণমাধ্যমে তাঁর বিরুদ্ধে বিভ্রান্তিকর প্রচার-প্রচারণা চালানো হতে থাকে।

কারাগারে অন্তরীণ থাকাকালে আইনশৃঙ্খলারক্ষাকারী বাহিনীর নানামুখী জিজ্ঞাসাবাদ ও রিমান্ডের নামে তাঁর ওপর অমানুষিক শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালানোর সুনির্দিষ্ট অভিযোগ ওঠে। রিমান্ড চলাকালে নির্মম নির্যাতনের শিকার হয়ে তিনি শারীরিক মারাত্মক অসুস্থতায় পতিত হন। নির্যাতনের তীব্রতায় তাঁর মেরুদণ্ডের হাড় ভেঙে যায় এবং শরীরের বিভিন্ন সংবেদনশীল অঙ্গ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। হাঁটাচলার ক্ষমতা হারিয়ে একপর্যায়ে তিনি শয্যাশায়ী হয়ে পড়েন। তাঁর শারীরিক অবস্থার আশঙ্কাজনক অবনতি ঘটলে তাঁকে তৎকালীন পিজি হাসপাতালে (বর্তমান বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব চিকিৎসা বিশ্ববিদ্যালয়) স্থানান্তরিত করা হয় এবং সেখানে কড়া নিরাপত্তার মধ্যে বিশেষজ্ঞ মেডিকেল বোর্ডের অধীনে দীর্ঘ দিন চিকিৎসা প্রদান করা হয়। চিকিৎসা চলাকালেও তাঁর ওপর আইনি ও প্রশাসনিক চাপ অব্যাহত ছিল বলে জানা যায়।

আরও পড়ুন: কালীগঞ্জে মাদরাসাছাত্রীদের উত্ত্যক্ত করায় যুবককে জুতার মালা

পরবর্তীতে উচ্চ আদালতে তাঁর অভিজ্ঞ আইনজীবী প্যানেল সুনির্দিষ্ট তথ্যপ্রমাণ ও যুক্তির ভিত্তিতে পর্যায়ক্রমে দায়ের করা সকল মামলার বিরুদ্ধে আইনি লড়াই অব্যাহত রাখেন। বিচারিক প্রক্রিয়ার ধারাবাহিকতায় দেশের সর্বোচ্চ আদালত থেকে একের পর এক মামলায় জামিন লাভ করতে সক্ষম হন তারেক রহমান। দীর্ঘ শুনানি ও আইনি পর্যালোচনার পর ২০০৮ সালের সেপ্টেম্বর মাসের প্রারম্ভে তিনি সকল আইনি জট কাটিয়ে মুক্তির চূড়ান্ত আদেশ লাভ করেন। কারামুক্তির সার্বিক প্রশাসনিক আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকা অবস্থাতেই তাঁকে আনুষ্ঠানিকভাবে মুক্ত ঘোষণা করা হয়। তবে তাঁর শারীরিক অবস্থা অত্যন্ত সংকটাপন্ন থাকায় চিকিৎসকরা দ্রুত বিদেশে নিয়ে উন্নত চিকিৎসার সুপারিশ প্রদান করেন।

চিকিৎসক দল ও আইনজীবীদের লিখিত আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আদালত তাঁকে উন্নত চিকিৎসার সুযোগ প্রদান করে বিদেশে যাওয়ার অনুমতি মঞ্জুর করে। এরই ধারাবাহিকতায় ২০০৮ সালের ৩ সেপ্টেম্বর তৎকালীন পিজি হাসপাতাল থেকে সরাসরি বিমানবন্দর নিয়ে যাওয়া হয় এবং অ্যাম্বুলেন্স যোগে সপরিবারে তিনি চিকিৎসার উদ্দেশ্যে যুক্তরাজ্যের লন্ডনের উদ্দেশ্যে যাত্রা করেন। যুক্তরাজ্যে পৌঁছানোর পর সেখানকার বিশেষায়িত চিকিৎসকদের নিবিড় তত্ত্বাবধানে তাঁর একাধিক জটিল অস্ত্রোপচার ও দীর্ঘমেয়াদী ফিজিওথেরাপি চিকিৎসা প্রদান করা হয়। যদিও প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে সাময়িক সময়ে দেশে ফেরার প্রত্যাশা ছিল, কিন্তু পরবর্তী রাজনৈতিক বাস্তবতা ও আইনি জটিলতার কারণে তিনি দীর্ঘদিন ধরে প্রবাসেই অবস্থান করতে বাধ্য হচ্ছেন এবং প্রবাসে বসেই তাঁর দলের মূল সাংগঠনিক কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছেন।

তারেক রহমানের কারামুক্তি দিবসকে ঘিরে প্রতি বছরই বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) এবং এর মূল ও সহযোগী অঙ্গসংগঠনগুলোর পক্ষ থেকে দেশব্যাপী নানান কর্মসূচি পালিত হয়ে থাকে। এই দিনটিতে কেন্দ্রীয় ও তৃণমূল পর্যায় পর্যন্ত দলটির নেতাকর্মীরা আলোচনা সভা, দোয়া ও মিলাদ মাহফিল এবং সাধারণ মানুষের মাঝে বিভিন্ন মানবিক সহায়তামূলক কার্যক্রমের আয়োজন করেন। নেতাকর্মীরা মনে করেন, তৎকালীন ওয়ান-ইলেভেন সরকারের সেই নির্যাতন ও ষড়যন্ত্রমূলক মামলাসমূহের মূল লক্ষ্য ছিল তরুণ রাজনৈতিক নেতৃত্বকে স্থায়ীভাবে স্তব্ধ করে দেওয়া। তবে সকল বাধা অতিক্রম করে আজও তিনি প্রবাস থেকে দলকে সুসংগঠিত রাখতে নেতৃত্ব দিয়ে যাচ্ছেন। এ দিনে তাঁর আশু পূর্ণাঙ্গ সুস্থতা, দীর্ঘায়ু এবং সুস্বাস্থ্য কামনা করে বিশেষ মোনাজাত পরিচালনা করেন তৃণমূলের নেতাকর্মীরা।

সূত্র: প্রেস বিজ্ঞপ্তি ও রাজনৈতিক সূত্র।

Post a Comment

আপনার মূল্যবান মতামত আমাদের জানান। কোনো উসকানিমূলক বা অশালীন মন্তব্য করা থেকে বিরত থাকুন।

নবীনতর পূর্বতন