প্রতিবেদন: আব্দুস ছাত্তার (শামীম) / শাহজাদপুর / দিগন্ত বাংলা নিউজ
জয়পুরহাট জেলার ক্ষেতলালে নাশকতার মামলায় গ্রেপ্তার জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক রাশেদুল ইসলাম তিন ঘণ্টার প্যারোলে মুক্তি পেয়ে তাঁর মায়ের জানাজা ও দাফন প্রক্রিয়ায় অংশ নিয়েছেন। মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর ২০২৬) দুপুরে জেলা প্রশাসনের বিশেষ অনুমতিক্রমে হাতকড়া পরা অবস্থায় ও পুলিশের কড়া প্রহরায় তিনি মায়ের শেষ বিদায়ের আনুষ্ঠানিকতায় শরিক হন। পারিবারিক ধর্মীয় কাজ সম্পন্ন করার নির্ধারিত সময়সীমা অতিক্রান্ত হওয়ার পরপরই পুলিশি প্রহরায় তাঁকে পুনরায় জয়পুরহাট জেলা কারাগারে ফিরিয়ে নেওয়া হয়। হাতকড়া পরা অবস্থায় মায়ের শেষ বিদায়ে অংশ নেওয়ার এই দৃশ্য উপস্থিত স্থানীয় গ্রামবাসীদের মাঝে গভীর আবেগঘন পরিস্থিতির সৃষ্টি করে।
আরও পড়ুন: ক্যাম্পাস প্রতিনিধিদের নিয়ে সিরাজগঞ্জে ছাত্রশিবিরের মতবিনিময়
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্যারোলে মুক্তি পাওয়া রাশেদুল ইসলাম জয়পুরহাটের ক্ষেতলাল উপজেলার মামুদপুর ইউনিয়নের চৌমুনী বাজার সংলগ্ন ধনতলা গ্রামের মরহুম শামসুদ্দীনের ছেলে। তিনি রাজনৈতিক পরিচয়ে আওয়ামী লীগের স্থগিতকৃত সহযোগী সংগঠন জয়পুরহাট জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক ছিলেন। গত জুলাই-আগস্টের ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী সময়ে দায়ের হওয়া একটি নাশকতার মামলায় গত ২২ আগস্ট আইনশৃঙ্খলারক্ষাকারী বাহিনীর হাতে গ্রেপ্তার হন তিনি। এর পর থেকে আদালতের নির্দেশে তিনি জেলা কারাগারে বন্দি রয়েছেন।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, কারারুদ্ধ রাশেদুল ইসলামের বৃদ্ধা মা রহিমা বিবি (৯৫) দীর্ঘদিন ধরে নানা শারীরিক জটিলতায় ভুগছিলেন। মঙ্গলবার সকালের দিকে নিজ বাড়িতে স্ট্রোকজনিত কারণে তিনি শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন। মায়ের মৃত্যুর খবর কারাগারে থাকা সন্তানের কাছে পৌঁছালে পরিবারে চরম শোকের ছায়া নেমে আসে। শোকার্ত পরিস্থিতিতে মরহুমা মায়ের জানাজা ও দাফন সম্পন্ন করতে সন্তানের উপস্থিতি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে স্বজনদের পক্ষ থেকে জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ও জেলা প্রশাসকের নিকট লিখিতভাবে আবেদন জানানো হয়। আবেদনটি গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করে প্রশাসন তাঁকে তিন ঘণ্টার জন্য প্যারোলে মুক্তির অনুমতি প্রদান করে।
আরও পড়ুন: সপ্তাহের মধ্যেই গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক হওয়ার আশা রুহুল কবির রিজভীর
আইনি ও দাপ্তরিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার পর পুলিশ সদস্যের একটি দল রাশেদুল ইসলামকে হাতকড়া পরা অবস্থায় জয়পুরহাট জেলা কারাগার থেকে সরাসরি ক্ষেতলালের ধনতলা গ্রামে তাঁর নিজ বাড়িতে নিয়ে আসে। সেখানে পৌঁছানোর পর পুলিশি নজরদারির মধ্যে হাতকড়া পরা অবস্থায় তিনি কিছু সময় পরম শ্রদ্ধায় মরহুমা মায়ের মরদেহের পাশে অবস্থান করেন। পরবর্তীতে স্থানীয় ময়দানে অনুষ্ঠিত জানাজার নামাজে তিনি শরিক হন। জানাজা শেষে গ্রামের পারিবারিক কবরস্থানে সার্বিক ধর্মীয় নিয়ম মেনে দাফন কার্য সম্পন্ন করা হয়। পুরো আনুষ্ঠানিকতা জুড়েই কড়া পুলিশি নিরাপত্তা বলয় বজায় রাখা হয়েছিল।
সাময়িক প্যারোলে মুক্তির এই বিষয়টি প্রাতিষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেছেন জয়পুরহাট জেলা কারাগারের জেল সুপার উম্মে সালমা। তিনি জানান, আসামির পরিবারের পক্ষ থেকে জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ও জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত আবেদন পেশ করা হয়েছিল। জেলা প্রশাসনের অনুমতিক্রমে মানবিক বিবেচনায় তিন ঘণ্টার জন্য তাঁকে প্যারোলে মুক্তি দেওয়া হয়। নির্ধারিত পুলিশ প্রহরায় তাঁকে নিজ গ্রামে জানাজায় নিয়ে যাওয়া হয় এবং স্বজনদের সাথে জানাজা ও দাফন কাজ শেষ হওয়ার পর নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যেই তাঁকে পুনরায় কারাগারে নিরাপদে ফিরিয়ে আনা হয়েছে।
আইন অনুযায়ী স্বজন হারানোর এমন হৃদয়বিদারক মুহূর্তে মানবিক ও ধর্মীয় বিধান পালনে বন্দিদের প্যারোলে মুক্তির সুযোগ রয়েছে। রাজনৈতিক মামলায় কারারুদ্ধ থাকলেও গর্ভধারিণী মায়ের শেষ বিদায়লগ্নে সন্তান হিসেবে উপস্থিত থেকে জানাজা পড়ার ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। প্রশাসনিক সকল বাধ্যবাধকতা ও আইনি নিয়ম বজায় রেখে সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিতের মাধ্যমে এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়। হাতকড়া পরিহিত অবস্থায় সন্তানকে মায়ের মরদেহের পাশে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে স্থানীয়দের মাঝেও এক বিষাদময় পরিবেশের অবতারণা হয়েছিল।
সূত্র: জয়পুরহাট জেলা কারাগার ও স্বজন।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন
আপনার মূল্যবান মতামত আমাদের জানান। কোনো উসকানিমূলক বা অশালীন মন্তব্য করা থেকে বিরত থাকুন।