প্রতিবেদন: শামীম হোসাইন / শাহজাদপুর / দিগন্ত বাংলা নিউজ
সিরাজগঞ্জ জেলার ঐতিহ্যবাহী তাঁতশিল্প সমৃদ্ধ এলাকা এনায়েতপুর থানাধীন গোপরেখী পশ্চিম পাড়া গ্রামে এক নৃশংস ও চাঞ্চল্যকর সহিংস ঘটনার অভিযোগ পাওয়া গেছে। বৈবাহিক দাম্পত্য সম্পর্কের দীর্ঘ দুই যুগের বন্ধনকে উপেক্ষা করে পরকীয়ায় জড়িয়ে পড়ার প্রতিবাদ ও বাধা প্রদান করায় এক তাঁত কাপড় ব্যবসায়ীর ওপর সংঘবদ্ধ হামলার ঘটনা ঘটেছে। ঘটনার বিবরণ অনুযায়ী, ভুক্তভোগী গৃহকর্তার বসতবাড়িতে হামলা চালিয়ে তাকে বেধড়ক মারধর ও জখম করার পাশাপাশি বসতঘরের মূল্যবান আসবাবপত্র ব্যাপকভাবে ভাঙচুর করা হয়। কেবল ভাঙচুরেই সীমাবদ্ধ থাকেনি হামলাকারীরা; তারা আলমারির লকার ভেঙে নقد প্রায় সাড়ে ৩ লাখ টাকা লুটপাট করে নিয়ে গেছে বলে মারাত্মক অভিযোগ উঠে এসেছে। এ ঘটনায় গুরুতর আহত তাঁত ব্যবসায়ী মোঃ হাসমতুল্লাহ প্রামানিককে (৪৫) আশঙ্কাজনক অবস্থায় উদ্ধার করে স্থানীয় চিকিৎসা কেন্দ্রে তাৎক্ষণিক জরুরি চিকিৎসা সেবা দেওয়া হয়েছে। ঘটনার পর থেকে পুরো এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
নির্যাতন ও হামলার শিকার ভুক্তভোগী তাঁত ব্যবসায়ী মোঃ হাসমতুল্লাহ প্রামানিক স্থানীয় সাংবাদিকদের নিকট ঘটনার আদ্যোপান্ত বিস্তারিত তুলে ধরে জানান, দীর্ঘ ২৩ বছর আগে এনায়েতপুর থানার গোপরেখী পশ্চিমপাড়া গ্রামের স্থানীয় ব্যবসায়ী হারুনর রশিদের কনিষ্ঠ কন্যা আয়শা খাতুনের সাথে পারিবারিকভাবে সামাজিক ও ধর্মীয় রীতিনীতি মেনে তাঁর বিবাহ সম্পন্ন হয়েছিল। দীর্ঘ দুই যুগের সুখের দাম্পত্য জীবনে তাদের ঘরে কোলজুড়ে আসে দুই পুত্র ও এক কন্যাসন্তান। সময়ের পরিক্রমায় তাদের বড় ছেলে ও একমাত্র কন্যাসন্তানের বিয়ে হয়ে গেছে এবং তারা নিজস্ব সংসারে প্রতিষ্ঠিত। বর্তমানে তাদের ঘরে ১২ বছর বয়সী একটি কনিষ্ঠ পুত্রসন্তান রয়েছে। দীর্ঘদিনের এই সুখী ও সুসংগঠিত পরিবারটিতে অশুভ ছায়া নেমে আসে আনুমানিক ৫ থেকে ৬ বছর পূর্বে। অভিযোগ রয়েছে, পার্শ্ববর্তী বেলকুচি উপজেলার আজগড়া এলাকার অধিবাসী কোরবান আলী নামের এক ব্যক্তির সাথে ভুক্তভোগীর স্ত্রীর অনৈতিক ও পরকীয়া সম্পর্ক গড়ে ওঠে।
আরও পড়ুন: শাহজাদপুরে আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভায় প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত
ব্যবসায়ী হাসমতুল্লাহ জানান, স্ত্রীর এই অনৈতিক সম্পর্কের বিষয়টিতে তিনি অবগত হওয়ার পর থেকেই পরিবারে চরম অশান্তি ও কোন্দলের সূচনা হয়। সন্তান ও সামাজিক মর্যাদার কথা চিন্তা করে তিনি বহুবার নিজ স্ত্রীকে পথ থেকে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করেন এবং পরকীয়া প্রেমিক কোরবান আলীকে তাঁর স্ত্রীর সাথে যোগাযোগ ও মেলামেশা বন্ধ করার জন্য একাধিকবার নিষেধ করেন। কিন্তু তাঁর এই স্বাভাবিক প্রতিবাদ ও বাধার মুখে পরকীয়া প্রেমিক আরও হিংস্র ও আগ্রাসী হয়ে ওঠে। অভিযোগ সূত্রে আরও প্রকাশ, অনৈতিক সম্পর্কের পথ সুগম রাখতে এবং প্রতিবাদী স্বামীকে স্তব্ধ করে দেওয়ার উদ্দেশ্যে এর আগেও একাধিকবার কোরবান আলী ও তার বাহিনী ভুক্তভোগী হাসমতুল্লাহর ওপর শারীরিক হামলার ঘটনা ঘটায়। একাধিকবার জীবননাশের হুমকিসহ শারীরিক নির্যাতনের শিকার হলেও সংসারের শান্তি ও সন্তানদের ভবিষ্যতের কথা বিবেচনা করে বিষয়টি তিনি স্থানীয়ভাবে মেটানোর চেষ্টা চালিয়ে আসছিলেন।
ঘটনার ভয়াল বর্ণনা দিয়ে ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী জানান, বিগত শুক্রবার ২৪ জুলাই রাত ১০টার দিকে পরিস্থিতি চরম আকার ধারণ করে। পরকীয়া প্রেমিক কোরবান আলী দেশীয় অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে তার অন্তত ২৫ থেকে ৩০ জনের একটি ভাড়াটে ও সংঘবদ্ধ সন্ত্রাসী দল নিয়ে হাসমতুল্লাহ প্রামানিকের গোপরেখী পশ্চিম পাড়াস্থ বাসভবনে অতর্কিত ও নৈশ হামলা চালায়। তারা বাড়ির সীমানা প্রাচীর টপকে প্রাঙ্গণে প্রবেশ করে এবং ঘরের দরজা ভেঙে ভেতরে ঢুকে তাণ্ডব শুরু করে। হামলাকারীরা কিছু বুঝে ওঠার আগেই গৃহকর্তা হাসমতুল্লাহকে ঘিরে ফেলে কিল-ঘুষি, লাথি এবং শক্ত লাঠিসোটা দিয়ে বেদম মারধর করতে থাকে। তাঁর আর্তচিৎকারে ঘরে থাকা কনিষ্ঠ সন্তান ও আশেপাশের মানুষের মধ্যে চরম আতঙ্কের সৃষ্টি হয়। সন্ত্রাসীরা ঘরের ভেতরের শোকেস, টেলিভিশন, খাটসহ মূল্যবান আসবাবপত্র কুপিয়ে ও পিটিয়ে চুরমার করে দেয়।
আরও পড়ুন: ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব নিলেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন
একপর্যায়ে হামলাকারীরা ঘরের আলমারির ড্রয়ার ও লকার জোরপূর্বক ভেঙে তাঁত ব্যবসার জন্য গচ্ছিত রাখা নগদ প্রায় সাড়ে তিন লাখ টাকা ছিনিয়ে নেয়। তাণ্ডব চালিয়ে ব্যবসায়ীকে রক্তাক্ত ও অচেতন অবস্থায় ফেলে রেখে হামলাকারীরা দ্রুত এলাকা ত্যাগ করে। পরবর্তীতে হাসমতুল্লাহর তাঁত কারখানায় কর্মরত শ্রমিক ও কর্মচারীরা এবং স্থানীয় প্রতিবেশীরা এগিয়ে এসে তাকে গুরুতর আহত অবস্থায় উদ্ধার করে এবং প্রাথমিক চিকিৎসার ব্যবস্থা গ্রহণ করে। ভুক্তভোগী ব্যবসায়ীর গুরুতর অভিযোগ, এই বর্বরোচিত ঘটনাটি সংঘটিত হওয়ার পরপরই তিনি আইনি সুরক্ষার আশায় স্থানীয় থানা পুলিশকে বিষয়টি অবহিত করেন। কিন্তু দুঃখজনকভাবে পুলিশ প্রশাসন থেকে তাৎক্ষণিক কোনো দৃশ্যমান কার্যকরী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি, যার ফলে ভুক্তভোগী ও তাঁর পরিবার চরম নিরাপত্তাহীনতায় দিনাতিপাত করছেন।
ঘটনার সত্যতা যাচাই এবং অভিযুক্তের বক্তব্য গ্রহণের উদ্দেশ্যে পরকীয়া প্রেমিক হিসেবে অভিযুক্ত কোরবান আলীর ব্যবহৃত মুঠোফোনে দিগন্ত বাংলা নিউজের পক্ষ থেকে বারবার যোগাযোগ করার চেষ্টা চালানো হলেও তিনি ফোন কল রিসিভ করেননি। ফলে এ বিষয়ে অভিযুক্তের কোনো বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে এনায়েতপুরের সাধারণ ব্যবসায়ী সমাজ ফুঁসে উঠছে। অনতিবিলম্বে অপরাধীদের আইনের আওতায় এনে লুণ্ঠিত অর্থ উদ্ধার ও পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
সংবাদ সূত্র: ভুক্তভোগী ব্যবসায়ীর সরাসরি বক্তব্য ও দিগন্ত বাংলা নিউজ এর বিশেষ এনায়েতপুর প্রতিনিধি।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন
আপনার মূল্যবান মতামত আমাদের জানান। কোনো উসকানিমূলক বা অশালীন মন্তব্য করা থেকে বিরত থাকুন।