ফরিদপুর প্রতিনিধি, ২৪ জুলাই ২০২৬:
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক নারীর সঙ্গে আপত্তিকর ও অনৈতিক ভিডিও ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ার পর দলীয় শৃঙ্খলা ও নৈতিক স্খলনের অভিযোগে ফরিদপুরে এক বিএনপি নেতাকে দল থেকে চূলচেরা বহিষ্কার করা হয়েছে। বহিষ্কৃত হওয়া ওই নেতার নাম মো. ওবায়দুর রহমান। তিনি ফরিদপুর সদর উপজেলার অন্তর্গত আলিয়াবাদ ইউনিয়ন বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদকের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন।
বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) দিবাগত গভীর রাতে ফরিদপুর জেলা বিএনপির সভাপতি ও আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট সৈয়দ মোদাররেসালী ইছা এবং সদস্য সচিব এ কে এম কিবরিয়া স্বপনের যৌথ অনুস্বাক্ষরে নির্গত এক জরুরি বহিষ্কারাদেশের বিজ্ঞপ্তিতে এ সিদ্ধান্ত ঘোষণা করা হয়। পরবর্তীতে জেলা বিএনপির নির্ভরযোগ্য তথ্যসূত্রও এই সাংগঠনিক শাস্তিমূলক ব্যবস্থার বিষয়টি স্পষ্ট ভাষায় নিশ্চিত করেছে।
আরও পড়ুন: শুক্রবার পদত্যাগ করছেন রাষ্ট্রপতি মোঃ সাহাবুদ্দিন!
স্থানীয় সূত্রে প্রাপ্ত তথ্যে প্রকাশ, গত কয়েকদিন ধরে ওই বিএনপি নেতার সঙ্গে এক নারীর আনুমানিক ৫ মিনিট ৩৭ সেকেন্ড ব্যাপ্তির একটি অত্যন্ত বিতর্কিত ও আপত্তিকর ভিডিও ক্লিপ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে ছড়িয়ে পড়তে থাকে। ভিডিওটি লোকচক্ষুর সামনে আসা মাত্রই মুহূর্তের মধ্যে সাইবার জগতে ভাইরাল হয়ে যায় এবং স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনসহ সচেতন জনমনে চরম বিতর্কের খোরাক যোগায়।
জেলা বিএনপির প্যাডে জারি করা ওই বহিষ্কার সংক্রান্ত পত্রে সুনির্দিষ্টভাবে উল্লেখ করা হয় যে, নৈতিক স্খলনজনিত গুরুতর অপরাধ ও অনৈতিক কর্মকাণ্ডে সরাসরি যুক্ত থাকার প্রমাণ পাওয়ায় আলিয়াবাদ ইউনিয়ন বিএনপির পদ থেকে মো. ওবায়দুর রহমানকে প্রাথমিক সদস্যপদসহ স্থায়ীভাবে অব্যাহতি প্রদান করা হয়েছে। একই সাথে বিএনপির জেলা ও স্থানীয় পর্যায়ের সকল স্তরের নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে কড়া নির্দেশনা দিয়ে জানানো হয় যে, ওই ব্যক্তির সাথে ভবিষ্যতে কোনো প্রকার রাজনৈতিক বা দলীয় সম্পর্ক রাখা যাবে না।
বিতর্কিত এই বিষয়ে প্রতিক্রিয়া ও আত্মপক্ষ সমর্থনের বক্তব্য জানার জন্য মো. ওবায়দুর রহমানের ব্যক্তিগত মুঠোফোনে বারবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি, ফলে তাঁর কোনো প্রাতিষ্ঠানিক মন্তব্য পাওয়া সম্ভব হয়নি।
ঘটনার সত্যতা ও সাংগঠনিক অবস্থান নিশ্চিত করে ফরিদপুর জেলা বিএনপির সদস্য সচিব এ কে এম কিবরিয়া স্বপন জানান, ওবায়দুর রহমানের একটি আপত্তিকর দৃশ্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি দলীয় হাইকমান্ডের নজরে আসে। উদ্ভূত পরিস্থিতির সত্যতা নিখুঁতভাবে যাচাই করার পর জেলা বিএনপির এক বিশেষ পর্যালোচামূলক সভায় সর্বসম্মতিক্রমে তাঁকে দল থেকে বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। পাশাপাশি সিদ্ধান্তটি দ্রুত বাস্তবায়নে বহিষ্কারাদেশের অনুলিপি সামাজিক মাধ্যমেও শেয়ার করা হয়েছে।
তিনি আরও দৃঢ় কণ্ঠে পুনর্ব্যক্ত করেন যে, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) কোনো ধরনের অনাচার, নৈতিক স্খলন কিংবা দলীয় ভাবমূর্তি ক্ষুণ্নকারী কর্মকাণ্ডকে বিন্দুমাত্র প্রশ্রয় দেয় না। সংগঠনের মান-মর্যাদা ও ঐতিহ্য বিনষ্টকারী যে ব্যক্তিই হোক না কেন, তাঁর বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি বজায় রেখে কঠোর প্রশাসনিক ও সাংগঠনিক বিচারপ্রক্রিয়া অব্যাহত থাকবে।
সংবাদ সূত্র: ফরিদপুর জেলা বিএনপি কার্যালয় ও স্থানীয় দলীয় সূত্র।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন
আপনার মূল্যবান মতামত আমাদের জানান। কোনো উসকানিমূলক বা অশালীন মন্তব্য করা থেকে বিরত থাকুন।