প্রতিবেদন: শামীম হোসাইন / শাহজাদপুর / দিগন্ত বাংলা নিউজ
ফরিদপুরে মাদকাসক্ত ছেলের কাঠের তক্তার আঘাতে মায়ের মৃত্যু
ফরিদপুর জেলা সদরের বিল মামুদপুর এলাকায় জন্মদাত্রী মাকে পিটিয়ে হত্যার এক অত্যন্ত হৃদয়বিদারক ও চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটেছে। পারিবারিক সংঘাতের একপর্যায়ে মাদকাসক্ত ছেলের হিংস্রতার শিকার হয়ে নিজ ঘরেই প্রাণ হারিয়েছেন ষাটোর্ধ্ব এক বৃদ্ধা। এই নির্মম হত্যাকাণ্ডের খবর ছড়িয়ে পড়লে সমগ্র এলাকায় চরম শোকের ছায়া নেমে আসে এবং ঘাতক সন্তানের এমন জঘন্য কর্মকাণ্ডে স্থানীয় অধিবাসীদের মাঝে তীব্র ক্ষোভ ও নিন্দার ঝড় ওঠে।
ঘটনাটি ঘটেছে ফরিদপুর শহরের বাইতুল আমান এলাকার অন্তর্ভুক্ত বিল মামুদপুর আব্দুর রহমান মোল্লার ডাঙ্গী গ্রামে। ৩০ জুলাই ২০২৬ বৃহস্পতিবার দুপুর আনুমানিক ১২টা ৩০ মিনিট থেকে ১টা ০০ মিনিটের মধ্যবর্তী সময়ে এই মর্মান্তিক ঘটনাটি ঘটে। নিহত ভাগ্যহত মায়ের নাম মোসা: শামেলা বেগম (৬৫)। তিনি উক্ত গ্রামের বয়োবৃদ্ধ অধিবাসী মোঃ আকবর শেখের (৭০) স্ত্রী। দীর্ঘ সংসার জীবনে যে সন্তানকে পরম মমতায় লালন-পালন করে বড় করেছিলেন, সেই সন্তানের হাতেই এভাবে প্রদীপ নিভে যাওয়ার মতো অকালে জীবন দিতে হলো তাকে।
আরও পড়ুন: শাহজাদপুরে প্রবাসীর বাড়ি নির্মাণে বাধা ও চাঁদা দাবির অভিযোগ
স্থানীয় বাসিন্দা ও স্বজনদের সূত্রে জানা যায়, নিহত শামেলা বেগমের ছেলে মোঃ রাহিম শেখ (৩৩) পেশায় একজন দিনমজুর। তবে কাজের আড়ালে সে দীর্ঘদিন ধরে মারাত্মকভাবে বিভিন্ন ক্ষতিকর ও অবৈধ মাদকের সাথে জড়িত হয়ে পড়েছিল। মাদকের অর্থ জোগাড় এবং নানাবিধ পারিবারিক বিষয়ের জেরে ধরে ঘরে প্রায়ই অশান্তি ও বাকবিতণ্ডা লেগে থাকত। গত বৃহস্পতিবার দুপুরে আবারও পারিবারিক কলহ তুঙ্গে উঠলে উন্মত্ত হয়ে ওঠে রাহিম। একপর্যায়ে ঘর থেকে একটি ভারী কাঠের তক্তা বা বাটাম নিয়ে এসে নিজ জন্মদাত্রী মায়ের মাথায় সজোরে সটান আঘাত করে সে। মাথার গুরুত্বপূর্ণ অংশে আঘাতটি এতটাই গুরুতর ছিল যে, অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে ঘটনাস্থলেই মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন মা শামেলা বেগম।
আরও পড়ুন: ফ্যাটি লিভারের সমস্যা কমাতে আদার কার্যকর ব্যবহার
ঘটনার ভয়াবহতা টের পেয়ে প্রতিবেশীরা দ্রুত সেখানে উপস্থিত হন এবং পুলিশে খবর দেন। সংবাদের তীব্রতা বিবেচনা করে ফরিদপুর কোতোয়ালি থানা পুলিশ, জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি), সিআইডির আলামত সংগ্রহকারী দল এবং স্থানীয় পৌর কাউন্সিলর সৈয়দ আলাওল হোসেন তনু অনতিবিলম্বে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। কোতোয়ালি থানার তদন্ত কর্মকর্তা সুকান্ত দত্তের নেতৃত্বে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রতিনিধিরা অপরাধস্থল কর্ডন করে নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করেন এবং প্রাথমিক প্রমাণাদি সংরক্ষণ করেন। পরবর্তীতে মরদেহ উদ্ধার করে সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুতের পর ময়নাতদন্তের জন্য ফরিদপুর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে কোতোয়ালি থানার তদন্ত কর্মকর্তা সুকান্ত দত্ত জানান, নিহতের মাথায় ভারী কাঠের আঘাতের স্পষ্ট চিহ্ন রয়েছে। প্রাথমিক অনুসন্ধানে ঘাতক সন্তান দীর্ঘদিন ধরে মাদকাসক্ত ছিল বলে তথ্য পাওয়া গেছে। এ মর্মান্তিক হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় থানায় হত্যা মামলা দায়েরের আইনি প্রক্রিয়া চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। ঘটনার পর থেকে আত্মগোপনে থাকা ঘাতক সন্তান মোঃ রাহিম শেখকে দ্রুত গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনতে পুলিশের কয়েকটি টিম জোর অভিযান অব্যাহত রেখেছে। এলাকাটিতে থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করলেও পুলিশী তৎপরতা জোরদার রয়েছে।
সূত্র: স্থানীয় থানা পুলিশ ও সরেজমিন তথ্য, দিগন্ত বাংলা নিউজ।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন
আপনার মূল্যবান মতামত আমাদের জানান। কোনো উসকানিমূলক বা অশালীন মন্তব্য করা থেকে বিরত থাকুন।