ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জে সাত বছরের সুসংগঠিত দাম্পত্য জীবন ও ছয় বছরের শিশুসন্তানকে পেছনে ফেলে নগদ অর্থ ও মূল্যবান স্বর্ণালংকার নিয়ে প্রতিবেশী যুবকের সঙ্গে এক গৃহবধূ চম্পট দিয়েছেন বলে তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ ও প্রতারিত হয়ে নিজের স্ত্রী ও ওই যুবকের বিরুদ্ধে স্থানীয় থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন ভুক্তভোগী স্বামী। ঘটনাটি ঘটে উপজেলার রাজিবপুর ইউনিয়নের বৃ-দেবস্থান গ্রামে।
অভিযোগসূত্রে প্রাপ্ত তথ্যে জানা যায়, উপজেলার বৃ-দেবস্থান গ্রামের অধিবাসী মনি চন্দ্র দে (৩২)-এর সাথে গত সাত বছর পূর্বে সনাতন ধর্মীয় রীতি অনুযায়ী বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন ঝর্ণা রানী দে ওরফে মায়া (২৫)। সুখী দাম্পত্যের সাক্ষী হিসেবে তাঁদের ঘরে ৬ বছর বয়সী একটি পুত্রসন্তান রয়েছে। জীবিকার তাগিদে মনি চন্দ্র দে দীর্ঘ সময় বাড়ির বাইরে হোটেল কর্মচারী হিসেবে কঠোর পরিশ্রম করতেন। এই অনুপস্থিতির সুযোগে প্রতিবেশী রুদ্র চন্দ্র দে (২৭)-এর সঙ্গে ঝর্ণা রানী দে পরকীয়া সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন বলে অভিযোগ উঠেছে।
আরও পড়ুন: সুবর্ণচরে প্রাইভেট পড়তে গিয়ে শিক্ষিকার বাবার হাতে ছাত্রী নির্যাতনের শিকার!
আলমারি ভেঙে অলংকার ও নগদ টাকা লোপাটের অভিযোগ
ভুক্তভোগী মনি চন্দ্র দে জানান, দীর্ঘদিনের পরকীয়া প্রেমের পরিণতি হিসেবে চলতি মাসের ১ জুলাই ঘর থেকে আলমারিতে রক্ষিত আনুমানিক দুই ভরি ওজনের সোনার গহনা এবং নগদ প্রায় ৪৫ হাজার টাকা নিয়ে রুদ্রর সঙ্গে সুযোগ বুঝে উধাও হন ঝর্ণা রানী দে। বিষয়টিতে ইতিপূর্বে একাধিকবার পরিবারের পক্ষ থেকে ঝর্ণা রানীকে সতর্ক করা হলেও তিনি তা অমান্য করে পরকীয়া সম্পর্ক অব্যাহত রেখেছিলেন।
পরবর্তীতে কোনো উপায় না দেখে গত ১৫ জুলাই ঈশ্বরগঞ্জ থানায় স্ত্রী ঝর্ণা রানী দে এবং অভিযুক্ত প্রতিবেশী রুদ্র চন্দ্র দে-কে অভিযুক্ত করে একটি লিখিত এজাহার জমা দেন মনি চন্দ্র দে। তবে বিষয়টির সামাজিক সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হলেও উল্টো হুমকি-ধমকির মুখোমুখি হতে হচ্ছে বলে ক্ষোভ প্রকাশ করেন তিনি।
স্থানীয় প্রতিনিধি ও পূজা কমিটির মন্তব্য
ঘটনাটিকে কেন্দ্র করে ওই এলাকায় ব্যাপক সামাজিক গুঞ্জন সৃষ্টি হয়েছে। এ বিষয়ে বেশ কয়েকজন দায়িত্বশীল ব্যক্তিবর্গ মুখ খুলেছেন:
- ইউনিয়ন পূজা উদযাপন পরিষদ: রাজিবপুর ইউনিয়ন পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি জনি দে জানান, অভিযুক্ত রুদ্র চন্দ্র দে এলাকায় নানা বিতর্কিত কর্মকাণ্ড ও নারী সংক্রান্ত ঘটনায় জড়িত। তাঁর একচ্ছত্র একটি নিজস্ব দল রয়েছে এবং পরকীয়া প্রেমের সুবাদে পালিয়ে যাওয়ার খবরটি এলাকায় সত্য বলেই বিবেচিত হচ্ছে।
- স্থানীয় ইউপি সদস্য: রফিকুল ইসলাম জানান, তাঁদের মধ্যে অনৈতিক সম্পর্কের বিষয়টি ইতিপূর্বে এলাকায় সমালোচিত হয়েছিল। পারিবারিকভাবে সালিশ-বৈঠক করে তা মীমাংসা করা সম্ভব না হওয়ায় ভুক্তভোগীকে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়।
- উপজেলা পূজা কমিটি: ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলা পূজা উদযাপন কমিটির সভাপতি প্রবোধ রঞ্জন সরকার বলেন, অনাকাঙ্ক্ষিত এই ঘটনার কথা তিনি শুনেছেন এবং নিরপেক্ষ প্রশাসনিক তদন্তের মাধ্যমে অন্যায়ের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক বিচার হওয়া উচিত।
পাল্টা দাবি ও থানা পুলিশের ভূমিকা
ঘটনা বিষয়ে কথা বলতে অভিযুক্ত রুদ্র চন্দ্র দে ও তাঁর পরিবারের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা চালানো হলে ফোন নম্বর বন্ধ পাওয়া যায়।
আরও পড়ুন: রণক্ষেত্র ভারতের দিল্লি, বন্ধ ইন্টারনেট: পদযাত্রায় তুমুল সংঘাত!
পরবর্তীতে তাঁর চাচা রনজিত চন্দ্র দে দাবি করেন, ভাতিজা রুদ্রের সঙ্গে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ থাকলেও সে ওই নারীকে নিয়ে পালিয়ে যায়নি, বরং ঝর্ণা রানী নিজেই স্বামীকে ডিভোর্স লেটার পাঠিয়েছেন।
সমসাময়িক এ বিষয়ে ঈশ্বরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রবিউল আজম জানান, স্বামী কর্তৃক একটি লিখিত অভিযোগ হাতে এসেছে। পুরো বিষয়টি পুলিশ গুরুত্বসহকারে খতিয়ে দেখছে এবং তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত পদক্ষেপ গ্রহণ করবে।
সংবাদ সূত্র: ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জ থানা পুলিশ ও ভুক্তভোগী পরিবারের বক্তব্য।

অসাধারণ
উত্তরমুছুনNice news
উত্তরমুছুনThank You
উত্তরমুছুনThank You
উত্তরমুছুনএকটি মন্তব্য পোস্ট করুন
আপনার মূল্যবান মতামত আমাদের জানান। কোনো উসকানিমূলক বা অশালীন মন্তব্য করা থেকে বিরত থাকুন।