ব্রেকিং নিউজ

গৃহিণী থেকে সাফল্যের চূড়ায় রায়পুরের রোকসানা: গ্রামীণ নারী জাগরণে এক অনন্য দৃষ্টান্ত

গৃহিণী থেকে সাফল্যের চূড়ায় রায়পুরের রোকসানা: গ্রামীণ নারী জাগরণে এক অনন্য দৃষ্টান্ত
ছবি: সংগৃহীত
সারাদেশ ডেস্ক: শামীম হোসাইন / দিগন্ত বাংলা নিউজ

লক্ষ্মীপুর: বাংলাদেশের গ্রামীণ জনপদে নারীরা যুগে যুগে কেবল ঘরের চার দেয়ালের মাঝেই নিজেদের বন্দি রেখেছেন, এমন ধারণা এখন অনেকটাই অতীত। কালের পরিক্রমায় গ্রামীণ নারীরা এখন নিজেদের মেধা, শ্রম ও অদম্য ইচ্ছাশক্তিকে কাজে লাগিয়ে সমাজের মূল চালিকাশক্তিতে রূপান্তরিত হচ্ছেন। কেবল নিজের ভাগ্য বদল নয়, বরং সমাজের পিছিয়ে পড়া শত শত অবহেলিত নারীকে স্বাবলম্বী ও আত্মনির্ভরশীল করে তোলার এক জীবন্ত কিংবদন্তি হয়ে উঠেছেন লক্ষ্মীপুর জেলার রায়পুর উপজেলার এক অদম্য নারী উদ্যোক্তা। তার নাম রোকসানা আক্তার রেহানা। তিনি প্রমাণ করেছেন, মেধা আর সঠিক কর্মপরিকল্পনা থাকলে একাধারে সংসার সামলানোর পাশাপাশি গ্রামীণ অর্থনীতিতে এক বিরাট বিপ্লব ঘটানো সম্ভব। নিরাপদ কৃষি ব্যবস্থার প্রসার, উন্নতমানের জৈব সার উৎপাদন, বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে ছাগল পালন, কুটির শিল্পের বিকাশ এবং সর্বোপরি নারীদের অর্থনৈতিক ক্ষমতায়নের মাধ্যমে তিনি আজ গোটা জেলাজুড়ে এক প্রশংসিত নাম।

শৈশব থেকেই নেতৃত্বের গুণাবলী ও বেড়ে ওঠা

রোকসানা আক্তার রেহানার এই গৌরবময় পথচলার পেছনে রয়েছে এক দীর্ঘ অধ্যাবসায়ের ইতিহাস। লক্ষ্মীপুর জেলার রায়পুর উপজেলার অন্তর্গত ১ নম্বর উত্তর চর আবাবিল ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের ঐতিহ্যবাহী ঝাউডগী গ্রামে তার জন্ম ও বেড়ে ওঠা। মধ্যবিত্ত পরিবারের এক ভাই ও চার বোনের মধ্যে রোকসানা ছিলেন তৃতীয়। শৈশব থেকেই তিনি ছিলেন অত্যন্ত দায়িত্বশীল ও প্রখর বুদ্ধিমত্তার অধিকারী। পরিবারের যেকোনো জটিল কাজে তিনি স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশ নিতেন এবং তা সফলভাবে সম্পন্ন করতেন। পড়াশোনার প্রতি তার ছিল প্রবল আগ্রহ, যার ফলশ্রুতিতে তিনি রায়পুর সরকারি কলেজ থেকে সফলতার সাথে স্নাতক (বিএ) ডিগ্রি অর্জন করেন। উচ্চশিক্ষা অর্জনের পর কেবল চাকরি খোঁজার চেনা ছকে পা না বাড়িয়ে, ছোটবেলা থেকে মনের ভেতর লালন করা সামাজিক নেতৃত্ব এবং সমাজ পরিবর্তনের আকাঙ্ক্ষা তাকে ভিন্ন এক পথ বেছে নিতে উদ্বুদ্ধ করে। আজ তিনি যে স্তরে পৌঁছেছেন, তার ভিত্তিপ্রস্তর মূলত স্থাপিত হয়েছিল তার সেই শৈশবের পরিশ্রমী মানসিকতা ও সমাজসেবামূলক চিন্তাধারার মধ্য দিয়েই।

আরও পড়ুন: খামেনির শেষ বিদায়: ওয়াশিংটনের নজিরবিহীন কূটনৈতিক চাপ ও নতুন বৈশ্বিক সমীকরণ

দাম্পত্য জীবন ও ঘরের বাইরে পা রাখার প্রত্যয়

পড়াশোনা শেষ করার পর সামাজিক রীতি অনুযায়ী রোকসানা আক্তার রেহানা বৈবাহিক জীবনে পদার্পণ করেন। বর্তমানে তিনি এক পুত্র ও এক কন্যাসন্তানের এক গর্বিত জননী। সাধারণ বাঙালি নারীদের মতো তিনি চাইলে কেবল একজন আদর্শ গৃহিণী হিসেবেই জীবন পার করে দিতে পারতেন। কিন্তু যার রক্তে মিশে আছে সমাজ পরিবর্তনের চেতনা, তাকে কি ঘরের চার দেওয়ালে আটকে রাখা যায়? রোকসানা অনুভব করলেন, গ্রামীণ নারীদের অর্থনৈতিক মুক্তি না ঘটলে সমাজের প্রকৃত উন্নয়ন কখনোই সম্ভব নয়। এই তাড়না থেকেই তিনি সংসারের সমস্ত দায়িত্ব অত্যন্ত নিখুঁতভাবে পালন করার পাশাপাশি গ্রামীণ নারীদের জন্য কিছু করার সিদ্ধান্ত নেন। তিনি ঘর থেকে বের হয়ে পাড়ার নারীদের সাথে উঠান বৈঠক শুরু করেন এবং তাদের বোঝাতে সক্ষম হন যে, ঘরে বসেই ছোট ছোট উদ্যোগের মাধ্যমে নিজেদের ভাগ্য পরিবর্তন করা সম্ভব। তার এই আহ্বানে সাড়া দিয়ে স্থানীয় অবহেলিত ও সুবিধাবঞ্চিত নারীরা একতাবদ্ধ হতে শুরু করেন, যা পরবর্তীতে একটি শক্তিশালী নারী কৃষক দল গঠনে রূপ নেয়।

নিরাপদ কৃষি ও ভার্মি কম্পোস্ট (কেঁচো সার) উৎপাদনে নীরব বিপ্লব

রোকসানা আক্তার রেহানার সবচেয়ে বড় এবং যুগান্তকারী উদ্যোগগুলোর একটি হলো এলাকায় নিরাপদ ও বিষমুক্ত কৃষির প্রসার ঘটানো। বর্তমান সময়ে বাজারে রাসায়নিক সার ও কীটনাশকের অতিরিক্ত ব্যবহারের ফলে মানবদেহ ও পরিবেশের যে অপূরণীয় ক্ষতি হচ্ছে, তা রুখতে তিনি কাজ শুরু করেন। তিনি গ্রামীণ নারীদের বাড়ির আঙিনা এবং দীর্ঘদিন ধরে পতিত থাকা অনাবাদী জমিগুলোকে কাজে লাগিয়ে সম্পূর্ণ বিষমুক্ত উপায়ে শাকসবজি চাষ করার পরামর্শ ও প্রশিক্ষণ দেন। এর ফলে একদিকে যেমন স্থানীয় পরিবারগুলোর পুষ্টির চাহিদা পূরণ হচ্ছে, অন্যদিকে উৎপাদিত অতিরিক্ত সবজি বাজারে বিক্রি করে নারীরা আয়ের একটি স্থায়ী উৎস খুঁজে পাচ্ছেন।

রাসায়নিক সারের বিকল্প হিসেবে তিনি রাসায়নিকমুক্ত খামার গড়ে তোলার লক্ষ্যে নিজেই ‘ভার্মি কম্পোস্ট’ বা কেঁচো জৈব সার উৎপাদনের একটি আধুনিক ও বৈজ্ঞানিক মডেল তৈরি করেন। যেকোনো নতুন কাজের শুরুটা যেমন কঠিন হয়, রোকসানার ক্ষেত্রেও তার ব্যতিক্রম হয়নি। গ্রামীণ সমাজের চিরাচরিত রক্ষণশীল মানসিকতার কারণে শুরুতে অনেকেই তার এই কাজকে বাঁকা চোখে দেখতেন। একজন শিক্ষিত নারী হয়ে তিনি কেন গোবর ও কেঁচো নিয়ে কাজ করছেন—এই নিয়ে স্থানীয় পর্যায়ে প্রচুর হাসি-তামাশা ও কটূক্তির মুখোমুখি হতে হয়েছিল তাকে। কিন্তু দমে যাওয়ার পাত্রী ছিলেন না রোকসানা। তিনি সমস্ত সমালোচনাকে একপাশে সরিয়ে রেখে নিজের লক্ষ্যে অবিচল থাকেন। আজ তার উৎপাদিত সেই পরিবেশবান্ধব জৈব সার ওই এলাকার কৃষকদের কাছে এতটাই জনপ্রিয় ও আস্থার প্রতীক হয়ে উঠেছে যে, দূর-দূরান্ত থেকে কৃষকরা তার খামারে আসেন সার সংগ্রহ করার জন্য। এর মাধ্যমে তিনি প্রমাণ করেছেন, সততা ও নিষ্ঠা থাকলে গোবরের মতো বর্জ্য থেকেও সোনার ফসল ফলানো সম্ভব।

ছাগল পালন প্রকল্পের মাধ্যমে গ্রামীণ নারীদের ভাগ্যবদল

নারী উন্নয়নের এই ধারাকে আরও গতিশীল ও বহুমুখী করতে রোকসানা আক্তার রেহানা উপজেলা প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের দ্বারস্থ হন। তাদের কারিগরি ও প্রশাসনিক সহযোগিতায় তিনি এলাকায় ছাগল পালনভিত্তিক একটি অত্যন্ত সুপরিকল্পিত প্রকল্প হাতে নেন। এই প্রকল্পের আওতায় তিনি গ্রামের দরিদ্র ও দুস্থ ৩০ জন নারীকে একত্রিত করে একটি শক্তিশালী ‘ছাগল উৎপাদক দল’ গঠন করেন। কেবল দল গঠন করেই তিনি ক্ষান্ত হননি, প্রাণিসম্পদ অফিসের কর্মকর্তাদের মাধ্যমে এই নারীদের বৈজ্ঞানিক ও আধুনিক পদ্ধতিতে ছাগল পালনের ওপর উন্নতমানের প্রশিক্ষণ প্রদানের ব্যবস্থা করেন। একই সাথে ছাগলের রোগবালাই প্রতিরোধ এবং তাদের জন্য স্বাস্থ্যসম্মত ও পরিবেশবান্ধব বিশেষ শেড (মাচা পদ্ধতি) নির্মাণে নারীদের প্রয়োজনীয় সহায়তা ও দিকনির্দেশনা দেন। রোকসানার এই সময়োপযোগী উদ্যোগের ফলে গ্রামের বহু সাধারণ নারী আজ সম্পূর্ণ বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে ছাগল পালন করে নিজেদের স্বাবলম্বী করে তুলেছেন। যে নারীরা একসময় সামান্য খরচের টাকার জন্য অন্যের ওপর নির্ভরশীল থাকতেন, তারা আজ নিজেদের পশুর খামার থেকে প্রতি বছর এক বিরাট অঙ্কের টাকা আয় করছেন।

কুটির শিল্প ও বহুমুখী কর্মসংস্থান সৃষ্টি

জৈব সার এবং গবাদি পশু পালনের পাশাপাশি রোকসানা আক্তার রেহানা স্থানীয় নারীদের কুটির শিল্প ও হস্তশিল্পের মতো সৃজনশীল কাজের সাথে যুক্ত করার প্রয়োজনীয়তা অনুভব করেন। তিনি নারীদের জন্য দর্জি বিজ্ঞান বা সেলাই প্রশিক্ষণ, নকশিকাঁথা তৈরি, হস্তশিল্প এবং বিভিন্ন ধরণের ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্পভিত্তিক কার্যক্রমের সূচনা করেন। তার অক্লান্ত পরিশ্রমে গড়ে ওঠা এই প্রশিক্ষণ ব্যবস্থার মাধ্যমে গ্রামের শত শত নারী আজ দক্ষ কারিগরে পরিণত হয়েছেন। ঘরে বসেই সেলাইয়ের কাজ করে কিংবা কুটির শিল্পের সামগ্রী তৈরি করে তারা বাজারে সরবরাহ করছেন, যা তাদের পারিবারিক অর্থনীতিতে এক বিশাল ইতিবাচক অবদান রাখছে। রোকসানার এই বহুমুখী কর্মসংস্থান সৃষ্টির প্রয়াস আজ রায়পুর উপজেলার গ্রামীণ সমাজকে এক নতুন দিশা দেখিয়েছে।

উদ্যোক্তা রোকসানা ও স্থানীয়দের মুখবন্ধ

নিজের এই দীর্ঘ এবং চ্যালেঞ্জিং পথচলা সম্পর্কে অনুভূতি ব্যক্ত করতে গিয়ে সফল নারী উদ্যোক্তা রোকসানা আক্তার রেহানা আবেগঘন কণ্ঠে বলেন, “শুরুর দিনগুলো আমার জন্য মোটেও সহজ ছিল না। যখন আমি একা একা এই কাজগুলো শুরু করেছিলাম, বিশেষ করে গোবর এবং কেঁচো নিয়ে কাজ করার সময়, সমাজের অনেকেই আমাকে নিয়ে উপহাস করতেন। তারা ভাবতেন একজন শিক্ষিত মেয়ে কেন এসব নোংরা জিনিস নিয়ে সময় নষ্ট করছে। কিন্তু আমার মনে বিশ্বাস ছিল যে, এই গোবর থেকেই একদিন উন্নতমানের ও রাসায়নিকমুক্ত খাঁটি জৈব সার তৈরি করে আমি সমাজকে বিষমুক্ত খাদ্য উপহার দিতে পারব। আজ আমি আনন্দিত যে, আমি তা বাস্তবে রূপান্তর করতে পেরেছি এবং আমার দেখাদেখি এলাকার শত শত নারী আজ নিজেদের পায়ে দাঁড়িয়েছে। আমার এই দীর্ঘ যাত্রায় রায়পুর উপজেলা কৃষি অফিসার মাজেদুল ইসলাম স্যার এবং উপসহকারী কৃষি অফিসার আলমগীর শরীফ স্যার আমাকে যেভাবে প্রতিনিয়ত প্রযুক্তিগত সহযোগিতা, পরামর্শ ও অনুপ্রেরণা দিয়েছেন, তা আমি সারাজীবন মনে রাখব। তাদের প্রতি আমার কৃতজ্ঞতার শেষ নেই। আমি স্বপ্ন দেখি, আমাদের পুরো দেশের মানুষ একদিন সম্পূর্ণ বিষমুক্ত ও নিরাপদ খাদ্য গ্রহণ করবে এবং রাসায়নিকের অভিশাপ থেকে মুক্তি পাবে।”

রোকসানা আক্তারের এই অভাবনীয় সাফল্য ও পরিবর্তন সম্পর্কে বলতে গিয়ে ঝাউডগী গ্রামের প্রবীণ বাসিন্দা নাজমা বেগম বলেন, “প্রথম দিকে রোকসানা যখন বাড়ি বাড়ি গিয়ে নারীদের জড়ো করত আর গোবর দিয়ে সার বানানোর কথা বলত, আমরা অনেকেই ভেবেছিলাম এটা হয়তো পাগলামি। অনেকেই তাকে নিয়ে আড়ালে হাসাহাসি করত। কিন্তু আজ যখন আমরা দেখছি তার তৈরি সার ব্যবহার করে জমিতে ফলন দ্বিগুণ হচ্ছে এবং আমাদের ঘরের মেয়েরা ছাগল ও সবজি চাষ করে নিজেদের সংসারের অভাব দূর করছে, তখন আমাদের মাথা শ্রদ্ধায় নত হয়ে আসে। তার এই মহান উদ্যোগ আমাদের পুরো গ্রামের চেহারা বদলে দিয়েছে। আমি নিজেও এখন রোকসানার মতো একটি নিজস্ব ভার্মি কম্পোস্ট প্ল্যান্ট তৈরি করার জন্য কাজ শুরু করেছি।”

সরকারি কর্মকর্তাদের মূল্যায়ন ও সাধুবাদ

রোকসানা আক্তার রেহানার এই অনন্য সামাজিক ও অর্থনৈতিক উদ্যোগকে অত্যন্ত ইতিবাচক এবং অনুকরণীয় হিসেবে দেখছেন সরকারি উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারাও। রায়পুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ও বিশিষ্ট কৃষিবিদ মোঃ মাজেদুল ইসলাম এই বিষয়ে বলেন, “তৃণমূল পর্যায়ে রোকসানা আক্তার রেহানার মতো একজন দূরদর্শী নারী উদ্যোক্তা সৃষ্টি হওয়া আমাদের পুরো সমাজের জন্য অত্যন্ত গর্বের ও ইতিবাচক একটি বিষয়। বর্তমান সময়ে যখন আমরা নিরাপদ খাদ্য উৎপাদন এবং পরিবেশবান্ধব টেকসই কৃষি ব্যবস্থার ওপর সবচেয়ে বেশি জোর দিচ্ছি, ঠিক তখন তার এই ভার্মি কম্পোস্ট ও বিষমুক্ত সবজি চাষের মডেল গ্রামীণ অর্থনীতিকে আরও শক্তিশালী করতে এক অভাবনীয় ভূমিকা পালন করছে। উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সবসময় রোকসানার মতো প্রগতিশীল উদ্যোক্তাদের পাশে ছিল এবং আগামীতেও তাদের যেকোনো ধরণের কারিগরি ও লজিস্টিক সহযোগিতা প্রদানে আমরা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।”

ছবি: সংগৃহীত শাহজাদপুরে পরীক্ষা চলাকালে প্রধান শিক্ষকের নজিরবিহীন মাতলামি: সাংবাদিকদের বিকৃত প্রস্তাব, ফুঁসে উঠেছে এলাকাবাসী

একইভাবে রায়পুর উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. আতাউর রহমান রোকসানার কাজের ভূয়সী প্রশংসা করে বলেন, “১ নং উত্তর চর আবাবিল ইউনিয়নের ছাগল উৎপাদক দলের অত্যন্ত দক্ষ সেক্রেটারি হিসেবে রোকসানা আক্তার রেহানা দীর্ঘদিন ধরে তৃণমূলের অবহেলিত নারীদের অর্থনৈতিক মুক্তির জন্য কাজ করে যাচ্ছেন। গ্রামীণ নারীদের ঘরের বাইরে এনে তাদের বিভিন্ন আয়বর্ধক এবং উৎপাদনশীল কর্মকাণ্ডে যুক্ত করার ক্ষেত্রে তার অবদান অনস্বীকার্য। তিনি নারীদের যেভাবে বৈজ্ঞানিক উপায়ে ছাগল পালনে উদ্বুদ্ধ ও স্বাবলম্বী করেছেন, তা সত্যিই প্রশংসনীয়। আমাদের দেশের অবহেলিত ও গৃহিণী নারীরা যদি রোকসানা আক্তারের এই অনন্য মডেল অনুসরণ করে এগিয়ে আসেন, তবে দেশের নারীর ক্ষমতায়ন আরও দ্রুত বেগবান হবে এবং গ্রামীণ দারিদ্র্য চিরতরে দূর হবে।”

টেকসই উন্নয়ন ও নারী জাগরণের আলোকবর্তিকা

পরিশেষে বলা যায়, রোকসানা আক্তার রেহানার এই দীর্ঘ সংগ্রাম, অবিচল অধ্যবসায় এবং অনন্য সাধারণ সাফল্য কেবল কোনো একক ব্যক্তির গল্প নয়; এটি আসলে বাংলাদেশের সমকালীন গ্রামীণ নারী সমাজের জেগে ওঠার এক মহাআখ্যান। তার এই বহুমুখী উদ্যোগ একদিকে যেমন নিরাপদ খাদ্য উৎপাদন ও পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় কাজ করছে, ঠিক অন্যদিকে তেমনি গ্রামীণ বেকারত্ব দূরীকরণ, নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং টেকসই গ্রামীণ অর্থনৈতিক কাঠামো বিনির্মাণে এক অসামান্য অবদান রেখে চলেছে। তিনি আজ লক্ষ্মীপুর জেলা ছাড়িয়ে পুরো দেশের নারীদের জন্য এক অনুকরণীয় ও দীপ্যমান আদর্শ। রোকসানা আক্তার রেহানার মতো দূরদর্শী ও সাহসী নারী উদ্যোক্তাদের হাত ধরেই আগামী দিনে বিনির্মিত হবে একটি ক্ষুধা মুক্ত, দারিদ্র্য মুক্ত এবং অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী সমৃদ্ধ বাংলাদেশ।

নিউজ সূত্র: রায়পুর স্থানীয় প্রতিনিধি ও মাঠ পর্যায়ের বিশেষ প্রতিবেদন।

Post a Comment

আপনার মূল্যবান মতামত আমাদের জানান। কোনো উসকানিমূলক বা অশালীন মন্তব্য করা থেকে বিরত থাকুন।

নবীনতর পূর্বতন