ব্রেকিং নিউজ

উত্তর কোরিয়ার নতুন ৫ হাজার টনি যুদ্ধজাহাজ থেকে ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা: কিম জং উনের হুঁশিয়ারি

উত্তর কোরিয়ার নতুন ৫ হাজার টনি যুদ্ধজাহাজ থেকে ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা: কিম জং উনের হুঁশিয়ারি
ছবি: সংগৃহীত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: শামীম হোসাইন / দিগন্ত বাংলা নিউজ

পিয়ংইয়ং, উত্তর কোরিয়া: পূর্ব এশিয়ায় সামরিক শক্তির ভারসাম্য নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রাখতে এবং প্রতিরক্ষাব্যবস্থাকে আরও আধুনিক করতে বড় ধরণের পদক্ষেপ নিয়েছে উত্তর কোরিয়া। দেশটি এবার তাদের নৌবাহিনীতে যুক্ত হতে যাওয়া এক বিশাল ও অত্যাধুনিক যুদ্ধজাহাজ থেকে শক্তিশালী কৌশলগত ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্রসহ একাধিক বিধ্বংসী অস্ত্রের সফল পরীক্ষা সম্পন্ন করেছে। পিয়ংইয়ংয়ের নৌবহরের সক্ষমতা বাড়ানোর লক্ষ্যে নতুন এই ৫ হাজার টনি ডেস্ট্রয়ার (যুদ্ধজাহাজ) থেকে এই বিশেষ সামরিক মহড়াটি পরিচালনা করা হয়।

পুরো বিশ্বকে তাক লাগিয়ে দেওয়া এই অত্যাধুনিক অস্ত্র পরীক্ষা ও নৌবাহিনীর যুদ্ধপ্রস্তুতির পুরো প্রক্রিয়াটি সরাসরি উপস্থিত থেকে তদারকি করেছেন উত্তর কোরিয়ার শীর্ষনেতা কিম জং উন। পশ্চিমা বিশ্ব ও পার্শ্ববর্তী দেশগুলোর সামরিক চাপের মুখে পিয়ংইয়ংয়ের এই নতুন ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা আঞ্চলিক ভূ-রাজনীতিতে তীব্র উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে।

আরও পড়ুন: জাতীয় জাদুঘরে লিওনেল মেসির স্বাক্ষরিত জার্সি: ফুটবলপ্রেমীদের উপচে পড়া ভিড়

কিম জং উনের প্রত্যক্ষ পর্যবেক্ষণ ও অস্ত্রের কার্যকারিতা যাচাই

উত্তর কোরিয়ার সরকারি বার্তা সংস্থা কোরিয়ান সেন্ট্রাল নিউজ এজেন্সি (KCNA) এক বিশেষ প্রতিবেদনে জানিয়েছে, গত শুক্রবার (৩ জুন) দেশটির পূর্ব উপকূলে এই নজিরবিহীন সামরিক পরীক্ষা চালানো হয়। 'কাং কন' নামক সর্বাধুনিক ডেস্ট্রয়ার থেকে একের পর এক ক্ষেপণাস্ত্র ও সামরিক সরঞ্জাম নিক্ষেপ করা হয়।

উদার সামরিক শক্তির মহড়া চলাকালীন সময়ে কিম জং উন ডেস্ট্রয়ারের কমান্ড সেন্টারে বসে পুরো কার্যক্রম সুক্ষ্মভাবে পর্যবেক্ষণ করেন। কেসিএনএ-এর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এই বিশেষ মহড়ায় যেসব গুরুত্বপূর্ণ প্রযুক্তি ও অস্ত্রের কার্যকারিতা কঠোরভাবে যাচাই করা হয়েছে তা নিচে দেওয়া হলো:

  • কৌশলগত ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র: যুদ্ধজাহাজ থেকে নিখুঁতভাবে লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে সক্ষম দূরপাল্লার ক্রুজ মিসাইল ফায়ার করা হয়।

  • অত্যাধুনিক নৌ-কামান: সমুদ্রে শত্রুপক্ষের অবস্থান ধ্বংস করার উপযোগী উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন ভারী নেভাল গান বা নৌ-কামানের কার্যকারিতা পরীক্ষা করা হয়।

  • স্বয়ংক্রিয় কামান ও প্রতিরক্ষাব্যবস্থা: আকাশপথের আক্রমণ রুখে দিতে স্বয়ংক্রিয় রাডার নিয়ন্ত্রিত অ্যান্টি-এয়ারক্রাফট কামানের সফল মহড়া চলে।

  • ইলেকট্রনিক যুদ্ধব্যবস্থা (Electronic Warfare): শত্রুপক্ষের রাডার এবং যোগাযোগ ব্যবস্থাকে জ্যাম বা বিকল করে দেওয়ার মতো সর্বাধুনিক সাইবার ও ইলেকট্রনিক প্রযুক্তির ব্যবহার যাচাই করা হয়।

দুর্ঘটনার অতীত কাটিয়ে নৌবাহিনীতে চূড়ান্ত অন্তর্ভুক্তি

উত্তর কোরিয়ার নৌবাহিনীর জন্য এই ৫ হাজার টনি 'কাং কন' ডেস্ট্রয়ারটি একটি অত্যন্ত উচ্চাভিলাষী এবং কৌশলগত প্রকল্প। এই যুদ্ধজাহাজটির ইতিহাস বেশ নাটকীয়। গত বছরের জুন মাসে এটিকে আনুষ্ঠানিকভাবে সাগরে ভাসানো বা পানিতে নামানো হয়েছিল। তবে এর প্রায় এক মাস আগে, যখন প্রথমবার জাহাজটি উদ্বোধনের চেষ্টা চালানো হয়েছিল, তখন এটি একটি বড় ধরণের কারিগরি দুর্ঘটনার শিকার হয়, যার ফলে এর আনুষ্ঠানিক অন্তর্ভুক্তি বিলম্বিত হয়েছিল।

তবে সমস্ত অতীত ত্রুটি ও বিপর্যয় কাটিয়ে এই যুদ্ধজাহাজটি এখন সম্পূর্ণ যুদ্ধোপযোগী। মহড়া পরিদর্শন শেষে উত্তর কোরিয়ার শীর্ষনেতা কিম জং উন অত্যন্ত সন্তোষ প্রকাশ করেন। একই সাথে তিনি দেশের নৌ-কমান্ডারদের নির্দেশ দেন যে, আগামী দুই মাসের মধ্যে সমস্ত আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করে এই বিশাল যুদ্ধজাহাজটিকে স্থায়ীভাবে নৌবাহিনীর মূল বহরে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে।

দক্ষিণ কোরিয়ার সামরিক প্রতিক্রিয়া ও শনাক্তকরণ

উত্তর কোরিয়ার এই আকস্মিক ও শক্তিশালী ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষার বিষয়টি রাডার ও কৃত্রিম উপগ্রহের মাধ্যমে তাৎক্ষণিকভাবে শনাক্ত করেছে প্রতিবেশী দেশ দক্ষিণ কোরিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়। দক্ষিণ কোরিয়ার জয়েন্ট চিফস অব স্টাফ (জেসিএস) এক বিবৃতিতে জানান, শুক্রবার ভোরে উত্তর কোরিয়ার পূর্ব সাগরের (জাপান সাগর) দিকে কাং কন ডেস্ট্রয়ার থেকে নিক্ষেপ করা একটি শক্তিশালী ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্রের গতিপথ তারা নিখুঁতভাবে ট্র্যাক করেছেন।

আরও পড়ুন: ইরানিদের কান্না দেখে ট্রাম্পের বিস্ময়: 'ভেবেছিলাম মানুষ খামেনিকে ঘৃণা করে'

দক্ষিণ কোরিয়া এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ সামরিক গোয়েন্দা সংস্থাগুলো এই ক্ষেপণাস্ত্রের পাল্লা এবং প্রযুক্তিগত সক্ষমতা নিয়ে গভীর বিশ্লেষণ শুরু করেছে। সিউলের পক্ষ থেকে এই পরীক্ষাকে উসকানিমূলক আখ্যা দিয়ে বলা হয়েছে যে, তারা যেকোনো ধরণের পরিস্থিতি মোকাবিলায় পূর্ণ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।

কিম জং উনের নতুন বার্তা ও ভূ-রাজনৈতিক তাৎপর্য

ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা ও মহড়া শেষে উপস্থিত নৌবাহিনীর উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা, বিজ্ঞানী এবং প্রকৌশলীদের উদ্দেশ্যে এক দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্য দেন কিম জং উন। তিনি বলেন, বর্তমান বৈশ্বিক পরিস্থিতিতে দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষা এবং শত্রুপক্ষের যেকোনো আকস্মিক আক্রমণ নস্যাৎ করতে নৌবাহিনীর সক্ষমতা বাড়ানোর কোনো বিকল্প নেই।

তিনি দেশের প্রতিরোধক্ষমতা এবং নৌ-যুদ্ধ পরিচালনার সক্ষমতাকে আরও কয়েক গুণ শক্তিশালী করতে সংশ্লিষ্ট সকল মহলকে সর্বাধুনিক প্রযুক্তির উদ্ভাবন ও সামরিক প্রচেষ্টা জোরদার করার আহ্বান জানান। সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, উত্তর কোরিয়া সাধারণত স্থলভিত্তিক মিসাইল পরীক্ষা করলেও, ৫ হাজার টনের একটি বড় যুদ্ধজাহাজ থেকে ক্রুজ মিসাইল এবং ইলেকট্রনিক যুদ্ধব্যবস্থার পরীক্ষা চালানো এটাই প্রমাণ করে যে, পিয়ংইয়ং এখন সমুদ্রসীমাতেও মার্কিন ও মিত্রবাহিনীর নৌ-আধিপত্যকে সরাসরি চ্যালেঞ্জ করতে প্রস্তুত।

সংক্ষিপ্ত সংবাদ সূত্র: উত্তর কোরিয়ার রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা কেসিএনএ।

1 মন্তব্যসমূহ

আপনার মূল্যবান মতামত আমাদের জানান। কোনো উসকানিমূলক বা অশালীন মন্তব্য করা থেকে বিরত থাকুন।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

আপনার মূল্যবান মতামত আমাদের জানান। কোনো উসকানিমূলক বা অশালীন মন্তব্য করা থেকে বিরত থাকুন।

নবীনতর পূর্বতন