পাইকগাছা (খুলনা) প্রতিনিধি, ২৩ জুলাই ২০২৬:
কড়াইয়ে চড়ানো হয়েছে তেল-মসলা মাখানো তরতাজা গরুর মাংস। কিন্তু কিছুক্ষণ জ্বাল দেওয়ার পরেই ঘটে গেল এক গা ছমছমে অদ্ভূত কাণ্ড! মাংসের স্বাভাবিক লালচে ও বাদামি আভা নিমেষেই বদলে রূপ নিল গাঢ় নীলচে-সবুজ রঙে। রান্নার সময় কড়াইয়ে থাকা মাংসের এমন রাসায়নিক ও অস্বাভাবিক রঙ পরিবর্তন দেখে ভয়ে চমকে ওঠেন উপস্থিত সবাই। কোনো উপায় না পেয়ে তরকারির থালা-কড়াই হাতে নিয়েই সোজাসুজি স্থানীয় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এবং পরে থানায় উপস্থিত হন ক্ষুব্ধ কর্মচারীরা।
বুধবার (২২ জুলাই) খুলনার পাইকগাছা পৌরসভা এলাকায় ঘটে যাওয়া এই অবিশ্বাস্য ঘটনা ঘিরে পুরো দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে ব্যাপক চাঞ্চল্য ও আলোচনার ঝড় বইছে। ঘটনাটির ভিডিও ধারণ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট করা মাত্রই তা মুহূর্তের মধ্যে ভাইরাল হয়ে যায়।
আরও পড়ুন: ঈশ্বরগঞ্জে টাকা ও অলংকার নিয়ে প্রতিবেশীর সঙ্গে উধাও গৃহবধূ!
পিকনিকের আনন্দ মুহূর্তে বিষাদে পরিণত
স্থানীয় সূত্র এবং ভুক্তভোগীদের সাথে কথা বলে জানা যায়, পাইকগাছা পৌর শহরের অবস্থিত 'মডার্ন বেকারি'-র প্রায় ২৫ জন কর্মচারী কর্মস্থলে যৌথভাবে এক বাৎসরিক চড়ুইভাতি বা পিকনিকের আয়োজন করেন। পিকনিকের খাস আমেজে মাংস ক্রয়ের জন্য সকালে পাইকগাছা বাজারে যান লিটন হোসেনসহ ওই বেকারির তিন কর্মী।
তাঁরা স্থানীয় মাংস ব্যবসায়ী ইসমাইলের দোকান থেকে ৪ কেজি গরুর মাংস কেনেন। কসাই ইসমাইল জানান, সেদিন তাজা জবাই করা সব মাংস বিক্রি হয়ে যাওয়ায় আগের দিনের ফ্রিজে সযত্নে রাখা মাংস তাঁদের সরবরাহ করা হয়েছিল। এরপর উৎসাহ নিয়ে বেকারিতে এনে পেঁয়াজ, তেল ও মসলা মাখিয়ে মাংসের কড়াই চুলার আগুনে বসানো হয়।
ঘটনার বিবরণ ও প্রশাসনের দ্বারে কর্মচারীরা
বেকারির কর্মচারীদের দাবি, তরকারি চাপানোর কিছুক্ষণ পর আগুনের তাপে কড়াইয়ের মাংস লালচে হওয়ার বদলে নীলচে ও সবুজাভ রঙ ধারণ করতে শুরু করে। যত বেশি চামচ দিয়ে নাড়াচাড়া হচ্ছিল, রঙ ততই গাঢ় ও বিশ্রী সবুজ হয়ে উঠছিল। কোনো ভেজাল বা ক্ষতিকর রাসায়নিকের ভয়ে তাঁরা রান্না বন্ধ করে দেন।
ঘটনার পর কর্মচারীদের পরবর্তী পদক্ষেপসমূহ ছিল নিম্নরূপ:
- কসাইয়ের দোকানে গমন: রান্নার কড়াইটি সঙ্গে নিয়ে প্রথমে মাংস বিক্রেতা ইসমাইলের নিকট যান তাঁরা। তবে কসাই উপযুক্ত কোনো যৌক্তিক উত্তর দিতে না পারায় তাঁরা হতাশ হন।
- ইউএনও কার্যালয়ে নালিশ: সেখান থেকে কড়াই হাতে সুবিচারের আশায় ছোটেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কার্যালয়ে।
- থানায় কড়াই উপস্থাপন: পরে প্রশাসনের পরামর্শে মাংসের কড়াই নিয়ে সোজা পাইকগাছা থানায় হাজির হন বেকারির কর্মীরা।
পুলিশ কর্মকর্তা ও স্থানীয়দের অভিমত
অস্বাভাবিক এই রঙ পরিবর্তনের সাক্ষী হতে উপজেলা পরিষদ প্রাঙ্গণ ও পাইকগাছা বাজার এলাকায় উৎসুক হাজারো মানুষের ভিড় জমে যায়। কড়াই ভর্তি সবুজ মাংস দেখে উপস্থিত সবাই বিস্ময় প্রকাশ করেন। পরবর্তীতে ক্ষতিকারক হতে পারে ভেবে ওই রান্না করা মাংস ফেলে দেওয়া হয়।
এ বিষয়ে খুলনা জেলা পুলিশ সুপার (এসপি) মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, কড়াই ভর্তি রান্না করা মাংস নিয়ে বেকারির কর্মচারীরা পুলিশ স্টেশনে এসেছিলেন। তবে থানায় তাঁদের বিস্তারিত জানিয়ে লিখিত আবেদন জমা দিতে বলা হলেও তাঁরা শেষ পর্যন্ত কোনো লিখিত অভিযোগ দাখিল করেননি। পরে তাঁরা কড়াইটি সঙ্গে নিয়ে থানা থেকে চলে যান।
খাদ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, ফ্রিজের মাংসের ভেতরে থাকা অতিরিক্ত কেমিক্যাল, পচনের প্রাথমিক রূপান্তর অথবা মসলার সাথে তামার পাত্র বা কেমিক্যালের অপ্রত্যাশিত প্রতিক্রিয়ার ফলে এমন বিরল রঙ পরিবর্তন হতে পারে। তবে বৈজ্ঞানিক পরীক্ষার অভাব থাকায় বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
সংবাদ সূত্র: পাইকগাছা থানা পুলিশ, মডার্ন বেকারি কর্মচারী ও স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শী।

খুব সুন্দর এবং সত্য তথ্যের নিউজ
উত্তরমুছুনThank You
উত্তরমুছুনএকটি মন্তব্য পোস্ট করুন
আপনার মূল্যবান মতামত আমাদের জানান। কোনো উসকানিমূলক বা অশালীন মন্তব্য করা থেকে বিরত থাকুন।