প্রতিবেদন: শামীম হোসাইন / শাহজাদপুর / দিগন্ত বাংলা নিউজ
সিরাজগঞ্জ জেলার শাহজাদপুর উপজেলা ও আশপাশের বিভিন্ন এলাকা জুড়ে সাধারণ মানুষের নিত্যদিনের আতঙ্কের কারণ হয়ে দাঁড়ানো সংঘবদ্ধ মোটরসাইকেল চোর চক্রের বিরুদ্ধে এক বিশাল ও সুসংগঠিত সাঁড়াশি অভিযান পরিচালনা করেছে থানা পুলিশ। আইনশৃঙ্খলা রক্ষা, অপরাধ দমন এবং জনগণের সম্পদ সুরক্ষায় জিরো টলারেন্স নীতি বাস্তবায়নে শাহজাদপুর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোঃ হাফিজুর রহমান-এর প্রত্যক্ষ ও সার্বিক দিকনির্দেশনায় এবং শাহজাদপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোঃ সাইফুল ইসলাম-এর দূরদর্শী নেতৃত্বে এই বিশেষ নৈশ অভিযান সম্পন্ন হয়। গত ২৫ জুন ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ দিবাগত রাতে উপজেলার একাধিক স্পর্শকাতর স্থান ও চোর চক্রের সম্ভাব্য আস্তানায় একযোগে এই রেইড দেওয়া হয়। অভিযান চলাকালে ক্ষিপ্রতা ও সুনির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে সংঘবদ্ধ আন্তঃজেলা মোটর সাইকেল চুরি সিন্ডিকেটের তিন সক্রিয় সদস্যকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয় পুলিশ বাহিনী।
আরও পড়ুন: রান্নায় গরুর মাংসের রঙ সবুজ! কড়াই নিয়ে থানায় কর্মচারীরা
অত্যন্ত নিখুঁত ও ঝুঁকিপূর্ণ এই অভিযানে সাহসিকতার পরিচয় দেন শাহজাদপুর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আজিজুল ইসলাম, উপপরিদর্শক (এসআই) মিজানুর রহমানসহ সঙ্গীয় চৌকস অফিসার এবং বিশেষ পুলিশ ফোর্সের সদস্যরা। পুলিশের এই বিশেষ টিম গোপন সূত্রে প্রাপ্ত গোয়েন্দা তথ্যের ওপর ভিত্তি করে উপজেলার চিহ্নিত আস্তানাগুলোতে চারদিক থেকে ঘেরাও করে তাদের আটক করে। পরবর্তীতে ধৃত আসামিদের প্রদান করা তথ্যের ওপর ভিত্তি করে বিভিন্ন স্থানে তল্লাশি চালিয়ে তাদের হেফাজতে রাখা চুরি হওয়া ৫টি বিভিন্ন ব্র্যান্ডের সুসজ্জিত ও আধুনিক মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়। মোটরসাইকেলগুলো বিভিন্ন জেলা ও উপজেলা থেকে সাম্প্রতিক সময়ে চুরি করা হয়েছিল বলে প্রাথমিকভাবে নিশ্চিত হওয়া গেছে। উদ্ধারকৃত এই সম্পদগুলো জব্দ করে থানায় হেফাজতে নেওয়া হয়েছে এবং সেগুলোর প্রকৃত মালিকানা যাচাইকরণের কাজ দ্রুত গতিতে এগিয়ে চলছে।
আরও পড়ুন: সড়ক দুর্ঘটনায় আহত খোকা মিডিয়া কনটেন্ট ক্রিয়েটর মিলন চিকিৎসাধীন
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হাতে গ্রেফতার হওয়া আন্তঃজেলা চোর চক্রের তিন সদস্যের পরিচয় নিশ্চিত করা হয়েছে। ধৃত আসামিরা হলেন সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর উপজেলার রেশমবাড়ী এলাকার জামাত প্রামাণিকের ছেলে মোঃ মনিরুল ইসলাম, বাড়াবিল গ্রামের আব্দুর রাজ্জাকের ছেলে মোঃ রায়হান এবং বাড়াবিল উত্তরপাড়া এলাকার দুলাল হোসেনের ছেলে মোঃ বেল্লাল। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আসামিরা স্বীকার করেছে যে তারা দীর্ঘদিন ধরে দেশের বিভিন্ন জেলায় জাল বিস্তার করে আধুনিক মাস্টার কি বা মাস্টার চাবি এবং লক ট্র্যাকিং কৌশল ব্যবহার করে মুহূর্তের মধ্যেই পার্কিংয়ে থাকা মোটরসাইকেল চুরি করে আসছিল। তারা কেবল চুরিই করতো না, বরং চুরিকৃত এসব বাইক ভুয়া নম্বর প্লেট ও নামসর্বস্ব ভুয়া কাগজপত্র বানিয়ে প্রত্যন্ত অঞ্চলে অপেক্ষাকৃত কম দামে বিক্রি করার একটি শক্তিশালী চক্র বা র্যা কেট পরিচালনা করে আসছিল।
শাহজাদপুর থানা পুলিশের এই সুসংগঠিত ও দূরদর্শী অভিযানে চোর চক্রের মূল হোতাসহ প্রধান তিন সদস্য জালে ধরা পড়ায় স্বস্তির নিশ্বাস ফেলছেন পুরো উপজেলার সাধারণ বাইক চালক, ব্যবসায়ী ও সাধারণ নাগরিকরা। স্থানীয় ভুক্তভোগী ও এলাকাবাসী শাহজাদপুর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার এবং শাহজাদপুর থানার ওসির এই তড়িৎ পদক্ষেপের ভূয়সী প্রশংসা করেছেন। সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর উপজেলা ও তার সংলগ্ন চরাঞ্চল এবং মহাসড়ক এলাকাগুলোকে নিরাপদ রাখতে পুলিশের এই ধরনের মাদক ও অপরাধবিরোধী সাঁড়াশি অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে থানার পক্ষ থেকে স্পষ্ট বার্তা প্রদান করা হয়েছে। ধৃত আসামিদের বিরুদ্ধে দেশের বিদ্যমান আইনে চুরি ও অপরাধমূলক ষড়যন্ত্রের অভিযোগে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে এবং অধিকতর তথ্যের জন্য তাদের বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করার আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন হচ্ছে।
সংবাদ সূত্র: শাহজাদপুর থানা পুলিশ মিডিয়া সেল ও দিগন্ত বাংলা নিউজ এর নিজস্ব ক্রাইম রিপোর্ট পর্যবেক্ষণ কেন্দ্র।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন
আপনার মূল্যবান মতামত আমাদের জানান। কোনো উসকানিমূলক বা অশালীন মন্তব্য করা থেকে বিরত থাকুন।