প্রতিবেদন: সুফিয়ান নোমান / শাহজাদপুর / দিগন্ত বাংলা নিউজ
শিক্ষা, নৈতিকতা ও আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তির সুষম সমন্বয়ে সিরাজগঞ্জ জেলার শাহজাদপুর উপজেলার অত্যন্ত পরিচিত ও ঐতিহ্যবাহী দ্বীনি বিদ্যাপীঠ পাড়কোলা ইসলামিয়া মহিলা দাখিল মাদরাসা শিক্ষা ক্ষেত্রে এক স্বর্ণোজ্জ্বল অধ্যায় রচনা করেছে। জাতীয় শিক্ষা সপ্তাহ ২০২৬ উদযাপনের শুভক্ষণে উপজেলা প্রশাসন ও উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা দপ্তরের সমন্বিত উদ্যোগে আয়োজিত অত্যন্ত সুসংগঠিত মূল্যায়ন প্রক্রিয়ায় প্রতিষ্ঠানটি তাদের শ্রেষ্ঠত্বের অনন্য স্বাক্ষর রেখেছে। শিক্ষার চমৎকার পরিবেশ, পাবলিক পরীক্ষাগুলোতে শিক্ষার্থীদের রেকর্ডসংখ্যক ফলাফল, পাঠদানে অত্যাধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার এবং সুদৃঢ় প্রাতিষ্ঠানিক শৃঙ্খলার সুবাদে এই বিদ্যাপীঠকে শাহজাদপুর উপজেলার সেরা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে বেছে নেওয়া হয়েছে।
কেবল প্রাতিষ্ঠানিক সাফল্যই নয়, বরং প্রতিষ্ঠানটির গতিশীল নেতৃত্ব এবং সামগ্রিক চালিকাশক্তির স্বীকৃতি হিসেবে মাদরাসার সুযোগ্য প্রধানকে শাহজাদপুর উপজেলার সেরা প্রতিষ্ঠান প্রধান হিসেবে ভূষিত করা হয়েছে। অত্যন্ত জাঁকজমকপূর্ণ ও ভাবগাম্ভীর্যপূর্ণ পরিবেশে আয়োজিত এক বিশেষ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে স্বশরীরে উপস্থিত থেকে বিজয়ী প্রতিষ্ঠানের হাতে এই ডাবল গৌরবময় স্মারক ও আনুষ্ঠানিক সম্মাননা সনদপত্র তুলে দেন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের সম্মানিত স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত এমপি। শাহজাদপুর উপজেলা মিলনায়তনে আয়োজিত এই ঐতিহাসিক মুহূর্তটিতে উপজেলার প্রশাসনিক কর্মকর্তা, শিক্ষাবিদ, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি এবং সাংবাদিকবৃন্দের এক মিলনমেলা ঘটেছিল।
আরও পড়ুন: শাহজাদপুরে ‘জামিরতা ভিশন সেন্টার’ উদ্বোধন করলেন স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী!
মূলতঃ দেশের মাধ্যমিক ও মাদরাসা স্তরের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর মাঝে পড়াশোনার সার্বিক মান উন্নয়ন, প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং সুস্থ প্রতিযোগিতা তৈরি করতেই প্রতি বছর জাতীয় শিক্ষা সপ্তাহের আয়োজন করা হয়ে থাকে। জাতীয় শিক্ষা সপ্তাহের নির্দেশিকার আলোকেই শাহজাদপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এবং উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তার তত্ত্বাবধানে একটি উচ্চপর্যায়ের নিরপেক্ষ বিচারক প্যানেল গঠন করা হয়। এই যাচাইকারী দল উপজেলার সর্বস্তরের মাদরাসাগুলোর ভৌত অবকাঠামো, শিক্ষার মানদণ্ড, শ্রেণিকক্ষে শিক্ষক ও ছাত্রীদের উপস্থিতি, নিয়মিত অভিভাবক সমাবেশের আয়োজন, কম্পিউটার ও ডিজিটাল ল্যাবের সঠিক ব্যবহার, স্কাউটিং, বিজ্ঞান চর্চা, বিতর্ক প্রতিযোগিতা এবং সহপাঠ্যক্রমিক কার্যক্রম অত্যন্ত গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ ও বিশ্লেষণ করেন। কঠোর নিয়মাবলি ও নিরপেক্ষ মানদণ্ডের ওপর ভিত্তি করে করা অনুসন্ধানে উপজেলার অন্যান্য সমস্ত প্রতিষ্ঠানকে পেছনে ফেলে একক আধিপত্যের সাথে শীর্ষস্থান ধরে রাখে এই প্রতিষ্ঠানটি।
মাদরাসাটির দীর্ঘ ইতিহাস ও প্রশাসনিক রেকর্ড পর্যালোচনায় দেখা যায়, শাহজাদপুর উপজেলার প্রত্যন্ত গ্রামীণ জনপদে নারী শিক্ষার বিস্তার ও নারীদের আত্মনির্ভরশীল হিসেবে গড়ে তুলতে এই বিদ্যাপীঠ দীর্ঘ দিন ধরে নীরব বিপ্লব ঘটিয়ে চলেছে। ধর্মীয় মূল্যবোধ বজায় রেখে এখানে নিয়মিত সাধারণ শিক্ষার পাশাপাশি আধুনিক বিজ্ঞান ও আইসিটি শিক্ষা প্রদান করা হয়। বিগত বছরের দাখিল পরীক্ষায় পরীক্ষার্থীদের শতভাগ পাস এবং সর্বোচ্চ জিপিএ অর্জন বিচারক মণ্ডলীর পূর্ণ আস্থা অর্জনে সমর্থ হয়েছিল। একটি দ্বীনি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের এত চমৎকার পারফরম্যান্স পুরো উপজেলার শিক্ষাব্যবস্থার জন্য এক অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত হয়ে দাঁড়িয়েছে।
পুরস্কার প্রদান পর্ব শেষে বক্তব্য প্রদানকালে অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত এমপি বলেন, বর্তমান শিক্ষাবান্ধব সরকারের দূরদর্শী চিন্তাভাবনার মূল লক্ষ্য হলো নতুন প্রজন্মকে বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার উপযোগী করে তোলা। আধুনিক ও নৈতিক শিক্ষার চমৎকার মেলবন্ধন ঘটিয়ে পাড়কোলা ইসলামিয়া মহিলা দাখিল মাদরাসা যেভাবে সামনের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে তা সত্যই প্রশংসার দাবিদার। একটি মানসম্মত প্রতিষ্ঠানের পেছনে থাকে দক্ষ ব্যবস্থাপনা ও শিক্ষকদের আন্তরিক পরিশ্রম। আজকের এই সাফল্য প্রমাণ করে যে সদিচ্ছা ও একাগ্রতা থাকলে যেকোনো গ্রামীণ প্রতিষ্ঠানও অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে পারে। প্রতিমন্ত্রী মহোদয় এই প্রতিষ্ঠানের সার্বিক উত্তরোত্তর সাফল্য কামনা করেন এবং শিক্ষার প্রসারে সরকারের সর্বাত্মক সহযোগিতার প্রতিশ্রুতি দেন।
আরও পড়ুন: শাহজাদপুর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে বৃক্ষ রোপণ করলেন ডা. মাসুদ রানা
উপজেলা প্রশাসন ও মাধ্যমিক শিক্ষা অফিস আয়োজিত এই অনুষ্ঠান থেকে জোড়া স্মারক গ্রহণের পর আবেগে আপ্লুত হয়ে নিজের প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন বিজয়ী সেরা প্রতিষ্ঠান প্রধান। তিনি জানান, এই গৌরবোজ্জ্বল অর্জন কেবল তাঁর একক কোনো অর্জন নয়, বরং এটি প্রতিষ্ঠানের সকল নিবেদিত প্রাণ শিক্ষক-শিক্ষিকা, গভর্নিং বডির শ্রদ্ধেয় সদস্য, প্রাণপ্রিয় ছাত্রী এবং সচেতন অভিভাবকদের সীমাহীন ত্যাগ ও ভালোবাসার পরম প্রাপ্তি। উপজেলা প্রশাসন কর্তৃক প্রদত্ত এই সেরা খেতাব তাঁদের দায়িত্ববোধকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। ভবিষ্যতে জেলা, বিভাগীয় ও জাতীয় পর্যায়েও যেন এই মাদরাসা শাহজাদপুর উপজেলার নাম উজ্জ্বল করতে পারে, সে জন্য তিনি সবার শুভকামনা ও আন্তরিক সহযোগিতা প্রার্থনা করেছেন।
উপজেলা সদরের এই বর্ণাঘ্য স্বীকৃতি অর্জনের খবর দাবানলের মতো ছড়িয়ে পড়লে পাড়কোলা গ্রামসহ পার্শ্ববর্তী অঞ্চলসমূহে আনন্দ ও উদ্দীপনা ছড়িয়ে পড়ে। স্থানীয় শিক্ষানুরাগী ও বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ মতামত ব্যক্ত করে জানান, গ্রামীণ নারীদের শিক্ষা ও ক্ষমতায়নে এই বিদ্যাপীঠের অর্জন অনবদ্য। এই ধরনের সরকারি স্বীকৃতি এলাকার ঝরে পড়া ছাত্রীদের আবার শ্রেণিকক্ষে ফিরিয়ে আনতে উদ্দীপক হিসেবে কাজ করবে এবং সমাজে নারী শিক্ষার হার বৃদ্ধি নিশ্চিত করবে। দিগন্ত বাংলা নিউজের নিজস্ব অনুসন্ধানে জানা গেছে, আগামী দিনে প্রতিষ্ঠানটিকে আরও আধুনিক ও ডিজিটাল প্রযুক্তিনির্ভর স্মার্ট বিদ্যাপীঠে রূপান্তর করার বিষয়ে সুনির্দিষ্ট মহাপরিকল্পনা গ্রহণ করছে পরিচালনা পর্ষদ।
সংবাদ সূত্র: শাহজাদপুর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিস ও দিগন্ত বাংলা নিউজ এর নিজস্ব সংবাদ পর্যবেক্ষণ কেন্দ্র।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন
আপনার মূল্যবান মতামত আমাদের জানান। কোনো উসকানিমূলক বা অশালীন মন্তব্য করা থেকে বিরত থাকুন।