মুম্বাই বিশ্ববিদ্যালয়ে সেরা সাফল্য: ডেটা সায়েন্সে ১০-এ ১০ সিজিপিএ পেলেন শেখ আরিফা

মুম্বাই বিশ্ববিদ্যালয়ে সেরা সাফল্য: ডেটা সায়েন্সে ১০-এ ১০ সিজিপিএ পেলেন শেখ আরিফা
ছবি: সংগৃহীত

প্রতিবেদন: শামীম হোসাইন / শাহজাদপুর / দিগন্ত বাংলা নিউজ

মুম্বাই বিশ্ববিদ্যালয়ে সেরা সাফল্য: ডেটা সায়েন্সে ১০-এ ১০ সিজিপিএ পেলেন শেখ আরিফা

অদম্য ইচ্ছাশক্তি, নিরলস একাগ্রতা এবং পড়াশোনার সঠিক কৌশল থাকলে যেকোনো কঠিন বাধা পার হয়ে সাফল্যের সর্বোচ্চ শিখরে পৌঁছানো সম্ভব—এমনই এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন কুরলার আকবর পীরভয় কলেজের কৃতি ছাত্রী শেখ আরিফা মোহাম্মদ ইলিয়াস। ভারতের বিখ্যাত মুম্বাই বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনস্থ ব্যাচেলর অফ সাইন্স (বি.এসসি.) ইন ডেটা সায়েন্স বিভাগের চূড়ান্ত বর্ষের ফলাফল সম্প্রতি প্রকাশিত হয়েছে। এতে অসাধারণ মেধার পরিচয় দিয়ে সিজিপিএ ১০-এর মধ্যে পূর্ণ ১০ নম্বর অর্জন করে পুরো বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রথম স্থান অধিকার করার গৌরব অর্জন করেছেন তিনি।

আরও পড়ুন: পাবনায় টয়লেটের ট্যাংকি থেকে ব্র্যাক স্কুলশিক্ষিকার মরদেহ উদ্ধার

কুরলার এলআইজি কলোনির বাসিন্দা তরুণী শেখ আরিফার এই ঐতিহাসিক অর্জন কেবল তার নিজের বা পরিবারের জন্যই নয়, বরং সম্পূর্ণ কলেজের জন্য এক বিশাল সম্মানের বিষয়। সাধারণ ব্যাকগ্রাউন্ডের স্কুলশিক্ষা থেকে শুরু করে প্রাচ্যের অন্যতম শ্রেষ্ঠ বিদ্যাপীঠ মুম্বাই বিশ্ববিদ্যালয়ের টপার বা সেরা শিক্ষার্থী হয়ে ওঠার এই কন্টকাকীর্ণ যাত্রা মোটেও সহজ ছিল না। প্রতিকূলতা কাটিয়ে আধুনিক ও জটিল প্রযুক্তি বিষয়ক বিদ্যায় নিজের শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণ করে তিনি স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, চেষ্টা থাকলে কোনো কিছুই অসম্ভব নয়।

বর্তমান যুগ তথ্যপ্রযুক্তি ও ডেটা সায়েন্সের যুগ। তবে দীর্ঘদিন ধরে একটি ভুল সামাজিক ধারণা প্রচলিত ছিল যে, গণিত, কোডিং কিংবা কারিগরি ও প্রযুক্তিভিত্তিক বিষয়ে নারীরা তুলনামূলক পিছিয়ে থাকে। শেখ আরিফার এই অভূতপূর্ব একাডেমিক সাফল্য সেই কুসংস্কার ও প্রচলিত ধারণাকে পুরোপুরি দুমড়ে-মুচড়ে দিয়েছে। কারিগরি ক্ষেত্রে নারী শিক্ষার্থীদের অসামান্য সম্ভাবনা ও যোগ্যতার এক অনন্য উদাহরণ তৈরি করেছেন এই মেধাবী শিক্ষার্থী, যা বিশ্বজুড়ে লাখো তরুণীকে প্রযুক্তি খাতে ক্যারিয়ার গড়তে অনুপ্রাণিত করবে।

আরও পড়ুন: স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিতের সঙ্গে ইউএনওপিএস (UNOPS) প্রতিনিধিদলের বৈঠক

নিজের অবিচল নিষ্ঠা ও কঠোর পরিশ্রমের পাশাপাশি সঠিক দিকনির্দেশনাকেও এই ফলাফলের মূল চাবিকাঠি বলে মনে করা হচ্ছে। আকবর পীরভয় কলেজের মান্যবর অধ্যক্ষ ড. শওকত আলী এবং ডেটা সায়েন্স বিভাগের ইন-চার্জ ড. আব্দুল সাদিকের সুনির্দিষ্ট মেন্টরশিপ ও সার্বিক নির্দেশনা আরিফাকে প্রতিনিয়ত সমৃদ্ধ করেছে। একাডেমিক যেকোনো জটিল বিষয়ের সহজ ব্যাখ্যা প্রদান এবং সহায়ক পরিবেশ তৈরিতে শিক্ষকদের অবদান ছিল প্রশংসনীয়। পাশাপাশি আরিফার নিজের আয়োজিত দলবদ্ধভাবে বা গ্রুপ স্টাডি করার চমৎকার কৌশলটি পরীক্ষায় সর্বোচ্চ নম্বর অর্জনে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে।

মেধাবী ছাত্রী শেখ আরিফা মোহাম্মদ ইলিয়াসের এমন নজরকাড়া ঐতিহাসিক অর্জনে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসহ নিজ এলাকায় উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়েছে। শিক্ষক, সহপাঠী এবং শুভাকাঙ্ক্ষীরা তাকে উষ্ণ সংবর্ধনা ও অভিনন্দন জানাচ্ছেন। সাধারণ অবস্থান থেকে উঠে এসে একাগ্রতার জোরে সফলতার চূড়ায় পৌঁছানোর এই পথচলা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ও আমাদের দেশে প্রতিটি উদীয়মান ছাত্র-ছাত্রীর জন্য এক অবিনাশী অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে থাকবে।


সূত্র: আন্তর্জাতিক শিক্ষা সংবাদ ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ওয়েবসাইট, দিগন্ত বাংলা নিউজ।

Post a Comment

আপনার মূল্যবান মতামত আমাদের জানান। কোনো উসকানিমূলক বা অশালীন মন্তব্য করা থেকে বিরত থাকুন।

নবীনতর পূর্বতন