সুবর্ণচরে প্রাইভেট পড়তে গিয়ে শিক্ষিকার বাবার হাতে ছাত্রী নির্যাতনের শিকার!

সুবর্ণচরে প্রাইভেট পড়তে গিয়ে শিক্ষিকার বাবার হাতে ছাত্রী নির্যাতনের শিকার!
ছবি: সংগৃহীত
 

প্রতিবেদন: শামীম হোসাইন / দিগন্ত বাংলা নিউজ

নোয়াখালী প্রতিনিধি, ২৩ জুলাই ২০২৬:
পড়াশোনার উদ্দেশ্যে শিক্ষিকার বাড়িতে গিয়ে মর্মান্তিক নির্যাতনের শিকার হয়েছে ১৩ বছর বয়সী এক স্কুলছাত্রী। নোয়াখালীর সুবর্ণচর উপজেলায় গৃহশিক্ষিকার অনুপস্থিতির সুযোগ নিয়ে তাঁরই বাবা কামাল উদ্দিন ওরফে সিএনজি কামাল (৫৫) সপ্তম শ্রেণির ওই খুদে ছাত্রীকে কুরুচিপূর্ণভাবে লঞ্ছিত ও শারীরিক নির্যাতন করেছেন বলে মারাত্মক অভিযোগ উঠেছে। এ জঘন্য ঘটনায় জড়িত অভিযুক্তকে স্থানীয় সংক্ষুব্ধ জনতা গণধোলাই দিয়ে পুলিশের হাতে সোপর্দ করেছে।

বুধবার (২২ জুলাই) সকালে উপজেলার চরবাটা ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ড এলাকায় এই ন্যক্কারজনক ঘটনাটি ঘটে। পরবর্তীতে একই দিন রাতে নির্যাতিতা ছাত্রীর মা বাদী হয়ে সুবর্ণচরের চরজব্বর থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে একটি মামলা দায়ের করেন। মামলা দায়েরের পরপরই অভিযুক্ত কামালকে গ্রেফতার দেখিয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।

আরও পড়ুন: শাহজাদপুর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে বৃক্ষ রোপণ করলেন ডা. মাসুদ রানা

গৃহশিক্ষিকার অনুপস্থিতি ও ঘটনার বিভীষিকা

থানা পুলিশ ও ভূক্তভোগী পরিবার সূত্রে জানা গেছে, প্রতিদিনের মতোই বুধবার সকালে চরবাটা ইউনিয়নে নিজের প্রাইভেট শিক্ষিকার বাসভবনে পড়তে যায় স্থানীয় এক মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সপ্তম শ্রেণির ওই ছাত্রী। সেখানে পৌঁছে ছাত্রীটি দেখতে পায় তার শিক্ষিকা বাড়িতে উপস্থিত নেই।

শিক্ষিকার অনুপস্থিতির সুযোগ নিয়ে তাঁর পিতা সিএনজিচালিত অটোরিকশার চালক কামাল উদ্দিন কৌশলে ছাত্রীটিকে ঘরে ডেকে নিয়ে যান এবং একপর্যায়ে কামনার শিকার বানিয়ে নির্যাতন চালান। অপরাধের ঘটনাটি ধামাচাপা দিতে এবং কাউকেই কিছু না বলার জন্য ভয়ভীতি দেখিয়ে ভুক্তভোগী মেয়েটির হাতে ৫০০ টাকা গুঁজে দিয়ে তাকে বাড়ি পাঠিয়ে দেন অভিযুক্ত কামাল।

এলাকাবাসীর প্রতিরোধ ও অভিযুক্তের আটক

নির্যাতিত ছাত্রীটি নিজ বাড়িতে ফিরে কান্নায় ভেঙে পড়ে এবং পুরো বিষয়টি তার পরিবারের স্বজনদের বিস্তারিতভাবে অবহিত করে। ঘটনাটি জানাজানি হলে চরম উত্তেজনার সৃষ্টি হয় পুরো এলাকা জুড়ে।

ঘটনার ধারাবাহিকতায় যা ঘটেছে:

  • জনতার ক্ষোভ ও আটক: ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী বুধবার সন্ধ্যায় অভিযুক্ত কামাল উদ্দিনকে ধরে ফেলেন এবং উত্তম-মধ্যম (গণপিটুনি) দিয়ে একটি গাছের সাথে শক্ত করে বেঁধে রাখেন।
  • পুলিশের আগমন: খবর পেয়ে চরজব্বর থানা পুলিশের একটি দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে উত্তপ্ত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং স্থানীয়দের হাত থেকে অভিযুক্ত কামালকে নিজেদের হেফাজতে গ্রহণ করে।
  • আইনি মামলা: রাতে ভিকটিমের মা বাদী হয়ে সুনির্দিষ্ট আইনি ধারায় থানায় লিখিত এজাহার দায়ের করলে তা মামলা হিসেবে নথিভুক্ত হয়।

পুলিশ কর্মকর্তা ও স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষের বক্তব্য

নৃশংস এ অপরাধের সার্বিক বিষয়ে চরজব্বর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রফিকুল হাসান জানান, ভুক্তভোগী পরিবার থেকে মামলা দায়েরের পরেই অভিযুক্ত কামাল উদ্দিনকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।

আরও পড়ুন: শাহজাদপুরে শিশু ধর্ষণ মামলার প্রধান আসামি আশুলিয়া থেকে গ্রেপ্তার!

 তাঁকে যথাযথ আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বিচারিক আদালতে প্রেরণের ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

তিনি আরও জানান, ভুক্তভোগী স্কুলছাত্রীর শারীরিক পরীক্ষা ও যথাযথ আলামত সংগ্রহের জন্য নোয়াখালী ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। ঘটনার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত নিশ্চিতে কাজ করছে পুলিশ।


সংবাদ সূত্র: নোয়াখালী চরজব্বর থানা পুলিশ, ভুক্তভোগী পরিবার ও স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শী।

2 মন্তব্যসমূহ

আপনার মূল্যবান মতামত আমাদের জানান। কোনো উসকানিমূলক বা অশালীন মন্তব্য করা থেকে বিরত থাকুন।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

আপনার মূল্যবান মতামত আমাদের জানান। কোনো উসকানিমূলক বা অশালীন মন্তব্য করা থেকে বিরত থাকুন।

নবীনতর পূর্বতন