অভয়নগরে ৮০ পিস ইয়াবাসহ চিহ্নিত নারী মাদক ব্যবসায়ী গ্রেপ্তার

অভয়নগরে ৮০ পিস ইয়াবাসহ চিহ্নিত নারী মাদক ব্যবসায়ী গ্রেপ্তার
ছবি: সংগৃহীত

প্রতিবেদন: শামীম হোসাইন / শাহজাদপুর / দিগন্ত বাংলা নিউজ

বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের অন্যতম প্রধান ও জনবহুল জেলা হিসেবে বিশ্বজুড়ে পরিচিত যশোরের অভ্যন্তরীণ জনপদে মাদকদ্রব্যের অবৈধ বিস্তার রোধ করা, যুবসমাজকে ধ্বংসের হাত থেকে রক্ষা করা এবং অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড সমূলে উৎপাটন করার লক্ষ্যে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সর্বদা অত্যন্ত তৎপর ও সজাগ রয়েছে। একটি আধুনিক ও শান্তিময় জনপদের নিয়মিত আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিকে সুসংহত রাখতে এবং মাদকের নিরাপদ আস্তানাগুলো গুঁড়িয়ে দিয়ে অপরাধীদের আইনের আওতায় নিয়ে আসার জন্য পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিয়মিত বিরতিতে বিশেষ গোয়েন্দা অভিযান পরিচালনা করা একটি অপরিহার্য জাতীয় দায়িত্ব হিসেবে বিবেচিত হয়। যশোর জেলা গোয়েন্দা শাখা বা ডিবি পুলিশের সার্বিক দিকনির্দেশনা ও কঠোর নজরদারির মাধ্যমে সাম্প্রতিক সময়ে পরিচালিত এমনই একটি অত্যন্ত সফল, সুদূরপ্রসারী ও ধারাবাহিক বিশেষ আভিযানিক কার্যক্রমের মাধ্যমে পুরো জেলা এলাকায় মাদক দমনের ক্ষেত্রে এক যুগান্তকারী সাফল্য অর্জিত হয়েছে, যা স্থানীয় নাগরিকদের মাঝে ব্যাপক স্বস্তি ও নিরাপত্তার অনুভূতি ফিরিয়ে আনতে সক্ষম হয়েছে। মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি ঘোষণা করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা যেভাবে মাঠপর্যায়ে নিরলস কাজ করে যাচ্ছেন, তা সত্যি প্রশংসনীয় এবং সমাজ থেকে অপরাধ দূর করার ক্ষেত্রে অত্যন্ত কার্যকরী ভূমিকা পালন করছে।

আরও পড়ুন: সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের বিশেষ অভিযান: ২৪ ঘণ্টায় ৫২ জন গ্রেপ্তার ও ১৫১ যানবাহনের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা

ঘটনার সম্পূর্ণ পটভূমি এবং জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি), যশোর সূত্রে প্রাপ্ত দাপ্তরিক ও অনুসন্ধানী তথ্যাবলি থেকে বিস্তারিতভাবে জানা যায় যে, ক্যালেন্ডারের পাতা অনুযায়ী গত ১৭ আগস্ট ২০২৬ খ্রিষ্টাব্দের বিকেলে, অর্থাৎ ঘড়ির কাঁটায় ঠিক দুপুর ২টা বেজে ৪০ মিনিটে (১৪.৪০ ঘটিকা) এই বিশেষ ও সফল অভিযানটি পরিচালিত হয়েছিল। যশোরের অভয়নগর থানাধীন অত্যন্ত পরিচিত ও জনবহুল জনপদ নওয়াপাড়া পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের নওয়াপাড়া আকুঞ্জীপাড়া গ্রাম এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে মাদক কেনাবেচার একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট সক্রিয় ছিল, যেখানকার স্থানীয় বাসিন্দারা চরম উৎকণ্ঠার মধ্যে দিন কাটাচ্ছিলেন। গোয়েন্দা বিভাগের কাছে থাকা গোপন সংবাদের ভিত্তিতে নিশ্চিত হয়ে জেলা গোয়েন্দা শাখার চৌকস দল লিপি বেগম নামের এক কুখ্যাত ও চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ীর আস্তানার দিকে নজরদারি বৃদ্ধি করে। সুনির্দিষ্ট তথ্যের ওপর ভিত্তি করে ডিবি পুলিশের একটি বিশেষ টিম অত্যন্ত সুকৌশলে ওই এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে এবং অপরাধীকে হাতেনাতে ধরে ফেলার জন্য সম্পূর্ণ প্রস্তুতি গ্রহণ করে।

উক্ত সফল অভিযান পরিচালনার নেপথ্য কৌশল ও নেতৃত্ব সম্পর্কে পুলিশ বিভাগ সূত্রে আরও জানা যায় যে, জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি), যশোরের উপপরিদর্শক এসআই (নিঃ) মো. জাহাঙ্গীর আলম অত্যন্ত দক্ষভাবে সঙ্গীয় অফিসার ও ফোর্সের সমন্বয়ে গঠিত একটি চৌকস আভিযানিক টিমের নেতৃত্ব প্রদান করেন। অভয়নগর থানাধীন নওয়াপাড়া আকুঞ্জীপাড়া গ্রামের জনৈক লিপি বেগমের নিজস্ব বসতবাড়ির সামনে অবস্থিত পাকা রাস্তার ওপর যখন ওই নারী মাদক ব্যবসায়ী সন্দেহজনকভাবে ঘোরাফেরা করছিলেন, ঠিক সেই মুহূর্তেই ডিবি পুলিশের টিমটি চারদিক থেকে অত্যন্ত সতর্কতার সাথে তাকে ঘিরে ফেলে। আইনি প্রক্রিয়া ও নারী অধিকারের বিষয়টি সম্পূর্ণ বজায় রেখে নারী পুলিশের সার্বিক সহায়তায় অভিযুক্ত লিপি বেগম (৪৫)-কে অত্যন্ত পেশাদারিত্বের সাথে আটক করা হয়। আটকের পর তার দেহ তল্লাশি করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সরাসরি তার কাছ থেকে অবৈধ মাদকদ্রব্যের চালান উদ্ধার করে, যা পুরো এলাকার মাদক নেটওয়ার্কের ভয়াবহ চিত্রকে পুনরায় উন্মোচন করেছে।

আরও পড়ুন: কাজিপুরে অপহৃত স্কুলছাত্র বেলকুচি থেকে উদ্ধার, মূল অপহরণকারী গ্রেপ্তার

অভিযান চলাকালীন সময়ে ধৃত আসামির কাছ থেকে উদ্ধারকৃত মালামালের বিবরণ দিতে গিয়ে পুলিশ জানিয়েছে যে, অত্যন্ত সুকৌশলে লুকিয়ে রাখা অবস্থায় সর্বমোট ৮০ (আশি) পিস অবৈধ মাদকদ্রব্য ইয়াবা ট্যাবলেট জব্দ করা হয়েছে, যা বর্তমান প্রজন্মের তরুণ সমাজকে ধ্বংস করার জন্য যথেষ্ট ছিল। উদ্ধারকৃত এই বিপুল পরিমাণ ইয়াবা ট্যাবলেটের আনুমানিক বাজারমূল্য যেমন অনেক বেশি, তেমনি এর ধ্বংসাত্মক প্রভাব স্থানীয় যুবসমাজকে মারাত্মকভাবে গ্রাস করছিল। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে এবং পুলিশের অপরাধ রেকর্ডপত্র পর্যালোচনা করে নিশ্চিত হওয়া গেছে যে, লিপি বেগম সাধারণ কোনো খুচরা বিক্রেতা নন, বরং তিনি অভয়নগর এলাকার একজন অত্যন্ত চিহ্নিত ও তালিকাভুক্ত পেশাদার মাদক ব্যবসায়ী। তাঁর বিরুদ্ধে এর আগেও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে একাধিক মামলা রয়েছে এবং আদালতের জামিন নিয়ে বের হয়ে তিনি পুনরায় একই অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়েছিলেন বলে গোয়েন্দা সূত্রে জানা গেছে।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষ থেকে সংবাদমাধ্যমকে আনুষ্ঠানিকভাবে আরও জানানো হয়েছে যে, ঘটনাস্থল থেকে আটককৃত এবং ৮০ পিস ইয়াবাসহ হাতেনাতে ধরা পড়া নারী মাদক ব্যবসায়ী লিপি বেগমের সম্পূর্ণ পরিচয় ও বংশপরিচয় দাপ্তরিকভাবে নিশ্চিত করা হয়েছে। তাঁর পূর্ণাঙ্গ পরিচয় অনুযায়ী তিনি লিপি বেগম (৪৫), যাঁর সম্মানিত পিতার নাম মৃত সমদে আকন, প্রয়াত স্বামীর নাম মৃত হিরু মোল্লা এবং মাতার নাম মৃত মুকুল বেগম বলে জানা গেছে। তাঁর স্থায়ী ও বর্তমান ঠিকানা হিসেবে যশোর জেলার অভয়নগর থানাধীন নওয়াপাড়া পৌরসভার নওয়াপাড়া আকুঞ্জীপাড়া গ্রাম স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে। অপরাধের সাথে জড়িত থাকার সুনির্দিষ্ট অভিযোগে তাঁর বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে নিয়মিত মামলা রুজু করা হয়েছে এবং সমস্ত আইনি প্রক্রিয়া অত্যন্ত সতর্কতার সাথে সম্পন্ন করার পর গত ১৮ আগস্ট ২০২৬ তারিখে তাঁকে বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে বলে নিশ্চিত করা হয়েছে।

পরিশেষে বলা যায়, যশোরের অভয়নগরে ডিবি পুলিশের অভিযানে ৮০ পিস ইয়াবাসহ চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী লিপি বেগমের গ্রেপ্তারের ঘটনাটি প্রমাণ করে যে, অপরাধীদের যতই প্রভাবশালী সিন্ডিকেট হোক না কেন, আইনের হাত থেকে কেউ রেহাই পাবে না। সমাজের শেকড় থেকে মাদক নামক এই মারাত্মক সামাজিক ক্যানসার নির্মূল করতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর এই ধরনের নিয়মিত ও কঠোর অভিযান অত্যন্ত অপরিহার্য। আমরা আশা করি, বিজ্ঞ আদালতের মাধ্যমে এই অপরাধীর উপযুক্ত ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত হবে এবং অভয়নগর এলাকা সম্পূর্ণ মাদকমুক্ত একটি শান্তিময় জনপদে পরিণত হবে। সবার সম্মিলিত সচেতনতা, সামাজিক প্রতিরোধ এবং আইনের প্রতি শ্রদ্ধাবোধই একটি সুস্থ, সুন্দর ও অপরাধমুক্ত জাতি গঠনের প্রধান শর্ত হিসেবে সবসময় কাজ করবে।

সূত্র: জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) যশোর প্রেস নোট ও পুলিশ মিডিয়া সেল।

Post a Comment

আপনার মূল্যবান মতামত আমাদের জানান। কোনো উসকানিমূলক বা অশালীন মন্তব্য করা থেকে বিরত থাকুন।

নবীনতর পূর্বতন