প্রতিবেদন: শামীম হোসাইন / শাহজাদপুর / দিগন্ত বাংলা নিউজ
সিরাজগঞ্জ জেলার ঐতিহ্যবাহী শাহজাদপুর উপজেলার অন্তর্গত ৮নং বেলতৈল ইউনিয়ন পরিষদের আসন্ন নির্বাচনকে কেন্দ্র করে স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গন ও জনপদে এক নতুন গতির সঞ্চার হয়েছে। তফসিলে ঘোষিত এই স্থানীয় সরকার নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার ঘোষণা দিয়ে সাধারণ মানুষের ব্যাপক কৌতূহল ও উদ্দীপনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছেন পরিচিত মুখ, উদীয়মান সংবাদিক ও সমাজকর্মী আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ। তৃণমূল জনগোষ্ঠীর দীর্ঘদিনের আশা-আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন ঘটাতে তিনি এবার সরাসরি ভোটের মাঠে নেমেছেন এবং এলাকাবাসীর দ্বারে দ্বারে গিয়ে পরম যত্নে নিজের শুভাকাঙ্ক্ষী ও ভোটারদের সমর্থন, দোয়া ও আন্তরিক সহযোগিতা কামনা করছেন। তার এই প্রার্থী হওয়ার বিষয়টি ইতোমধ্যে পুরো শাহজাদপুরজুড়ে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে এবং সাধারণ মানুষের মুখে মুখে তার সততা ও কর্মতপ্রতার প্রশংসা উচ্চারিত হচ্ছে।
দীর্ঘ সময় ধরে গণমাধ্যমকর্মী হিসেবে কাজ করার সুবাদে আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ এ অঞ্চলের মানুষের সুখ-দুঃখ, হাসি-কান্না এবং না পাওয়ার বেদনার কথা অত্যন্ত গভীরভাবে উপলব্ধি করতে পেরেছেন। কেবল পেশাগত সাংবাদিকতাই নয়, বরং বহু বছর ধরে বিভিন্ন সমাজকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডে সরাসরি যুক্ত থাকার সুবাদে তিনি স্থানীয় সমাজের রন্ধ্রে রন্ধ্রে লুকিয়ে থাকা বিভিন্ন জটিলতা ও সমস্যার সঙ্গে পুরোপুরি পরিচিত। গতানুগতিক ধারার রাজনীতি ও ফাঁকা প্রতিশ্রুতির বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে তিনি সম্পূর্ণ ব্যতিক্রমী একটি বার্তা নিয়ে ভোটারদের সামনে হাজির হয়েছেন। তার মূল স্লোগান বা নির্বাচনী দর্শন হলো পরিবর্তন বা ফাঁকা আশ্বাস নয়, বরং সরাসরি বাস্তবমুখী কাজ উপহার দেওয়া। তিনি জোর দিয়ে বলেছেন যে, সাধারণ মানুষ যদি তাকে বেলতৈল ইউনিয়নের সেবা করার সুযোগ দেয়, তবে তিনি কোনো কৃত্রিম প্রতিশ্রুতিতে বিশ্বাস না রেখে সরাসরি জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে এলাকার দীর্ঘদিনের পুঞ্জীভূত সমস্যার স্থায়ী ও টেকসই সমাধান করবেন।
আরও পড়ুন: শাহজাদপুর কেন্দ্রীয় মহাশ্মশান পরিচালনা এবং উন্নয়ন কমিটি গঠন সম্পন্ন
আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে আব্দুল্লাহ আল মাহমুদের অন্যতম প্রধান ও মূল লক্ষ্য হলো একটি সম্পূর্ণ দুর্নীতি, স্বজনপ্রীতি ও অনিয়মমুক্ত আধুনিক ইউনিয়ন পরিষদ গড়ে তোলা। তিনি তার নির্বাচনী প্রচারণায় বারবার উল্লেখ করেছেন যে, জনপ্রতিনিধিত্ব মানে কোনো বিশেষ সুবিধা ভোগ করা নয়, বরং এটি হলো জনগণের আমানত রক্ষা করা এবং পরম নিষ্ঠার সঙ্গে সেবা প্রদান করা। প্রশাসনিক কার্যক্রমে সর্বোচ্চ স্বচ্ছতা এবং জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করে তিনি ঘোষণা দিয়েছেন যে, ইউনিয়নের প্রতিটি উন্নয়নমূলক কাজের হিসাব জনগণের সামনে উন্মুক্ত রাখা হবে। কোনো ধরনের দুর্নীতি বা অনিয়মকে তিনি তিলমাত্র ছাড় দেবেন না। সাধারণ মানুষের মৌলিক অধিকার রক্ষা এবং সরকারি বরাদ্দের সঠিক ও সুষম বণ্টন নিশ্চিত করার মাধ্যমে তিনি বেলতৈল ইউনিয়নকে একটি মডেল ও আদর্শ জনপদে রূপান্তর করার সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনা গ্রহণ করেছেন।
ইউনিয়ন পরিষদ হলো স্থানীয় সরকার ব্যবস্থার সবচাইতে শক্তিশালী এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি। এই প্রতিষ্ঠানের ওপরই মূলত এলাকার সার্বিক জনসেবা, অবকাঠামোগত উন্নয়ন এবং স্থানীয় বিরোধ নিষ্পত্তির মতো অতি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো নির্ভর করে। একজন জনহিতৈষী ও সচেতন নাগরিক হিসেবে আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ এই কাঠামোর গুরুত্ব সম্পর্কে সম্পূর্ণ ওয়াকিবহাল। নির্বাচিত হলে তিনি ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসনিক কার্যক্রমকে আরও বেশি গতিশীল, জনবান্ধব এবং দুর্নীতিমুক্ত করতে চান। দীর্ঘদিনের সমাজসেবা ও সাংবাদিকতার মাধ্যমে অর্জিত অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে তিনি স্থানীয় সাধারণ মানুষের জীবনমান উন্নয়নের জন্য একটি বাস্তবসম্মত এবং যুগোপযোগী মহাপরিকল্পনা প্রণয়ন করেছেন, যা ইতোমধ্যে স্থানীয় সচেতন মহলের মাঝে গভীর রেখাপাত করেছে এবং বিপুল প্রশংসিত হয়েছে।
বর্তমান নির্বাচনী প্রচারණ এই উত্তাল সময়ে আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ বসে নেই শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত কক্ষে; বরং তিনি প্রতিদিন ভোরে ঘুম থেকে উঠে বেলতৈল ইউনিয়নের প্রতিটি গ্রাম, পাড়া এবং মহল্লায় পায়ে হেঁটে সাধারণ মানুষের দ্বারে দ্বারে উপস্থিত হচ্ছেন। চায়ের দোকান থেকে শুরু করে গ্রামীণ জনপদের খেটে খাওয়া মানুষের উঠানে গিয়ে তিনি তাদের কষ্টের কথা মন দিয়ে শুনছেন এবং তাদের মূল্যবান মতামত গ্রহণ করছেন। তার এই গণসংযোগকালে স্থানীয় ভোটারদের মাঝে ব্যাপক উৎসাহ ও উদ্দীপনা লক্ষ করা যাচ্ছে। বিশেষ করে যুবসমাজ, নারীসমাজ এবং বয়োবৃদ্ধরা তার এই অমায়িক আচরণ ও সজ্জন ব্যক্তিত্বে মুগ্ধ হয়ে স্বতঃস্ফূর্তভাবে তার প্রচারণায় অংশ নিচ্ছেন। এলাকার প্রতিটি মানুষ এখন বিশ্বাস করতে শুরু করেছে যে, একজন সৎ ও শিক্ষিত মানুষ যদি স্থানীয় নেতৃত্বের আসনে আসীন হন, তবে এলাকার সামগ্রিক চিত্র বদলে বাধ্য বাধ্যবাধকতায় রূপ নেবে।
আরও পড়ুন: শাহজাদপুরে নির্মাণাধীন ভবনে কাজ করার সময় বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে শ্রমিকের মৃত্যু
বেলতৈল ইউনিয়নের সামগ্রিক অগ্রগতির ক্ষেত্রে শিক্ষা, স্বাস্থ্য এবং কর্মসংস্থান খাতকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা ঘোষণা করেছেন এই উদীয়মান প্রার্থী। এলাকার দরিদ্র ও মেধাবী শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা অব্যাহত রাখতে বিশেষ শিক্ষাবৃত্তি ও সহায়তা তহবিল গঠন করার পরিকল্পনা রয়েছে তার। পাশাপাশি, অবহেলিত গ্রামীণ জনপদে চিকিৎসাসেবা সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলোর মানোন্নয়ন এবং নিয়মিত মেডিকেল ক্যাম্প পরিচালনার উদ্যোগ নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন তিনি। বেকারত্ব দূরীকরণ এবং যুবসমাজকে ধ্বংসের হাত থেকে রক্ষা করতে স্থানীয় পর্যায়ে কুটির শিল্প, কারিগরি প্রশিক্ষণ এবং কর্মসংস্থানের নতুন নতুন সুযোগ সৃষ্টির সুনির্দিষ্ট রূপরেখা তিনি ভোটারদের সামনে তুলে ধরছেন। মাদকমুক্ত ও অপরাধমুক্ত একটি সুন্দর সমাজ বিনির্মাণে তিনি যুবসমাজকে খেলাধুলা ও গঠনমূলক সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করার জোরালো ঘোষণা দিয়েছেন।
কৃষি ও মৎস্য সম্পদ বেলতৈল ইউনিয়নের অর্থনৈতিক কাঠামোর প্রধান চালিকাশক্তি। এ অঞ্চলের সিংহভাগ মানুষ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষি এবং মৎস্য চাষের সঙ্গে যুক্ত। অথচ সঠিক পৃষ্ঠপোষকতা ও ব্যবস্থাপনার অভাবে এ খাতের কৃষকরা প্রায়শই নানা ধরনের বঞ্চনার শিকার হন। আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ তার নির্বাচনী ইশতেহারে বা পরিকল্পনাতে কৃষি এবং মৎস্য খাতের আধুনিকায়নের ওপর বিশেষ জোর দিয়েছেন। কৃষকদের জন্য সার, বীজ এবং আধুনিক কৃষি উপকরণের সহজলভ্যতা নিশ্চিত করা এবং উৎপাদিত পণ্যের ন্যায্যমূল্য পাওয়ার ব্যবস্থা করতে তিনি কার্যকর ভূমিকা পালনের অঙ্গীকার করেছেন। একই সঙ্গে মৎস্যজীবীদের জীবনযাত্রার মানোন্নয়নে এবং জলাশয় ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা আনতে তিনি বিশেষ প্রশাসনিক উদ্যোগ গ্রহণের কথা জানিয়েছেন, যা এলাকার অর্থনীতিকে আরও বেশি চাঙ্গা করে তুলবে বলে অর্থনীতিবিদ ও স্থানীয় বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন।
সমাজের অবহেলিত, পিছিয়ে পড়া, দুস্থ এবং অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানোকে তিনি জীবনের অন্যতম ব্রত হিসেবে বেছে নিয়েছেন। বয়স্ক ভাতা, বিধবা ভাতা, প্রতিবন্ধী ভাতাসহ সরকারের বিভিন্ন সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনীর সহায়তাগুলো যাতে কোনো ধরনের দুর্নীতি বা মধ্যস্বত্বভোগী ছাড়াই সরাসরি প্রকৃত হকদারের হাতে পৌঁছায়, তা কঠোরহস্তে নিশ্চিত করার কথা বলেছেন তিনি। কোনো গরিব মানুষ যেন চিকিৎসার অভাবে কষ্ট না পায় কিংবা কোনো শিশু যেন আর্থিক সংকটের কারণে পড়ালেখা ছেড়ে দিতে বাধ্য না হয়, সেদিকে তার সজাগ দৃষ্টি থাকবে বলে তিনি এলাকাবাসীকে আশ্বস্ত করেছেন। সামাজিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা এবং একটি সাম্যভিত্তিক সমাজ গঠনই তার রাজনৈতিক এবং সামাজিক জীবনের মূল দর্শন বলে তিনি বিভিন্ন জনসভায় উল্লেখ করেছেন।
নির্বাচন কমিশনের নির্ধারিত তফসিল অনুযায়ী বর্তমানে শাহজাদপুর উপজেলার বেলতৈল ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে জমজমাট পরিবেশ বিরাজ করছে। প্রার্থীরা অত্যন্ত উৎসাহের সঙ্গে তাদের মনোনয়নপত্র সংগ্রহ ও জমা দিচ্ছেন এবং নিয়ম মেনে প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন। এই নির্বাচনী প্রতিযোগিতায় আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ তার নিজস্ব স্বকীয়তা, মার্জিত আচরণ এবং সুনির্দিষ্ট কর্মপরিকল্পনা নিয়ে ভোটারদের মন জয় করে চলেছেন। তিনি বারবার একটি কথাই স্পষ্ট করে বলছেন যে, তিনি কোনো অলীক প্রতিশ্রুতি দিয়ে সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত করতে আসেননি, বরং নিজের শ্রম, মেধা এবং সততা দিয়ে এই জনপদের প্রতিটি মানুষের মুখে হাসি ফোটাতে চান। তার এই আন্তরিক ও সাহসী ঘোষণায় সাধারণ ভোটাররা উজ্জীবিত হয়ে উঠেছে এবং তারা পরিবর্তনের প্রত্যাশায় মুখিয়ে রয়েছে।
পরিশেষে, সাংবাদিকতা ও সমাজসেবার দীর্ঘ পথপরিক্রমায় আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ যে সততা ও নিষ্ঠার পরিচয় দিয়েছেন, তা বেলতৈল ইউনিয়নের নির্বাচনে তাকে এক অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছে। জনগণের অধিকার আদায় এবং একটি সুন্দর, পরিচ্ছন্ন ও উন্নত ইউনিয়ন গঠনের যে প্রত্যয় তিনি ব্যক্ত করেছেন, তা বাস্তবায়নের জন্য এখন প্রয়োজন শুধু একটি সঠিক ও স্বাধীন সিদ্ধান্ত। এলাকার সর্বস্তরের জনগণ এখন দলমত নির্বিশেষে এক হয়ে সৎ ও যোগ্য নেতৃত্ব বেছে নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। আগামী দিনগুলোতে নির্বাচনী প্রচারণার মাঠ আরও বেশি উত্তপ্ত হবে এবং প্রার্থীরা তাদের পরিকল্পনা নিয়ে আরও গভীরভাবে ভোটারদের দ্বারে যাবেন। তবে সবকিছুর ঊর্ধ্বে থেকে মানুষের ভালোবাসাকে পুঁজি করে আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ যে আস্থার জায়গা তৈরি করেছেন, তা বেলতৈল ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের ফলাফলকে দারুণভাবে প্রভাবিত করবে বলেই সচেতন মহলের বিশ্বাস।
প্রতিবেদনের সূত্র: স্থানীয় নির্বাচনী মাঠ ও সংবাদ বিশ্লেষণ।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন
আপনার মূল্যবান মতামত আমাদের জানান। কোনো উসকানিমূলক বা অশালীন মন্তব্য করা থেকে বিরত থাকুন।