ভেড়ামারায় পদ্মা নদীতে গোলাগুলি, যুবক গুলিবিদ্ধ হয়ে ঢাকায় স্থানান্তরিত

ভেড়ামারায় পদ্মা নদীতে গোলাগুলি, যুবক গুলিবিদ্ধ হয়ে ঢাকায় স্থানান্তরিত
ছবি: সংগৃহীত

প্রতিবেদন: শামীম হোসাইন / শাহজাদপুর / দিগন্ত বাংলা নিউজ

ভেড়ামারায় পদ্মা নদীতে গোলাগুলি, যুবক গুলিবিদ্ধ হয়ে ঢাকায় স্থানান্তরিত

কুষ্টিয়া জেলার ভেড়ামারা উপজেলায় প্রবাহমান পদ্মা নদীতে আকস্মিক আগ্নেয়াস্ত্র থেকে ছোঁড়া গুলিতে শরিফুল ইসলাম ববি নামের এক যুবক গুরুতর আহত ও গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। ভোরের আলো ফোটার পরপরই ঘটা এই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনায় পুরো এলাকা জুড়ে চরম আতঙ্ক ও চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। গুলিবিদ্ধ ওই যুবকের শারীরিক অবস্থার আশঙ্কাজনক অবনতি ঘটায় প্রাথমিক চিকিৎসার পর তাকে দ্রুততম সময়ে রাজধানী ঢাকায় স্থানান্তর করা হয়েছে।

আরও পড়ুন: অগ্নিদগ্ধ শিশু মাহির বাঁচার আকুতি: চিকিৎসার অভাবে ধুঁকছে সাত বছরের জীবন

ঘটনাটি ঘটেছে শুক্রবার (৩১ জুলাই) ভোরের দিকে ভেড়ামারা উপজেলার মনি পার্ক এলাকার ঠিক উত্তরাংশে বিস্তৃত পদ্মা নদীর জলসীমায়। গুলিবিদ্ধ হওয়া যুবক শরিফুল ইসলাম ববি ভেড়ামারা উপজেলার বাহাদুরপুর ইউনিয়নের অন্তর্গত মসলেমপুর এলাকার স্থানীয় অধিবাসী আলম খন্দকারের ছেলে। পারিবারিক সূত্রে আরও জানা গেছে, আহত শরিফুলের মাতা মনোয়ারা বেগম ওই এলাকার বাহাদুরপুর ইউনিয়নের একজন সাবেক সংরক্ষিত মহিলা ইউপি সদস্য ছিলেন।

স্থানীয় বাসিন্দা ও স্বজনদের তথ্যানুযায়ী, শুক্রবার প্রত্যূষে পদ্মার চরাঞ্চল ও নদী সংলগ্ন এলাকায় গোলাগুলির বিকট শব্দ শুনতে পান নৌকার মাঝি ও চরের অধিবাসীরা। পরবর্তীতে ঘটনাস্থলে শরিফুল ইসলাম ববিকে গুলিবিদ্ধ ও রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখে দ্রুত উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য কুষ্টিয়া ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল (মেডিকেল কলেজ) হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে জরুরী বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসকেরা তার ক্ষতস্থানে প্রাথমিক চিকিৎসা ও জরুরি শারীরিক পরীক্ষা-নিরীক্ষা সম্পন্ন করেন।

আরও পড়ুন: জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়: অনার্স ১ম বর্ষের আইসিটি পরীক্ষার সময় পরিবর্তন

তবে শরীরে মারাত্মক আঘাত থাকায় এবং রক্তক্ষরণ অব্যাহত থাকায় রোগীর শারীরিক অবস্থার দ্রুত অবনতি হতে থাকে। এমতাবস্থায় কুষ্টিয়া হাসপাতালের চিকিৎসকেরা উন্নত পর্যবেক্ষণ ও জরুরি অস্ত্রোপচারের স্বার্থে তাকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় রাজধানী ঢাকার বিশেষায়িত হাসপাতালে রেফার বা স্থানান্তর করার পরামর্শ দেন। স্বজনেরা অনতিবিলম্বে তাকে অ্যাম্বুলেন্সযোগে ঢাকায় নিয়ে রওয়ানা হয়েছেন।

পদ্মা নদীর বুকে নিঝুম ভোরে ঠিক কী কারণে এই রক্তক্ষয়ী গুলির ঘটনা ঘটল, কারা এই সশস্ত্র হামলার পেছনে জড়িত কিংবা এর পেছনে কোনো পূর্ব শত্রুতা ও অবৈধ ব্যবসা সংক্রান্ত বিরোধ রয়েছে কি না—সে বিষয়ে বিস্তারিত কোনো স্পষ্ট তথ্য এখনো পাওয়া যায়নি। ঘটনাটি খতিয়ে দেখতে ও জড়িতদের শনাক্ত করতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অনুসন্ধানী নজরদারি বজায় রয়েছে।

সূত্র: স্থানীয় হাসপাতাল ও এলাকাভিত্তিক তথ্য, দিগন্ত বাংলা নিউজ।

Post a Comment

আপনার মূল্যবান মতামত আমাদের জানান। কোনো উসকানিমূলক বা অশালীন মন্তব্য করা থেকে বিরত থাকুন।

নবীনতর পূর্বতন