প্রতিবেদন: শামীম হোসাইন / শাহজাদপুর / দিগন্ত বাংলা নিউজ
অগ্নিদগ্ধ শিশু মাহির বাঁচার আকুতি: চিকিৎসার অভাবে ধুঁকছে সাত বছরের জীবন
মাত্র সাত বছর বয়সের নিষ্পাপ এক শিশু, যার সমবয়সী খেলার সাথীদের সাথে প্রফুল্ল মনে স্কুলে যাওয়ার এবং গ্রামজুড়ে হেসে-খেলে চঞ্চলতায় মেতে থাকার কথা, সেই অবুঝ শিশু মাহি আজ এক অসহনীয় ও করুণ বাস্তবতার মুখোমুখি। জীবনের শুরুতেই ভাগ্যের নির্মম পরিহাসে এক অমানবিক ও ভয়াবহ যন্ত্রণার সাথে লড়াই করছে সে। অর্থাভাবের কারণে সঠিক সময়ে প্রয়োজনীয় ও জরুরি চিকিৎসা করাতে না পেরে নিষ্পাপ এই শিশুটির ভবিষ্যৎ এখন প্রদীপ নিভে যাওয়ার মতো ঘোর অন্ধকারের দিকে ধাবিত হচ্ছে।
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, অবহেলাবশত প্রজ্জ্বলিত গ্যাস লাইটার দিয়ে আগুন জ্বালাতে গিয়ে এক ভয়ংকর অগ্নিকাণ্ড ও দুর্ঘটনার শিকার হয় ছোট মাহি। সেই আগুনে মুহূর্তেই তার তলপেটসহ শরীরের নিচের সংবেদনশীল এলাকা মারাত্মকভাবে দগ্ধ হয়। প্রাথমিক চিকিৎসার পর বাহ্যিক ক্ষত কিছুটা শুকিয়ে এলেও শরীরের ভেতরের মূত্রনালী মারাত্মক আগুনে কুঁকড়ে ও সংকুচিত হয়ে এক জটিল অবস্থার সৃষ্টি করেছে। এর ফলে প্রাকৃতিক উপায়ে স্বাভাবিকভাবে প্রস্রাব-পায়খানা করার সক্ষমতা হারিয়ে ফেলেছে শিশুটি।
আরও পড়ুন: ফুলপুরে ১৮ বছরের তরুণী শরিফা নিখোঁজ, সন্ধানে পরিবারের আকুতি
বর্তমানে প্রতিটি মুহূর্ত মাহির জন্য এক বিষাদময় নরক যন্ত্রণার নাম। স্বাভাবিক শারীরিক বর্জ্য ত্যাগের প্রতিটি চেষ্টায় অসহ্য বেদনায় ছটফট করতে থাকে অবুঝ এই শিশুটি। কান্নাকাটি আর যন্ত্রণার চোটে সে না পারছে রাতে একটু ঘুমাতে, না পারছে মুখে কিছু খাবার গ্রহণ করতে। নিষ্পাপ সন্তানের চোখের সামনে এমন যন্ত্রণাদায়ক কাতরাণি দেখে বুক ফেটে যাচ্ছে পরিবারের স্বজনদের, কিন্তু অভাবের নির্মমতায় তারা আজ পুরোপুরি অসহায় ও নিুপায়।
রাজধানী ঢাকার বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের কাছে মাহিকে নিয়ে যাওয়া হলে তারা পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে জানিয়েছেন, শিশুটির জীবন বাঁচাতে হলে অনতিবিলম্বে এক জটিল অস্ত্রোপচার বা সার্জারি সম্পন্ন করতে হবে। দ্রুত এই অপারেশন না করালে তাকে বাঁচিয়ে রাখা প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়বে। আর এই বিশেষায়িত চিকিৎসার জন্য জরুরি ভিত্তিতে প্রয়োজন প্রায় ৪ লাখ টাকা। কিন্তু একজন দিনমজুর বাবার পক্ষে, যার প্রতিদিনের উপার্জনে কোনোমতে নুন আনতে পান্তা ফুরানোর মতো সংসার চলে, তার জন্য চার লাখ টাকার বিশাল অঙ্ক জোগাড় করা এক অবাস্তব ও অসম্ভব স্বপ্নের মতো। উপরন্তু শিশুটির মা-ও দীর্ঘদিন ধরে শারীরিক ও মানসিকভাবে অসুস্থ।
আরও পড়ুন: ঈদগাঁওয়ে বহুল আলোচিত মা-মেয়ে হত্যা মামলায় টমটমচালকের মৃত্যুদণ্ড
চোখের সামনে এমন একটুকরো নিষ্পাপ জীবনের চরম দুর্দশা ও করুণ পরিণতি সইতে না পেরে মাহির অসহায় পরিবার ও স্থানীয় বাসিন্দারা সমাজের বিত্তবান, দয়ালু ও হৃদয়বান মানুষদের কাছে হাত বাড়িয়েছেন। সামান্য এক ফোঁটা সহানুভূতি ও যৌথ আর্থিক সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিলে হয়তো চার লাখ টাকার এই চিকিৎসা ব্যায় মেটানো সম্ভব হবে এবং যন্ত্রণাদগ্ধ জীবন থেকে মুক্তি পেয়ে ছোট্ট মাহি আবার নতুন করে জীবন ফিরে পাবে। মাহির চিকিৎসার স্বার্থে স্বজন মাসুদের সাথে যোগাযোগের জন্য ০১৭২৯৩৫৭৭৭৪ (01729357774) মোবাইল নম্বরে সরাসরি কল দেওয়ার অনুরোধ জানানো হয়েছে।
সূত্র: ভুক্তভোগী পরিবার ও স্থানীয় প্রতিনিধি, দিগন্ত বাংলা নিউজ।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন
আপনার মূল্যবান মতামত আমাদের জানান। কোনো উসকানিমূলক বা অশালীন মন্তব্য করা থেকে বিরত থাকুন।