ঈদগাঁওয়ে বহুল আলোচিত মা-মেয়ে হত্যা মামলায় টমটমচালকের মৃত্যুদণ্ড

ঈদগাঁওয়ে বহুল আলোচিত মা-মেয়ে হত্যা মামলায় টমটমচালকের মৃত্যুদণ্ড
ছবি: সংগৃহীত

প্রতিবেদন: শামীম হোসাইন / শাহজাদপুর / দিগন্ত বাংলা নিউজ

ঈদগাঁওয়ে বহুল আলোচিত মা-মেয়ে হত্যা মামলায় টমটমচালকের মৃত্যুদণ্ড

কক্সবাজার জেলার ঈদগাঁও উপজেলায় সংঘটিত চাঞ্চল্যকর ও হৃদয়বিদারক মা-মেয়ে হত্যা মামলার চূড়ান্ত রায় ঘোষণা করেছেন আদালত। দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়া, সাক্ষ্যগ্রহণ ও তথ্যপ্রমাণের বস্তুনিষ্ঠ বিশ্লেষণের পর অপরাধ প্রমাণিত হওয়ায় মূল আসামি টমটমচালক আবুল কালামকে মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) দুপুরে কক্সবাজারের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ (৫ম) আদালতের মাননীয় বিচারক এই ঐতিহাসিক ও কঠোর রায় প্রদান করেন। বিচারালয়ের এই সিদ্ধান্ত ঘোষণার পর স্থানীয় অধিবাসী এবং স্বজনদের মাঝে স্বস্তির পরিবেশ তৈরি হয়েছে।

আরও পড়ুন: সিরাজগঞ্জে সাংবাদিক ও তার পরিবারের নিরাপত্তা চেয়ে ডিআইজি বরাবরে আবেদন

আদালতের নথি ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০২৩ সালে ঈদগাঁও উপজেলার ইসলামাবাদ ইউনিয়নের অধীনস্থ চরপাড়া গ্রামে নিজ বাড়িতে এক ভয়াবহ ও নৃশংস হত্যাকাণ্ডের শিকার হন জনৈক গৃহবধূ ও তার নিষ্পাপ কন্যাসন্তান। মর্মান্তিক এই জোড়া খুনের ঘটনায় সমগ্র এলাকা জুড়ে চরম শোক, আতঙ্ক ও ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছিল। নিজ স্ত্রী ও সন্তানকে হারিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েন পরিবারের প্রধান আজিজুল হক। পরবর্তীতে তিনি ন্যায়বিচারের আশায় চারজনকে অভিযুক্ত হিসেবে নাম উল্লেখ করে সংশ্লিষ্ট থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।

মামলাটি দায়েরের পর থেকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী নিবিড় তদন্ত পরিচালনা করে। পরবর্তীতে বিচারিক প্রক্রিয়ার বিভিন্ন ধাপে দীর্ঘ শুনানি, আলামত পরীক্ষা এবং তদন্তকারী কর্মকর্তাদের পেশাদার ভূমিকার কারণে প্রাথমিকভাবে অভিযুক্তদের মধ্য থেকে তিনজনের বিরুদ্ধে অপরাধে সরাসরি সম্পৃক্ততার প্রমাণ না মেলায় মামলার চার্জশিট ও চূড়ান্ত পর্যায় থেকে তাদের বাদ দেওয়া হয়। পরে আদালতে উপস্থাপিত তথ্যপ্রমাণ এবং প্রত্যক্ষদর্শী ও বিশেষজ্ঞদের সাক্ষ্যের ভিত্তিতে প্রধান আসামি টমটমচালক আবুল কালামের বিরুদ্ধে অপরাধ নিশ্চিতভাবে প্রমাণিত হয়।

আরও পড়ুন: মুন্সীগঞ্জে এনসিপির সমাবেশে ছাত্রদলের সংহতি ও পানির বোতল বিতরণ

বিচারক তার পর্যবেক্ষণে উল্লেখ করেন যে, এমন জঘন্য ও অমানবিক অপরাধ সমাজের শান্তি ও সুরক্ষাকে চরমভাবে হুমকির মুখে ফেলে। অপরাধের গুরুত্ব বিচারে আসামিকে মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। একই সাথে এই মামলায় অপর দুই আসামির বিরুদ্ধে অপরাধ প্রমাণিত না হওয়ায় আদালত তাদের বেকসুর খালাস প্রদান করেন। আদালত কক্ষ থেকে শুরু করে কক্সবাজারের বিচারিক প্রাঙ্গণ পর্যন্ত এই রায় ঘোষণার সময় উৎসুক জনতার বিপুল উপস্থিতি লক্ষ করা যায়।

রায় ঘোষণার পর সন্তোষ প্রকাশ করে প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন মামলার বাদী আজিজুল হক ও তার আইনজীবীরা। তারা জানান, স্বজন হারানোর বেদনা কখনোই পূরণ হওয়ার নয়, তবে আদালতের এই রায়ের মাধ্যমে দেশে আইনের শাসন ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। সাধারণ মানুষ আশা করছেন, এমন দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি সমাজে মারাত্মক অপরাধপ্রবণতা কমাতে এবং অপরাধীদের কাছে এক স্পষ্ট সতর্কবার্তা পৌঁছে দিতে কার্যকরী ভূমিকা পালন করবে।


সূত্র: আদালত ও কক্সবাজার প্রতিনিধি, দিগন্ত বাংলা নিউজ।

Post a Comment

আপনার মূল্যবান মতামত আমাদের জানান। কোনো উসকানিমূলক বা অশালীন মন্তব্য করা থেকে বিরত থাকুন।

নবীনতর পূর্বতন