নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় ১৭ কেজি গাঁজাসহ তিন মাদক ব্যবসায়ী গ্রেফতার

নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় ১৭ কেজি গাঁজাসহ তিন মাদক ব্যবসায়ী গ্রেফতার
ছবি: সংগৃহীত

প্রতিবেদন: শামীম হোসাইন / শাহজাদপুর / দিগন্ত বাংলা নিউজ

নারায়ণগঞ্জ জেলার ফতুল্লায় মাদকদ্রব্যের অবৈধ ব্যবসার বিরুদ্ধে পুলিশের অভিযানে বড় সাফল্য এসেছে। ফতুল্লা মডেল থানা পুলিশের একটি চৌকস আভিযানিক দল অভিযান চালিয়ে সতেরো কেজি গাঁজাসহ তিনজন মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেফতার করেছে। এই অভিযান পরিচালিত হয়েছে জেলার পুলিশ সুপারের সরাসরি দিকনির্দেশনায়।

বৃহস্পতিবার বিকেল পাঁচটা পঞ্চাশ মিনিটের দিকে ফতুল্লা থানাধীন পূর্ব ইসদাইর রেললাইন এলাকায় এই অভিযান পরিচালিত হয়। অভিযানে নেতৃত্ব দেন কে সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. শামীম হোসেন। তার তত্ত্বাবধানে ফতুল্লা মডেল থানার পুলিশ সদস্যরা নির্দিষ্ট স্থানে অভিযান চালিয়ে অস্ত্রোপচার সম্পন্ন করেন।

আরও পড়ুন: হাইওয়ে পুলিশের বদলিজনিত বিদায় সংবর্ধনা অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত

অভিযানে গ্রেফতারকৃতরা হলেন সালেহা বেগম, সাহেদ কাদের এবং সুজন। সালেহা বেগম চল্লিশ বছর বয়সী। তিনি শরীয়তপুর জেলার ভেদরগঞ্জ থানার পায়াতলি এলাকার বাসিন্দা। বর্তমানে তিনি ফতুল্লার ইসদাইর রেললাইন এলাকায় ভাড়াটিয়া হিসেবে বসবাস করছিলেন। সাহেদ কাদের একুশ বছর বয়সী এবং নারায়ণগঞ্জ শহরের খানপুর কলেজ রোড এলাকার বাসিন্দা। সুজন উনিশ বছর বয়সী এবং সালেহা বেগমের পুত্র। তারাও একই এলাকায় ভাড়াটিয়া হিসেবে অবস্থান করছিলেন।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, অভিযানকালে তাদের কাছ থেকে মোট সতেরো কেজি গাঁজা উদ্ধার করা হয়েছে। উদ্ধারকৃত মাদকদ্রব্যের নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষার জন্য প্রেরণ করা হবে। আসামিদের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের সংশ্লিষ্ট ধারায় নিয়মিত মামলা রুজু করা হয়েছে এবং তাদের বিজ্ঞ আদালতে প্রেরণ করা হচ্ছে।

নারায়ণগঞ্জ জেলার পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মিজানুর রহমান মুন্সীর সার্বিক দিকনির্দেশনায় এই অভিযান পরিচালিত হয়। জেলা পুলিশ প্রশাসন মাদকদ্রব্যের অবৈধ ব্যবসার বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করে আসছে। এ ধরনের অভিযানের মাধ্যমে মাদকের বিস্তার রোধ এবং সমাজে এর ক্ষতিকর প্রভাব কমানোর চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।

মাদকদ্রব্য সমাজের জন্য একটি মারাত্মক হুমকি। বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মের মধ্যে এর প্রভাব পড়লে পরিবার ও সমাজের সামগ্রিক কাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়। পুলিশের এ ধরনের অভিযান সমাজে সচেতনতা বৃদ্ধি করে এবং মাদক ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের বার্তা দেয়। ফতুল্লার এই অভিযান সেই ধারাবাহিকতারই অংশ।

অভিযান পরিচালনাকালে পুলিশ সদস্যরা স্থানীয় এলাকায় তথ্য সংগ্রহ করে নির্দিষ্ট স্থান চিহ্নিত করেন। অভিযান দ্রুত ও সফলভাবে সম্পন্ন হওয়ায় কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। গ্রেফতারকৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ করে আরও তথ্য সংগ্রহের চেষ্টা চলছে বলে পুলিশ সূত্র জানিয়েছে।

জেলা পুলিশ প্রশাসন মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে। নিয়মিত টহল, গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ এবং অভিযানের মাধ্যমে মাদক ব্যবসায়ীদের চিহ্নিত করে গ্রেফতার করা হচ্ছে। এই প্রক্রিয়া অব্যাহত থাকলে এলাকায় মাদকের প্রভাব কমবে বলে আশা করা হচ্ছে।

মাদকদ্রব্যের অবৈধ ব্যবসা শুধু আইনশৃঙ্খলার সমস্যা নয়, এটি জনস্বাস্থ্য ও সামাজিক স্থিতিশীলতার জন্যও বড় হুমকি। এ ধরনের ব্যবসার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা জরুরি। পুলিশের সাম্প্রতিক অভিযানগুলো সেই লক্ষ্যেই পরিচালিত হচ্ছে।

আরও পড়ুন: হবিগঞ্জে অনুমোদিত হলো কাঙ্ক্ষিত ‘ক্রীড়াপল্লী’, মাঠপর্যায়ে কার্যক্রম শুরু

ফতুল্লা মডেল থানার পুলিশ সদস্যরা এই অভিযানে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছেন। তাদের দক্ষতা ও তৎপরতার ফলেই অভিযান সফল হয়েছে। ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের তত্ত্বাবধানে পরিচালিত এ ধরনের অভিযান পুলিশ বাহিনীর পেশাদারিত্বের পরিচায়ক।

গ্রেফতারকৃত আসামিদের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা পরিচালনার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। আইন অনুযায়ী তাদের বিচার সম্পন্ন হবে এবং দোষী সাব্যস্ত হলে উপযুক্ত শাস্তি প্রদান করা হবে। এ ধরনের মামলা দ্রুত নিষ্পত্তি হলে সমাজে ইতিবাচক প্রভাব পড়ে।

নারায়ণগঞ্জ জেলায় মাদকদ্রব্যের বিরুদ্ধে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। বিভিন্ন থানায় নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করে মাদক ব্যবসায়ীদের গ্রেফতার করা হচ্ছে। এই ধারাবাহিকতা বজায় রাখলে এলাকায় মাদকের প্রকোপ কমবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।

সমাজে মাদকের বিস্তার রোধে শুধু পুলিশের অভিযানই যথেষ্ট নয়। পরিবার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং সামাজিক সংগঠনগুলোর সম্মিলিত প্রচেষ্টা প্রয়োজন। তরুণদের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং মাদকের ক্ষতিকর দিক সম্পর্কে প্রচার চালানো জরুরি।

পুলিশ সুপারের দিকনির্দেশনায় পরিচালিত এই অভিযান জেলা পুলিশের মাদকবিরোধী কার্যক্রমের অংশ। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সক্রিয় তত্ত্বাবধানে এ ধরনের অভিযান আরও সফল হয়। ফতুল্লার এই সাফল্য অন্যান্য থানাকেও অনুপ্রাণিত করবে বলে আশা করা হচ্ছে।

উদ্ধারকৃত মাদকদ্রব্যের পরিমাণ বিবেচনায় এটি একটি বড় অভিযান হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। সতেরো কেজি গাঁজা উদ্ধার হওয়ায় এলাকায় মাদকের অবৈধ মজুদ কমেছে। পুলিশ এ ধরনের মজুদ ধ্বংস করার প্রক্রিয়াও শুরু করবে।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় পুলিশের ভূমিকা অপরিহার্য। মাদকদ্রব্যের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান সমাজে নিরাপত্তা বৃদ্ধি করে। ফতুল্লার এই অভিযান সেই নিরাপত্তা নিশ্চিত করারই একটি পদক্ষেপ।

আগামী দিনগুলোতে এ ধরনের অভিযান আরও জোরদার করা হবে বলে পুলিশ সূত্র জানিয়েছে। মাদক ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে শূন্য সহনশীলতা নীতি অনুসরণ করা হচ্ছে। এতে সমাজে মাদকের প্রভাব কমবে এবং জনগণের আস্থা বৃদ্ধি পাবে।

সূত্র: নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশ।

Post a Comment

আপনার মূল্যবান মতামত আমাদের জানান। কোনো উসকানিমূলক বা অশালীন মন্তব্য করা থেকে বিরত থাকুন।

নবীনতর পূর্বতন